প্রারব্ধ কাউকে ছাড়ে না – এর ভোগ সকলকেই করতে হয় । ঠাকুর শ্রীরামকৃষ্ণ অথবা সারদা মায়ের মত মহাশক্তিরা, প্রারব্ধ ভোগের কথা বলতে গিয়ে জীব কল্যাণের জন্য ব্যাপারটাকে একটু লঘু করে দিয়ে গেছেন , বলেছেন – “প্রারব্ধ ভুগতেই হবে । তবে যদি ঈশ্বরের স্মরণ মনন থাকে , তাহলে হয়তো পা-টা কেটে বাদ দিতে হতো – তার জায়গায় হয়তো একটু হোঁচট লাগলো !”
এই প্রসঙ্গে কথা বলতে গিয়ে গুরু মহারাজ পরম গুরুদেব রামানন্দ অবধূতের জীবনে ঘটে যাওয়া একটি ঘটনার কথা উল্লেখ করেছিলেন ৷
রামানন্দ অবধূত হিমালয়ের দুটি পৃথক পৃথক স্থানে দুটি পৃথক কুঠিয়ায় [ গুহাই বলা যায়, একটি উত্তরকাশীতে, যেখান ওনার ছোট কুঠিয়ার জায়গায় পরে ভারতবর্ষের রাষ্ট্রপতি (V.V.Giri)-র ইচ্ছায় একটি ইঁটের ঘর তৈরি করা হয়েছিল ।] থাকতেন ৷ শীতকালটা কাটাতেন উত্তরকাশীতে এবং শিবরাত্রির পর চলে যেতেন গঙ্গোত্রী-তে । উনি দুইটি পৃথক পৃথক স্থানে দুটি পৃথক উৎসব করতেন । উপরে (গঙ্গোত্রী তে) রামনবমী_উৎসব এবং নিচে (উত্তরকাশীতে) শিবরাত্রি ! ওই অঞ্চলে উন্নত সাধু হিসেবে রামানন্দ অবধূতকে যেকোনো সাধু পরম্পরার লোকেরা খুবই চিনত এবং মান্যতা দিত । তাই ওনার আশ্রমের উৎসবে প্রচুর লোকজন হতো , আর মানুষজন গেলেই তারা প্রণাম হিসেবে টাকা-পয়সা বা বিভিন্ন সামগ্রী সাধুবাবা কে তো দেবেই! ওনাকে ও দিতো। রামানন্দজী খাদ্যসামগ্রীগুলি সকলকে খাওয়ানোর জন্য বিলি-বন্দোবস্ত করে দিতেন এবং টাকা পয়সা যা জমা পড়তো , সেগুলি সব এক জায়গায় করে ওনার কুঠিয়ার সামনেই একটা পাথরের গর্তে রেখে দিয়ে আর একটা পাথর চাপা দিয়ে দিতেন! অর্থাৎ এক কথায় বলতে গেলে ওই টাকাগুলি অরক্ষিত অবস্থাতেই থাকতো!
একদিন একদল তস্কর, সাধুবাবার অর্থাৎ রামানন্দজীর টাকা-পয়সা রাখার জায়গাটি দেখে ফেলল এবং মনস্থ করল যে, রাত্রে এসে টাকাপয়সাগুলি নিয়ে তারা চম্পট দেবে! ভাবনা মতোই লোকগুলি রাত্রে আশ্রমে এসে নির্দিষ্ট জায়গা থেকে টাকাপয়সা নিয়ে পালাতে যাবে – এমন সময় দেখে সামনেই রামানন্দজী দাঁড়িয়ে রয়েছেন!
ঘটনার আকস্মিকতায় ওরা কি করবে বুঝতে না পেরে অতিবৃদ্ধ সাধুবাবার শরীরে ছুরি চালিয়ে দিল! বেশ কয়েক জায়গায় আঘাত করার পর, তস্করেরা যখন বুঝলো যে সাধুবাবা অজ্ঞান হয়ে গেছে – তখন তারা ওনার রক্তাক্ত দেহটা আশ্রমেই রাখা একটা বড় কাঠের সিন্দুকে ভরে দিয়ে চলে গেল ৷
পরদিন সকালে স্থানীয় সাধুরা রামানন্দজীর খোঁজ করতে এসে তাঁকে ওই অবস্থায় দেখতে পেল! তারপর স্থানীয় সাধুরা ওনাকে হাসপাতালে নিয়ে গিয়ে ভর্তি করে দিয়েছিলেন। সেখানে বেশ কিছুদিন চিকিৎসা করিয়ে ওনাকে সুস্থ করে তোলা হয়েছিল!
গুরু মহারাজ (স্বামী পরমানন্দ) খবর পেয়েই গিয়েছিলেন ওনার কাছে , তখন উনি সুস্থ হয়ে গেছেন ৷ গুরু মহারাজ ওনাকে জিজ্ঞাসা করেছিলেন – “একজন ব্রহ্মজ্ঞ ব্যক্তির এরূপ শাস্তি ভোগ হলো কেন ?” উত্তরে রামানন্দজী বলেছিলেন – ” প্রারব্ধ !”
গুরু মহারাজ আবার জিজ্ঞাসা করেছিলেন – “আপনার তো নির্বিকল্প সমাধি হয়ে গেছে! নির্বিকল্প সমাধির পর আবার প্রারব্ধ এলো কোথা থেকে ?”
পরম গুরুদেব রামানন্দ অবধূতজী বলেছিলেন – ” কুলাল চক্র দেখেছো ( কুলাল চক্র মানে হচ্ছে কুম্ভকারের চাক অর্থাৎ কুমোরের মাটির হাঁড়ি তৈরি করার চাকা।) কুমোরেরা ওই চক্র একবার জোরে ঘুরিয়ে দিয়ে ‘হাঁড়ি-কুড়ি’ তৈরি করতে থাকে ৷ হাঁড়ি তৈরি করা শেষ হয়ে গেলেও চাকা বেশ খানিকক্ষণ ঘোরে – যেহেতু আগেই অনেকটা জোর লাগিয়ে ঘোরানো হয়ে গেছে ! হাঁড়ি তৈরির পরেকার ঘূর্ণন __ওই আগের ক্রিয়ার ফল ! তেমনি মানুষের যে সমস্ত কর্ম বা কাজ পূর্ব পূর্ব জীবনে হয়ে গেছে – তার প্রতিফল পরবর্তী শরীরে ভোগ করতে হয়। বহু পূর্বে কোন এক জন্মে আমার(অবধূতজী) ক্ষত্রিয় শরীর ছিল। লড়াই এর ময়দানে আমি(রামানন্দ অবধূত) অনেককে লড়াইয়ে তীরবিদ্ধ করেছিলাম – এতদিনে তার প্রতিফল লাভ হয়ে কর্মক্ষয় হয়ে গেল ! এটা হবারই ছিল তাই আমি ওদের সামনে দাঁড়িয়ে ছিলাম !”
গুরু মহারাজ এই ঘটনাটি বলার পরই আর একটি পৌরাণিক গল্পের অবতারণা করলেন । …… [ক্রমশঃ]
এই প্রসঙ্গে কথা বলতে গিয়ে গুরু মহারাজ পরম গুরুদেব রামানন্দ অবধূতের জীবনে ঘটে যাওয়া একটি ঘটনার কথা উল্লেখ করেছিলেন ৷
রামানন্দ অবধূত হিমালয়ের দুটি পৃথক পৃথক স্থানে দুটি পৃথক কুঠিয়ায় [ গুহাই বলা যায়, একটি উত্তরকাশীতে, যেখান ওনার ছোট কুঠিয়ার জায়গায় পরে ভারতবর্ষের রাষ্ট্রপতি (V.V.Giri)-র ইচ্ছায় একটি ইঁটের ঘর তৈরি করা হয়েছিল ।] থাকতেন ৷ শীতকালটা কাটাতেন উত্তরকাশীতে এবং শিবরাত্রির পর চলে যেতেন গঙ্গোত্রী-তে । উনি দুইটি পৃথক পৃথক স্থানে দুটি পৃথক উৎসব করতেন । উপরে (গঙ্গোত্রী তে) রামনবমী_উৎসব এবং নিচে (উত্তরকাশীতে) শিবরাত্রি ! ওই অঞ্চলে উন্নত সাধু হিসেবে রামানন্দ অবধূতকে যেকোনো সাধু পরম্পরার লোকেরা খুবই চিনত এবং মান্যতা দিত । তাই ওনার আশ্রমের উৎসবে প্রচুর লোকজন হতো , আর মানুষজন গেলেই তারা প্রণাম হিসেবে টাকা-পয়সা বা বিভিন্ন সামগ্রী সাধুবাবা কে তো দেবেই! ওনাকে ও দিতো। রামানন্দজী খাদ্যসামগ্রীগুলি সকলকে খাওয়ানোর জন্য বিলি-বন্দোবস্ত করে দিতেন এবং টাকা পয়সা যা জমা পড়তো , সেগুলি সব এক জায়গায় করে ওনার কুঠিয়ার সামনেই একটা পাথরের গর্তে রেখে দিয়ে আর একটা পাথর চাপা দিয়ে দিতেন! অর্থাৎ এক কথায় বলতে গেলে ওই টাকাগুলি অরক্ষিত অবস্থাতেই থাকতো!
একদিন একদল তস্কর, সাধুবাবার অর্থাৎ রামানন্দজীর টাকা-পয়সা রাখার জায়গাটি দেখে ফেলল এবং মনস্থ করল যে, রাত্রে এসে টাকাপয়সাগুলি নিয়ে তারা চম্পট দেবে! ভাবনা মতোই লোকগুলি রাত্রে আশ্রমে এসে নির্দিষ্ট জায়গা থেকে টাকাপয়সা নিয়ে পালাতে যাবে – এমন সময় দেখে সামনেই রামানন্দজী দাঁড়িয়ে রয়েছেন!
ঘটনার আকস্মিকতায় ওরা কি করবে বুঝতে না পেরে অতিবৃদ্ধ সাধুবাবার শরীরে ছুরি চালিয়ে দিল! বেশ কয়েক জায়গায় আঘাত করার পর, তস্করেরা যখন বুঝলো যে সাধুবাবা অজ্ঞান হয়ে গেছে – তখন তারা ওনার রক্তাক্ত দেহটা আশ্রমেই রাখা একটা বড় কাঠের সিন্দুকে ভরে দিয়ে চলে গেল ৷
পরদিন সকালে স্থানীয় সাধুরা রামানন্দজীর খোঁজ করতে এসে তাঁকে ওই অবস্থায় দেখতে পেল! তারপর স্থানীয় সাধুরা ওনাকে হাসপাতালে নিয়ে গিয়ে ভর্তি করে দিয়েছিলেন। সেখানে বেশ কিছুদিন চিকিৎসা করিয়ে ওনাকে সুস্থ করে তোলা হয়েছিল!
গুরু মহারাজ (স্বামী পরমানন্দ) খবর পেয়েই গিয়েছিলেন ওনার কাছে , তখন উনি সুস্থ হয়ে গেছেন ৷ গুরু মহারাজ ওনাকে জিজ্ঞাসা করেছিলেন – “একজন ব্রহ্মজ্ঞ ব্যক্তির এরূপ শাস্তি ভোগ হলো কেন ?” উত্তরে রামানন্দজী বলেছিলেন – ” প্রারব্ধ !”
গুরু মহারাজ আবার জিজ্ঞাসা করেছিলেন – “আপনার তো নির্বিকল্প সমাধি হয়ে গেছে! নির্বিকল্প সমাধির পর আবার প্রারব্ধ এলো কোথা থেকে ?”
পরম গুরুদেব রামানন্দ অবধূতজী বলেছিলেন – ” কুলাল চক্র দেখেছো ( কুলাল চক্র মানে হচ্ছে কুম্ভকারের চাক অর্থাৎ কুমোরের মাটির হাঁড়ি তৈরি করার চাকা।) কুমোরেরা ওই চক্র একবার জোরে ঘুরিয়ে দিয়ে ‘হাঁড়ি-কুড়ি’ তৈরি করতে থাকে ৷ হাঁড়ি তৈরি করা শেষ হয়ে গেলেও চাকা বেশ খানিকক্ষণ ঘোরে – যেহেতু আগেই অনেকটা জোর লাগিয়ে ঘোরানো হয়ে গেছে ! হাঁড়ি তৈরির পরেকার ঘূর্ণন __ওই আগের ক্রিয়ার ফল ! তেমনি মানুষের যে সমস্ত কর্ম বা কাজ পূর্ব পূর্ব জীবনে হয়ে গেছে – তার প্রতিফল পরবর্তী শরীরে ভোগ করতে হয়। বহু পূর্বে কোন এক জন্মে আমার(অবধূতজী) ক্ষত্রিয় শরীর ছিল। লড়াই এর ময়দানে আমি(রামানন্দ অবধূত) অনেককে লড়াইয়ে তীরবিদ্ধ করেছিলাম – এতদিনে তার প্রতিফল লাভ হয়ে কর্মক্ষয় হয়ে গেল ! এটা হবারই ছিল তাই আমি ওদের সামনে দাঁড়িয়ে ছিলাম !”
গুরু মহারাজ এই ঘটনাটি বলার পরই আর একটি পৌরাণিক গল্পের অবতারণা করলেন । …… [ক্রমশঃ]
