[ ন’কাকা যখন শ্রীরামপুর যেতেন _তখনকার কথা, সন্ন্যাসী তথাগতের কথা এই ধরনের বিভিন্ন আলোচনা হচ্ছিল।]
তথাগতও আমাদের সাথে দু-তিনবার রাধাবল্লভ মন্দিরে প্রসাদ খেতে গিয়েছিল ৷ শেষবার (তথাগত বেশিদিন বাঁচেনি , ন’কাকার সঙ্গলাভ করার ২/৩ বছরের মধ্যেই মাত্র ৪০/৪২ বছর বয়সে মারা গিয়েছিল) তথাগত রাধাবল্লভ মন্দিরে প্রসাদ গ্রহণের আগে সকলকে অনুরোধ করল যেন খাবার পর কেউ সেদিন এঁটোপাতা না তোলে – সকলের উচ্ছিষ্ট এবং এঁটোপাতা ও নিজে তুলবে ! আমার সাথে ওর ভালোই সম্পর্ক হয়ে গিয়েছিল , ও আমার কানে কানে বলল – ” ঠাকুর শ্রীরামকৃষ্ণ এই কাজ দক্ষিণেশ্বরে একবার করেছিলেন – আর আজ এখানে আবার সেই একই লীলা হচ্ছে !”
এই কথাটি অবশ্য আমার খুব একটা ভালো লাগেনি – ঠাকুরের সাথে কি সাধারণ জীবের তুলনা হয় ? ন’কাকাকে পরে কথাটা বলেছিলাম – কিন্তু ন’কাকা ছিলেন এক বিশেষ ধরণের মানুষ! উনি কখনই কারো কোন দোষ দেখতেন না ! তাই আমার কথা শুনে বললেন – ” ওসব কথা বাদ দাও ! ওর খেয়াল হয়েছে – তাই করতে চেয়েছে – তা ভালো তো !”
সেই তথাগত হঠাৎ করে মারা গেল ৷ ঠাকুর শ্রীরামকৃষ্ণের মৃত্যুদিনকেই ও ওর শরীর ছাড়ার দিন হিসাবে বেছে নিয়েছিল । ঠাকুর শ্রীরামকৃষ্ণ-ই ছিল ওর ইষ্ট এবং আরাধ্য – তাই ওর মন-প্রাণ জুড়ে ঠাকুর শ্রীরামকৃষ্ণ-ই বিরাজমান ছিল! তাই বোধহয় ওই রকম একটা সিদ্ধান্ত ও নিয়েছিল ! তথাগত ওর শরীর ছাড়ার ব্যপারে, ওর মা-কে একটু আধটু ইঙ্গিতও দিয়েছিল ৷ ঠাকুরের শরীর ছাড়ার সময় ছিল আগস্ট মাস অর্থাৎ বাংলার শ্রাবণ মাস । সেই সময় গঙ্গায় দু-কূলপ্লাবী জল থাকে । তথাগতর বাড়ী ছিল একেবারে গঙ্গার ধারেই ৷ সেদিন সকাল থেকেই খুব বৃষ্টি পড়ছিল ৷ ফলে গঙ্গার ঘাটে সকালের দিকে একদমই লোকজন ছিল না ৷ তথাগত প্রতিদিনকার মতো – সেদিনও সকালে স্নান করতে বেড়িয়ে গিয়েছিল – ফলে বাড়ীতে মা-বাবা কোনকিছুই সন্দেহ করেননি বা কিছুই বুঝতেও পারেননি । দীর্ঘ সময় অতিবাহিত হবার পর ঐ বৃদ্ধ-দম্পতি ছেলের খোঁজ খবর শুরু করেন । তখন কেউ একজন বলেছিল যে, সে বৃষ্টির মধ্যেই তথাগতকে গঙ্গার জলের মধ্যে নামতে দেখেছিল । পরে গঙ্গার ধারে তথাগতের সমস্ত পোষাক , পূজা করার কিছু সামগ্রী এইগুলি পাওয়া গিয়েছিল ।
এরপর শুরু হলো অন্বেষণ __থানা-পুলিশ , জল-পুলিশ! সেদিন কোনো খোঁজ পাওয়া গেল না , দুদিন পর ‘বালি’ বা উত্তরপাড়ার কাছাকাছি কোন স্থানে (ওদের বাড়ি ছিল শ্রীরামপুর) ওর মৃতদেহ ভেসে উঠেছিল । ওর মৃত্যু সংবাদ আমাদের খুবই খারাপ লেগেছিল , খুব কষ্ট পেয়েছিলাম আমরা ! গুরু মহারাজের (স্বামী পরমানন্দ) সংস্পর্শে আসার পর এটা আমরা খুব বুঝেছিলাম যে , কিছু করলে (সাধন-ভজন)-ই কিছু পাওয়া যায় (আধ্যাত্মিক উত্তরণ হয় ) ! তবু আমরা তো সেভাবে সাধনায় একনিষ্ঠভাবে নিমগ্ন হতে পারি না – তথাগত পেরেছিল ! কিন্তু সেই তথাগতকেই এইভাবেই অকালে (মৃত্যুকালে ওর বয়স ছিল খুব বেশি হলে ৪০/৪২) চলে যেতে হল ! আরও কিছুকাল থাকলে তো ও আরও সাধনায় উন্নত হোত , আরো আধ্যাত্মিক শক্তির অধিকারী হোত – ফলে আরও বেশি মানবের কল্যান করতে পারত! তাই এই কথাগুলো জিজ্ঞাসা করেছিলাম ন’কাকাকে , ” ন’কাকা ! এটা কি রকম হলো ? তথাগতর কেন এইরকম করূন পরিনতি হল!”
ন’কাকা উত্তর দিলেন – ” আসলে ব্যাপারটা কি জানো বাবা – ওর (তথাগত) শরীরটা জীর্ণ হয়ে গিয়েছিল! কৃচ্ছ্বসাধন করতে গিয়ে (না খেয়ে অথবা অত্যল্প খেয়ে) ওর শরীর এত দুর্বল হয়ে গিয়েছিল যে , ওই শরীর দিয়ে আর সাধন হ’ত না! আরও বেশি কিছু করা অর্থাৎ আরও অধিক আধ্যাত্মিক শক্তিলাভ সম্ভব হতো না । তাই চলে গেল!
তবে এবার(পরের শরীরে) আবার ভালো শক্ত-সমর্থ শরীর নিয়ে আসবে এবং বাকি সাধন সম্পূর্ণ করবে এবং জগৎকল্যানের নিমিত্ত কাজ করবে!”(ক্রমশঃ)
তথাগতও আমাদের সাথে দু-তিনবার রাধাবল্লভ মন্দিরে প্রসাদ খেতে গিয়েছিল ৷ শেষবার (তথাগত বেশিদিন বাঁচেনি , ন’কাকার সঙ্গলাভ করার ২/৩ বছরের মধ্যেই মাত্র ৪০/৪২ বছর বয়সে মারা গিয়েছিল) তথাগত রাধাবল্লভ মন্দিরে প্রসাদ গ্রহণের আগে সকলকে অনুরোধ করল যেন খাবার পর কেউ সেদিন এঁটোপাতা না তোলে – সকলের উচ্ছিষ্ট এবং এঁটোপাতা ও নিজে তুলবে ! আমার সাথে ওর ভালোই সম্পর্ক হয়ে গিয়েছিল , ও আমার কানে কানে বলল – ” ঠাকুর শ্রীরামকৃষ্ণ এই কাজ দক্ষিণেশ্বরে একবার করেছিলেন – আর আজ এখানে আবার সেই একই লীলা হচ্ছে !”
এই কথাটি অবশ্য আমার খুব একটা ভালো লাগেনি – ঠাকুরের সাথে কি সাধারণ জীবের তুলনা হয় ? ন’কাকাকে পরে কথাটা বলেছিলাম – কিন্তু ন’কাকা ছিলেন এক বিশেষ ধরণের মানুষ! উনি কখনই কারো কোন দোষ দেখতেন না ! তাই আমার কথা শুনে বললেন – ” ওসব কথা বাদ দাও ! ওর খেয়াল হয়েছে – তাই করতে চেয়েছে – তা ভালো তো !”
সেই তথাগত হঠাৎ করে মারা গেল ৷ ঠাকুর শ্রীরামকৃষ্ণের মৃত্যুদিনকেই ও ওর শরীর ছাড়ার দিন হিসাবে বেছে নিয়েছিল । ঠাকুর শ্রীরামকৃষ্ণ-ই ছিল ওর ইষ্ট এবং আরাধ্য – তাই ওর মন-প্রাণ জুড়ে ঠাকুর শ্রীরামকৃষ্ণ-ই বিরাজমান ছিল! তাই বোধহয় ওই রকম একটা সিদ্ধান্ত ও নিয়েছিল ! তথাগত ওর শরীর ছাড়ার ব্যপারে, ওর মা-কে একটু আধটু ইঙ্গিতও দিয়েছিল ৷ ঠাকুরের শরীর ছাড়ার সময় ছিল আগস্ট মাস অর্থাৎ বাংলার শ্রাবণ মাস । সেই সময় গঙ্গায় দু-কূলপ্লাবী জল থাকে । তথাগতর বাড়ী ছিল একেবারে গঙ্গার ধারেই ৷ সেদিন সকাল থেকেই খুব বৃষ্টি পড়ছিল ৷ ফলে গঙ্গার ঘাটে সকালের দিকে একদমই লোকজন ছিল না ৷ তথাগত প্রতিদিনকার মতো – সেদিনও সকালে স্নান করতে বেড়িয়ে গিয়েছিল – ফলে বাড়ীতে মা-বাবা কোনকিছুই সন্দেহ করেননি বা কিছুই বুঝতেও পারেননি । দীর্ঘ সময় অতিবাহিত হবার পর ঐ বৃদ্ধ-দম্পতি ছেলের খোঁজ খবর শুরু করেন । তখন কেউ একজন বলেছিল যে, সে বৃষ্টির মধ্যেই তথাগতকে গঙ্গার জলের মধ্যে নামতে দেখেছিল । পরে গঙ্গার ধারে তথাগতের সমস্ত পোষাক , পূজা করার কিছু সামগ্রী এইগুলি পাওয়া গিয়েছিল ।
এরপর শুরু হলো অন্বেষণ __থানা-পুলিশ , জল-পুলিশ! সেদিন কোনো খোঁজ পাওয়া গেল না , দুদিন পর ‘বালি’ বা উত্তরপাড়ার কাছাকাছি কোন স্থানে (ওদের বাড়ি ছিল শ্রীরামপুর) ওর মৃতদেহ ভেসে উঠেছিল । ওর মৃত্যু সংবাদ আমাদের খুবই খারাপ লেগেছিল , খুব কষ্ট পেয়েছিলাম আমরা ! গুরু মহারাজের (স্বামী পরমানন্দ) সংস্পর্শে আসার পর এটা আমরা খুব বুঝেছিলাম যে , কিছু করলে (সাধন-ভজন)-ই কিছু পাওয়া যায় (আধ্যাত্মিক উত্তরণ হয় ) ! তবু আমরা তো সেভাবে সাধনায় একনিষ্ঠভাবে নিমগ্ন হতে পারি না – তথাগত পেরেছিল ! কিন্তু সেই তথাগতকেই এইভাবেই অকালে (মৃত্যুকালে ওর বয়স ছিল খুব বেশি হলে ৪০/৪২) চলে যেতে হল ! আরও কিছুকাল থাকলে তো ও আরও সাধনায় উন্নত হোত , আরো আধ্যাত্মিক শক্তির অধিকারী হোত – ফলে আরও বেশি মানবের কল্যান করতে পারত! তাই এই কথাগুলো জিজ্ঞাসা করেছিলাম ন’কাকাকে , ” ন’কাকা ! এটা কি রকম হলো ? তথাগতর কেন এইরকম করূন পরিনতি হল!”
ন’কাকা উত্তর দিলেন – ” আসলে ব্যাপারটা কি জানো বাবা – ওর (তথাগত) শরীরটা জীর্ণ হয়ে গিয়েছিল! কৃচ্ছ্বসাধন করতে গিয়ে (না খেয়ে অথবা অত্যল্প খেয়ে) ওর শরীর এত দুর্বল হয়ে গিয়েছিল যে , ওই শরীর দিয়ে আর সাধন হ’ত না! আরও বেশি কিছু করা অর্থাৎ আরও অধিক আধ্যাত্মিক শক্তিলাভ সম্ভব হতো না । তাই চলে গেল!
তবে এবার(পরের শরীরে) আবার ভালো শক্ত-সমর্থ শরীর নিয়ে আসবে এবং বাকি সাধন সম্পূর্ণ করবে এবং জগৎকল্যানের নিমিত্ত কাজ করবে!”(ক্রমশঃ)
