[বীরভূমে ন’কাকা প্রসঙ্গে কথা হচ্ছিল। এখন ন’কাকা রয়েছেন বোলপুরের সন্নিকটস্থ আদিত্যপুর আশ্রমে! ওখানে ন’কাকা খুবই স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করতেন! আর সেইজন্যই বছরে অন্ততঃ ২/৩-বার ওখানে যেতেন! আর ন’কাকা গেলেই ওখানকার সকলে ন’কাকার সেবাযত্নের ব্যাপারে একেবারে অনাপোষী হয়ে উঠতো! আজকে আদিত্যপুর আশ্রমের গোড়াকার একটু ইতিহাসও বলা হচ্ছে। ]
ন’কাকা আদিত্যপুর আশ্রমে থাকাকালীন সময়ে আরও একটা সমস্যা হোত __আর সেটা হোত ন’কাকার খাওয়ার সময় ! প্রথম প্রথম রান্না ঘরের ভিতরে সকলের সাথেই ন’কাকা খেতে বসতেন ৷পরে ওনাকে ঘরের ভিতরে আলাদা করে খেতে দেবার ব্যবস্থা করতে হয়েছিল(কারণটা কি _সেটা পরে বলা হচ্ছে)!
আদিত্যপুর আশ্রমের রান্নাবান্নার দায়িত্ব বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই সামলাতেন শশাঙ্ক মহারাজ ( আমরা আদিত্যপুর আশ্রমে যাওয়া আসা শুরু করার কিছুদিন পরই করিমপুর থেকে Transfer নিয়ে শশাঙ্ক মহারাজ বোলপুরে চলে আসেন । উনি প্রাইমারি টিচার ছিলেন । পঙ্কজ (বক্সী) মহারাজও প্রাইমারি টিচার ছিলেন ৷ ফলে এই দুজন আদিত্যপুর আশ্রমে আসায় – নন্দ মহারাজের নিত্যদিনের রান্নাঘরের খরচ চালানো বা কিছু কিছু সংস্কারমূলক কাজ করার জন্য অন্তত সবসময় ভক্তদের কাছে হাত পাততে হোত না ৷) । আর ন’কাকার জন্য আলাদা করে একটু যা রান্না হোত, তা করতো মধুমিতা ! মধুমিতা এবং ওর স্বামী হিমাংশু অরিজিনালি বর্ধমানের লোক _ওদের বিয়ে গুরুমহারাজ স্বামী পরমানন্দ ঠিক করে দিয়েছিলেন, আর সেটা হয়েছিল বনগ্রামে মা করুণাময়ীর মন্দিরে! সব চেয়ে বড় কথা হোল ওদের বিয়ের পুরোহিত ছিলেন স্বয়ং ন’কাকা ! আদিত্যপুর আশ্রমের কাজ শুরু হওয়ার সাথে সাথে divine plan অনুযায়ী গুরু মহারাজ একে একে এই আশ্রমের কর্মী হিসাবে গৌতম ঘোষ (প্রফেসর) , মধুমিতা এবং আরও অনেককে বোলপুরে বা বোলপুরের আশেপাশে এনে ফেলেছিলেন – যাতে এই আশ্রমের বিকাশের কাজের সুবিধা হয়! আর তাই-ই হয়েছিল ! শ্রীনিকেতনের প্রফেসর গৌতম ঘোষের তো তুলনাই নাই – আশ্রমের যে কোন প্রয়োজনে নন্দ মহারাজের পাশে যে দু-চারজন সবসময় থাকে _তাদের অন্যতম গৌতম !
আর বলা যায় আদিত্যপুর পরমানন্দ মিশনের ‘মা’-য়ের ভূমিকা নিয়েছে মধুমিতা ! নিরলস কর্মী এই রোগা পাতলা মহিলা ! একটা প্রাইভেট স্কুলে চাকরি করে , স্বামী হিমাংশুকে সামলায় , পুত্র অভিজিৎ-এর পড়াশোনার ব্যাপারটা দেখে , টিউশনি করে – তারপরেও সময় খুঁজে নিয়ে আশ্রম এর জন্য নিঃস্বার্থভাবে কাজ করে যায় ! সবার খাওয়া-শোয়ার সব ব্যবস্থা করে তারপর খায় বা শোয় !
এরা দুজন ছাড়াও নন্দ মহারাজের কাজে সহায়তা করার ক্ষেত্রে অন্যতম বিশাল ভূমিকা ছিল বিশু মামার ! হরিপদ ভল্লাবাবু , ৺হরিহর মাস্টার মশাই এবং রাইমোহন সরকার মশাই (অবশ্য গোলক বাবুও ওদের সঙ্গ দিতেন)-কে দিয়ে বোলপুরকে কেন্দ্র করে গুরুমহারাজের কাজ শুরু হয়েছিল ! পঙ্কজ বাবু (স্বামী পরমাত্মানন্দ) বোলপুরে আসার পর বিশুবাবু ( বিশ্বনাথ দত্ত বর্তমানে আশ্রমের একজন অন্যতম পৃষ্ঠপোষক প্রদীপ দত্তের বাবা) আদিত্যপুর আশ্রমের কাজে প্রায় বলা চলে সম্পূর্ণভাবে আত্মনিয়োগ করেছিলেন! ওনার নিজের মুখেই শুনেছিলাম_ প্রথম যৌবনে বোলপুরের ত্রিশূলাপট্টির প্রতিষ্ঠিত ব্যবসাদার বিশুনাথ দত্ত (বিশুবাবু) প্রচন্ড সৌখিন মানুষ ছিলেন । দামি দামি পোশাক পরতেন , দামী ‘সেন্ট’ ব্যবহার করতেন , সবসময় একটা ‘Class’- Maintain করতেন ! কিন্তু আদিত্যপুর আশ্রমের সাথে যুক্ত হওয়ার পর যারা বিশুবাবুকে দেখলেন – তারা কি দেখলেন ? তারা দেখলেন – এক নিরীহ , নির্বিরোধী , অত্যন্ত পরিশ্রমী (আশ্রমের কাজে) , শান্তশিষ্ট, ভদ্রলোক , সদা সন্তুষ্টচিত্ত একজন ভক্তকে ! যার পোশাকের কোন চাকচিক্য নাই , খাদ্যের প্রয়োজনীয়তার প্রতি ভ্রুক্ষেপ নাই – গুরুপদে নিবেদিত প্রাণ এক নিপাট ভদ্রলোক এবং ভক্ত লোক !
পঙ্কজ বাবু (পরমাত্মানন্দ) এই আশ্রম থেকে চলে যাবার পর, যখন নন্দ মহারাজ(স্বামী ভুবনেশ্বরানন্দ) আদিত্যপুর আশ্রমে এলেন, তখন উনি আশ্রমের কাজে নিবেদিত প্রাণ এ হেন একজন ভক্ত, বিশুবাবুকে সাথী হিসাবে পেয়ে গেলেন! ফলে অন্য জায়গা থেকে নতুন কোরে এসে_ এই আশ্রমটি চালাতে তাঁর খুবই সুবিধা হয়েছিল ! বিশুবাবু মাত্র কয়েক বৎসর আগে(২০১৫/১৬) পরমানন্দলোকে স্থান নিয়েছেন – কিন্তু বাবার দায়িত্ব অনেকটাই পালন করে চলেছে বিশুবাবুর সুযোগ্য ছেলে ত্রিশূলাপট্টির প্রতিষ্ঠিত ব্যবসাদার প্রদীপ দত্ত এবং তার পরিবার !
বিশুমামার হাত ধরেই আশ্রমের সাথে যুক্ত হয়েছিল ওনার ভাগ্নে কৌশিক দত্ত(সিউড়ি কলেজের প্রফেসর)! কিন্তু কৌশিকের দাদা গৌরসুন্দর আগে থাকতেই আশ্রমের সাথে যুক্ত ছিল। এই সমস্ত পরমানন্দ ভক্তরা সকলেই সর্বদা আদিত্যপুর আশ্রমের পাশে থাকায় – নন্দ মহারাজের পক্ষে আশ্রম চালানো এবং তার শ্রীবৃদ্ধি করার ব্যাপারে সত্যি সত্যিই খুব সুবিধা হয়েছে ! বিশুবাবুকে সবাই জানত ‘মামাবাবু’ হিসাবে । অনেককেই বলতে শুনেছি ‘বিশুমামা’ !
কেন বিশুমামা ! ঐ যে বলা হোল ত্রিশূলাপট্টিরই একটি পরিবারের দুটি ভাই-এর কথা __গৌর এবং কৌশিক! ওদেরই নিজের মামা ছিলেন বিশুবাবু ! প্রকৃতপক্ষে দত্ত পরিবারের প্রথম যে জন পরমানন্দ মিশনের ভক্ত হয়েছিলেন তিনি গৌর দা বা তপন দত্ত ! এই গৌর-দার মামা বিশুবাবু যখন থেকে আদিত্যপুর আশ্রমে যাওয়া-আসা শুরু করলেন তখন থেকে সবাই ওনাকে গৌর-দার মামা হিসাবে ‘মামাবাবু’ বলতে শুরু করে ৷ সেই থেকেই উনি হয়ে গেছিলেন “বিশু মামা” !(ক্রমশঃ)
ন’কাকা আদিত্যপুর আশ্রমে থাকাকালীন সময়ে আরও একটা সমস্যা হোত __আর সেটা হোত ন’কাকার খাওয়ার সময় ! প্রথম প্রথম রান্না ঘরের ভিতরে সকলের সাথেই ন’কাকা খেতে বসতেন ৷পরে ওনাকে ঘরের ভিতরে আলাদা করে খেতে দেবার ব্যবস্থা করতে হয়েছিল(কারণটা কি _সেটা পরে বলা হচ্ছে)!
আদিত্যপুর আশ্রমের রান্নাবান্নার দায়িত্ব বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই সামলাতেন শশাঙ্ক মহারাজ ( আমরা আদিত্যপুর আশ্রমে যাওয়া আসা শুরু করার কিছুদিন পরই করিমপুর থেকে Transfer নিয়ে শশাঙ্ক মহারাজ বোলপুরে চলে আসেন । উনি প্রাইমারি টিচার ছিলেন । পঙ্কজ (বক্সী) মহারাজও প্রাইমারি টিচার ছিলেন ৷ ফলে এই দুজন আদিত্যপুর আশ্রমে আসায় – নন্দ মহারাজের নিত্যদিনের রান্নাঘরের খরচ চালানো বা কিছু কিছু সংস্কারমূলক কাজ করার জন্য অন্তত সবসময় ভক্তদের কাছে হাত পাততে হোত না ৷) । আর ন’কাকার জন্য আলাদা করে একটু যা রান্না হোত, তা করতো মধুমিতা ! মধুমিতা এবং ওর স্বামী হিমাংশু অরিজিনালি বর্ধমানের লোক _ওদের বিয়ে গুরুমহারাজ স্বামী পরমানন্দ ঠিক করে দিয়েছিলেন, আর সেটা হয়েছিল বনগ্রামে মা করুণাময়ীর মন্দিরে! সব চেয়ে বড় কথা হোল ওদের বিয়ের পুরোহিত ছিলেন স্বয়ং ন’কাকা ! আদিত্যপুর আশ্রমের কাজ শুরু হওয়ার সাথে সাথে divine plan অনুযায়ী গুরু মহারাজ একে একে এই আশ্রমের কর্মী হিসাবে গৌতম ঘোষ (প্রফেসর) , মধুমিতা এবং আরও অনেককে বোলপুরে বা বোলপুরের আশেপাশে এনে ফেলেছিলেন – যাতে এই আশ্রমের বিকাশের কাজের সুবিধা হয়! আর তাই-ই হয়েছিল ! শ্রীনিকেতনের প্রফেসর গৌতম ঘোষের তো তুলনাই নাই – আশ্রমের যে কোন প্রয়োজনে নন্দ মহারাজের পাশে যে দু-চারজন সবসময় থাকে _তাদের অন্যতম গৌতম !
আর বলা যায় আদিত্যপুর পরমানন্দ মিশনের ‘মা’-য়ের ভূমিকা নিয়েছে মধুমিতা ! নিরলস কর্মী এই রোগা পাতলা মহিলা ! একটা প্রাইভেট স্কুলে চাকরি করে , স্বামী হিমাংশুকে সামলায় , পুত্র অভিজিৎ-এর পড়াশোনার ব্যাপারটা দেখে , টিউশনি করে – তারপরেও সময় খুঁজে নিয়ে আশ্রম এর জন্য নিঃস্বার্থভাবে কাজ করে যায় ! সবার খাওয়া-শোয়ার সব ব্যবস্থা করে তারপর খায় বা শোয় !
এরা দুজন ছাড়াও নন্দ মহারাজের কাজে সহায়তা করার ক্ষেত্রে অন্যতম বিশাল ভূমিকা ছিল বিশু মামার ! হরিপদ ভল্লাবাবু , ৺হরিহর মাস্টার মশাই এবং রাইমোহন সরকার মশাই (অবশ্য গোলক বাবুও ওদের সঙ্গ দিতেন)-কে দিয়ে বোলপুরকে কেন্দ্র করে গুরুমহারাজের কাজ শুরু হয়েছিল ! পঙ্কজ বাবু (স্বামী পরমাত্মানন্দ) বোলপুরে আসার পর বিশুবাবু ( বিশ্বনাথ দত্ত বর্তমানে আশ্রমের একজন অন্যতম পৃষ্ঠপোষক প্রদীপ দত্তের বাবা) আদিত্যপুর আশ্রমের কাজে প্রায় বলা চলে সম্পূর্ণভাবে আত্মনিয়োগ করেছিলেন! ওনার নিজের মুখেই শুনেছিলাম_ প্রথম যৌবনে বোলপুরের ত্রিশূলাপট্টির প্রতিষ্ঠিত ব্যবসাদার বিশুনাথ দত্ত (বিশুবাবু) প্রচন্ড সৌখিন মানুষ ছিলেন । দামি দামি পোশাক পরতেন , দামী ‘সেন্ট’ ব্যবহার করতেন , সবসময় একটা ‘Class’- Maintain করতেন ! কিন্তু আদিত্যপুর আশ্রমের সাথে যুক্ত হওয়ার পর যারা বিশুবাবুকে দেখলেন – তারা কি দেখলেন ? তারা দেখলেন – এক নিরীহ , নির্বিরোধী , অত্যন্ত পরিশ্রমী (আশ্রমের কাজে) , শান্তশিষ্ট, ভদ্রলোক , সদা সন্তুষ্টচিত্ত একজন ভক্তকে ! যার পোশাকের কোন চাকচিক্য নাই , খাদ্যের প্রয়োজনীয়তার প্রতি ভ্রুক্ষেপ নাই – গুরুপদে নিবেদিত প্রাণ এক নিপাট ভদ্রলোক এবং ভক্ত লোক !
পঙ্কজ বাবু (পরমাত্মানন্দ) এই আশ্রম থেকে চলে যাবার পর, যখন নন্দ মহারাজ(স্বামী ভুবনেশ্বরানন্দ) আদিত্যপুর আশ্রমে এলেন, তখন উনি আশ্রমের কাজে নিবেদিত প্রাণ এ হেন একজন ভক্ত, বিশুবাবুকে সাথী হিসাবে পেয়ে গেলেন! ফলে অন্য জায়গা থেকে নতুন কোরে এসে_ এই আশ্রমটি চালাতে তাঁর খুবই সুবিধা হয়েছিল ! বিশুবাবু মাত্র কয়েক বৎসর আগে(২০১৫/১৬) পরমানন্দলোকে স্থান নিয়েছেন – কিন্তু বাবার দায়িত্ব অনেকটাই পালন করে চলেছে বিশুবাবুর সুযোগ্য ছেলে ত্রিশূলাপট্টির প্রতিষ্ঠিত ব্যবসাদার প্রদীপ দত্ত এবং তার পরিবার !
বিশুমামার হাত ধরেই আশ্রমের সাথে যুক্ত হয়েছিল ওনার ভাগ্নে কৌশিক দত্ত(সিউড়ি কলেজের প্রফেসর)! কিন্তু কৌশিকের দাদা গৌরসুন্দর আগে থাকতেই আশ্রমের সাথে যুক্ত ছিল। এই সমস্ত পরমানন্দ ভক্তরা সকলেই সর্বদা আদিত্যপুর আশ্রমের পাশে থাকায় – নন্দ মহারাজের পক্ষে আশ্রম চালানো এবং তার শ্রীবৃদ্ধি করার ব্যাপারে সত্যি সত্যিই খুব সুবিধা হয়েছে ! বিশুবাবুকে সবাই জানত ‘মামাবাবু’ হিসাবে । অনেককেই বলতে শুনেছি ‘বিশুমামা’ !
কেন বিশুমামা ! ঐ যে বলা হোল ত্রিশূলাপট্টিরই একটি পরিবারের দুটি ভাই-এর কথা __গৌর এবং কৌশিক! ওদেরই নিজের মামা ছিলেন বিশুবাবু ! প্রকৃতপক্ষে দত্ত পরিবারের প্রথম যে জন পরমানন্দ মিশনের ভক্ত হয়েছিলেন তিনি গৌর দা বা তপন দত্ত ! এই গৌর-দার মামা বিশুবাবু যখন থেকে আদিত্যপুর আশ্রমে যাওয়া-আসা শুরু করলেন তখন থেকে সবাই ওনাকে গৌর-দার মামা হিসাবে ‘মামাবাবু’ বলতে শুরু করে ৷ সেই থেকেই উনি হয়ে গেছিলেন “বিশু মামা” !(ক্রমশঃ)
