[বীরভূমে ন’কাকা প্রসঙ্গে কথা হচ্ছিল । ন’কাকার সাথে সাথে এবার আমাদের যাত্রা আসানসোলের পথে। সেই সব আলোচনা শুরু করা হচ্ছে!]
…….. কথা হচ্ছিলো দীপকের বাড়ি আসানসোল যাওয়া নিয়ে! দীপক এত ভালো ছেলে যে মুখে বলা যায় না ! ও আসানসোলে কোনো একটি কলেজের প্রফেসর এবং বোলপুরের কৌশিক দত্ত(প্রফেসর)-এর বিশেষ বন্ধু। ন’কাকার প্রতি ওর যে কি ভক্তি-শ্রদ্ধা – তা বলে বোঝানো যাবে না ! ন’কাকা ওর বাড়ি যাবার পরও বুঝতে পারছিল না যে ওনাকে নিয়ে ও কি করবে !!
নতুন বাড়ির পূজা-পাঠ , গৃহপ্রবেশের অন্যান্য কাজ হয়ে যাবার পর –খাওয়া দাওয়ার পর্ব! একটু বিশ্রামের পরেই পূর্ব পরিকল্পনা মাফিক দীপক ন’কাকা সহ আমাদের সকলকে সঙ্গে নিয়ে একটা ভাড়ার গাড়ি করে চলে গেল কল্যানেশ্বরী দেবীর মন্দির দেখাতে। আসানসোল থেকে কল্যাণেশ্বরীর দূরত্ব অনেকটাই! কি সুন্দর জায়গা! পাহাড়ি এলাকায় এবং নির্জন, ফাঁকা জায়গায় মায়ের ঐ মন্দিরটি অবস্থিত! তাছাড়া ঐ অঞ্চলে জাগ্রত দেবী হিসাবে কল্যানেশ্বরী মা পূজিত হয়ে আসছেন দীর্ঘদিন ধরে । মায়ের পুজো দেবার সময়, আমাদের দীর্ঘ লাইনের পিছনে দাঁড়াতে হোল। ন’কাকা সঙ্গে থাকায় ওসব ছোটখাটো অসুবিধা আমাদের গায়েই লাগতো না! মন্দির প্রাঙ্গণের চারিদিকে এত সিঁদুর পড়ে ছিল যে আমাদের সবার পা একেবারে রাঙা হয়ে যাচ্ছিলো! মন্দিরের পিছনে ছোট ছোট(খুবই ছোট) পাহাড়ের মাঝখান দিয়ে বয়ে যাওয়া ঝরনার ঝরঝর্ ধ্বনির সাথে চোখ বন্ধ করে মনসংযোগ ঘটালে ভিতরে (অন্তর্জগতে) বেশ একটা ওংকারের ঝংকার অনুরনিত হয়!! বড় বড় পাথরের বোল্ডারের উপর বসার মনোরম জায়গাও রয়েছে! ওগুলোর পিছনে ছেলেছোকরাদের পিকনিক করার বিস্তীর্ণ জায়গা রয়েছে। কল্যাণেশ্বরী মায়ের মন্দিরে অনেকক্ষণ কাটিয়ে আমরা আবার ফিরে গেছিলাম আসানসোলে দীপকের নতুন বাড়িতে।
পরেরদিন দীপক আবার একটা গাড়ি ভাড়া করলো এবং ন’কাকা ও আমাদেরকে নিয়ে চলে গেলো দেওঘর(ঝাড়খণ্ড) – সারাদিন সেখানে ঘোরা হল! প্রথমেই যেখানে যাওয়া হোল সেটি একটি ছোট পাহাড় – আর তার মাথায় দেবতার মন্দির – অপূর্ব মনোরম দৃশ্য চারিপাশের!
এরপর ওখানে বাবাধাম অর্থাৎ বাবা বৈদ্যনাথের মন্দিরে যাওয়া হল – টিপ্-টাপ্ বৃষ্টির মধ্যে ন’কাকার সাথে লাইনে দাঁড়িয়ে বাবার পূজা দেওয়া হল! সাক্ষাৎ বুড়োশিবের সাথে দ্বাদশ জ্যোতিঃর্লিঙ্গের অন্যতম শিবলিঙ্গের পূজা দেওয়ার আনন্দই আলাদা!
অনুকূলচন্দ্র ঠাকুরের আশ্রমেও একবার যাওয়া হয়েছিল।
দেওঘরের রামকৃষ্ণ মিশন এবং ঐ মিশন স্কুলে টিচার আমার ভাগ্নে এবং বনগ্রাম আশ্রমের পুরানো ভক্ত শ্যামাপ্রসাদ চ্যাটার্জীর বাড়িও যাওয়া হয়েছিল।
ওখান থেকে বেড়িয়ে ধানবাদ হয়ে ফিরে আসা হয়েছিল আসানসোলে ।
আমরা ধানবাদে যার কোয়ার্টারে (B.C.C.L) গেলাম তার নাম রমা ভট্টাচার্য্য , ওর স্বামী অশোক ভট্টাচার্য । ওরা সম্পর্কে আমার ভাগ্নি ও ভাগ্নি জামাই । ওরা ন’কাকাকে একরাত্রি ওখানে থেকে যাবার জন্য ভীষণভাবে অনুরোধ করেছিল এবং বলেছিল পরেরদিন রাজরাপ্পা (রাঁচির কাছে) ছিন্নমস্তার মন্দির ঘুরতে নিয়ে যাবে ৷ কিন্তু ন’কাকা সেই যে জিদ্ ধরলেন _সেদিনই ফিরে যাবেন, ছিন্নমস্তা দেখতে যাবেন না __সেখান থেকে আমরা কেউই ন’কাকাকে টলাতে পারলাম না! ছিন্নমস্তা মন্দিরে যাওয়া হবে – জেনে আমি নন্দ মহারাজ অর্থাৎ আমরা সবাই একটু উল্লসিত হয়ে ছিলাম – কিন্তু ন’কাকা নিজের মতে একদম Stick করে থাকলেন , একদমই রাজি হোলেন না ! তাই সেই রাত্রেই আমরা আবার আসানসোলে ফিরে এসেছিলাম এবং পরের দিন বর্ধমানে ফিরে আসা হয়েছিল ৷
এই প্রসঙ্গে বলে নিই – আমার ঐ বড় ভাগ্নির (রমা ভট্টাচার্য্য) সেজ বোন এবং তার স্বামী সুব্রত মুখার্জি (যারা বিলাসপুর মধ্যপ্রদেশে থাকতো) , – ওরা ন’কাকার কাছে দীক্ষা নিয়েছিল ৷ ওরা আমার মাধ্যমে এবং নিজেরাও বারবার ন’কাকাকে অনুরোধ করেছিল যাতে ন’কাকা, ন’কাকিমাকে নিয়ে অন্তত একবার ওদের বিলাসপুরে (মধ্যপ্রদেশ) যান । তাহলে ওরা ওখান থেকে ন’কাকাকে অমরকন্টক বা অন্যান্য কিছু দর্শনীয় স্থান ঘুরিয়ে আনতে পারবে ৷ কিন্তু ওদের ওই আমন্ত্রণটাও ন’কাকা একদম Accept করলেন না ! ন’কাকার একটাই বক্তব্য ছিল , তা হোল – ” আর বাবা ! কত দেখবো ? বেশি ঘুরে বেড়াতে অতটা ভালো লাগে না ! তাছাড়া কথায় আছে না – “তীর্থ পর্যটন – মন উচাটন” ! যত ঘুরে বেড়াবে – মন চঞ্চল হবে ! মনস্থির করার জন্য তোমার নিজেরও স্থিরতার দরকার হয় ! সন্ন্যাসীর পরিব্রাজন আলাদা কথা – ওটাতো সাধনার অঙ্গ ! আর ভৌগোলিক জ্ঞানের জন্য যদি যাও – তাহলে এখান ওখান যেতে পারো । কিন্তু আমার ওসবের দরকার নাই – এখানে বসেই সব পাওয়া যায় ! পরমানন্দ (গুরু মহারাজ) দু-চার জায়গায় নিয়ে গিয়েছিল , তাই গিয়েছিলাম – আমার নিজের থেকে এখান ওখান ঘুরে বেড়ানোর কোন স্পৃহা খুঁজে পাই না !”
ফলে এরপরে ওনাকে ওনাকে বিলাসপুর (মধ্যপ্রদেশ) যাবার জন্য কোনদিন অনুরোধও করিনি।
যাইহোক, আসানসোলের কথা দিয়ে শুরু করেছিলাম, এখন আবার সেখানেই ফিরে যাই! তিনদিন দীপকের বাড়িতে আমরা এতগুলো লোক থেকে গেলাম – কিন্তু ওর আতিথেয়তা ভোলার নয় ! ন’কাকা দীপকের উপর এমনিতেই খুব প্রসন্ন ছিলেন ৷ ওই ঘটনার পর থেকে ওনার সাথে দীপকের সম্পর্কটা আরো একটু বেশি গভীর হয়েছিল! মাঝে মাঝেই দীপক আদিত্যপুর আশ্রমে ন’কাকার সাথে দেখা করতে আসতো। এর ফলে আমাদের সাথেও ওর মাঝে মাঝে দেখা হোত!! (ক্রমশঃ)
…….. কথা হচ্ছিলো দীপকের বাড়ি আসানসোল যাওয়া নিয়ে! দীপক এত ভালো ছেলে যে মুখে বলা যায় না ! ও আসানসোলে কোনো একটি কলেজের প্রফেসর এবং বোলপুরের কৌশিক দত্ত(প্রফেসর)-এর বিশেষ বন্ধু। ন’কাকার প্রতি ওর যে কি ভক্তি-শ্রদ্ধা – তা বলে বোঝানো যাবে না ! ন’কাকা ওর বাড়ি যাবার পরও বুঝতে পারছিল না যে ওনাকে নিয়ে ও কি করবে !!
নতুন বাড়ির পূজা-পাঠ , গৃহপ্রবেশের অন্যান্য কাজ হয়ে যাবার পর –খাওয়া দাওয়ার পর্ব! একটু বিশ্রামের পরেই পূর্ব পরিকল্পনা মাফিক দীপক ন’কাকা সহ আমাদের সকলকে সঙ্গে নিয়ে একটা ভাড়ার গাড়ি করে চলে গেল কল্যানেশ্বরী দেবীর মন্দির দেখাতে। আসানসোল থেকে কল্যাণেশ্বরীর দূরত্ব অনেকটাই! কি সুন্দর জায়গা! পাহাড়ি এলাকায় এবং নির্জন, ফাঁকা জায়গায় মায়ের ঐ মন্দিরটি অবস্থিত! তাছাড়া ঐ অঞ্চলে জাগ্রত দেবী হিসাবে কল্যানেশ্বরী মা পূজিত হয়ে আসছেন দীর্ঘদিন ধরে । মায়ের পুজো দেবার সময়, আমাদের দীর্ঘ লাইনের পিছনে দাঁড়াতে হোল। ন’কাকা সঙ্গে থাকায় ওসব ছোটখাটো অসুবিধা আমাদের গায়েই লাগতো না! মন্দির প্রাঙ্গণের চারিদিকে এত সিঁদুর পড়ে ছিল যে আমাদের সবার পা একেবারে রাঙা হয়ে যাচ্ছিলো! মন্দিরের পিছনে ছোট ছোট(খুবই ছোট) পাহাড়ের মাঝখান দিয়ে বয়ে যাওয়া ঝরনার ঝরঝর্ ধ্বনির সাথে চোখ বন্ধ করে মনসংযোগ ঘটালে ভিতরে (অন্তর্জগতে) বেশ একটা ওংকারের ঝংকার অনুরনিত হয়!! বড় বড় পাথরের বোল্ডারের উপর বসার মনোরম জায়গাও রয়েছে! ওগুলোর পিছনে ছেলেছোকরাদের পিকনিক করার বিস্তীর্ণ জায়গা রয়েছে। কল্যাণেশ্বরী মায়ের মন্দিরে অনেকক্ষণ কাটিয়ে আমরা আবার ফিরে গেছিলাম আসানসোলে দীপকের নতুন বাড়িতে।
পরেরদিন দীপক আবার একটা গাড়ি ভাড়া করলো এবং ন’কাকা ও আমাদেরকে নিয়ে চলে গেলো দেওঘর(ঝাড়খণ্ড) – সারাদিন সেখানে ঘোরা হল! প্রথমেই যেখানে যাওয়া হোল সেটি একটি ছোট পাহাড় – আর তার মাথায় দেবতার মন্দির – অপূর্ব মনোরম দৃশ্য চারিপাশের!
এরপর ওখানে বাবাধাম অর্থাৎ বাবা বৈদ্যনাথের মন্দিরে যাওয়া হল – টিপ্-টাপ্ বৃষ্টির মধ্যে ন’কাকার সাথে লাইনে দাঁড়িয়ে বাবার পূজা দেওয়া হল! সাক্ষাৎ বুড়োশিবের সাথে দ্বাদশ জ্যোতিঃর্লিঙ্গের অন্যতম শিবলিঙ্গের পূজা দেওয়ার আনন্দই আলাদা!
অনুকূলচন্দ্র ঠাকুরের আশ্রমেও একবার যাওয়া হয়েছিল।
দেওঘরের রামকৃষ্ণ মিশন এবং ঐ মিশন স্কুলে টিচার আমার ভাগ্নে এবং বনগ্রাম আশ্রমের পুরানো ভক্ত শ্যামাপ্রসাদ চ্যাটার্জীর বাড়িও যাওয়া হয়েছিল।
ওখান থেকে বেড়িয়ে ধানবাদ হয়ে ফিরে আসা হয়েছিল আসানসোলে ।
আমরা ধানবাদে যার কোয়ার্টারে (B.C.C.L) গেলাম তার নাম রমা ভট্টাচার্য্য , ওর স্বামী অশোক ভট্টাচার্য । ওরা সম্পর্কে আমার ভাগ্নি ও ভাগ্নি জামাই । ওরা ন’কাকাকে একরাত্রি ওখানে থেকে যাবার জন্য ভীষণভাবে অনুরোধ করেছিল এবং বলেছিল পরেরদিন রাজরাপ্পা (রাঁচির কাছে) ছিন্নমস্তার মন্দির ঘুরতে নিয়ে যাবে ৷ কিন্তু ন’কাকা সেই যে জিদ্ ধরলেন _সেদিনই ফিরে যাবেন, ছিন্নমস্তা দেখতে যাবেন না __সেখান থেকে আমরা কেউই ন’কাকাকে টলাতে পারলাম না! ছিন্নমস্তা মন্দিরে যাওয়া হবে – জেনে আমি নন্দ মহারাজ অর্থাৎ আমরা সবাই একটু উল্লসিত হয়ে ছিলাম – কিন্তু ন’কাকা নিজের মতে একদম Stick করে থাকলেন , একদমই রাজি হোলেন না ! তাই সেই রাত্রেই আমরা আবার আসানসোলে ফিরে এসেছিলাম এবং পরের দিন বর্ধমানে ফিরে আসা হয়েছিল ৷
এই প্রসঙ্গে বলে নিই – আমার ঐ বড় ভাগ্নির (রমা ভট্টাচার্য্য) সেজ বোন এবং তার স্বামী সুব্রত মুখার্জি (যারা বিলাসপুর মধ্যপ্রদেশে থাকতো) , – ওরা ন’কাকার কাছে দীক্ষা নিয়েছিল ৷ ওরা আমার মাধ্যমে এবং নিজেরাও বারবার ন’কাকাকে অনুরোধ করেছিল যাতে ন’কাকা, ন’কাকিমাকে নিয়ে অন্তত একবার ওদের বিলাসপুরে (মধ্যপ্রদেশ) যান । তাহলে ওরা ওখান থেকে ন’কাকাকে অমরকন্টক বা অন্যান্য কিছু দর্শনীয় স্থান ঘুরিয়ে আনতে পারবে ৷ কিন্তু ওদের ওই আমন্ত্রণটাও ন’কাকা একদম Accept করলেন না ! ন’কাকার একটাই বক্তব্য ছিল , তা হোল – ” আর বাবা ! কত দেখবো ? বেশি ঘুরে বেড়াতে অতটা ভালো লাগে না ! তাছাড়া কথায় আছে না – “তীর্থ পর্যটন – মন উচাটন” ! যত ঘুরে বেড়াবে – মন চঞ্চল হবে ! মনস্থির করার জন্য তোমার নিজেরও স্থিরতার দরকার হয় ! সন্ন্যাসীর পরিব্রাজন আলাদা কথা – ওটাতো সাধনার অঙ্গ ! আর ভৌগোলিক জ্ঞানের জন্য যদি যাও – তাহলে এখান ওখান যেতে পারো । কিন্তু আমার ওসবের দরকার নাই – এখানে বসেই সব পাওয়া যায় ! পরমানন্দ (গুরু মহারাজ) দু-চার জায়গায় নিয়ে গিয়েছিল , তাই গিয়েছিলাম – আমার নিজের থেকে এখান ওখান ঘুরে বেড়ানোর কোন স্পৃহা খুঁজে পাই না !”
ফলে এরপরে ওনাকে ওনাকে বিলাসপুর (মধ্যপ্রদেশ) যাবার জন্য কোনদিন অনুরোধও করিনি।
যাইহোক, আসানসোলের কথা দিয়ে শুরু করেছিলাম, এখন আবার সেখানেই ফিরে যাই! তিনদিন দীপকের বাড়িতে আমরা এতগুলো লোক থেকে গেলাম – কিন্তু ওর আতিথেয়তা ভোলার নয় ! ন’কাকা দীপকের উপর এমনিতেই খুব প্রসন্ন ছিলেন ৷ ওই ঘটনার পর থেকে ওনার সাথে দীপকের সম্পর্কটা আরো একটু বেশি গভীর হয়েছিল! মাঝে মাঝেই দীপক আদিত্যপুর আশ্রমে ন’কাকার সাথে দেখা করতে আসতো। এর ফলে আমাদের সাথেও ওর মাঝে মাঝে দেখা হোত!! (ক্রমশঃ)
