[আগের দিন আলোচনা হয়েছিল যে, ন’কাকা অকারণে কারো সাহায্য নিতে চাইতেন না! মনে হয় _এইটা যে কোনো উন্নত মানুষদেরই সহজাত প্রকৃতি! এই প্রসঙ্গে গুরুমহারাজের কথাও এসে যাচ্ছে….]
গুরু মহারাজ স্বামী পরমানন্দও বলতেন – ” আমি আমার নিজের প্রয়োজনের কাজটুকু কি করে নিতে পারি না –? নিশ্চয়ই পারি ! আমি তো পরিব্রাজনকালীন সময়ে নিজের টা তো করেছি, এমনকি কত সাধু-সান্ত-ফকির-বাউলদের হাত-পা টেপা, কাপড়-চোপড় কাচা _এই ধরনের সেবাও করেছি ! সাধারণ যে কোনো মানুষের প্রয়োজনে সাধ্যমতো (যেহেতু তখন ছোট বয়স) সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিয়েছি! আমাদের এখানেই রয়েছে এমন অনেক ভক্তদের (স্বামী শঙ্করানন্দ , সব্যসাচী মান্না প্রমুখ) আমি জামা-কাপড় কেচে পরিষ্কার করে দিয়েছি ! ফলে আমার নিজের জামাকাপড় আমি এখনও নিজেই কেচে নিতে পারি ! তবু করি না কেন –যারা এগুলি করে তাদের সেবা করার একটু সুযোগ করে দিই ! নিঃস্বার্থ হয়ে নিষ্ঠার সঙ্গে সেবা করতে পারলে তোদেরই কল্যাণ হবে ৷”
গুরু মহারাজ ছিলেন ষড়ৈশ্বর্য্যবান – তাঁর মধ্যে সমস্ত রকম ঐশ্বর্যের প্রকাশ ছিল! হাজার হাজার মানুষের মাঝেও যদি গুরু মহারাজ (স্বামী পরমানন্দ) থাকতেন , তাহলে তাঁকে চিনে নিতে কারো কোন অসুবিধা হোতো না – সহস্র মানুষের ভীড়েও যে কোনো ভক্তের চোখ তাঁর দিকেই চলে যেতো ! সাধারণ মানুষ _যারা হয়তো গুরুমহারাজকে চেনে না __তারাও ঐ “সোনার মানুষ”-এর দিকে একবার তাকালেই, অবাক হয়ে যেতো! মনে মনে ভাবতো__”এক অঙ্গে এতো রূপ”__কোন মানুষের হয় কি করে!!!
কিন্তু ন’কাকা ঐশ্বর্যবান হয়েও যেন ঐশ্বর্য ঢেকে রাখতেন , অষ্ট সিদ্ধির অধিকারী হয়েও নিজেকে –’ ‘সাধারণের থেকেও অতি সাধারণ’ _হিসাবে মানুষের কাছে তুলে ধরতেন!
গুরু মহারাজকে বাইরে থেকে দেখেই বোঝা যেতো যে , তিনি নিশ্চয়ই একজন মহাপুরুষ ! আর ন’কাকাকে খুব কাছ থেকে দীর্ঘদিন মেলামেশা করলেও বোঝা যেতো না যে , উনি কি সাধারণ মানুষ না সত্যিই কোন মহাপুরুষ !
ঠাকুর শ্রীরামকৃষ্ণ সারদা মা সম্বন্ধে বলেছিলেন – ” ও সাক্ষাৎ সরস্বতী , তবে এবার রূপ লুকিয়ে এসেছে !” ন’কাকা সম্বন্ধেও আমরা এইরকমটাই বলতে পারি – “ন’কাকা ঐশ্বর্যবান এবং অষ্টসিদ্ধি প্রাপ্ত পুরুষ হওয়া সত্ত্বেও উনি রূপ লুকিয়ে এবার এসেছিলেন ভগবানের লীলার অংশীদার হয়ে !”
বনগ্রাম আশ্রমের বর্তমান অধ্যক্ষ তৃষাণ মহারাজ (স্বামী পরমেশ্বরানন্দ) একদিন আমাকে বলেছিলেন যে , ” সমস্ত সিদ্ধি করায়ত্ত করাটা কোনো সাধকের ক্ষেত্রে খুবই কষ্টকর (কারণ তাতে দীর্ঘদিন ধরে তীব্র সাধন-ভজন দরকার হয় , জীবনে ভোগের বিন্দুমাত্র স্পৃহা না রেখে ত্যাগ-বৈরাগ্যের পথ গ্রহণ করতে হয়) , এটা অর্জন করতে হলে ভীষণ শক্তির দরকার হয় ! কিন্তু সমস্ত সিদ্ধি করায়ত্ত থাকা সত্ত্বেও তার কোন প্রয়োগ না ঘটানোর জন্য আরও বেশি শক্তিশালী হোতে হয় !” ন’কাকা ছিলেন তেমনিই একজন বিরল ও ব্যতিক্রমী মহাপুরুষ!
ন’কাকা অনেককেই টাকা দিতেন , নগদ টাকা ! উনি ব্যক্তির প্রয়োজন বুঝে তাকে টাকা পাঠিয়ে দিতেন এবং তা অতি গোপনে!এটা হয়তো সেই ব্যক্তি জানতো অথবা হয়তো জানতেই পারতো না!
ন’কাকার সাথে কোনো স্থানে যখন আমি যেতাম, সেখান থেকে ফেরার সময় বেশিরভাগ সময়েই উনি আমাকে আসা-যাওয়ার ভাড়া হিসাবে কিছু টাকা হাতে দিয়ে দিতেন । মুকুল (মুকুল বন্দ্যোপাধ্যায় , বার্নপুর)-কেও ভাড়া হিসাবে কিছু টাকা দিতে দেখেছি ৷ আদিত্যপুর আশ্রমে কিছুদিন কাটানোর পর ফিরে আসার সময় ওখানকার মহারাজের হাতেও উনি কিছু টাকা প্রণামী হিসাবে দিয়ে আসতেন । যে সমস্ত টাকা ভক্তরা ওনাকে শ্রদ্ধার অর্ঘ্য হিসাবে দিতো – সেগুলিকেই উনি ভাগ ভাগ করে রেখে দিতেন এবং নির্দিষ্ট ব্যক্তিদেরকে দিয়ে দিতেন! অল্পে সন্তুষ্টচিত্ত এই মহান মানুষটিকে যে বা যারা খুব কাছ থেকে দেখেছে – তারা ওনার এইসব কান্ড-কারখানা দেখে বিস্মিত না হয়ে পারতো না !
বনগ্রামের শিব মন্দিরটি (গ্রামবাসীদের অর্থাৎ সর্বসাধারণের) বহুকাল আগের নির্মিত – ফলে অনেকটাই জীর্ণ হয়ে গিয়েছিল । ন’কাকা বনগ্রামের দু-চারটি ইয়ং ছেলেদেরকে সামনে রেখে নিজের উদ্যোগে , নিজের খরচায় মন্দিরটির সংস্কারের সমস্ত কাজ করে দিয়েছেন এবং রং-চং করে একেবারে নতুনের মত করে দিয়েছেন! এটা উনি করেছেন ওনার শরীর ছাড়ার ঠিক আগে !
আমি আগেই জানতাম যে, বনগ্রামের মন্দিরটির renovation হচ্ছে, কিন্তু আমি প্রথমটায় ভেবেছিলাম গ্রামবাসীরা বোধয় সবাই চাঁদা তুলে এই কাজটি সম্পন্ন করছে! কিন্তু পরবর্তীতে বনগ্রামের নগেন , রাজু প্রমুখ আরও দু-চারজনকে জিজ্ঞাসা করে জানতে পারলাম __গ্রামের কেউই বিশেষ কোনো পয়সা দেয় নি – দু-চারজন শুধুমাত্র involve থেকে একটু-আধটু সাহায্য করেছিল – এইমাত্র ! সমস্ত খরচখরচা সহ পুরো কাজটার ঝামেলা উনি একাই মাথায় নিয়েছিলেন এবং কাজটা সুসম্পন্ন করেছিলেন !(ক্রমশঃ)
গুরু মহারাজ স্বামী পরমানন্দও বলতেন – ” আমি আমার নিজের প্রয়োজনের কাজটুকু কি করে নিতে পারি না –? নিশ্চয়ই পারি ! আমি তো পরিব্রাজনকালীন সময়ে নিজের টা তো করেছি, এমনকি কত সাধু-সান্ত-ফকির-বাউলদের হাত-পা টেপা, কাপড়-চোপড় কাচা _এই ধরনের সেবাও করেছি ! সাধারণ যে কোনো মানুষের প্রয়োজনে সাধ্যমতো (যেহেতু তখন ছোট বয়স) সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিয়েছি! আমাদের এখানেই রয়েছে এমন অনেক ভক্তদের (স্বামী শঙ্করানন্দ , সব্যসাচী মান্না প্রমুখ) আমি জামা-কাপড় কেচে পরিষ্কার করে দিয়েছি ! ফলে আমার নিজের জামাকাপড় আমি এখনও নিজেই কেচে নিতে পারি ! তবু করি না কেন –যারা এগুলি করে তাদের সেবা করার একটু সুযোগ করে দিই ! নিঃস্বার্থ হয়ে নিষ্ঠার সঙ্গে সেবা করতে পারলে তোদেরই কল্যাণ হবে ৷”
গুরু মহারাজ ছিলেন ষড়ৈশ্বর্য্যবান – তাঁর মধ্যে সমস্ত রকম ঐশ্বর্যের প্রকাশ ছিল! হাজার হাজার মানুষের মাঝেও যদি গুরু মহারাজ (স্বামী পরমানন্দ) থাকতেন , তাহলে তাঁকে চিনে নিতে কারো কোন অসুবিধা হোতো না – সহস্র মানুষের ভীড়েও যে কোনো ভক্তের চোখ তাঁর দিকেই চলে যেতো ! সাধারণ মানুষ _যারা হয়তো গুরুমহারাজকে চেনে না __তারাও ঐ “সোনার মানুষ”-এর দিকে একবার তাকালেই, অবাক হয়ে যেতো! মনে মনে ভাবতো__”এক অঙ্গে এতো রূপ”__কোন মানুষের হয় কি করে!!!
কিন্তু ন’কাকা ঐশ্বর্যবান হয়েও যেন ঐশ্বর্য ঢেকে রাখতেন , অষ্ট সিদ্ধির অধিকারী হয়েও নিজেকে –’ ‘সাধারণের থেকেও অতি সাধারণ’ _হিসাবে মানুষের কাছে তুলে ধরতেন!
গুরু মহারাজকে বাইরে থেকে দেখেই বোঝা যেতো যে , তিনি নিশ্চয়ই একজন মহাপুরুষ ! আর ন’কাকাকে খুব কাছ থেকে দীর্ঘদিন মেলামেশা করলেও বোঝা যেতো না যে , উনি কি সাধারণ মানুষ না সত্যিই কোন মহাপুরুষ !
ঠাকুর শ্রীরামকৃষ্ণ সারদা মা সম্বন্ধে বলেছিলেন – ” ও সাক্ষাৎ সরস্বতী , তবে এবার রূপ লুকিয়ে এসেছে !” ন’কাকা সম্বন্ধেও আমরা এইরকমটাই বলতে পারি – “ন’কাকা ঐশ্বর্যবান এবং অষ্টসিদ্ধি প্রাপ্ত পুরুষ হওয়া সত্ত্বেও উনি রূপ লুকিয়ে এবার এসেছিলেন ভগবানের লীলার অংশীদার হয়ে !”
বনগ্রাম আশ্রমের বর্তমান অধ্যক্ষ তৃষাণ মহারাজ (স্বামী পরমেশ্বরানন্দ) একদিন আমাকে বলেছিলেন যে , ” সমস্ত সিদ্ধি করায়ত্ত করাটা কোনো সাধকের ক্ষেত্রে খুবই কষ্টকর (কারণ তাতে দীর্ঘদিন ধরে তীব্র সাধন-ভজন দরকার হয় , জীবনে ভোগের বিন্দুমাত্র স্পৃহা না রেখে ত্যাগ-বৈরাগ্যের পথ গ্রহণ করতে হয়) , এটা অর্জন করতে হলে ভীষণ শক্তির দরকার হয় ! কিন্তু সমস্ত সিদ্ধি করায়ত্ত থাকা সত্ত্বেও তার কোন প্রয়োগ না ঘটানোর জন্য আরও বেশি শক্তিশালী হোতে হয় !” ন’কাকা ছিলেন তেমনিই একজন বিরল ও ব্যতিক্রমী মহাপুরুষ!
ন’কাকা অনেককেই টাকা দিতেন , নগদ টাকা ! উনি ব্যক্তির প্রয়োজন বুঝে তাকে টাকা পাঠিয়ে দিতেন এবং তা অতি গোপনে!এটা হয়তো সেই ব্যক্তি জানতো অথবা হয়তো জানতেই পারতো না!
ন’কাকার সাথে কোনো স্থানে যখন আমি যেতাম, সেখান থেকে ফেরার সময় বেশিরভাগ সময়েই উনি আমাকে আসা-যাওয়ার ভাড়া হিসাবে কিছু টাকা হাতে দিয়ে দিতেন । মুকুল (মুকুল বন্দ্যোপাধ্যায় , বার্নপুর)-কেও ভাড়া হিসাবে কিছু টাকা দিতে দেখেছি ৷ আদিত্যপুর আশ্রমে কিছুদিন কাটানোর পর ফিরে আসার সময় ওখানকার মহারাজের হাতেও উনি কিছু টাকা প্রণামী হিসাবে দিয়ে আসতেন । যে সমস্ত টাকা ভক্তরা ওনাকে শ্রদ্ধার অর্ঘ্য হিসাবে দিতো – সেগুলিকেই উনি ভাগ ভাগ করে রেখে দিতেন এবং নির্দিষ্ট ব্যক্তিদেরকে দিয়ে দিতেন! অল্পে সন্তুষ্টচিত্ত এই মহান মানুষটিকে যে বা যারা খুব কাছ থেকে দেখেছে – তারা ওনার এইসব কান্ড-কারখানা দেখে বিস্মিত না হয়ে পারতো না !
বনগ্রামের শিব মন্দিরটি (গ্রামবাসীদের অর্থাৎ সর্বসাধারণের) বহুকাল আগের নির্মিত – ফলে অনেকটাই জীর্ণ হয়ে গিয়েছিল । ন’কাকা বনগ্রামের দু-চারটি ইয়ং ছেলেদেরকে সামনে রেখে নিজের উদ্যোগে , নিজের খরচায় মন্দিরটির সংস্কারের সমস্ত কাজ করে দিয়েছেন এবং রং-চং করে একেবারে নতুনের মত করে দিয়েছেন! এটা উনি করেছেন ওনার শরীর ছাড়ার ঠিক আগে !
আমি আগেই জানতাম যে, বনগ্রামের মন্দিরটির renovation হচ্ছে, কিন্তু আমি প্রথমটায় ভেবেছিলাম গ্রামবাসীরা বোধয় সবাই চাঁদা তুলে এই কাজটি সম্পন্ন করছে! কিন্তু পরবর্তীতে বনগ্রামের নগেন , রাজু প্রমুখ আরও দু-চারজনকে জিজ্ঞাসা করে জানতে পারলাম __গ্রামের কেউই বিশেষ কোনো পয়সা দেয় নি – দু-চারজন শুধুমাত্র involve থেকে একটু-আধটু সাহায্য করেছিল – এইমাত্র ! সমস্ত খরচখরচা সহ পুরো কাজটার ঝামেলা উনি একাই মাথায় নিয়েছিলেন এবং কাজটা সুসম্পন্ন করেছিলেন !(ক্রমশঃ)
