(ন’কাকা প্রসঙ্গে কথা বলতে গেলে “গুরুমহারাজ”_প্রসঙ্গ আসবেই! ওনারা যে একে অপরের সাথে অঙ্গাঅঙ্গিভাবে জড়িত! তবু চেষ্টা করা হবে_’শুধু ন’কাকার কথা’ বলার!!)…..
~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~
ন’কাকা প্রসঙ্গে।(৩)
==============================
এটা সত্যি যে ন’কাকাকে আমরা প্রথম যখন দেখলাম (১৯৮৩) তখন ন’কাকাদের বাড়ীতে নিজস্ব চাষবাস ছিল । গোয়ালে ভর্ত্তি গরু ! হেলে-গরু (চাষের জন্য) , গাই গরু ! বাড়ীতে বছরের প্রায় সবসময়েই জন-মজুররা কাজ কোরতো , খেতো ! তাই বাড়ীর মায়েদের খুব একটা বিশ্রাম হোতো না , চরম পরিশ্রম করতে হোতো । তার উপর আশ্রমে যারা নতুন নতুন (প্রথম-প্রথম) আসতো , তাদের অনেকেই ন’কাকাদের বাড়ীতেই খেতো ! তাই বড়-বড় হাঁড়িতে ভাত রান্না করতে হোতো মায়েদের ৷
এইসব ব্যাপারে বা family-র অন্যান্য ব্যাপারে রাত্রে ন’কাকাদের দ্বিতীয় বাড়ীতে(যে বাড়িতে পরবর্তীতে ওনারা থাকতেন) অনেক সময়েই বিভিন্ন কারণে ন’কাকার কাছে ন’কাকীমাকে মৃদু অনুযোগ করতে শুনেছি ! কিন্তু ন’কাকা কখনই ঐ ধরনের কোন কথা-কে Seriously নিতেন না ! “ও – আর কি করা যাবে ! ও-রকম একটু-আধটু হয়েই থাকে !” — ন’কাকার সংক্ষিপ্ত উত্তর ৷ এর পরেও হয়তো একটু জোর (ঝাঁঝ) দিয়েই চিরাচরিত ভাবে স্ত্রীরা অসহায় স্বামীকে যেমনভাবে আর যে সমস্ত কথা বলে থাকে — সেইরকমভাবেই ন’কাকীমা কিছু কথা বলে উঠতেন । তার উত্তরে ন’কাকা যেন আরও শান্ত – আরও স্থিতধী – ” তা – অার কি করা যাবে , আমার তো শিবের সংসার ! এইদিক টানতে গিয়ে ওদিকটা ফাঁক পড়ে যায় ! কোনরকমে সামাল দেওয়া !” অনেকসময় (আমি উপস্থিত থাকলে) উনি আমাকেই সাক্ষী মানতেন – ” না কি বলো শ্রীধর ?” আমি মজা নিতাম , হাসতাম , কোনো উত্তর দিতে পারতাম না – দেব-দেবীদের কথার মাঝে উত্তর দেবার সাধ্য কোথায় !!
ওনাদের বাড়ীতে সারাবছরে একটা অনুষ্ঠান খুবই ধূমধামের সঙ্গে পালিত হোত – আর তা হোল কার্ত্তিক মাসের কালীপূজা ৷ ওনাদের গৃহদেবী (এখন পরমানন্দ ভক্তদের কাছে সার্বজনীন হয়ে গেছে) মা করুণাময়ী কালীপুজা ! বংশ-পরম্পরায় এখন মুখার্জী আর গাঙ্গুলী – এই দুই পরিবার ঐ কালীপূজার অধিকারী ৷ তাই “সরিকানা” পূজার পালা চালান – এক বছর মুখার্জীরা , এক বছর গাঙ্গুলীরা ! কিন্তু দেখতাম পূজার পালা যার-ই হোক না কেনো , ন’কাকাদের বাড়ীতে কালীপূজার ১ মাস আগে থেকেই সাজো সাজো রব ! আতপ চাল তৈরী করা , সলতে পাকানো , নারকেলের মিষ্টি তৈরী করা , মন্দির বা বাড়িঘর ধোয়া-মোছা ইত্যাদি ইত্যাদি কত কাজ ! যেন কাজের আর শেষ নাই !
গুরু মহারাজ থাকাকালীন কালীপূজার সময় সকালে – বিকালে উনি মুখার্জী বাড়ীতেই থাকতেন, আবার সন্ধ্যার পর পূজা শুরু হলে উনি ঠাকুরঘরের ভিতরটায় গিয়ে বসতেন !
সকাল থেকে হোম-যজ্ঞ পূজা , সন্ধ্যার সময় বিশেষ পূজা এবং পূজার শেষে আশ্রমিকগণ (বালকেরা সহ) এবং প্রায় সমস্ত গ্রামবাসী (অবশ্য বনগ্রাম ছোট গ্রাম তবু লোকসংখ্যা কম কিছু নয়) ঐদিন ওনাদের বাড়ীতে প্রসাদ পেয়ে থাকেন । সুতরাং বোঝাই যাচ্ছে বিরাট প্রস্তুতি ! এখন অবশ্য বনগ্রাম আশ্রম কর্তৃপক্ষ লোকজন খাওয়ার দায়িত্ব নেওয়ায়_ সবকিছুই সুশৃঙ্খলভাবে ঘটছে ৷ কিন্তু আগে মুখার্জী বাড়ীর লোকেদের বিশেষতঃ ন’কাকাকে ঐ সব কাজে বিশেষ ভূমিকা নিতে হোত ! ঐ কালীপূজায় (মা করুণাময়ী) আর একটা বিশেষ ব্যাপার খুবই লক্ষণীয় এই যে , যেবার মুখার্জী বাড়ীদের পূজার পালা থাকে সে বছর প্রতিমাপুজো , হোম-যজ্ঞাদি করে গাঙ্গুলী বাড়ীর লোকেরা । আবার যে বছর গাঙ্গুলীদের পূজার পালা __ মুখার্জী বাড়ীর লোকেরা সে বছর পূজার দায়িত্ব গ্রহণ করে!
যাইহোক , করুণাময়ী কালীপূজাকে কেন্দ্র করে আগে দেখতাম পরিবারের মানুষজন ছাড়া গ্রামের মানুষ বা স্থানীয় মানুষেরা উপবাস-মানত ইত্যাদি কোরতো । কিন্তু যতদিন যেতে লাগল ততই “ন’কাকা” কেন্দ্রিক একটা ভক্তসংখ্যার দল গড়ে উঠতে লাগল । ফলে পরের দিকে দেখতাম করুণাময়ী কালীপূজার দিন বাহিরাগত ভক্তদের ভিড়ে মন্দির প্রাঙ্গণ ভরে যেতো! লোকজনে জায়গাটা থিক্-থিক্ কোরতো ! পূজার সময় দেখতাম ন’কাকার চোখদুটো কেমন যেন হয়ে যেতো – যেন সবকিছুই দেখছেন অথচ কিছুতেই কোন আসক্তি নাই ! পূজার শেষে সবাই যখন বিদায় নিতো – ন’কাকা প্রত্যেককে প্রসাদ দিতেন ! ঠিক মনে রাখতেন কে কি মিষ্টি বা ফল এনেছিল – সেইরকমই প্রসাদ ফিরিয়ে দিতেন ! এই ব্যাপারটা বড় সহজ কথা নয় ! অত কাজের ভিড়ে , অত লোকের মাঝে – ঠিক ‘তাল’টি বজায় রাখা মহাপুরুষরা ছাড়া আর কার পক্ষেই বা সম্ভব !!! … [ক্রমশঃ]
~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~
ন’কাকা প্রসঙ্গে।(৩)
==============================
এটা সত্যি যে ন’কাকাকে আমরা প্রথম যখন দেখলাম (১৯৮৩) তখন ন’কাকাদের বাড়ীতে নিজস্ব চাষবাস ছিল । গোয়ালে ভর্ত্তি গরু ! হেলে-গরু (চাষের জন্য) , গাই গরু ! বাড়ীতে বছরের প্রায় সবসময়েই জন-মজুররা কাজ কোরতো , খেতো ! তাই বাড়ীর মায়েদের খুব একটা বিশ্রাম হোতো না , চরম পরিশ্রম করতে হোতো । তার উপর আশ্রমে যারা নতুন নতুন (প্রথম-প্রথম) আসতো , তাদের অনেকেই ন’কাকাদের বাড়ীতেই খেতো ! তাই বড়-বড় হাঁড়িতে ভাত রান্না করতে হোতো মায়েদের ৷
এইসব ব্যাপারে বা family-র অন্যান্য ব্যাপারে রাত্রে ন’কাকাদের দ্বিতীয় বাড়ীতে(যে বাড়িতে পরবর্তীতে ওনারা থাকতেন) অনেক সময়েই বিভিন্ন কারণে ন’কাকার কাছে ন’কাকীমাকে মৃদু অনুযোগ করতে শুনেছি ! কিন্তু ন’কাকা কখনই ঐ ধরনের কোন কথা-কে Seriously নিতেন না ! “ও – আর কি করা যাবে ! ও-রকম একটু-আধটু হয়েই থাকে !” — ন’কাকার সংক্ষিপ্ত উত্তর ৷ এর পরেও হয়তো একটু জোর (ঝাঁঝ) দিয়েই চিরাচরিত ভাবে স্ত্রীরা অসহায় স্বামীকে যেমনভাবে আর যে সমস্ত কথা বলে থাকে — সেইরকমভাবেই ন’কাকীমা কিছু কথা বলে উঠতেন । তার উত্তরে ন’কাকা যেন আরও শান্ত – আরও স্থিতধী – ” তা – অার কি করা যাবে , আমার তো শিবের সংসার ! এইদিক টানতে গিয়ে ওদিকটা ফাঁক পড়ে যায় ! কোনরকমে সামাল দেওয়া !” অনেকসময় (আমি উপস্থিত থাকলে) উনি আমাকেই সাক্ষী মানতেন – ” না কি বলো শ্রীধর ?” আমি মজা নিতাম , হাসতাম , কোনো উত্তর দিতে পারতাম না – দেব-দেবীদের কথার মাঝে উত্তর দেবার সাধ্য কোথায় !!
ওনাদের বাড়ীতে সারাবছরে একটা অনুষ্ঠান খুবই ধূমধামের সঙ্গে পালিত হোত – আর তা হোল কার্ত্তিক মাসের কালীপূজা ৷ ওনাদের গৃহদেবী (এখন পরমানন্দ ভক্তদের কাছে সার্বজনীন হয়ে গেছে) মা করুণাময়ী কালীপুজা ! বংশ-পরম্পরায় এখন মুখার্জী আর গাঙ্গুলী – এই দুই পরিবার ঐ কালীপূজার অধিকারী ৷ তাই “সরিকানা” পূজার পালা চালান – এক বছর মুখার্জীরা , এক বছর গাঙ্গুলীরা ! কিন্তু দেখতাম পূজার পালা যার-ই হোক না কেনো , ন’কাকাদের বাড়ীতে কালীপূজার ১ মাস আগে থেকেই সাজো সাজো রব ! আতপ চাল তৈরী করা , সলতে পাকানো , নারকেলের মিষ্টি তৈরী করা , মন্দির বা বাড়িঘর ধোয়া-মোছা ইত্যাদি ইত্যাদি কত কাজ ! যেন কাজের আর শেষ নাই !
গুরু মহারাজ থাকাকালীন কালীপূজার সময় সকালে – বিকালে উনি মুখার্জী বাড়ীতেই থাকতেন, আবার সন্ধ্যার পর পূজা শুরু হলে উনি ঠাকুরঘরের ভিতরটায় গিয়ে বসতেন !
সকাল থেকে হোম-যজ্ঞ পূজা , সন্ধ্যার সময় বিশেষ পূজা এবং পূজার শেষে আশ্রমিকগণ (বালকেরা সহ) এবং প্রায় সমস্ত গ্রামবাসী (অবশ্য বনগ্রাম ছোট গ্রাম তবু লোকসংখ্যা কম কিছু নয়) ঐদিন ওনাদের বাড়ীতে প্রসাদ পেয়ে থাকেন । সুতরাং বোঝাই যাচ্ছে বিরাট প্রস্তুতি ! এখন অবশ্য বনগ্রাম আশ্রম কর্তৃপক্ষ লোকজন খাওয়ার দায়িত্ব নেওয়ায়_ সবকিছুই সুশৃঙ্খলভাবে ঘটছে ৷ কিন্তু আগে মুখার্জী বাড়ীর লোকেদের বিশেষতঃ ন’কাকাকে ঐ সব কাজে বিশেষ ভূমিকা নিতে হোত ! ঐ কালীপূজায় (মা করুণাময়ী) আর একটা বিশেষ ব্যাপার খুবই লক্ষণীয় এই যে , যেবার মুখার্জী বাড়ীদের পূজার পালা থাকে সে বছর প্রতিমাপুজো , হোম-যজ্ঞাদি করে গাঙ্গুলী বাড়ীর লোকেরা । আবার যে বছর গাঙ্গুলীদের পূজার পালা __ মুখার্জী বাড়ীর লোকেরা সে বছর পূজার দায়িত্ব গ্রহণ করে!
যাইহোক , করুণাময়ী কালীপূজাকে কেন্দ্র করে আগে দেখতাম পরিবারের মানুষজন ছাড়া গ্রামের মানুষ বা স্থানীয় মানুষেরা উপবাস-মানত ইত্যাদি কোরতো । কিন্তু যতদিন যেতে লাগল ততই “ন’কাকা” কেন্দ্রিক একটা ভক্তসংখ্যার দল গড়ে উঠতে লাগল । ফলে পরের দিকে দেখতাম করুণাময়ী কালীপূজার দিন বাহিরাগত ভক্তদের ভিড়ে মন্দির প্রাঙ্গণ ভরে যেতো! লোকজনে জায়গাটা থিক্-থিক্ কোরতো ! পূজার সময় দেখতাম ন’কাকার চোখদুটো কেমন যেন হয়ে যেতো – যেন সবকিছুই দেখছেন অথচ কিছুতেই কোন আসক্তি নাই ! পূজার শেষে সবাই যখন বিদায় নিতো – ন’কাকা প্রত্যেককে প্রসাদ দিতেন ! ঠিক মনে রাখতেন কে কি মিষ্টি বা ফল এনেছিল – সেইরকমই প্রসাদ ফিরিয়ে দিতেন ! এই ব্যাপারটা বড় সহজ কথা নয় ! অত কাজের ভিড়ে , অত লোকের মাঝে – ঠিক ‘তাল’টি বজায় রাখা মহাপুরুষরা ছাড়া আর কার পক্ষেই বা সম্ভব !!! … [ক্রমশঃ]
