[আমরা এখন আবার একটু পুরোনো প্রসঙ্গে কথা বলছি অর্থাৎ যখন ন’কাকা শ্রীরামপুরে যেতেন সেইসময়কার ফেলে আসা কিছু কথা এইখানে বলে নেওয়া হচ্ছে।]
আমরা ন’কাকার সাথে শ্রীরামপুরের মধ্যেই আরো কিছু কিছু ভক্তের বাড়ি (মাস্টারমশাই, গৌতম ভড়, অসীম ব্যানার্জীর বাড়ি ছাড়াও)-তেও যেতাম । আমার মনে পড়ছে একজনের কথা __যার বাড়িতে মাঝে মধ্যেই যাওয়া হতো, উনি সম্ভবত খুব বড় কনট্রাক্টর ছিলেন, বেশ ধনী লোক ! বাড়ির বাইরে সিমেন্ট দিয়ে কাঠ ও বাঁশের কাজ করা নানান কারুকার্য ছিল – যা দেখলে মনে হবে সত্যি সত্যিই বাঁশের ব্রিজ বা কাঠের তৈরি হরেক রকম কাঠামো ! ওই বাড়ির ভদ্রমহিলাটি কিন্তু খুবই ভক্তিমতী ছিলেন ! বাড়ির কর্তা, কন্ট্রাকটর ভদ্রলোক ন’কাকাকে ওনার বাড়ি যে প্রায়ই আমন্ত্রণ করে নিয়ে যেতেন – তার একটা যে উদ্দেশ্য ছিল, সেটা আমি প্রথমটায় জানতাম না। আমি ওনাদেরকে আর পাঁচটা সাধারণ ভক্ত হিসাবেই মনে করেছিলাম। কিন্তু ন’কাকা নিজেই একদিন ঐ ভদ্রলোকের সব কথা বললেন _বলেই জানতে পারলাম।
ভদ্রলোক ন’কাকাকে ওনার বাড়িতে নিয়ে আসতেন যাতে ওনার বড় মেয়ে (একটি ছেলেও ছিল – সেই ব্যবসা দেখতো)-র দুরারোগ্য রোগ আরোগ্য হয় ! মেয়েটি বিবাহের পর আমেরিকায় বা এইরকম কোন একটা বাইরের দেশে settled! সেখানেই চিকিৎসা চলছে কিন্তু দিন দিন অবস্থা অবনতির দিকে যাচ্ছে । তাই ন’কাকা যদি তার জন্য কিছু ক্রিয়া বা কোন বিশেষ পূজা করে দেন, অথবা নিদেনপক্ষে তাকে একটু আশীর্বাদ করে দেন !
দেখুন, ন’কাকা মহাপুরুষ, করুণাময়, সহজ-সরল মানুষ ছিলেন বলে কি একেবারে “ম্যারম্যারে আলুভাতে” মার্কা ব্যক্তি ছিলেন?? না – তা কখনই নয় ! যে কোন মহাপুরুষই সবসময়-ই অসাধারণ ব্যক্তিত্বসম্পন্ন হ’ন ! মানুষজন মনে করতে পারে যে সে চালাকি করে মহাপুরুষের কাছ থেকে কিছু আদায় করে নেবে – কিন্তু তাই কি হয় ? কখনই হয় না ! মৃত্যুপথ যাত্রীনী ওই মহিলা আর স্থূল শরীরে ফিরে আসেনি ঠিকই, তবে মা-বাবার প্রার্থনায় এবং ন’কাকার কৃপায় তার যে সূক্ষ্মশরীরের উন্নতি লাভ সম্ভব হয়েছিল – এ ব্যাপারে আমি নিশ্চিত !
অবশ্য আমাদেরই বা দোষ কি __আমরা সাধারণ মানুষেরা তো স্থূলটা দেখেই সবকিছু বিচার করতে চাই ! সূক্ষ্মাতিসূক্ষ্ম জগৎ সম্বন্ধে আমাদের ধারণা কতটুকু! কিন্তু মহাপুরুষগণ মানুষের প্রকৃত কল্যাণ করেন অর্থাৎ তাঁরা মানুষের আধ্যাত্মিক দিকটার উন্নতি ঘটান – যাতে করে ঐ ব্যক্তি মায়া-মোহের আকর্ষণ কাটিয়ে নিজের চেতনাকে আরও উন্নত করতে পারে এবং মানব জীবনের লক্ষ্য বা উদ্দেশ্যের দিকে এগিয়ে যেতে পারে ৷ প্রকৃতপক্ষে, এই কাজটি-শুধুমাত্র এই একটি কাজ _করতেই তাঁদের পৃথিবীতে অবতরণ হয় । সেই কাজটি করতে গিয়ে আনুষঙ্গিক আরো অনেক কাজ তাঁদেরকে করতে হয়! স্থূল জগতের মানুষ স্থূল কাজগুলিকে নিয়েই মত্ত থাকে (যেমন আমরা এখানে যেসব ঘটনার কথা উল্লেখ করছি) এবং মহাপুরুষদের সূক্ষ্ম জগতের কাজ বা কারণ জগতের কাজের খবর আমরা কজনই বা রাখতে পারি !!
অবশ্য তা পারা সম্ভবও নয় । কারণ আমরা সাধারণ মানুষেরা তো স্থূল জগতেই থাকি – স্থূল জগত নিয়েই আছি ! ঠাকুর শ্রীরামকৃষ্ণ বলতেন – ” মুলো খেলে মুলোর ঢেকুর ওঠে ” অর্থাৎ মানুষ যা নিয়ে থাকে তাই তার চেতনায় সব সময় প্রতিভাসিত হয়। সুতরাং মানুষ তখন যা বিচার করে, যা বলে বা যা নিয়ে কাজ করে সেগুলি ওই চেতনার প্রতিভাসিত রূপ বই অন্য কিছু নয় ! এইজন্যই দেখা যায় এক এক বয়সে – এক এক মানসিক চেতনার স্তরে – এক এক ধরনের কথা শুনতে ভালো লাগে, সেই ধরনের পুস্তক বা ম্যাগাজিন পড়তে ভালো লাগে, সেই মানসিকতার মানুষের সঙ্গ করতে ভালো লাগে ।
যত রকমের মানুষ রয়েছে _তাদের তত রকমের মানসিকতা! উদাহরণ হিসাবে শুধুমাত্র বাংলা দৈনিক সংবাদপত্রের পাঠকদের দিয়েই যদি বিচার করা যায়_তাহলে দেখা যাবে আমাদের শিক্ষিত বাঙালি সমাজের মধ্যে অনেকে ‘বর্তমান’, অনেকে ‘আনন্দ বাজার’, অনেকে ‘স্টেটসম্যান’, আবার অনেকে অন্য অন্য কোন না কোন সংবাদপত্রের ভক্ত । বাঙালি শিক্ষিত সমাজের অনেকেই রয়েছে যারা ‘গণশক্তি’- ছাড়া অন্য কোনো সংবাদপত্র-ই পড়ে না ! এইভাবে ভারতবর্ষের দিকে বা সমগ্র বিশ্বের দিকে তাকালে একই চিত্র দেখা যাবে ।
তাহলে শুধুমাত্র এই একটা চিত্র থেকেই বোঝা গেল – যার যেমন চেতনার Lavel, সেই অনুযায়ী মনের খোরাক_ যে সংবাদপত্র থেকে সে পাচ্ছে, ওই সংবাদপত্রই তার প্রিয় হয়ে উঠছে ! কোন কোন ব্যক্তি হয়তো সারা জীবন একই রুচি, একই মানসিকতা সম্পন্ন হয়েই সারা জীবন কাটিয়ে দেয় । আবার অনেকে কোন উন্নত আদর্শকে জীবনে গ্রহণ করে, কোন মহাত্মা-মহাপুরুষের সান্নিধ্য লাভ করে তার চেতনার জগতকে উন্নীত করে নেন। তখন তার রুচিবোধ, ভালোলাগা বোধ, ভালোবাসার বস্তু-ব্যক্তি বা বিষয় সব পাল্টে পাল্টে যায় ! তার জীবনের ভাবনা চিন্তা আর ওই একই জায়গায় থেমে থাকে না, অনেক উন্নত অবস্থায় চলে যায় ! ‘উন্নত অবস্থা’- বলতে সে তখন ‘বহু মানুষের মঙ্গল’-এর জন্য চিন্তা বা কর্ম করে থাকে ! যে ব্যক্তি যত আত্মকেন্দ্রিক বা স্বার্থপরতায় বদ্ধ সে তত চেতনায় অনুন্নত এবং যে ব্যক্তি যত পরার্থপর, সমাজের মঙ্গল, দেশের মঙ্গল বা বিশ্বের মঙ্গলের জন্য কাজ করে চলেছেন – সেই ব্যক্তি ততটাই চেতনায় উন্নত ব্যক্তি ! [ক্রমশঃ]
আমরা ন’কাকার সাথে শ্রীরামপুরের মধ্যেই আরো কিছু কিছু ভক্তের বাড়ি (মাস্টারমশাই, গৌতম ভড়, অসীম ব্যানার্জীর বাড়ি ছাড়াও)-তেও যেতাম । আমার মনে পড়ছে একজনের কথা __যার বাড়িতে মাঝে মধ্যেই যাওয়া হতো, উনি সম্ভবত খুব বড় কনট্রাক্টর ছিলেন, বেশ ধনী লোক ! বাড়ির বাইরে সিমেন্ট দিয়ে কাঠ ও বাঁশের কাজ করা নানান কারুকার্য ছিল – যা দেখলে মনে হবে সত্যি সত্যিই বাঁশের ব্রিজ বা কাঠের তৈরি হরেক রকম কাঠামো ! ওই বাড়ির ভদ্রমহিলাটি কিন্তু খুবই ভক্তিমতী ছিলেন ! বাড়ির কর্তা, কন্ট্রাকটর ভদ্রলোক ন’কাকাকে ওনার বাড়ি যে প্রায়ই আমন্ত্রণ করে নিয়ে যেতেন – তার একটা যে উদ্দেশ্য ছিল, সেটা আমি প্রথমটায় জানতাম না। আমি ওনাদেরকে আর পাঁচটা সাধারণ ভক্ত হিসাবেই মনে করেছিলাম। কিন্তু ন’কাকা নিজেই একদিন ঐ ভদ্রলোকের সব কথা বললেন _বলেই জানতে পারলাম।
ভদ্রলোক ন’কাকাকে ওনার বাড়িতে নিয়ে আসতেন যাতে ওনার বড় মেয়ে (একটি ছেলেও ছিল – সেই ব্যবসা দেখতো)-র দুরারোগ্য রোগ আরোগ্য হয় ! মেয়েটি বিবাহের পর আমেরিকায় বা এইরকম কোন একটা বাইরের দেশে settled! সেখানেই চিকিৎসা চলছে কিন্তু দিন দিন অবস্থা অবনতির দিকে যাচ্ছে । তাই ন’কাকা যদি তার জন্য কিছু ক্রিয়া বা কোন বিশেষ পূজা করে দেন, অথবা নিদেনপক্ষে তাকে একটু আশীর্বাদ করে দেন !
দেখুন, ন’কাকা মহাপুরুষ, করুণাময়, সহজ-সরল মানুষ ছিলেন বলে কি একেবারে “ম্যারম্যারে আলুভাতে” মার্কা ব্যক্তি ছিলেন?? না – তা কখনই নয় ! যে কোন মহাপুরুষই সবসময়-ই অসাধারণ ব্যক্তিত্বসম্পন্ন হ’ন ! মানুষজন মনে করতে পারে যে সে চালাকি করে মহাপুরুষের কাছ থেকে কিছু আদায় করে নেবে – কিন্তু তাই কি হয় ? কখনই হয় না ! মৃত্যুপথ যাত্রীনী ওই মহিলা আর স্থূল শরীরে ফিরে আসেনি ঠিকই, তবে মা-বাবার প্রার্থনায় এবং ন’কাকার কৃপায় তার যে সূক্ষ্মশরীরের উন্নতি লাভ সম্ভব হয়েছিল – এ ব্যাপারে আমি নিশ্চিত !
অবশ্য আমাদেরই বা দোষ কি __আমরা সাধারণ মানুষেরা তো স্থূলটা দেখেই সবকিছু বিচার করতে চাই ! সূক্ষ্মাতিসূক্ষ্ম জগৎ সম্বন্ধে আমাদের ধারণা কতটুকু! কিন্তু মহাপুরুষগণ মানুষের প্রকৃত কল্যাণ করেন অর্থাৎ তাঁরা মানুষের আধ্যাত্মিক দিকটার উন্নতি ঘটান – যাতে করে ঐ ব্যক্তি মায়া-মোহের আকর্ষণ কাটিয়ে নিজের চেতনাকে আরও উন্নত করতে পারে এবং মানব জীবনের লক্ষ্য বা উদ্দেশ্যের দিকে এগিয়ে যেতে পারে ৷ প্রকৃতপক্ষে, এই কাজটি-শুধুমাত্র এই একটি কাজ _করতেই তাঁদের পৃথিবীতে অবতরণ হয় । সেই কাজটি করতে গিয়ে আনুষঙ্গিক আরো অনেক কাজ তাঁদেরকে করতে হয়! স্থূল জগতের মানুষ স্থূল কাজগুলিকে নিয়েই মত্ত থাকে (যেমন আমরা এখানে যেসব ঘটনার কথা উল্লেখ করছি) এবং মহাপুরুষদের সূক্ষ্ম জগতের কাজ বা কারণ জগতের কাজের খবর আমরা কজনই বা রাখতে পারি !!
অবশ্য তা পারা সম্ভবও নয় । কারণ আমরা সাধারণ মানুষেরা তো স্থূল জগতেই থাকি – স্থূল জগত নিয়েই আছি ! ঠাকুর শ্রীরামকৃষ্ণ বলতেন – ” মুলো খেলে মুলোর ঢেকুর ওঠে ” অর্থাৎ মানুষ যা নিয়ে থাকে তাই তার চেতনায় সব সময় প্রতিভাসিত হয়। সুতরাং মানুষ তখন যা বিচার করে, যা বলে বা যা নিয়ে কাজ করে সেগুলি ওই চেতনার প্রতিভাসিত রূপ বই অন্য কিছু নয় ! এইজন্যই দেখা যায় এক এক বয়সে – এক এক মানসিক চেতনার স্তরে – এক এক ধরনের কথা শুনতে ভালো লাগে, সেই ধরনের পুস্তক বা ম্যাগাজিন পড়তে ভালো লাগে, সেই মানসিকতার মানুষের সঙ্গ করতে ভালো লাগে ।
যত রকমের মানুষ রয়েছে _তাদের তত রকমের মানসিকতা! উদাহরণ হিসাবে শুধুমাত্র বাংলা দৈনিক সংবাদপত্রের পাঠকদের দিয়েই যদি বিচার করা যায়_তাহলে দেখা যাবে আমাদের শিক্ষিত বাঙালি সমাজের মধ্যে অনেকে ‘বর্তমান’, অনেকে ‘আনন্দ বাজার’, অনেকে ‘স্টেটসম্যান’, আবার অনেকে অন্য অন্য কোন না কোন সংবাদপত্রের ভক্ত । বাঙালি শিক্ষিত সমাজের অনেকেই রয়েছে যারা ‘গণশক্তি’- ছাড়া অন্য কোনো সংবাদপত্র-ই পড়ে না ! এইভাবে ভারতবর্ষের দিকে বা সমগ্র বিশ্বের দিকে তাকালে একই চিত্র দেখা যাবে ।
তাহলে শুধুমাত্র এই একটা চিত্র থেকেই বোঝা গেল – যার যেমন চেতনার Lavel, সেই অনুযায়ী মনের খোরাক_ যে সংবাদপত্র থেকে সে পাচ্ছে, ওই সংবাদপত্রই তার প্রিয় হয়ে উঠছে ! কোন কোন ব্যক্তি হয়তো সারা জীবন একই রুচি, একই মানসিকতা সম্পন্ন হয়েই সারা জীবন কাটিয়ে দেয় । আবার অনেকে কোন উন্নত আদর্শকে জীবনে গ্রহণ করে, কোন মহাত্মা-মহাপুরুষের সান্নিধ্য লাভ করে তার চেতনার জগতকে উন্নীত করে নেন। তখন তার রুচিবোধ, ভালোলাগা বোধ, ভালোবাসার বস্তু-ব্যক্তি বা বিষয় সব পাল্টে পাল্টে যায় ! তার জীবনের ভাবনা চিন্তা আর ওই একই জায়গায় থেমে থাকে না, অনেক উন্নত অবস্থায় চলে যায় ! ‘উন্নত অবস্থা’- বলতে সে তখন ‘বহু মানুষের মঙ্গল’-এর জন্য চিন্তা বা কর্ম করে থাকে ! যে ব্যক্তি যত আত্মকেন্দ্রিক বা স্বার্থপরতায় বদ্ধ সে তত চেতনায় অনুন্নত এবং যে ব্যক্তি যত পরার্থপর, সমাজের মঙ্গল, দেশের মঙ্গল বা বিশ্বের মঙ্গলের জন্য কাজ করে চলেছেন – সেই ব্যক্তি ততটাই চেতনায় উন্নত ব্যক্তি ! [ক্রমশঃ]
