[ ন’কাকার নানান প্রসঙ্গ করতে গিয়ে হয়তো কোন কোন সময় আবেগতাড়িত হয়ে পড়েছি, হয়তো যে সব কথা সর্বসমক্ষে বলা উচিত নয় _তাও বলে ফেলেছি! পাঠককুল _নিজগুনে তার জন্য মার্জনা করবেন! ]
কিছুদিন আগেই ন’কাকার এক ভক্তের সাথে কথা হচ্ছিল । ও বলছিল – শেষের দিকটায় ন’কাকা আর শরীরে থাকতেই চাইছিলেন না ! প্রায়ই ওনার শরীর কোনো না কোনো ভাবে খারাপ হোতো _এইটা দেখেই ন’কাকাকে ওই ছেলেটি জিজ্ঞাসা করেছিল – ” ন’কাকা ! আপনার বারবার শরীর খারাপ হচ্ছে কেন ?” তখনই ন’কাকা ওকে বলেছিল – ” বাবা ! এবার চলে যাবার সময় হয়ে এল! বেশিরভাগ মানুষের-ই রোগ-ব্যাধির কথা, নানান সাংসারিক অশান্তির কথা – এসব শুনতে আর ভালো লাগছে না ! শরীর খারাপ তো হবেই – বয়সও বাড়ছে ! তাই ৺রী মায়ের কাছে প্রার্থনা করছি – ‘ মা ! এবার তুলে নাও । বিছানায় যেন পড়ে থাকতে না হয় ।”
ছেলেটির কথা শুনতে শুনতে চোখে জল এসে যাচ্ছিলো ! সত্যিই তো – মহাপুরুষদেরকে তো আমরা আমাদের চাহিদা পূরণের কল্পবৃক্ষ বানিয়ে বসে থাকি ! ক’জন আর প্রকৃতপক্ষে তাঁকে ভালোবাসি ? তাঁকে ভালোবাসার নামে তাঁর বোঝা বাড়াই, তাঁর ওপর অত্যাচার করি ।
অবশ্য পণ্ডিতেরা বলতেই পারেন যে, “মহাপুরুষেরা তো ‘ভালবাসার অত্যাচার’ শরীর পেতে নিতেই অবতরণ করেন ” – হ্যাঁ, এটাও ঠিক কথা ! কিন্তু যারা কোন মহাপুরুষের স্থূল শরীরের কাছাকাছি থাকে, তাঁদের ভালোবাসাটা তো বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই ঐ শরীরটাকে কেন্দ্র করেই হয়, তাই ঐ স্থূল শরীরটার কষ্ট হলে তাঁদের কষ্ট হয় বই কি ! আবার ওই শরীরটা আনন্দ প্রকাশ করলে – নিশ্চয়ই তাঁদের আনন্দ হয় ! তাইতো ভক্তরা ভগবান কিসে প্রসন্ন হয় – সেটাই করতে চায় !
গুরুমহারাজ প্রায়ই বলতেন – “আমাকে আশ্রমে যে খাবারটুকু খেতে দেওয়া হয় – আমি কি শুধু ওই টুকুই খাই! আমাকে আরও অনেক কিছু খেতে হয় ! ভক্তদের মধ্যে অনেকে রয়েছে যারা আমাকে ভালোবাসে – তারা বাড়িতে ভালো কিছু রান্না করলেই আমার কথা স্মরণ করে, মনে মনে ভাবে, ‘এইটা গুরুদেবকে খাওয়াতে পারলে বেশ হো হোতো’ – সেই সমস্ত ভক্তদের ওই ভক্তিকেও গ্রহণ করতে হয় !”
ন’কাকার ক্ষেত্রেও এমনটাই হোতো বলে আমার বিশ্বাস! বাইরে (হাওড়া, হুগলি, বীরভূমের ইত্যাদি বিভিন্ন স্থানের ভক্তদের বাড়িতে) আমি নিজের চোখে দেখেছি __এক একদিন ৮/১০ টা বাড়িতে ন’কাকাকে অম্লানবদনে দুটো-একটা করে মিষ্টিসহ ফলমূল, টিফিন খেয়ে (যেখানে ওনার চাইতে বয়সে যথেষ্ট ছোট হওয়া সত্ত্বেও আমি, নন্দ মহারাজ, অসিত দা-রা ২/৩_টে বাড়িতে ফল-মিষ্টি খেয়ে নেবার পর _বাকি বাড়ি গুলোয় মিষ্টির প্লেট দেখলেই বলতাম _”আমরা ঐসব খাই না!”) – ও মধ্যাহ্নভোজনের সময় অন্য কোনো ভক্তের বাড়িতে ভাত-ডাল-তরকারি-পাপড়-চাটনি এবং শেষে হয়তো ২/৪ চামচ পায়েস দিব্যি খেয়ে নিতেন!
এইটা দেখে সত্যি সত্যিই আমি খুবই অবাক হয়ে যেতাম – এটা কি করে সম্ভব ! গুরু মহারাজ যে বলতেন – ” যোগীরা ‘বৃকোগ্নি’- প্রজ্বলিত করে যে কোন খাবারই হজম করতে পারে ৷” ন’কাকার ঐ সব কান্ড-কারখানা খুব কাছ থেকে দেখে_ আমি ভাবতাম ন’কাকাও কি মহাযোগী ছিলেন, তিনিও কি ঐরকমই বৃকোগ্নি প্রজ্বলিত করে সমস্ত খাবার হজম করে নিতেন ??
এই প্রসঙ্গটা উল্লেখ করলাম এইজন্য যে, ন’কাকাকে তো দীর্ঘদিন ধরেই দেখেছি, উনি সাধারণত বনগ্রামের বাড়িতে বারোমাসই খুবই সাদাসিধে এবং পরিমিত আহার গ্রহণ করতেন ৷ এমনকি রাত্রে প্রায়শই এক মুঠো মুড়ি খেয়ে শুয়ে পড়তেন ! আর এই মানুষটিই যখন কোন ভক্ত বাড়িতে দুপুরের ভুরিভোজ আহার সেরে বিকাল থেকে রাত্রি পর্যন্ত আরো ৭/৮ টা বাড়িতে আমন্ত্রণ রক্ষা করতে যেতেন এবং সেখানে প্রতি বাড়িতেই সেইসব বাড়ির ভক্তদের অনুরোধে দু-চার কুচি করে ফল এবং একটা-দুটো কোনো মিষ্টি খেয়ে নিতেন। তাছাড়া শেষে যে বাড়িতে রাত্রির খাবার কথা, সেখানেও চার-পাঁচ রকম তরকারি সহযোগে ডাল-ভাত এবং শেষে আবার দু-চার চামচ পায়েস বা মিষ্টি অবহেলায় খেয়ে নিতেন – তখন অবাক না হয়ে পারা যায় কি করে ?
শেষের দিকটায়(ওনার শরীর ছাড়ার শেষ দু-তিন বছর আগে) ন’কাকার Heart-এর একটা সমস্যা দেখা দিয়েছিল ৷ ওনাকে সেজোকাকার ছেলে’ বিলে’-র সহায়তায় বনগ্রাম আশ্রমের মহারাজরাই ব্যবস্থা করে কলকাতায় নিয়ে গিয়ে ‘ angioplasty’ করে এনেছিলেন । এরপর থেকে ন’কাকা একটু সাবধানে থাকার চেষ্টা করতেন, ডাক্তারদের নির্দেশও ছিল সেই রকমই !
কিন্তু ভক্তদের ভালবাসার অত্যাচার থেকে রেহাই পাওয়া অত সহজ কথা নয় ! যিশুখ্রিস্টের মুখেও ভক্তরা বসিয়েছেন সেই বিখ্যাত কথা – ” Wounds of love !”সুতরাং ন’কাকার খুব কাছাকাছি যারা অধিক সময় কাটাবার সুযোগ পেয়েছিলেন, তারা হয়তো ঐ সমস্ত ভক্তদের ন’কাকার প্রতি ভালবাসার অত্যাচার দেখে কোন কোন সময় বিরক্ত হতো, অনেক সময় কেউ কেউ একটু আধটু React করে ফেলতো – অথচ ন’কাকা উভয়পক্ষকেই allow করতেন ! কারণ হয়তো উনি জানতেন – ” উভয়পক্ষ-ই ঠিক কাজ করছে ! এক পক্ষের কাজ বাধা দেওয়া – তারা বাধা দিয়েছে ! আর অন্য পক্ষের কাজ তাঁকে একটু ‘ভালোবাসা-ভক্তির অত্যাচার’- করা, ওরা সেটাই করেছে !”
আশ্চর্য লাগতো ন’কাকার এইরকম অদ্ভুত নির্বিরোধী আচরণ দেখে ! বনগ্রাম আশ্রমের একজন মহারাজ যখন (শেষের দিকে) ন’কাকাকে যথেষ্ট অপমানসূচক কথা বলেছিলেন – সেই খবর পেয়ে আমি ফোনে ন’কাকাকে ওই প্রসঙ্গ উত্থাপন করতেই ন’কাকা বলে উঠলেন – “তিরস্কার-পুরস্কার করেছি কণ্ঠের হার !” ন’কাকার তাৎক্ষণিক ঐ কথাগুলি শুনে আমার চোখ দিয়ে জল বেরিয়ে এসেছিল ! ওনার স্থিতি যে কতটা উঁচুতে সেটা ধারনা করে __এর পরে ঐ প্রসঙ্গে আর কখনোই আমি ন’কাকাকে কোনো কথা জিজ্ঞাসা করিনি বা আলোচনাও করিনি । তবু আমি বিশেষভাবে জানতাম যে ওই ঘটনায় ন’কাকা কিন্তু যথেষ্ঠ দুঃখ পেয়েছিলেন, এরপর থেকে প্রায়শই উনি দুবেলা আশ্রম যাবার বদলে একবেলা আশ্রমে যেতেন এবং আমাকে ওই ধরনের কথা বললেও অন্যত্র দু-এক জায়গায় উনি তার মনোব্যাথার কথা প্রকাশও করেছিলেন ! [ক্রমশঃ]
কিছুদিন আগেই ন’কাকার এক ভক্তের সাথে কথা হচ্ছিল । ও বলছিল – শেষের দিকটায় ন’কাকা আর শরীরে থাকতেই চাইছিলেন না ! প্রায়ই ওনার শরীর কোনো না কোনো ভাবে খারাপ হোতো _এইটা দেখেই ন’কাকাকে ওই ছেলেটি জিজ্ঞাসা করেছিল – ” ন’কাকা ! আপনার বারবার শরীর খারাপ হচ্ছে কেন ?” তখনই ন’কাকা ওকে বলেছিল – ” বাবা ! এবার চলে যাবার সময় হয়ে এল! বেশিরভাগ মানুষের-ই রোগ-ব্যাধির কথা, নানান সাংসারিক অশান্তির কথা – এসব শুনতে আর ভালো লাগছে না ! শরীর খারাপ তো হবেই – বয়সও বাড়ছে ! তাই ৺রী মায়ের কাছে প্রার্থনা করছি – ‘ মা ! এবার তুলে নাও । বিছানায় যেন পড়ে থাকতে না হয় ।”
ছেলেটির কথা শুনতে শুনতে চোখে জল এসে যাচ্ছিলো ! সত্যিই তো – মহাপুরুষদেরকে তো আমরা আমাদের চাহিদা পূরণের কল্পবৃক্ষ বানিয়ে বসে থাকি ! ক’জন আর প্রকৃতপক্ষে তাঁকে ভালোবাসি ? তাঁকে ভালোবাসার নামে তাঁর বোঝা বাড়াই, তাঁর ওপর অত্যাচার করি ।
অবশ্য পণ্ডিতেরা বলতেই পারেন যে, “মহাপুরুষেরা তো ‘ভালবাসার অত্যাচার’ শরীর পেতে নিতেই অবতরণ করেন ” – হ্যাঁ, এটাও ঠিক কথা ! কিন্তু যারা কোন মহাপুরুষের স্থূল শরীরের কাছাকাছি থাকে, তাঁদের ভালোবাসাটা তো বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই ঐ শরীরটাকে কেন্দ্র করেই হয়, তাই ঐ স্থূল শরীরটার কষ্ট হলে তাঁদের কষ্ট হয় বই কি ! আবার ওই শরীরটা আনন্দ প্রকাশ করলে – নিশ্চয়ই তাঁদের আনন্দ হয় ! তাইতো ভক্তরা ভগবান কিসে প্রসন্ন হয় – সেটাই করতে চায় !
গুরুমহারাজ প্রায়ই বলতেন – “আমাকে আশ্রমে যে খাবারটুকু খেতে দেওয়া হয় – আমি কি শুধু ওই টুকুই খাই! আমাকে আরও অনেক কিছু খেতে হয় ! ভক্তদের মধ্যে অনেকে রয়েছে যারা আমাকে ভালোবাসে – তারা বাড়িতে ভালো কিছু রান্না করলেই আমার কথা স্মরণ করে, মনে মনে ভাবে, ‘এইটা গুরুদেবকে খাওয়াতে পারলে বেশ হো হোতো’ – সেই সমস্ত ভক্তদের ওই ভক্তিকেও গ্রহণ করতে হয় !”
ন’কাকার ক্ষেত্রেও এমনটাই হোতো বলে আমার বিশ্বাস! বাইরে (হাওড়া, হুগলি, বীরভূমের ইত্যাদি বিভিন্ন স্থানের ভক্তদের বাড়িতে) আমি নিজের চোখে দেখেছি __এক একদিন ৮/১০ টা বাড়িতে ন’কাকাকে অম্লানবদনে দুটো-একটা করে মিষ্টিসহ ফলমূল, টিফিন খেয়ে (যেখানে ওনার চাইতে বয়সে যথেষ্ট ছোট হওয়া সত্ত্বেও আমি, নন্দ মহারাজ, অসিত দা-রা ২/৩_টে বাড়িতে ফল-মিষ্টি খেয়ে নেবার পর _বাকি বাড়ি গুলোয় মিষ্টির প্লেট দেখলেই বলতাম _”আমরা ঐসব খাই না!”) – ও মধ্যাহ্নভোজনের সময় অন্য কোনো ভক্তের বাড়িতে ভাত-ডাল-তরকারি-পাপড়-চাটনি এবং শেষে হয়তো ২/৪ চামচ পায়েস দিব্যি খেয়ে নিতেন!
এইটা দেখে সত্যি সত্যিই আমি খুবই অবাক হয়ে যেতাম – এটা কি করে সম্ভব ! গুরু মহারাজ যে বলতেন – ” যোগীরা ‘বৃকোগ্নি’- প্রজ্বলিত করে যে কোন খাবারই হজম করতে পারে ৷” ন’কাকার ঐ সব কান্ড-কারখানা খুব কাছ থেকে দেখে_ আমি ভাবতাম ন’কাকাও কি মহাযোগী ছিলেন, তিনিও কি ঐরকমই বৃকোগ্নি প্রজ্বলিত করে সমস্ত খাবার হজম করে নিতেন ??
এই প্রসঙ্গটা উল্লেখ করলাম এইজন্য যে, ন’কাকাকে তো দীর্ঘদিন ধরেই দেখেছি, উনি সাধারণত বনগ্রামের বাড়িতে বারোমাসই খুবই সাদাসিধে এবং পরিমিত আহার গ্রহণ করতেন ৷ এমনকি রাত্রে প্রায়শই এক মুঠো মুড়ি খেয়ে শুয়ে পড়তেন ! আর এই মানুষটিই যখন কোন ভক্ত বাড়িতে দুপুরের ভুরিভোজ আহার সেরে বিকাল থেকে রাত্রি পর্যন্ত আরো ৭/৮ টা বাড়িতে আমন্ত্রণ রক্ষা করতে যেতেন এবং সেখানে প্রতি বাড়িতেই সেইসব বাড়ির ভক্তদের অনুরোধে দু-চার কুচি করে ফল এবং একটা-দুটো কোনো মিষ্টি খেয়ে নিতেন। তাছাড়া শেষে যে বাড়িতে রাত্রির খাবার কথা, সেখানেও চার-পাঁচ রকম তরকারি সহযোগে ডাল-ভাত এবং শেষে আবার দু-চার চামচ পায়েস বা মিষ্টি অবহেলায় খেয়ে নিতেন – তখন অবাক না হয়ে পারা যায় কি করে ?
শেষের দিকটায়(ওনার শরীর ছাড়ার শেষ দু-তিন বছর আগে) ন’কাকার Heart-এর একটা সমস্যা দেখা দিয়েছিল ৷ ওনাকে সেজোকাকার ছেলে’ বিলে’-র সহায়তায় বনগ্রাম আশ্রমের মহারাজরাই ব্যবস্থা করে কলকাতায় নিয়ে গিয়ে ‘ angioplasty’ করে এনেছিলেন । এরপর থেকে ন’কাকা একটু সাবধানে থাকার চেষ্টা করতেন, ডাক্তারদের নির্দেশও ছিল সেই রকমই !
কিন্তু ভক্তদের ভালবাসার অত্যাচার থেকে রেহাই পাওয়া অত সহজ কথা নয় ! যিশুখ্রিস্টের মুখেও ভক্তরা বসিয়েছেন সেই বিখ্যাত কথা – ” Wounds of love !”সুতরাং ন’কাকার খুব কাছাকাছি যারা অধিক সময় কাটাবার সুযোগ পেয়েছিলেন, তারা হয়তো ঐ সমস্ত ভক্তদের ন’কাকার প্রতি ভালবাসার অত্যাচার দেখে কোন কোন সময় বিরক্ত হতো, অনেক সময় কেউ কেউ একটু আধটু React করে ফেলতো – অথচ ন’কাকা উভয়পক্ষকেই allow করতেন ! কারণ হয়তো উনি জানতেন – ” উভয়পক্ষ-ই ঠিক কাজ করছে ! এক পক্ষের কাজ বাধা দেওয়া – তারা বাধা দিয়েছে ! আর অন্য পক্ষের কাজ তাঁকে একটু ‘ভালোবাসা-ভক্তির অত্যাচার’- করা, ওরা সেটাই করেছে !”
আশ্চর্য লাগতো ন’কাকার এইরকম অদ্ভুত নির্বিরোধী আচরণ দেখে ! বনগ্রাম আশ্রমের একজন মহারাজ যখন (শেষের দিকে) ন’কাকাকে যথেষ্ট অপমানসূচক কথা বলেছিলেন – সেই খবর পেয়ে আমি ফোনে ন’কাকাকে ওই প্রসঙ্গ উত্থাপন করতেই ন’কাকা বলে উঠলেন – “তিরস্কার-পুরস্কার করেছি কণ্ঠের হার !” ন’কাকার তাৎক্ষণিক ঐ কথাগুলি শুনে আমার চোখ দিয়ে জল বেরিয়ে এসেছিল ! ওনার স্থিতি যে কতটা উঁচুতে সেটা ধারনা করে __এর পরে ঐ প্রসঙ্গে আর কখনোই আমি ন’কাকাকে কোনো কথা জিজ্ঞাসা করিনি বা আলোচনাও করিনি । তবু আমি বিশেষভাবে জানতাম যে ওই ঘটনায় ন’কাকা কিন্তু যথেষ্ঠ দুঃখ পেয়েছিলেন, এরপর থেকে প্রায়শই উনি দুবেলা আশ্রম যাবার বদলে একবেলা আশ্রমে যেতেন এবং আমাকে ওই ধরনের কথা বললেও অন্যত্র দু-এক জায়গায় উনি তার মনোব্যাথার কথা প্রকাশও করেছিলেন ! [ক্রমশঃ]
