[আগের দিন কুষ্ঠরোগের দ্বীপের গল্প বলা হয়েছিল। যে গল্প গুরুমহারাজ আমাদের বলেছিলেন। এই গল্পের সারমর্ম হচ্ছে যে ভগবান সহ যে কোনো মহাপুরুষ যখন শরীর ধারন করেন, তখন তাদেরকেও ছোটবেলা থেকে আর পাঁচটা সাধারণ মানুষের ন্যায় আচরন করতে হয়।]
যাইহোক, এই যে গল্প কথার অবতারণা করা হোলো – এতে করে বোঝা গেল যে, ঠাকুর শ্রীরামকৃষ্ণ, বামদেব, গুরুমহারাজ স্বামী পরমানন্দ বা ন’কাকা শ্রী শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায় – এঁদেরকেও ছদ্মবেশ ধারণ করেই পৃথিবীতে অবতীর্ণ হতে হয়েছে এবং আর পাঁচটা সাধারণ মানুষের মতোই বাল্যলীলা, কৈশোর লীলার সময় কাটাতে হয়েছে । কোনো কোনো সময় বাবা-মায়ের স্নেহপূর্ণ শাসন সহ্য করতে হয়েছে, কখনও বাড়ির অন্যান্য বড়দের বা বন্ধুবান্ধবদের হাতে লাঞ্ছিত বা অত্যাচারিত হতে হয়েছে ! গুরু মহারাজ নিজের মুখেই একবার বলেছিলেন – ” আমি যখন যখনই শরীর নিই, গর্ভকালীন অবস্থা থেকেই আমার সম্পূর্ণ জ্ঞান বজায় থাকে – কিন্তু ছোটবেলায় হয়তো আমার চেয়ে বয়সে বড়রা (দাদা বা দিদিরা অথবা অন্যান্য নিকটাত্মীয়রা) আমাকে কান ম’লে শাসন করেছে, এটা-ওটা কাজ করার জন্য হুকুম করেছে – আমি সেগুলো সব নতমস্তকে মেনে নিয়েছি এবং তার কাজটাও করে দিয়েছি ।”
এগুলোই বা তিনি বা তাঁরা কেন করেন ? তার উত্তরও গুরুমহারাজ নিজেই দিয়েছিলেন – উনি বলেছিলেন – “কত ভক্তরা __কত জন্ম-জন্মান্তর ধরে আমার দাদা, দিদি, আমার আত্মীয় হয়ে শরীর নেবার জন্য সংকল্প করে সাধন-ভজন করে। কোনো কোনো শরীরে তাদের সেই সংকল্প সিদ্ধ হয়৷ তারা হয়তো তাদের সংকল্পের কথা ভুলে গেছে, কিন্তু আমি তো ভুলিনি – আমি কোনো কিছুই ভুলি না ৷”
আমাদের মনে পড়ে যেতো ঠাকুর শ্রীরামকৃষ্ণের কথা, উনি বলেছিলেন – “তিনি (ঈশ্বর) পিঁপড়ের চরণের নুপুর ধ্বনিও শুনতে পান ।”
ভাবনা-ইচ্ছা-ক্রিয়া – এই তিনটি শব্দ দিয়ে গুরুমহারাজ আমাদেরকে বুঝিয়েছিলেন যে, মানুষের মনোজগতে প্রথমে কোনো বস্তু বা বিষয়কে নিয়ে ভাব, বা ‘ভাবনা’ আসে ৷ এইটি স্থায়ী হলেই আসে ‘ইচ্ছা’, আর ‘ইচ্ছা’-র সাথে ইন্দ্রিয়ের যোগাযোগ হোলে অর্থাৎ ইচ্ছাকে কার্যে রূপ দেওয়া হোলে__সেটাকে বলা হয় ‘ক্রিয়া’ ! এই ‘ক্রিয়া’ বলতে __জগতের সমস্ত ভালো ভালো কাজ বা জনহিতকর কাজ, আবার এই জগতের সমস্ত সাধারণ কাজ বা খারাপ কাজ _সবকিছুকেই বোঝায় ! কোনো ব্যক্তি তার মানসিক Level বা চেতনায় কতটা উন্নত বা অনুন্নত সেই অনুযায়ী সেই ব্যক্তি ‘ক্রিয়া’ সম্পন্ন করে(অর্থাৎ ভালো মানুষ ভালো কাজ করে, খারাপ মানুষ খারাপ কাজ করে) ।
এইরকম ভাবে বিভিন্ন Level-এর সাধকেরাও রয়েছেন – যাদের ভাবনা-ইচ্ছা বা ক্রিয়াও ভিন্ন ভিন্ন ! কোনো সাধক বা সাধিকা হয়তো জন্ম-জন্মান্তরের সাধনার ফল হিসাবে চেয়ে রেখেছেন যে, তিনি ভগবানের ‘মা’ হতে চান, ‘বাবা’ হতে চান অথবা ‘দাদা’ হতে চান – এই ‘ভাবনা’ যখনই ‘ইচ্ছা’-য় রূপ নেয়__ তখনই তা মা মহামায়া আঁচলে বেঁধে নেন ৷ এবার এটা ‘ক্রিয়া’-তে রূপ নেবেই ! এইরকমটাই সব ক্ষেত্রে হয় – কিন্তু সঙ্গে সঙ্গেই যে ‘ইচ্ছা’ – ‘কার্যে’ রূপ নেয়, তা নয় ! হবে, – যখনই হোক ওই মায়ের আঁচলে বাঁধা ‘ইচ্ছা’ কার্যে রূপ নেবে ৷ সেটা “পৌষের কম্বল চৈত্র মাসে”-ও হতে পারে ৷
এটা কেন বলা হোলো তা একটু উদাহরণ দিয়ে বোঝানো যাক্। ধরা যাক _কোন জন্মে একটি ছেলে কোনো মেয়েকে মনে মনে চেয়ে রেখেছে – কিন্তু সেটা যখন grant হোলো ততদিনে মেয়েটি চেতনায় উন্নত হয়ে গেছে (অর্থাৎ বেশ কয়েকজন্ম কেটে গেছে ৷), কিন্তু ছেলেটি সে তুলনায় সাধন-ভজন করেনি_ফলে ততটা উন্নত হয়ে উঠতে পারে নি ! এর ফলে কি হবে – এই জীবনের ঐ স্বামী-স্ত্রীর তো কিছুতেই বনিবনা হবে না ! সব সময় ‘তেরে-কেটে-তাক’ লেগেই থাকবে । অথবা যদি উল্টোটাও হয় অর্থাৎ ছেলেটি সাধন-ভজন করে চেতনায় উন্নত হয়ে গেছে – মেয়েটি সে তুলনায় নিজেকে উন্নত করতে পারেনি – তাহলেও সেই একই অবস্থা হবে। একেই গুরুমহারাজ বলেছিলেন ‘পৌষের কম্বল চৈত্রে’।
যাইহোক, কথা হচ্ছিলো মহাপুরুষরা যখন যে বাড়িতে বা পরিবারে শরীর ধারণ করেন সেই বাড়ির মানুষ বা তাঁর আত্মীয়-স্বজনদের কথা ! তাদের বর্তমান অবস্থা যেমনই হোক না কেন – পূর্ব পূর্ব জীবনে অনেক সাধন-ভজন, তপস্যা তো ছিলই ! কারণ কোন মহাপুরুষ যখন কোনো পরিবারের শরীর গ্রহণ করেন, তখন তিনি সেই পরিবারে সকলেরই মুক্তির ব্যবস্থা করে দেন ৷ শুধু বর্তমান প্রজন্মের-ই নয়, গত কয়েক পুরুষের-ও ভার তুলে নেন নিজের কাঁধে ৷ এই ব্যাপারটা আমাদের শোনা আছে গুরু মহারাজের কাছে ৷ উনি একবার বলেছিলেন – ” আমি আমার এই শরীরের পূর্বপুরুষদের ব্যাপারে খোঁজ নেবার জন্য একবার আশ্রমে আমার ঘরে বসে মনোসংযোগ করে দেখলাম – অনেকেই অধ্যাত্মপথে রয়েছে, ভালো জীবন যাপন করছে! কিন্তু অনেককেই দেখলাম বেশ জমিয়ে সংসার করছে ! তাদেরকেও অধ্যাত্ম পথে নিয়ে এসে সমস্ত সংস্কারমুক্ত আমাকেই করতে হবে৷” [ক্রমশঃ]
যাইহোক, এই যে গল্প কথার অবতারণা করা হোলো – এতে করে বোঝা গেল যে, ঠাকুর শ্রীরামকৃষ্ণ, বামদেব, গুরুমহারাজ স্বামী পরমানন্দ বা ন’কাকা শ্রী শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায় – এঁদেরকেও ছদ্মবেশ ধারণ করেই পৃথিবীতে অবতীর্ণ হতে হয়েছে এবং আর পাঁচটা সাধারণ মানুষের মতোই বাল্যলীলা, কৈশোর লীলার সময় কাটাতে হয়েছে । কোনো কোনো সময় বাবা-মায়ের স্নেহপূর্ণ শাসন সহ্য করতে হয়েছে, কখনও বাড়ির অন্যান্য বড়দের বা বন্ধুবান্ধবদের হাতে লাঞ্ছিত বা অত্যাচারিত হতে হয়েছে ! গুরু মহারাজ নিজের মুখেই একবার বলেছিলেন – ” আমি যখন যখনই শরীর নিই, গর্ভকালীন অবস্থা থেকেই আমার সম্পূর্ণ জ্ঞান বজায় থাকে – কিন্তু ছোটবেলায় হয়তো আমার চেয়ে বয়সে বড়রা (দাদা বা দিদিরা অথবা অন্যান্য নিকটাত্মীয়রা) আমাকে কান ম’লে শাসন করেছে, এটা-ওটা কাজ করার জন্য হুকুম করেছে – আমি সেগুলো সব নতমস্তকে মেনে নিয়েছি এবং তার কাজটাও করে দিয়েছি ।”
এগুলোই বা তিনি বা তাঁরা কেন করেন ? তার উত্তরও গুরুমহারাজ নিজেই দিয়েছিলেন – উনি বলেছিলেন – “কত ভক্তরা __কত জন্ম-জন্মান্তর ধরে আমার দাদা, দিদি, আমার আত্মীয় হয়ে শরীর নেবার জন্য সংকল্প করে সাধন-ভজন করে। কোনো কোনো শরীরে তাদের সেই সংকল্প সিদ্ধ হয়৷ তারা হয়তো তাদের সংকল্পের কথা ভুলে গেছে, কিন্তু আমি তো ভুলিনি – আমি কোনো কিছুই ভুলি না ৷”
আমাদের মনে পড়ে যেতো ঠাকুর শ্রীরামকৃষ্ণের কথা, উনি বলেছিলেন – “তিনি (ঈশ্বর) পিঁপড়ের চরণের নুপুর ধ্বনিও শুনতে পান ।”
ভাবনা-ইচ্ছা-ক্রিয়া – এই তিনটি শব্দ দিয়ে গুরুমহারাজ আমাদেরকে বুঝিয়েছিলেন যে, মানুষের মনোজগতে প্রথমে কোনো বস্তু বা বিষয়কে নিয়ে ভাব, বা ‘ভাবনা’ আসে ৷ এইটি স্থায়ী হলেই আসে ‘ইচ্ছা’, আর ‘ইচ্ছা’-র সাথে ইন্দ্রিয়ের যোগাযোগ হোলে অর্থাৎ ইচ্ছাকে কার্যে রূপ দেওয়া হোলে__সেটাকে বলা হয় ‘ক্রিয়া’ ! এই ‘ক্রিয়া’ বলতে __জগতের সমস্ত ভালো ভালো কাজ বা জনহিতকর কাজ, আবার এই জগতের সমস্ত সাধারণ কাজ বা খারাপ কাজ _সবকিছুকেই বোঝায় ! কোনো ব্যক্তি তার মানসিক Level বা চেতনায় কতটা উন্নত বা অনুন্নত সেই অনুযায়ী সেই ব্যক্তি ‘ক্রিয়া’ সম্পন্ন করে(অর্থাৎ ভালো মানুষ ভালো কাজ করে, খারাপ মানুষ খারাপ কাজ করে) ।
এইরকম ভাবে বিভিন্ন Level-এর সাধকেরাও রয়েছেন – যাদের ভাবনা-ইচ্ছা বা ক্রিয়াও ভিন্ন ভিন্ন ! কোনো সাধক বা সাধিকা হয়তো জন্ম-জন্মান্তরের সাধনার ফল হিসাবে চেয়ে রেখেছেন যে, তিনি ভগবানের ‘মা’ হতে চান, ‘বাবা’ হতে চান অথবা ‘দাদা’ হতে চান – এই ‘ভাবনা’ যখনই ‘ইচ্ছা’-য় রূপ নেয়__ তখনই তা মা মহামায়া আঁচলে বেঁধে নেন ৷ এবার এটা ‘ক্রিয়া’-তে রূপ নেবেই ! এইরকমটাই সব ক্ষেত্রে হয় – কিন্তু সঙ্গে সঙ্গেই যে ‘ইচ্ছা’ – ‘কার্যে’ রূপ নেয়, তা নয় ! হবে, – যখনই হোক ওই মায়ের আঁচলে বাঁধা ‘ইচ্ছা’ কার্যে রূপ নেবে ৷ সেটা “পৌষের কম্বল চৈত্র মাসে”-ও হতে পারে ৷
এটা কেন বলা হোলো তা একটু উদাহরণ দিয়ে বোঝানো যাক্। ধরা যাক _কোন জন্মে একটি ছেলে কোনো মেয়েকে মনে মনে চেয়ে রেখেছে – কিন্তু সেটা যখন grant হোলো ততদিনে মেয়েটি চেতনায় উন্নত হয়ে গেছে (অর্থাৎ বেশ কয়েকজন্ম কেটে গেছে ৷), কিন্তু ছেলেটি সে তুলনায় সাধন-ভজন করেনি_ফলে ততটা উন্নত হয়ে উঠতে পারে নি ! এর ফলে কি হবে – এই জীবনের ঐ স্বামী-স্ত্রীর তো কিছুতেই বনিবনা হবে না ! সব সময় ‘তেরে-কেটে-তাক’ লেগেই থাকবে । অথবা যদি উল্টোটাও হয় অর্থাৎ ছেলেটি সাধন-ভজন করে চেতনায় উন্নত হয়ে গেছে – মেয়েটি সে তুলনায় নিজেকে উন্নত করতে পারেনি – তাহলেও সেই একই অবস্থা হবে। একেই গুরুমহারাজ বলেছিলেন ‘পৌষের কম্বল চৈত্রে’।
যাইহোক, কথা হচ্ছিলো মহাপুরুষরা যখন যে বাড়িতে বা পরিবারে শরীর ধারণ করেন সেই বাড়ির মানুষ বা তাঁর আত্মীয়-স্বজনদের কথা ! তাদের বর্তমান অবস্থা যেমনই হোক না কেন – পূর্ব পূর্ব জীবনে অনেক সাধন-ভজন, তপস্যা তো ছিলই ! কারণ কোন মহাপুরুষ যখন কোনো পরিবারের শরীর গ্রহণ করেন, তখন তিনি সেই পরিবারে সকলেরই মুক্তির ব্যবস্থা করে দেন ৷ শুধু বর্তমান প্রজন্মের-ই নয়, গত কয়েক পুরুষের-ও ভার তুলে নেন নিজের কাঁধে ৷ এই ব্যাপারটা আমাদের শোনা আছে গুরু মহারাজের কাছে ৷ উনি একবার বলেছিলেন – ” আমি আমার এই শরীরের পূর্বপুরুষদের ব্যাপারে খোঁজ নেবার জন্য একবার আশ্রমে আমার ঘরে বসে মনোসংযোগ করে দেখলাম – অনেকেই অধ্যাত্মপথে রয়েছে, ভালো জীবন যাপন করছে! কিন্তু অনেককেই দেখলাম বেশ জমিয়ে সংসার করছে ! তাদেরকেও অধ্যাত্ম পথে নিয়ে এসে সমস্ত সংস্কারমুক্ত আমাকেই করতে হবে৷” [ক্রমশঃ]
