ন’কাকার বাড়িতে গরু পোষার ব্যাপারে ওনার সাথে আমার ঐসব কথাবার্তা নিয়ে আমি বহুদিন ভেবেছি – ” আগেকার দিনে বাঙালি গৃহস্থবাড়িতে গোয়াল ভরা গরু, গোলা ভরা ধান, পুকুর ভরা মাছ থাকার একান্ত যাচ্ঞা ছিল ! গুরুমহারাজ বলেছিলেন – ” মাছ-ভাত মানুষের মস্তিষ্কের উন্নতি ঘটায় । বাঙ্গালীদের মস্তিষ্কের যে বিকাশের কথা গোটা ভারতবর্ষের(বিশ্বের ও) মানুষের কাছে আলোচনার বিষয় – এর অন্যতম কারণ মাছ-ভাত ৷ খাদ্যে নারকেলের ব্যবহারও মস্তিষ্কের উন্নতিতে সহায়তা করে ৷ নারকেলের আকার এবং মস্তিষ্কের আকৃতির মিলও রয়েছে। ”
গরুর দুধের প্রয়োজনীয়তা সম্বন্ধে বলতে গিয়ে গুরুমহারাজ বলেছিলেন – ” দুধ সবচাইতে প্রয়োজন হয় শিশু ও বৃদ্ধের (বৃদ্ধ ও বৃদ্ধা)_অর্থাৎ যাদের দাঁত নাই ! দুগ্ধজাত অন্যান্য দ্রব্য অর্থাৎ ঘি, ননী, ছানা, মাখন, দই ইত্যাদি প্রয়োজনমতো সব বয়সের মানুষই গ্রহণ করতে পারে ৷ দুগ্ধ বা দুগ্ধজাত দ্রব্য শরীরের লাবণ্য বজায় রাখতে সাহায্য করে । মানুষের শরীরে বিভিন্ন প্রয়োজনীয় ভিটামিন এবং খনিজ লবণ সরবরাহ করে দুধ বা দুগ্ধজাত দ্রব্যাদি ! দুধ-কলা সহ ঢেঁকিছাঁটা চালের ভাত এবং তাতে আখের গুড়, নলেন গুড় অথবা মধুর সংমিশ্রন করে খাওয়াকে_ গুরুমহারাজ ব্রাহ্মণদের ideal খাদ্য হিসাবে বর্ণনা করেছিলেন । ব্রাহ্মণদের অর্থাৎ যারা শুধু মস্তিষ্কের কাজ বেশি করে – দৈহিক পরিশ্রম অপেক্ষাকৃত কম – তাদের জন্য এইটা আদর্শ আহার! গুরু মহারাজ বলেছিলেন – ” বামুনগুলো খুব চালাক ছিল, বুঝলি তো ! চাল-কলা বাঁধা বিদ্যাটা শিখে নিয়ে ওই জিনিসগুলিকেই নিজেদের মধ্যাহ্নকালীন ভোজনের item হিসাবে fixed করে নিয়েছিল । তখনকার দিনে ঢেঁকিছাঁটা চালের মধ্যে আয়রন, খনিজ লবণ এবং বিভিন্ন ভিটামিন প্রচুর পরিমাণে থাকতো। আর ‘কলা’ বলতে পাকা কলা এবং কাঁচা কলা দুটোই ব্রাহ্মণদের খাদ্য তালিকার মধ্যে ছিল, তাছাড়াও ছিল অন্নের সাথে ঘৃত এবং দুগ্ধের অপরিহার্যতা ! খাদ্যের পুষ্টিগুণ সহ ভিটামিন ও খনিজের আদর্শ সমাহার – এই খাদ্য !”
যাইহোক, আবার আমরা প্রসঙ্গে ফিরে আসি__ন’কাকা সেদিন (যেদিন আমি ওনাকে আর ‘গরু না রাখার’- জন্য অনুরোধ করেছিলাম) আমাকে ওনার বাড়িতে গরু রাখার স্বপক্ষে-ই যুক্তি দিয়েছিলেন, বলেছিলেন, ” বাবা! দ্যাখো _গৃহস্থবাড়িতে গরু প্রতিপালন করা ভালো । সেইজন্য __আমি যতদিন পারবো, ঘরে গরু রাখবো, তারপর যা হয় হবে ৷” আর তাই হয়েছিল ।
আর একটা ব্যাপারেও একদিন ন’কাকাকে আমি সরাসরি অনুরোধ করেছিলাম – সেটা হোল কোনো ভক্তের বাড়িতে বিয়ে-পৈতে-অন্নপ্রাশন ইত্যাদি কাজগুলো না করার (হয়তো অন্য কেউও ওনাকে এ ব্যাপারে নিষেধ করে থাকতে পারেন) জন্য ! উনি কিন্তু কথা রেখেছিলেন – পাশের বাড়ির রাজু (ওনার সম্পর্কিত নাতি)-কে উনি এইসব কাজ করতে _শিখিয়ে পড়িয়ে Ready করে নিয়েছিলেন ৷
যে ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে আমি ন’কাকাকে এই অনুরোধ করেছিলাম সেটা বলছি _আমাদের আশ্রমের এক ভক্তের বাড়িতে বিয়ের অনুষ্ঠানে, সেই ভক্তের একান্ত সনির্বন্ধ অনুরোধে ন’কাকাকেই পৌরোহিত্য করতে হয়েছিল। ঐ ভক্ত বা তার পরিবার ন’কাকাকে যথেষ্ট ভক্তি করতো _যথেষ্ট মর্যাদা ও দিচ্ছিল, কিন্তু বিয়েবাড়িতে উপস্থিত অন্যান্য আত্মীয় স্বজনেরা তো আর আশ্রমের ভক্ত নয়! তারা ন’কাকার সাথে আর পাঁচটা সাধারণ পুরোহিতের ন্যায় ব্যবহার করছিল। এইটা দেখে আদিত্যপুর আশ্রমের নন্দ মহারাজ (স্বামী ভুবনেশ্বরানন্দ) এবং আমার – দুজনেরই খুব খারাপ লেগেছিল । ওই ঘটনার পরই আমি ওনাকে আন্তরিকভাবে অনুরোধটি করেছিলাম । তারপর থেকেই (শেষ তিন-চার বছর ধরে) উনি যেখানেই যেতেন উপরোক্ত ঐ সহকারীটিকে সঙ্গে নিতেন এবং এরপর থেকে যে কোনো মাঙ্গলিক কার্য ওনার ওই নাতিটিকে দিয়েই করাতেন ৷ এমন কি কোনো ভক্ত বাড়িতে সাধারণ পূজা-পাঠের কাজটিও ন’কাকা ওকে দিয়েই করাতেন, ন’কাকা হয়তো পাশে বসে থাকতেন, একটু-আধটু সাহায্য করতেন, কিন্তু কখনোই প্রত্যক্ষভাবে পূজোয় অংশগ্রহণ করতেন না ৷
এবার আর একটা ঘটনার কথা মনে পড়ে যাচ্ছে _সেইটা এখানে উল্লেখ করি । আগের কোন কোন এপিসোডে আমরা হাওড়ার সালকিয়ার দেবকুমারের কথা উল্লেখ করেছিলাম, দেবকুমারের বাড়িতে ন’কাকার সাথে আমরা বেশ কয়েকবার গিয়েছিলাম । সেইসব কথা এবং দেবকুমারের স্ত্রী-র অত্যন্ত অসুস্থ শরীরেও ন’কাকার জন্য নিজের হাতে সমস্ত রান্না করার কথাও আলোচনা হয়েছিল ৷ দেবকুমারের স্ত্রী ছোটবেলায় ছিলেন হাওড়া অঞ্চলের একজন নামকরা athlete ! ওই মেয়েটির বাবা ঐ অঞ্চলের একজন প্রথিতযশা Allopathy চিকিৎসক ছিলেন ৷ কিন্তু দেবকুমারের সাথে ওই মেয়েটির বিবাহ হবার কয়েক বছরের মধ্যেই শরীরের নীচের দিকের অঙ্গ-প্রত্যঙ্গে অর্থাৎ পায়ের পাতা থেকে কোমর পর্যন্ত স্থানগুলিতে স্নায়ু এবং অস্থির নানান সমস্যা দেখা দিতে থাকে ৷ আমরা যেদিন প্রথম দেবকুমারের বাড়ি (ন’কাকার সাথে) গিয়েছিলাম, সেদিন ওখানে গিয়ে দেবকুমারের স্ত্রীকে দেখে আমাদের খুবই কষ্ট হচ্ছিল ! একে তো ওনার মোটামুটি ভারী শরীর, তায় পা-গুলির একদম জোর নাই, পায়ের পাতাগুলি বেঁকে গেছে, ফলে একদমই ভালো করে হাঁটতে পারছিলেন না, যেটুকুই বা নড়াচড়া করছিলেন _তা খুবই কষ্টের সঙ্গে ৷ যদিও ওনার কিছু আত্মীয়া এবং বাড়ির কাজের লোক ওনাকে রান্নাবান্নার কাজে সাহায্য করছিল, কিন্তু ওই ভক্তিমতী মহিলা ন’কাকার জন্য (এখানে মনে রাখতে হবে যে, দেবকুমারের মুখ থেকে উনি শুধুমাত্র ন’কাকা সম্বন্ধে শুধু কিছু কথা শুনেছিলেন মাত্র, ঐদিনই প্রথম তিনি ন’কাকাকে দেখলেন) সমস্ত কাজ নিজের হাতে করেছিলেন, নিজেই থালা সাজিয়ে কষ্ট করে হেলিয়ে হেলিয়ে হেঁটে এসে নিজের হাতে ন’কাকাকে খাবার পরিবেশন করেছিলেন । ………. [ক্রমশঃ]
গরুর দুধের প্রয়োজনীয়তা সম্বন্ধে বলতে গিয়ে গুরুমহারাজ বলেছিলেন – ” দুধ সবচাইতে প্রয়োজন হয় শিশু ও বৃদ্ধের (বৃদ্ধ ও বৃদ্ধা)_অর্থাৎ যাদের দাঁত নাই ! দুগ্ধজাত অন্যান্য দ্রব্য অর্থাৎ ঘি, ননী, ছানা, মাখন, দই ইত্যাদি প্রয়োজনমতো সব বয়সের মানুষই গ্রহণ করতে পারে ৷ দুগ্ধ বা দুগ্ধজাত দ্রব্য শরীরের লাবণ্য বজায় রাখতে সাহায্য করে । মানুষের শরীরে বিভিন্ন প্রয়োজনীয় ভিটামিন এবং খনিজ লবণ সরবরাহ করে দুধ বা দুগ্ধজাত দ্রব্যাদি ! দুধ-কলা সহ ঢেঁকিছাঁটা চালের ভাত এবং তাতে আখের গুড়, নলেন গুড় অথবা মধুর সংমিশ্রন করে খাওয়াকে_ গুরুমহারাজ ব্রাহ্মণদের ideal খাদ্য হিসাবে বর্ণনা করেছিলেন । ব্রাহ্মণদের অর্থাৎ যারা শুধু মস্তিষ্কের কাজ বেশি করে – দৈহিক পরিশ্রম অপেক্ষাকৃত কম – তাদের জন্য এইটা আদর্শ আহার! গুরু মহারাজ বলেছিলেন – ” বামুনগুলো খুব চালাক ছিল, বুঝলি তো ! চাল-কলা বাঁধা বিদ্যাটা শিখে নিয়ে ওই জিনিসগুলিকেই নিজেদের মধ্যাহ্নকালীন ভোজনের item হিসাবে fixed করে নিয়েছিল । তখনকার দিনে ঢেঁকিছাঁটা চালের মধ্যে আয়রন, খনিজ লবণ এবং বিভিন্ন ভিটামিন প্রচুর পরিমাণে থাকতো। আর ‘কলা’ বলতে পাকা কলা এবং কাঁচা কলা দুটোই ব্রাহ্মণদের খাদ্য তালিকার মধ্যে ছিল, তাছাড়াও ছিল অন্নের সাথে ঘৃত এবং দুগ্ধের অপরিহার্যতা ! খাদ্যের পুষ্টিগুণ সহ ভিটামিন ও খনিজের আদর্শ সমাহার – এই খাদ্য !”
যাইহোক, আবার আমরা প্রসঙ্গে ফিরে আসি__ন’কাকা সেদিন (যেদিন আমি ওনাকে আর ‘গরু না রাখার’- জন্য অনুরোধ করেছিলাম) আমাকে ওনার বাড়িতে গরু রাখার স্বপক্ষে-ই যুক্তি দিয়েছিলেন, বলেছিলেন, ” বাবা! দ্যাখো _গৃহস্থবাড়িতে গরু প্রতিপালন করা ভালো । সেইজন্য __আমি যতদিন পারবো, ঘরে গরু রাখবো, তারপর যা হয় হবে ৷” আর তাই হয়েছিল ।
আর একটা ব্যাপারেও একদিন ন’কাকাকে আমি সরাসরি অনুরোধ করেছিলাম – সেটা হোল কোনো ভক্তের বাড়িতে বিয়ে-পৈতে-অন্নপ্রাশন ইত্যাদি কাজগুলো না করার (হয়তো অন্য কেউও ওনাকে এ ব্যাপারে নিষেধ করে থাকতে পারেন) জন্য ! উনি কিন্তু কথা রেখেছিলেন – পাশের বাড়ির রাজু (ওনার সম্পর্কিত নাতি)-কে উনি এইসব কাজ করতে _শিখিয়ে পড়িয়ে Ready করে নিয়েছিলেন ৷
যে ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে আমি ন’কাকাকে এই অনুরোধ করেছিলাম সেটা বলছি _আমাদের আশ্রমের এক ভক্তের বাড়িতে বিয়ের অনুষ্ঠানে, সেই ভক্তের একান্ত সনির্বন্ধ অনুরোধে ন’কাকাকেই পৌরোহিত্য করতে হয়েছিল। ঐ ভক্ত বা তার পরিবার ন’কাকাকে যথেষ্ট ভক্তি করতো _যথেষ্ট মর্যাদা ও দিচ্ছিল, কিন্তু বিয়েবাড়িতে উপস্থিত অন্যান্য আত্মীয় স্বজনেরা তো আর আশ্রমের ভক্ত নয়! তারা ন’কাকার সাথে আর পাঁচটা সাধারণ পুরোহিতের ন্যায় ব্যবহার করছিল। এইটা দেখে আদিত্যপুর আশ্রমের নন্দ মহারাজ (স্বামী ভুবনেশ্বরানন্দ) এবং আমার – দুজনেরই খুব খারাপ লেগেছিল । ওই ঘটনার পরই আমি ওনাকে আন্তরিকভাবে অনুরোধটি করেছিলাম । তারপর থেকেই (শেষ তিন-চার বছর ধরে) উনি যেখানেই যেতেন উপরোক্ত ঐ সহকারীটিকে সঙ্গে নিতেন এবং এরপর থেকে যে কোনো মাঙ্গলিক কার্য ওনার ওই নাতিটিকে দিয়েই করাতেন ৷ এমন কি কোনো ভক্ত বাড়িতে সাধারণ পূজা-পাঠের কাজটিও ন’কাকা ওকে দিয়েই করাতেন, ন’কাকা হয়তো পাশে বসে থাকতেন, একটু-আধটু সাহায্য করতেন, কিন্তু কখনোই প্রত্যক্ষভাবে পূজোয় অংশগ্রহণ করতেন না ৷
এবার আর একটা ঘটনার কথা মনে পড়ে যাচ্ছে _সেইটা এখানে উল্লেখ করি । আগের কোন কোন এপিসোডে আমরা হাওড়ার সালকিয়ার দেবকুমারের কথা উল্লেখ করেছিলাম, দেবকুমারের বাড়িতে ন’কাকার সাথে আমরা বেশ কয়েকবার গিয়েছিলাম । সেইসব কথা এবং দেবকুমারের স্ত্রী-র অত্যন্ত অসুস্থ শরীরেও ন’কাকার জন্য নিজের হাতে সমস্ত রান্না করার কথাও আলোচনা হয়েছিল ৷ দেবকুমারের স্ত্রী ছোটবেলায় ছিলেন হাওড়া অঞ্চলের একজন নামকরা athlete ! ওই মেয়েটির বাবা ঐ অঞ্চলের একজন প্রথিতযশা Allopathy চিকিৎসক ছিলেন ৷ কিন্তু দেবকুমারের সাথে ওই মেয়েটির বিবাহ হবার কয়েক বছরের মধ্যেই শরীরের নীচের দিকের অঙ্গ-প্রত্যঙ্গে অর্থাৎ পায়ের পাতা থেকে কোমর পর্যন্ত স্থানগুলিতে স্নায়ু এবং অস্থির নানান সমস্যা দেখা দিতে থাকে ৷ আমরা যেদিন প্রথম দেবকুমারের বাড়ি (ন’কাকার সাথে) গিয়েছিলাম, সেদিন ওখানে গিয়ে দেবকুমারের স্ত্রীকে দেখে আমাদের খুবই কষ্ট হচ্ছিল ! একে তো ওনার মোটামুটি ভারী শরীর, তায় পা-গুলির একদম জোর নাই, পায়ের পাতাগুলি বেঁকে গেছে, ফলে একদমই ভালো করে হাঁটতে পারছিলেন না, যেটুকুই বা নড়াচড়া করছিলেন _তা খুবই কষ্টের সঙ্গে ৷ যদিও ওনার কিছু আত্মীয়া এবং বাড়ির কাজের লোক ওনাকে রান্নাবান্নার কাজে সাহায্য করছিল, কিন্তু ওই ভক্তিমতী মহিলা ন’কাকার জন্য (এখানে মনে রাখতে হবে যে, দেবকুমারের মুখ থেকে উনি শুধুমাত্র ন’কাকা সম্বন্ধে শুধু কিছু কথা শুনেছিলেন মাত্র, ঐদিনই প্রথম তিনি ন’কাকাকে দেখলেন) সমস্ত কাজ নিজের হাতে করেছিলেন, নিজেই থালা সাজিয়ে কষ্ট করে হেলিয়ে হেলিয়ে হেঁটে এসে নিজের হাতে ন’কাকাকে খাবার পরিবেশন করেছিলেন । ………. [ক্রমশঃ]
