[ন’কাকার সাথে ব্যক্তিগত ভাবে যে সব আলোচনা হোত, সেগুলিই এখানে আলোচনা করা হচ্ছে।]
কোনদিন হয়তো কথা হতো ভিন্ন ভিন্ন পদবীর ব্রাহ্মণদের সম্বন্ধে ! উনি বলতেন – “সাধারণত বন্দোপাধ্যায় বা বাঁড়ুজ্জেরা সরল হয় , ঘোষাল-রা রসালো (আমুদে) হয় _ কিন্তু মুখুজ্জেরা খুব কুটিল হয় !” এই কথা বলে ন’কাকার সে কি হাসি! তবে মুখুজ্জে-দের কুটিল বলায় আমি বলতাম – “ন’কাকা ! এগুলো সব পুরোনো প্রবাদ ! আপনি যখন ‘মুখুজ্জে’ বংশে শরীর নিয়েছেন – তখন আর মুখুজ্জেদের (মুখার্জি) চিন্তা কি ?” ন’কাকা আমার কথা শুনে চুপ করে যেতেন_আর কোনো কথা বলতেন না। অবশ্য কথার প্রতিবাদ করা , জোর করে নিজের মত প্রতিষ্ঠা করা_এগুলি সবই ছিল ন’কাকার স্বভাব-বিরূদ্ধ কাজ।
এই প্রসঙ্গে গুরুমহারাজের একটা কথা মনে পড়ে যাচ্ছে – সেইটা এখনই বলে নিই ! নাহলে হয়তো কথায় কথায় এই কথাটি আবার চাপা পড়ে যেতে পারে ! একদিন ‘গোয়ালা ঘোষ’ বা ‘গোপ’ সম্প্রদায়ের মানুষজন নিয়ে কথা হচ্ছিল । উপস্থিত জনেরা ‘গোপ’-ঘোষদের মধ্যে অসহিষ্ণুতা, অত্যাচারিতা, অমানবিকতার প্রসঙ্গ তুলে ওই সম্প্রদায়ের মানুষজনদের সম্বন্ধে অনেক আজে বাজে কথা বলছিল । সেদিন সিটিংয়ে বসে থাকা অনেকেই নানারকমভাবে এই সম্প্রদায়ের নানারকম অত্যাচার-অনাচারের কাহিনী উদাহরণ হিসাবে উপস্থাপনাও করছিল ৷ গুরু মহারাজ প্রথমটায় অনেকক্ষণ ধরে সবার সব কথা শুনলেন – তারপর বললেন – ” তবে জানো, আমার শরীর ধারণ উপলক্ষে এবার অনেক কজন মহাপুরুষ (উচ্চকোটির সাধক) এই সম্প্রদায়ে শরীর গ্রহণ করেছে ৷ ফলে দেখবে – আগামী দিনে এই সম্প্রদায় থেকেও ভালো ভালো মানুষ জন্ম নেবে ! যারা সমাজের জন্য ভালো কিছু কাজ করবে।” সেদিন গুরু মহারাজের ঐ দুটি-একটি বাক্য-ই সিটিংয়ে উপস্থিত অতজন সমালোচনাকারী মানুষের মুখ একেবারে বন্ধ করে দিয়েছিল!
গুরু মহারাজের সেইদিনকার বলা কথাগুলো আমার জানা ছিল বলেই আক্লেশে ন’কাকাকে সেদিন ওই ‘মুখুজ্জে বংশে ওনার জন্মগ্রহনের ব্যাপারটা’- বলে দিতে পেরেছিলাম ৷
ছোটবেলা থেকে আমি একটা কথা শুনেছিলাম – “সংসারে এক সন্ন্যাসী”। ন’কাকাকে দেখে আমার প্রতি মুহূর্তে এই কথাটাই মনে হতো এবং আমার মাথা শ্রদ্ধায় আপনা আপনিই নয় হয়ে যেতো! যদিও এটা আমি মনেপ্রাণে জানতাম যে ন’কাকা নিজে কতটা ‘সাধু’ বা ‘সন্ন্যাসী’- সেইটা কোন কথাই নয়, আসল কথাটা হলো ন’কাকার মতো মহাপুরুষেরা সাধু-সন্ন্যাসী তৈরি করেন ৷
আপনাদের বোধহয় আগে একসময় বলেছিলাম যে , বনগ্রাম আশ্রমে প্রথম প্রথম যখন গুরুমহারাজ কারুকে ব্রহ্মচর্য দিতেন বা সন্ন্যাস দিতেন – তখন তাদের নামকরণের ভারটা ছিল ন’কাকার উপর (আমি অবশ্য এই কথাটা তখন শুনেছিলাম)। আমি বহুবার শিবরাত্রির (এই সময়েই তখন গুরুমহারাজ আশ্রমের ব্রহ্মচারী ছেলে মেয়েদেরকে ব্রহ্মচর্য বা সন্ন্যাস দিতেন) আগে দেখেছি গুরু মহারাজ রাত্রে ন’কাকাদের বাড়িতে গিয়ে – ‘কাকে কাকে ব্রহ্মচর্য বা সন্ন্যাস দেবেন’, অথবা ‘কাদেরকে এবার দেওয়া হলো না এবং কেন হলো না’– এগুলি ন’কাকার সাথে বিস্তারিত আলোচনা করতেন ।
প্রকৃতপক্ষে তখন আশ্রমের যে কোন কাজ (তা সে গুরুপূর্ণিমা, কোজাগরী লক্ষ্মীপূজা ইত্যাদি পূজা-অনুষ্ঠানই হোক অথবা বাৎসরিক অনুষ্ঠান অর্থাৎ ফাল্গুন সংক্রান্তির উৎসব, পরবর্তীতে 25 শে ডিসেম্বরের উৎসব, স্কুলের বাৎসরিক উৎসব – ইত্যাদি যে কোনো উৎসবই হোক) – হবার আগে গুরু মহারাজ মুখার্জি বাড়িতে গিয়ে সেইগুলির সবকিছু নিয়ে আলোচনা করতেন । কি কি করলে ভালো হয়, কাকে কোন দায়িত্ব দেওয়া যায় – এসব নিয়েও আলোচনা করতেন ।
আমরা দেখতাম আশ্রমের যে কোনো কাজে পূজা-হোম-যজ্ঞের দিকটা মুখার্জী বাড়ির লোকেরাই দেখতো, আর বাইরের আয়োজনের অর্থাৎ প্যান্ডেল, লোকজন খাওয়ানো, লোকজনেদের থাকার ব্যবস্থা করা – এগুলির সম্পূর্ণ দায়িত্ব নিতেন তৃষাণ মহারাজ (স্বামী পরমেশ্বরানন্দ) , মুরারী মহারাজ (স্বামী নিষ্কামানন্দ) এবং আশ্রমের অন্যান্য মহারাজেরা৷ তবে যেটা বলছিলাম – গুরু মহারাজ শরীরে থাকাকালীন উনি আশ্রম-সংক্রান্ত যে কোন ব্যাপারেই ন’কাকা সহ বনগ্রামের মুখার্জী বাড়ির অন্য সদস্যদের সাথেও আলোচনা করে – ওই কাজটি সম্পন্ন করতেন ৷ অবশ্য সেই সময় ন’কাকা শ্রী শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়-ই যেহেতু বনগ্রাম পরমানন্দ মিশনের ‘প্রেসিডেন্ট’ ছিলেন – তাই তাঁর সঙ্গে আলোচনা করাটা একটা নিয়মতান্ত্রিকতার মধ্যেও পড়ে ৷ আমরা সবাই জানি গুরু মহারাজ স্বামী পরমানন্দ সব ব্যাপারেই perfect ছিলেন ! তাই হয়তো উনি এটা করতেন। … [ক্রমশঃ]
কোনদিন হয়তো কথা হতো ভিন্ন ভিন্ন পদবীর ব্রাহ্মণদের সম্বন্ধে ! উনি বলতেন – “সাধারণত বন্দোপাধ্যায় বা বাঁড়ুজ্জেরা সরল হয় , ঘোষাল-রা রসালো (আমুদে) হয় _ কিন্তু মুখুজ্জেরা খুব কুটিল হয় !” এই কথা বলে ন’কাকার সে কি হাসি! তবে মুখুজ্জে-দের কুটিল বলায় আমি বলতাম – “ন’কাকা ! এগুলো সব পুরোনো প্রবাদ ! আপনি যখন ‘মুখুজ্জে’ বংশে শরীর নিয়েছেন – তখন আর মুখুজ্জেদের (মুখার্জি) চিন্তা কি ?” ন’কাকা আমার কথা শুনে চুপ করে যেতেন_আর কোনো কথা বলতেন না। অবশ্য কথার প্রতিবাদ করা , জোর করে নিজের মত প্রতিষ্ঠা করা_এগুলি সবই ছিল ন’কাকার স্বভাব-বিরূদ্ধ কাজ।
এই প্রসঙ্গে গুরুমহারাজের একটা কথা মনে পড়ে যাচ্ছে – সেইটা এখনই বলে নিই ! নাহলে হয়তো কথায় কথায় এই কথাটি আবার চাপা পড়ে যেতে পারে ! একদিন ‘গোয়ালা ঘোষ’ বা ‘গোপ’ সম্প্রদায়ের মানুষজন নিয়ে কথা হচ্ছিল । উপস্থিত জনেরা ‘গোপ’-ঘোষদের মধ্যে অসহিষ্ণুতা, অত্যাচারিতা, অমানবিকতার প্রসঙ্গ তুলে ওই সম্প্রদায়ের মানুষজনদের সম্বন্ধে অনেক আজে বাজে কথা বলছিল । সেদিন সিটিংয়ে বসে থাকা অনেকেই নানারকমভাবে এই সম্প্রদায়ের নানারকম অত্যাচার-অনাচারের কাহিনী উদাহরণ হিসাবে উপস্থাপনাও করছিল ৷ গুরু মহারাজ প্রথমটায় অনেকক্ষণ ধরে সবার সব কথা শুনলেন – তারপর বললেন – ” তবে জানো, আমার শরীর ধারণ উপলক্ষে এবার অনেক কজন মহাপুরুষ (উচ্চকোটির সাধক) এই সম্প্রদায়ে শরীর গ্রহণ করেছে ৷ ফলে দেখবে – আগামী দিনে এই সম্প্রদায় থেকেও ভালো ভালো মানুষ জন্ম নেবে ! যারা সমাজের জন্য ভালো কিছু কাজ করবে।” সেদিন গুরু মহারাজের ঐ দুটি-একটি বাক্য-ই সিটিংয়ে উপস্থিত অতজন সমালোচনাকারী মানুষের মুখ একেবারে বন্ধ করে দিয়েছিল!
গুরু মহারাজের সেইদিনকার বলা কথাগুলো আমার জানা ছিল বলেই আক্লেশে ন’কাকাকে সেদিন ওই ‘মুখুজ্জে বংশে ওনার জন্মগ্রহনের ব্যাপারটা’- বলে দিতে পেরেছিলাম ৷
ছোটবেলা থেকে আমি একটা কথা শুনেছিলাম – “সংসারে এক সন্ন্যাসী”। ন’কাকাকে দেখে আমার প্রতি মুহূর্তে এই কথাটাই মনে হতো এবং আমার মাথা শ্রদ্ধায় আপনা আপনিই নয় হয়ে যেতো! যদিও এটা আমি মনেপ্রাণে জানতাম যে ন’কাকা নিজে কতটা ‘সাধু’ বা ‘সন্ন্যাসী’- সেইটা কোন কথাই নয়, আসল কথাটা হলো ন’কাকার মতো মহাপুরুষেরা সাধু-সন্ন্যাসী তৈরি করেন ৷
আপনাদের বোধহয় আগে একসময় বলেছিলাম যে , বনগ্রাম আশ্রমে প্রথম প্রথম যখন গুরুমহারাজ কারুকে ব্রহ্মচর্য দিতেন বা সন্ন্যাস দিতেন – তখন তাদের নামকরণের ভারটা ছিল ন’কাকার উপর (আমি অবশ্য এই কথাটা তখন শুনেছিলাম)। আমি বহুবার শিবরাত্রির (এই সময়েই তখন গুরুমহারাজ আশ্রমের ব্রহ্মচারী ছেলে মেয়েদেরকে ব্রহ্মচর্য বা সন্ন্যাস দিতেন) আগে দেখেছি গুরু মহারাজ রাত্রে ন’কাকাদের বাড়িতে গিয়ে – ‘কাকে কাকে ব্রহ্মচর্য বা সন্ন্যাস দেবেন’, অথবা ‘কাদেরকে এবার দেওয়া হলো না এবং কেন হলো না’– এগুলি ন’কাকার সাথে বিস্তারিত আলোচনা করতেন ।
প্রকৃতপক্ষে তখন আশ্রমের যে কোন কাজ (তা সে গুরুপূর্ণিমা, কোজাগরী লক্ষ্মীপূজা ইত্যাদি পূজা-অনুষ্ঠানই হোক অথবা বাৎসরিক অনুষ্ঠান অর্থাৎ ফাল্গুন সংক্রান্তির উৎসব, পরবর্তীতে 25 শে ডিসেম্বরের উৎসব, স্কুলের বাৎসরিক উৎসব – ইত্যাদি যে কোনো উৎসবই হোক) – হবার আগে গুরু মহারাজ মুখার্জি বাড়িতে গিয়ে সেইগুলির সবকিছু নিয়ে আলোচনা করতেন । কি কি করলে ভালো হয়, কাকে কোন দায়িত্ব দেওয়া যায় – এসব নিয়েও আলোচনা করতেন ।
আমরা দেখতাম আশ্রমের যে কোনো কাজে পূজা-হোম-যজ্ঞের দিকটা মুখার্জী বাড়ির লোকেরাই দেখতো, আর বাইরের আয়োজনের অর্থাৎ প্যান্ডেল, লোকজন খাওয়ানো, লোকজনেদের থাকার ব্যবস্থা করা – এগুলির সম্পূর্ণ দায়িত্ব নিতেন তৃষাণ মহারাজ (স্বামী পরমেশ্বরানন্দ) , মুরারী মহারাজ (স্বামী নিষ্কামানন্দ) এবং আশ্রমের অন্যান্য মহারাজেরা৷ তবে যেটা বলছিলাম – গুরু মহারাজ শরীরে থাকাকালীন উনি আশ্রম-সংক্রান্ত যে কোন ব্যাপারেই ন’কাকা সহ বনগ্রামের মুখার্জী বাড়ির অন্য সদস্যদের সাথেও আলোচনা করে – ওই কাজটি সম্পন্ন করতেন ৷ অবশ্য সেই সময় ন’কাকা শ্রী শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়-ই যেহেতু বনগ্রাম পরমানন্দ মিশনের ‘প্রেসিডেন্ট’ ছিলেন – তাই তাঁর সঙ্গে আলোচনা করাটা একটা নিয়মতান্ত্রিকতার মধ্যেও পড়ে ৷ আমরা সবাই জানি গুরু মহারাজ স্বামী পরমানন্দ সব ব্যাপারেই perfect ছিলেন ! তাই হয়তো উনি এটা করতেন। … [ক্রমশঃ]
