গুরু মহারাজ তখন প্রায়ই সিটিং-এ কাউকে না কাউকে বলতেন – ” কাল রাত্রে ঘুমের মধ্যে তোর কোন অনুভূতির কথা মনে আছে ?” সে হয়তো আমতা আমতা কোরতো – সব্যদা, জয়দীপ এইরকম কেউ কেউ বলতো – “কাল রাত্রে ঘুমটা খুব ভালো হয়েছে – কারণ ভোরে যখন ঘুম ভাঙল দেখলাম শরীরটা একদম fresh হয়ে গেছে ।” তখন গুরু মহারাজ বলতেন – ” তোকে নিয়ে কাল রাতে অনেক জায়গা ঘুরিয়ে আনলাম – তাও তোর কিছুই স্মৃতিতে নাই ?” সে বলতো – ” কই গুরু মহারাজ ! কিছুই তো মনে পড়ছে না !” গুরু মহারাজ মজা করে বলতেন – ” অাসলে রাত্রে তোর ঘরে গিয়ে দেখলাম তুই ঘুমোচ্ছিস ! ভাবলাম ‘আশ্রমে এ ঘুমিয়েই রাতটা কাটাবে’_তাই তোর সুষুপ্তির সময় তোর অন্তঃশ্চেতনার মধ্যে ঢুকে গিয়ে তোকে বের করে আনলাম আর তোকে নিয়ে চলে গেলাম পাহাড়ে , পর্বতে, হিমালয়ে ৷”
আমরা এইসব কথা শুনে ভাবতাম এসব কি আমাদের জীবনে কখনো হবে ? “ভাগ্যটা যেন খোলা জলের ডোবা”__ !
কিন্তু ঘটনা ঘটল – আর সেইসব ঘটনা ঘটালেন ন’কাকা ! তখন গুরু মহারাজ সবে সবে শরীর ছেড়েছেন – গভীর ভারাক্রান্ত হৃদয় নিয়ে তখন আশ্রমে সবার দিন কাটছে – আমিও তার ব্যতিক্রম নই ! গভীর মর্মবেদনা ন’কাকাকে জানাই ! উনি সবার সাথেই যোগাযোগ রেখে চলেছিলেন এবং সবার মনোবেদনা দূর করার কাজে ব্রতী ছিলেন ৷ একদিন আমি জিজ্ঞাসা করেছিলাম – ” ন’কাকা ! এই যে গুরু মহারাজ অকালে বা অসময়ে চলে গেলেন(কোনটা ঠিক ‘কাল’ তা অবশ্য জানতাম না) – তাহলে এই অগণিত ভক্তমন্ডলীর কি হবে ? তাদের কে আশ্রয় দেবে – আর কে-ই বা তাদের আধ্যাত্মিক উন্নতির দিশা দেখাবে ?” ন’কাকা বললেন – ” যে অন্তর্মুখী – তারই হবে ৷ আর বাইরে সাজ-পোষাক, জাঁক-জমক যতই থাক না কেন — যদি অন্তর্মুখী না হয় তাহলে তার উন্নতি হওয়া খুবই মুসকিল , যেখানে ছিল সেখানেই থেকে যাবে ।” কথাগুলো ঠিক বুঝলাম না – আমাদের আলোচনা আরও চলল ! তারপর রাত্রি হয়ে গেল দেখে আশ্রমের সাধনা ভবনের ১৭নং ঘরে ফিরে গেলাম ।
গুরু মহারাজ থাকতে তখন খুব ধ্যান-জপ হোত, ফলে ‘দর্শন’ – ব্যাপারটার একটা ধারণা ছিল ৷ গুরু মহারাজের কাছেও শুনে ছিলাম – রাতে ঘুমন্ত অবস্থায় মানুষ নানা স্বপ্ন দেখে – কিন্তু ঘুম ভাঙার পর তার বেশীরভাগই ভুলে যায় ৷ আর কোন মহাপুরুষের ঘটনা বা অন্য কোন বিষয় যদি ঘুমভাঙার পরও স্মৃতিতে জ্বলজ্বল করে তাহলে তা ‘দর্শন’। গুরু মহারাজ আরও বলেছিলেন যে , ” আমার ব্যাপারে যদি কিছু দেখিস – তাহলে জানবি সেটা দর্শন !”
সেদিনই প্রথম আমার দীর্ঘসময়ব্যাপী দর্শন হয়েছিল এবং গুরু মহারাজের বিয়োগব্যাথাজনিত বুকের মধ্যে যে চাপাবোধটা একদম কাটছিল না – সেইটা অনেক হালকা হয়ে গিয়েছিল । সেদিন রাতে ঘুমন্ত অবস্থায় যা দেখেছিলাম সেইটা বলি – দেখলাম একটা ঘূর্ণিঝড় দূর থেকে ঘুরতে ঘুরতে আসছে আশ্রমের মাঠের মতো একটা মাঠের দিকে ! ওটা যখন কাছে এল তখন দেখা গেল ঘূর্ণিঝড়টা দূরে যখন ছিল তখন তার আকার বড় বা ভয়ঙ্কর হলেও – এখন সেটা আকারে ছোট, কিন্তু প্রবল শক্তিশালী ! দেখলাম দূরে দূরে বিরাট অট্টালিকা স্তরে স্তরে ভেঙে ভেঙে পড়ে আছে – কি সুন্দর তাদের ঝকঝকে রঙ , কত ডিজাইনওয়ালা দরজা-জানালা , দেওয়ালের কারুকার্য্য ! কিন্তু ভেঙে সেখানেই পড়ে আছে ৷ আবার ছোট-বড় অনেক জিনিস — ওই ঘূর্ণির সাথে প্রচন্ড জোরে ঘুরছে আর উপরের দিকে উঠে যাচ্ছে ! খুবই নগণ্য ক্ষুদ্র জিনিসও ঐ ঘূর্ণির মধ্যিখানে পড়লেই উপরে উঠে যাচ্ছে ! কিন্তু বিশাল ঝকঝকে জিনিসও ভেঙে ওখানেই মুখ থুবড়ে পড়ে রয়েছে ৷ আর এই সবের মধ্যে দেখলাম ন’কাকাকে ! উনি এই দৃশ্যের রহস্য একপাশে দাঁড়িয়ে আমাকে বুঝিয়ে দিচ্ছেন!
আমি বেশ বুঝতে পারলাম যে ঐ ঘুর্নিঝড়টা একটা রুপক মাত্র। ওটা সব কিছুকে cover করছে _কিন্তু যে বা যারা তার ভিতরে (অনরঙ্গ) প্রবেশ করতে না পারছে, তারা কিন্তু মুখ থুবড়ে ঐখানেই পড়ে থাকছে। তাতে তারা যত বড়ই হোক বা যত চকচকে রঙচঙাই হোক। অথচ অতি ক্ষুদ্র নগন্য বস্তুও যেইমাত্র ঐ ঘুর্নিঝড়ের অভ্যন্তরে ঢুকে পড়ে তার সাথে কয়েক পাক ঘুরছে _অমনি তাদের ঊর্ধ্বগতি লাভ হচ্ছে! তারা উপরে উঠতে উঠতে মহাশুন্যে কোথায় যেন বিলীন হয়ে যাচ্ছে! সবকিছু যখন পরিস্কার হয়ে গেল _তখন দেখা গেল গুরুমহারাজ দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে হাসছেন।
সবকিছু পরিস্কার হওয়ার ব্যাপারটা হোল_গুরুমহারাজ এসেছিলেন ঐ ঘুর্নিঝড়ের মতোই। তিনি যতটা স্থান cover করেছিলেন সকলকেই তিনি তাঁর অভ্যন্তরে নেবার সুযোগ দিয়েছিলেন কিন্তু অনেকেই নানাভাবে নিজেদেরকে সাজাতে গিয়ে, বড় করতে গিয়ে, ভারী করে ফেলে _ঐ ঘুর্নির অভ্যন্তরে ঢুকে পড়া আর হয় নি _ফলে ঐখানেই পড়ে রয়েছে। আর যারা যো সো করে একবার ভিতরে ঢুকে পড়েছে _তার আর চিন্তা নাই। ঐ ঘুর্নিই(গুরুমহারাজ) তাকে আপন শক্তিতে ঘোরাচ্ছে, এবং নির্দিষ্ট সময় পরে _তাকে গন্তব্যে পৌঁছে দিচ্ছে।
আর একদিনের দর্শনের কথা বলি_সেদিন ন’কাকার সাথে পাহাড়ী পথে হেঁটে হেঁটে কোথায় যেন চলেছি! উনি আগে আমি পিছনে। দুরে ঝরনা থেকে সৃষ্ট পাহাড়ী সরু অথচ খড়স্রোতা নদী। যেখানে স্থানীয় অধিবাসীরা স্নান করছে বা তীরে ঘোরাঘুরি করছে। এইসবের মধ্যেই আমরা ধীরে ধীরে হেঁটে চলেছি। এই দেখাগুলো(স্বপ্ন অথচ স্বপ্ন নয়) _এত clear, এত distinct_যে চোখ খুলে আমরা যা দেখি, সেগুলি ওর তুলনায় ঝাপসা!
এই ধরণের অনেক রাত্রেই উনি আমাকে নিয়ে ঘুরিয়েছিলেন, তবে একদিনের টা অসাধারণ _সেইটা বলি।
সেইদিনও একটা পাহাড়ী পথে আমরা হাঁটছি_আনেকটা উঁচু পথ। একদিকে খাদ আর অন্যদিকে খাড়া পাহাড়। হটাৎ বাঁদিকে অর্থাৎ ঢালের দিকে আমার নজর যেতেই আমি অবাক বিস্ময়ে সেই দিকে তাকিয়েই রইলাম বহুক্ষন ধরে! এতো সুন্দর দৃশ্য _যা কোনোমতেই আমি ভাষায় প্রকাশ করতে পারব না!!
দেখলাম একটা বিশাল সমতল উপত্যকা _যেখানে প্রাচীন কোন সভ্যতার ধংসাবশেষ চারিদিকে ছড়িয়ে ছিটিয়ে অবহেলায় পড়ে রয়েছে! রয়েছে প্রাসাদের ভগ্নাবশেষ, যার কারুকার্যমন্ডিত থামগুলি ভেঙে পড়ে রয়েছে, কোনটা এখনো ভাঙা অবস্থাতেই দাঁড়িয়ে! কিছু দেব-দেবীর statueও- ভাঙাচোরা অবস্থায় এখানে ওখানে পড়ে রয়েছে। আর উপরে মেঘমুক্ত একদম পরিস্কার নীল আকাশ _আর শুধু নীল নয়, ঘননীল!!
আশ্চর্যের বিষয় ছিল এই যে, ঐ আকাশের গায়ে যেন কোন উঁচু উঁচু প্রাসাদের চূড়ার ছায়া পড়েছে(এর মানে হচ্ছে _ঐ উঁচু প্রাসাদগুলি কোনসময় ছিল কিন্তু এখন আর নেই)!! আরও বিস্ময় আমার জন্য অপেক্ষা করে ছিল _যখন দেখলাম অপূর্ব সুন্দর রঙিন দুটো ছোট ছোট (বিদেশী দামী বড় মোটরগাড়ীর মত) আকাশপোত ঐ প্রাসাদের চূড়ার (ছায়া) পাশ দিয়ে অতি ধীরগতিতে চলে যাচ্ছে!
এই দৃশ্য এতই সুন্দর এবং মনোরম ছিল যে বহুদিন পর্যন্ত এটি আমার হৃদয় মন জুড়ে ছিল আর আমার অন্তর্জগতে দারুণ আনন্দ এনে দিয়েছিল!!
ন’কাকাকে যখন এই ব্যাপারে জিজ্ঞাসা করেছিলাম উনি বলেছিলেন “ওটা ছিল গান্ধার সভ্যতার ধংসাবশেষ!”
জয় গূরূজী ।জয় ন’ কাকা ।(ক্রমশঃ)
আমরা এইসব কথা শুনে ভাবতাম এসব কি আমাদের জীবনে কখনো হবে ? “ভাগ্যটা যেন খোলা জলের ডোবা”__ !
কিন্তু ঘটনা ঘটল – আর সেইসব ঘটনা ঘটালেন ন’কাকা ! তখন গুরু মহারাজ সবে সবে শরীর ছেড়েছেন – গভীর ভারাক্রান্ত হৃদয় নিয়ে তখন আশ্রমে সবার দিন কাটছে – আমিও তার ব্যতিক্রম নই ! গভীর মর্মবেদনা ন’কাকাকে জানাই ! উনি সবার সাথেই যোগাযোগ রেখে চলেছিলেন এবং সবার মনোবেদনা দূর করার কাজে ব্রতী ছিলেন ৷ একদিন আমি জিজ্ঞাসা করেছিলাম – ” ন’কাকা ! এই যে গুরু মহারাজ অকালে বা অসময়ে চলে গেলেন(কোনটা ঠিক ‘কাল’ তা অবশ্য জানতাম না) – তাহলে এই অগণিত ভক্তমন্ডলীর কি হবে ? তাদের কে আশ্রয় দেবে – আর কে-ই বা তাদের আধ্যাত্মিক উন্নতির দিশা দেখাবে ?” ন’কাকা বললেন – ” যে অন্তর্মুখী – তারই হবে ৷ আর বাইরে সাজ-পোষাক, জাঁক-জমক যতই থাক না কেন — যদি অন্তর্মুখী না হয় তাহলে তার উন্নতি হওয়া খুবই মুসকিল , যেখানে ছিল সেখানেই থেকে যাবে ।” কথাগুলো ঠিক বুঝলাম না – আমাদের আলোচনা আরও চলল ! তারপর রাত্রি হয়ে গেল দেখে আশ্রমের সাধনা ভবনের ১৭নং ঘরে ফিরে গেলাম ।
গুরু মহারাজ থাকতে তখন খুব ধ্যান-জপ হোত, ফলে ‘দর্শন’ – ব্যাপারটার একটা ধারণা ছিল ৷ গুরু মহারাজের কাছেও শুনে ছিলাম – রাতে ঘুমন্ত অবস্থায় মানুষ নানা স্বপ্ন দেখে – কিন্তু ঘুম ভাঙার পর তার বেশীরভাগই ভুলে যায় ৷ আর কোন মহাপুরুষের ঘটনা বা অন্য কোন বিষয় যদি ঘুমভাঙার পরও স্মৃতিতে জ্বলজ্বল করে তাহলে তা ‘দর্শন’। গুরু মহারাজ আরও বলেছিলেন যে , ” আমার ব্যাপারে যদি কিছু দেখিস – তাহলে জানবি সেটা দর্শন !”
সেদিনই প্রথম আমার দীর্ঘসময়ব্যাপী দর্শন হয়েছিল এবং গুরু মহারাজের বিয়োগব্যাথাজনিত বুকের মধ্যে যে চাপাবোধটা একদম কাটছিল না – সেইটা অনেক হালকা হয়ে গিয়েছিল । সেদিন রাতে ঘুমন্ত অবস্থায় যা দেখেছিলাম সেইটা বলি – দেখলাম একটা ঘূর্ণিঝড় দূর থেকে ঘুরতে ঘুরতে আসছে আশ্রমের মাঠের মতো একটা মাঠের দিকে ! ওটা যখন কাছে এল তখন দেখা গেল ঘূর্ণিঝড়টা দূরে যখন ছিল তখন তার আকার বড় বা ভয়ঙ্কর হলেও – এখন সেটা আকারে ছোট, কিন্তু প্রবল শক্তিশালী ! দেখলাম দূরে দূরে বিরাট অট্টালিকা স্তরে স্তরে ভেঙে ভেঙে পড়ে আছে – কি সুন্দর তাদের ঝকঝকে রঙ , কত ডিজাইনওয়ালা দরজা-জানালা , দেওয়ালের কারুকার্য্য ! কিন্তু ভেঙে সেখানেই পড়ে আছে ৷ আবার ছোট-বড় অনেক জিনিস — ওই ঘূর্ণির সাথে প্রচন্ড জোরে ঘুরছে আর উপরের দিকে উঠে যাচ্ছে ! খুবই নগণ্য ক্ষুদ্র জিনিসও ঐ ঘূর্ণির মধ্যিখানে পড়লেই উপরে উঠে যাচ্ছে ! কিন্তু বিশাল ঝকঝকে জিনিসও ভেঙে ওখানেই মুখ থুবড়ে পড়ে রয়েছে ৷ আর এই সবের মধ্যে দেখলাম ন’কাকাকে ! উনি এই দৃশ্যের রহস্য একপাশে দাঁড়িয়ে আমাকে বুঝিয়ে দিচ্ছেন!
আমি বেশ বুঝতে পারলাম যে ঐ ঘুর্নিঝড়টা একটা রুপক মাত্র। ওটা সব কিছুকে cover করছে _কিন্তু যে বা যারা তার ভিতরে (অনরঙ্গ) প্রবেশ করতে না পারছে, তারা কিন্তু মুখ থুবড়ে ঐখানেই পড়ে থাকছে। তাতে তারা যত বড়ই হোক বা যত চকচকে রঙচঙাই হোক। অথচ অতি ক্ষুদ্র নগন্য বস্তুও যেইমাত্র ঐ ঘুর্নিঝড়ের অভ্যন্তরে ঢুকে পড়ে তার সাথে কয়েক পাক ঘুরছে _অমনি তাদের ঊর্ধ্বগতি লাভ হচ্ছে! তারা উপরে উঠতে উঠতে মহাশুন্যে কোথায় যেন বিলীন হয়ে যাচ্ছে! সবকিছু যখন পরিস্কার হয়ে গেল _তখন দেখা গেল গুরুমহারাজ দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে হাসছেন।
সবকিছু পরিস্কার হওয়ার ব্যাপারটা হোল_গুরুমহারাজ এসেছিলেন ঐ ঘুর্নিঝড়ের মতোই। তিনি যতটা স্থান cover করেছিলেন সকলকেই তিনি তাঁর অভ্যন্তরে নেবার সুযোগ দিয়েছিলেন কিন্তু অনেকেই নানাভাবে নিজেদেরকে সাজাতে গিয়ে, বড় করতে গিয়ে, ভারী করে ফেলে _ঐ ঘুর্নির অভ্যন্তরে ঢুকে পড়া আর হয় নি _ফলে ঐখানেই পড়ে রয়েছে। আর যারা যো সো করে একবার ভিতরে ঢুকে পড়েছে _তার আর চিন্তা নাই। ঐ ঘুর্নিই(গুরুমহারাজ) তাকে আপন শক্তিতে ঘোরাচ্ছে, এবং নির্দিষ্ট সময় পরে _তাকে গন্তব্যে পৌঁছে দিচ্ছে।
আর একদিনের দর্শনের কথা বলি_সেদিন ন’কাকার সাথে পাহাড়ী পথে হেঁটে হেঁটে কোথায় যেন চলেছি! উনি আগে আমি পিছনে। দুরে ঝরনা থেকে সৃষ্ট পাহাড়ী সরু অথচ খড়স্রোতা নদী। যেখানে স্থানীয় অধিবাসীরা স্নান করছে বা তীরে ঘোরাঘুরি করছে। এইসবের মধ্যেই আমরা ধীরে ধীরে হেঁটে চলেছি। এই দেখাগুলো(স্বপ্ন অথচ স্বপ্ন নয়) _এত clear, এত distinct_যে চোখ খুলে আমরা যা দেখি, সেগুলি ওর তুলনায় ঝাপসা!
এই ধরণের অনেক রাত্রেই উনি আমাকে নিয়ে ঘুরিয়েছিলেন, তবে একদিনের টা অসাধারণ _সেইটা বলি।
সেইদিনও একটা পাহাড়ী পথে আমরা হাঁটছি_আনেকটা উঁচু পথ। একদিকে খাদ আর অন্যদিকে খাড়া পাহাড়। হটাৎ বাঁদিকে অর্থাৎ ঢালের দিকে আমার নজর যেতেই আমি অবাক বিস্ময়ে সেই দিকে তাকিয়েই রইলাম বহুক্ষন ধরে! এতো সুন্দর দৃশ্য _যা কোনোমতেই আমি ভাষায় প্রকাশ করতে পারব না!!
দেখলাম একটা বিশাল সমতল উপত্যকা _যেখানে প্রাচীন কোন সভ্যতার ধংসাবশেষ চারিদিকে ছড়িয়ে ছিটিয়ে অবহেলায় পড়ে রয়েছে! রয়েছে প্রাসাদের ভগ্নাবশেষ, যার কারুকার্যমন্ডিত থামগুলি ভেঙে পড়ে রয়েছে, কোনটা এখনো ভাঙা অবস্থাতেই দাঁড়িয়ে! কিছু দেব-দেবীর statueও- ভাঙাচোরা অবস্থায় এখানে ওখানে পড়ে রয়েছে। আর উপরে মেঘমুক্ত একদম পরিস্কার নীল আকাশ _আর শুধু নীল নয়, ঘননীল!!
আশ্চর্যের বিষয় ছিল এই যে, ঐ আকাশের গায়ে যেন কোন উঁচু উঁচু প্রাসাদের চূড়ার ছায়া পড়েছে(এর মানে হচ্ছে _ঐ উঁচু প্রাসাদগুলি কোনসময় ছিল কিন্তু এখন আর নেই)!! আরও বিস্ময় আমার জন্য অপেক্ষা করে ছিল _যখন দেখলাম অপূর্ব সুন্দর রঙিন দুটো ছোট ছোট (বিদেশী দামী বড় মোটরগাড়ীর মত) আকাশপোত ঐ প্রাসাদের চূড়ার (ছায়া) পাশ দিয়ে অতি ধীরগতিতে চলে যাচ্ছে!
এই দৃশ্য এতই সুন্দর এবং মনোরম ছিল যে বহুদিন পর্যন্ত এটি আমার হৃদয় মন জুড়ে ছিল আর আমার অন্তর্জগতে দারুণ আনন্দ এনে দিয়েছিল!!
ন’কাকাকে যখন এই ব্যাপারে জিজ্ঞাসা করেছিলাম উনি বলেছিলেন “ওটা ছিল গান্ধার সভ্যতার ধংসাবশেষ!”
জয় গূরূজী ।জয় ন’ কাকা ।(ক্রমশঃ)
