গুরু মহারাজ স্বামী পরমানন্দ বলেছিলেন সূর্য থেকে সরাসরি শক্তিকে নিজ শরীরে আবদ্ধ করতে পারে সবুজ উদ্ভিদ এবং এই সবুজ রং সৃষ্টি করে ক্লোরোফিল । সেই অর্থে ক্লোরোফিলই পারে সূর্যশক্তিকে খাদ্যশক্তি বা স্থৈতিক শক্তিরূপে আবদ্ধ করে রাখতে ৷ কিন্তু এই কাজটি ক্লোরোফিল যুক্ত জীব ছাড়া অন্য কেউ পারছে না – কারণ সালোকসংশ্লেষ করার অন্যতম প্রয়োজনীয় একটি শর্ত সেখানে অনুপস্থিত । গুরু মহারাজ বললেন –মানুষের (অন্যান্য বেশিরভাগ প্রাণীরও বটে) রক্তের রং লাল, কারণ রক্তে হিমোগ্লোবিন আছে, আর এই হিমোগ্লোবিন এবং ক্লোরোফিলের রাসায়নিক সংকেত অবিকল একই – শুধুমাত্র ক্লোরোফিলে রয়েছে Mg ধাতুটির পরমাণু । আর হিমোগ্লোবিনে রয়েছে Fe ধাতুর পরমাণু ৷ উনি আরও বলেছিলেন – যেকোনো ভাবে যদি ক্লোরোফিলের Mg অনুকে সরিয়ে সেখানে Fe অনু ঢুকিয়ে দেওয়া যায় – তাহলেই ক্লোরোফিল হিমোগ্লোবিনে পরিণত হয়ে যেতে পারে !
ভারতীয় যোগবিজ্ঞানে সিদ্ধ উন্নত যোগী-ঋষিরা কি এইরকমই কোন উন্নত বিজ্ঞানের সাহায্যে সরাসরি সূর্য থেকে শরীরের প্রয়োজনীয় পুষ্টি সংগ্রহ করে নেন !! গুরু মহারাজ হেঁয়ালির আকারে এইসব সূক্ষ্মাতিসূক্ষ্ম বিজ্ঞানের কথা অনেক সময় বলতেন ৷ ঠাকুর শ্রীরামকৃষ্ণও তোতাপুরি সম্বন্ধে বলতে গিয়ে একবার বলেছিলেন – ” ও কিমিয়াবিদ্যা জানতো !” গুরুমহারাজকে এই সম্বন্ধে জিজ্ঞাসা করায় উনি বলেছিলেন – “কিমিয়া” থেকেই কেমিক্যাল, কেমিস্ট্রি কথাগুলি এসেছে ! এটি ভারতীয় যোগী-ঋষিদের আবিষ্কৃত বহু প্রাচীন বিদ্যা । এই বিদ্যায় পারদ ধাতুর বহুল ব্যবহার করা হয় ৷ খুব সাধারণ পদ্ধতিতে পারদকে জমিয়ে কঠিন করে যেমন Material Change করা হয় (অর্থাৎ সোনা, রূপা ইত্যাদি সহজেই তৈরী করা যায়) তেমনি ওই জমানো পারদ জিভের তলায় বিশেষ কায়দায় রেখে চরম ঠান্ডায় (হিমালয়ের) শরীর উত্তপ্ত রাখা যায় বা শরীরবৃত্তির অন্যান্য কার্যাবলী ওখান থেকেই সম্পন্ন করা যায় ৷
এছাড়াও প্রাকৃতিক অন্যান্য যেকোন বিষয়সমূহ থেকে শক্তি আরোহন করে – শরীররক্ষা, শরীরের পুষ্টিসাধন বা বৃদ্ধি সকল কিছুই করা সম্ভব । গুরুমহারাজ বলেছিলেন তিব্বতের এক যোগীর কথা (মিলোরাপা!) – যিনি গুরুর আজ্ঞায় ১২ বছর ধরে শুধুমাত্র বিছুটি পাতার রস (বা সিদ্ধ করে জলটা) খেয়ে এক নির্জন গুহায় যোগাভ্যাস করতেন ! ১২ বছর পর দেখা যায় যে পূর্ণবয়স্ক ওই যোগীর শরীর আবার কিশোরের ন্যায় হয়ে গেছে – অর্থাৎ প্রকৃতির জগতে বেনিয়ম ঘটিয়ে ওই যোগীর বয়সটাই কমে গেছে !
মাত্র কয়েক বছর আগেও যারা তারাপীঠে গেছে তারা যোগী শংকর ক্ষ্যাপাকে দেখেছে – যিনি সারাদিনে অন্তত দেড় থেকে দুই কেজি ‘মোরাম’ মাটি (বীরভূমের লাল মাটি) খেতেন – তিনি ওখান থেকেই তাঁর শরীরের জন্য প্রয়োজনীয় পুষ্টি ও শক্তি সংগ্রহ করে নিতেন ! গুরুমহারাজের সাথেও এই সাধকের দেখা হয়েছিল এবং ওনার সাথে দেখা হবার কিছুদিন পরেই শংকর ক্ষ্যাপা শরীর ছাড়েন । গুরুমহারাজ অনেক সময় কথা প্রসঙ্গে যোগী শ্যামাচরণ লাহিড়ী পরম্পরার যোগানন্দ পরমহংসের লেখা ‘যোগী কথামৃত’- বইটির উল্লেখ করতেন ৷ ওই বইটি পড়ে আমরা দেখেছি ওখানে একজন নিরাহারা যোগিনীর কথা উল্লেখ রয়েছে – যিনি একজন সাধারণ বাঙালি গ্রাম্য গৃহবধূ হওয়া সত্ত্বেও তাঁর যৌবনের প্রথমভাগ থেকে আমৃত্যু কোনরকম অন্ন-জল বা যেকোন খাদ্যসামগ্রী গ্রহণ ব্যতিরেকেই দীর্ঘদিন সুস্থ শরীরে বেঁচে ছিলেন । তিনি যে বিশেষ যোগ-মার্গ অবলম্বন করেছিলেন তাও নয় । সংসারে শাশুড়ি-ননদীর খাওয়া নিয়ে খোঁটা সহ্য করতে না পেরে তিনি আকুল হয়ে ঈশ্বরের কাছে প্রার্থনা করতেন – আর তাতেই তাঁর ওই অবস্থা প্রাপ্ত হয় ! … [ক্রমশঃ]
ভারতীয় যোগবিজ্ঞানে সিদ্ধ উন্নত যোগী-ঋষিরা কি এইরকমই কোন উন্নত বিজ্ঞানের সাহায্যে সরাসরি সূর্য থেকে শরীরের প্রয়োজনীয় পুষ্টি সংগ্রহ করে নেন !! গুরু মহারাজ হেঁয়ালির আকারে এইসব সূক্ষ্মাতিসূক্ষ্ম বিজ্ঞানের কথা অনেক সময় বলতেন ৷ ঠাকুর শ্রীরামকৃষ্ণও তোতাপুরি সম্বন্ধে বলতে গিয়ে একবার বলেছিলেন – ” ও কিমিয়াবিদ্যা জানতো !” গুরুমহারাজকে এই সম্বন্ধে জিজ্ঞাসা করায় উনি বলেছিলেন – “কিমিয়া” থেকেই কেমিক্যাল, কেমিস্ট্রি কথাগুলি এসেছে ! এটি ভারতীয় যোগী-ঋষিদের আবিষ্কৃত বহু প্রাচীন বিদ্যা । এই বিদ্যায় পারদ ধাতুর বহুল ব্যবহার করা হয় ৷ খুব সাধারণ পদ্ধতিতে পারদকে জমিয়ে কঠিন করে যেমন Material Change করা হয় (অর্থাৎ সোনা, রূপা ইত্যাদি সহজেই তৈরী করা যায়) তেমনি ওই জমানো পারদ জিভের তলায় বিশেষ কায়দায় রেখে চরম ঠান্ডায় (হিমালয়ের) শরীর উত্তপ্ত রাখা যায় বা শরীরবৃত্তির অন্যান্য কার্যাবলী ওখান থেকেই সম্পন্ন করা যায় ৷
এছাড়াও প্রাকৃতিক অন্যান্য যেকোন বিষয়সমূহ থেকে শক্তি আরোহন করে – শরীররক্ষা, শরীরের পুষ্টিসাধন বা বৃদ্ধি সকল কিছুই করা সম্ভব । গুরুমহারাজ বলেছিলেন তিব্বতের এক যোগীর কথা (মিলোরাপা!) – যিনি গুরুর আজ্ঞায় ১২ বছর ধরে শুধুমাত্র বিছুটি পাতার রস (বা সিদ্ধ করে জলটা) খেয়ে এক নির্জন গুহায় যোগাভ্যাস করতেন ! ১২ বছর পর দেখা যায় যে পূর্ণবয়স্ক ওই যোগীর শরীর আবার কিশোরের ন্যায় হয়ে গেছে – অর্থাৎ প্রকৃতির জগতে বেনিয়ম ঘটিয়ে ওই যোগীর বয়সটাই কমে গেছে !
মাত্র কয়েক বছর আগেও যারা তারাপীঠে গেছে তারা যোগী শংকর ক্ষ্যাপাকে দেখেছে – যিনি সারাদিনে অন্তত দেড় থেকে দুই কেজি ‘মোরাম’ মাটি (বীরভূমের লাল মাটি) খেতেন – তিনি ওখান থেকেই তাঁর শরীরের জন্য প্রয়োজনীয় পুষ্টি ও শক্তি সংগ্রহ করে নিতেন ! গুরুমহারাজের সাথেও এই সাধকের দেখা হয়েছিল এবং ওনার সাথে দেখা হবার কিছুদিন পরেই শংকর ক্ষ্যাপা শরীর ছাড়েন । গুরুমহারাজ অনেক সময় কথা প্রসঙ্গে যোগী শ্যামাচরণ লাহিড়ী পরম্পরার যোগানন্দ পরমহংসের লেখা ‘যোগী কথামৃত’- বইটির উল্লেখ করতেন ৷ ওই বইটি পড়ে আমরা দেখেছি ওখানে একজন নিরাহারা যোগিনীর কথা উল্লেখ রয়েছে – যিনি একজন সাধারণ বাঙালি গ্রাম্য গৃহবধূ হওয়া সত্ত্বেও তাঁর যৌবনের প্রথমভাগ থেকে আমৃত্যু কোনরকম অন্ন-জল বা যেকোন খাদ্যসামগ্রী গ্রহণ ব্যতিরেকেই দীর্ঘদিন সুস্থ শরীরে বেঁচে ছিলেন । তিনি যে বিশেষ যোগ-মার্গ অবলম্বন করেছিলেন তাও নয় । সংসারে শাশুড়ি-ননদীর খাওয়া নিয়ে খোঁটা সহ্য করতে না পেরে তিনি আকুল হয়ে ঈশ্বরের কাছে প্রার্থনা করতেন – আর তাতেই তাঁর ওই অবস্থা প্রাপ্ত হয় ! … [ক্রমশঃ]
