[নারী পুরুষের সম্পর্ক নিয়ে আলোচনা হচ্ছিল]
গুরুমহারাজ স্বামী পরমানন্দ বনগ্রাম পরমানন্দ মিশনে একদিন আলোচনাকালে নারী ও পুরুষ এবং তাদের প্রকৃতি বা প্রকারভেদ নিয়ে কথা বলছিলেন ৷ উনি বললেন – দেখা যায় সমাজে চার প্রকারের নারী রয়েছে, হস্তিনী-শঙ্খিনী-চিত্রিনী-পদ্মিনী ! তেমনি চার প্রকারের পুরুষও রয়েছে, অশ্ব-বৃষ-মৃগ-শশ ! পুরুষের প্রকারভেদগুলি সবই কোন না কোন পশুর নাম অনুযায়ী কিন্তু নারীর প্রকারভেদে একমাত্র হস্তিনী ছাড়া বাকিগুলি কিন্তু কোন পশুর নাম অনুযায়ী নয় ।
উপযুক্ত পুরুষের সঙ্গে উপযুক্ত নারীর(যেমন অশ্বপুরুষের সাথে হস্তিনী নারী,বৃষের সাথে শঙ্খিনী,মৃগের সাথে চিত্রিনী এবং দলের সাথে পদ্মিনী) বিবাহ হোলে বা সঙ্গ হোলে রাজযোটক মিল হয়,অন্যথায় সব সময়েই সংসারে “তেরে কেটে তাকে”_লেগে থাকে। স্বামী-স্ত্রীর ঠিকমতো মিল না হওয়া অবস্থায় সন্তান উৎপাদন হওয়ায় _ঐ দম্পতি সমাজকে দৈহিক এবং মানসিক ভাবে সুস্থ সন্তান উপহার দিতে পারে না। সমাজে বর্ণসংকর সন্তান এইভাবেই সৃষ্টি হয়েছে। গুরু মহারাজ বলেছিলেন_এটি একটি সাংঘাতিক বিজ্ঞান! ভগবান শ্রীকৃষ্ণ কত হাজার বছর আগে এই সম্বন্ধে বিস্তৃত আলোচনা করে গেছেন।সমাজবিজ্ঞানীরা যদি এই বিজ্ঞান কাজে লাগাতে পারতো _তাহলে এতদিনে পৃথিবী গ্রহের মানুষের চেতনা অনেক উন্নতি লাভ করতো।
গুরুমহারাজ বলেছিলেন – পুরুষ স্বভাবতই উদ্দাম, ঊশৃংখল, লাগামছাড়া, নির্লজ্জ, বহির্মুখী ! অপরপক্ষে নারী অনেকটাই শান্ত স্বভাবের, লজ্জা এদের স্বভাবে রয়েছে, এরা স্বভাব-বুদ্ধিমতি (পুরুষের অপেক্ষা বেশি বুদ্ধি) এবং স্বভাব অন্তর্মুখী হওয়ায় নারীরা এই জগৎ-কে যতটা এবং যেমনভাবে চেনে – পুরুষ ততটা চেনে না ! পুরুষ যেন নদের মতো, পাহাড়ি ঝর্ণার মতো – বর্ষায় প্রচন্ড উদ্দাম-উচ্ছল, কিন্তু পরক্ষনেই উদ্যমতাহীন, শীর্ণকায়া ! নারী যেন বরফগলা জলে পুষ্ট নদী – গভীরতা বেশি, স্থায়িত্ব বেশি, গম্ভীর এবং সতত গতিশীলতা সেখানে বিদ্যমান ! যুগে যুগে পুরুষেরা নারীকে জয় করতে চেয়েছে,স্থুলত করেছেও কিন্তু নারীর মন-জয় করতে পারেনি ৷ সেটা পেরেছে শুধুমাত্র মদন ভস্মকারী শিব এবং মদনমোহন শ্রীকৃষ্ণ ! আজও শত-সহস্র নারীদের আদর্শ এই দুটি ভঙ্গিমা । যদি সমাজে এখনও কোনো মদনভস্মকারী থাকেন – সেখানে নারীরা নির্ভয়, নিঃসংকোচ, এবং তাঁর কাছে কাছে থাকার জন্য শত সহস্র নারী পাগল ! ঠিক তেমনটাই ঘটতে পারে যদি নটবর শ্রীকৃষ্ণের ন্যায় মদনমোহন সমাজের কোথাও আবির্ভূত হন_ তাহলেও লক্ষ লক্ষ নারীরা ঠিক বাঁশির সুর শুনতে পেয়ে স্বামী-সংসার ফেলে ছুটে যাবে তাঁর সঙ্গ করার মানসে !
অর্থাৎ দেখা যাচ্ছে – সাধারণ মানুষেরা বা যুবকেরা ঠিক ঠিক style-টা জানে না বলেই অকারণ নারীর পিছনে ছুটে মরে – তাকে অকারণে impress করার চেষ্টা করে, এবং তার মনোবাসনা চরিতার্থ না হলে অর্থাৎ পৌরুষে ঘা লাগলে সে (বা তারা) হয়তো ওই নারীর উপর বল প্রয়োগ করে, অত্যাচার করে, অনাচার করে ! কিন্তু যদি কোন পুরুষ style-টা বদলাতে পারে অর্থাৎ সে যদি মদন-দমন (ভস্মকারী) বা মদনমোহন হয়ে উঠতে পারে তখন দেখা যাবে – তার জন্মজন্মান্তরের আকাঙ্ক্ষার অবসান ঘটবে –যে নারীকে impress করার জন্য সে এতোকাল কত চেষ্টা করেছে_আজ তারা এমনিই এসে ধরা দেবে। তখন সে নারীদের সরাতে চাইলেও সহস্র সহস্র নারী তাঁকে কেন্দ্র করেই ঘুরঘুর করবে, তার প্রতি প্রেম নিবেদন করবে – তাকেই যুগ যুগ ধরে পূজা করবে !
গুরুমহারাজ বলেছিলেন – নারী কিন্তু পুরুষের কাছে ত্যাগ প্রত্যাশা করে – ভোগাকাঙ্ক্ষা নয় । তবে নারীর প্রকৃতি অনুযায়ী নিশ্চয়ই এর ব্যতিক্রম রয়েছে – কিন্তু বেশিরভাগের ক্ষেত্রের কথাই গুরুমহারাজ বলেছিলেন । তবে গুরুমহারাজ আরও বলেছিলেন – পশুসমাজ, পক্ষীসমাজ বা আরো নিম্নতর প্রাণী সমাজেও পুরুষ-নারীর পারস্পরিক কাছে আসার প্রবণতা শুধুমাত্র বংশবৃদ্ধির কারণেই । সেখানে মায়া, মোহ, লোভ, প্রেম-ভালোবাসা ইত্যাদি খুব একটা স্থান পায় না ! অপত্যস্নেহ ব্যাপারটা সকলের মধ্যেই রয়েছে – এটা ঈশ্বরপ্রদত্ত বা instinct ! তবে যে কোন পশু-পাখির মধ্যে দেখা যায় – মায়ের মধ্যে এই অপত্যস্নেহ একটা নির্দিষ্ট বয়সকাল পর্যন্ত থাকে – তারপর কিন্তু আর থাকে না । সন্তান একটু বড় হয়ে গেলে – ‘মা’ নিজেই সন্তানকে সরিয়ে দেয় বা নিজে দূরে চলে যায় ৷ মনুষ্য-সমাজে কিন্তু দেখা যায় উল্টো চিত্র – পিতা-মাতারা সন্তানের প্রতি মায়ায় আবদ্ধ হয় বা মোহগ্রস্ত হয়ে পড়ে ! পিতা-মাতারা ওই সন্তানের কাছে অনেক কিছু প্রত্যাশা করে বলেই এমনটা হয় । বৃদ্ধ বয়সে তাদের এই প্রত্যাশাপূরণ হয়না বলেই তারা দু্ঃখ পায়।… [ক্রমশঃ]
গুরুমহারাজ স্বামী পরমানন্দ বনগ্রাম পরমানন্দ মিশনে একদিন আলোচনাকালে নারী ও পুরুষ এবং তাদের প্রকৃতি বা প্রকারভেদ নিয়ে কথা বলছিলেন ৷ উনি বললেন – দেখা যায় সমাজে চার প্রকারের নারী রয়েছে, হস্তিনী-শঙ্খিনী-চিত্রিনী-পদ্মিনী ! তেমনি চার প্রকারের পুরুষও রয়েছে, অশ্ব-বৃষ-মৃগ-শশ ! পুরুষের প্রকারভেদগুলি সবই কোন না কোন পশুর নাম অনুযায়ী কিন্তু নারীর প্রকারভেদে একমাত্র হস্তিনী ছাড়া বাকিগুলি কিন্তু কোন পশুর নাম অনুযায়ী নয় ।
উপযুক্ত পুরুষের সঙ্গে উপযুক্ত নারীর(যেমন অশ্বপুরুষের সাথে হস্তিনী নারী,বৃষের সাথে শঙ্খিনী,মৃগের সাথে চিত্রিনী এবং দলের সাথে পদ্মিনী) বিবাহ হোলে বা সঙ্গ হোলে রাজযোটক মিল হয়,অন্যথায় সব সময়েই সংসারে “তেরে কেটে তাকে”_লেগে থাকে। স্বামী-স্ত্রীর ঠিকমতো মিল না হওয়া অবস্থায় সন্তান উৎপাদন হওয়ায় _ঐ দম্পতি সমাজকে দৈহিক এবং মানসিক ভাবে সুস্থ সন্তান উপহার দিতে পারে না। সমাজে বর্ণসংকর সন্তান এইভাবেই সৃষ্টি হয়েছে। গুরু মহারাজ বলেছিলেন_এটি একটি সাংঘাতিক বিজ্ঞান! ভগবান শ্রীকৃষ্ণ কত হাজার বছর আগে এই সম্বন্ধে বিস্তৃত আলোচনা করে গেছেন।সমাজবিজ্ঞানীরা যদি এই বিজ্ঞান কাজে লাগাতে পারতো _তাহলে এতদিনে পৃথিবী গ্রহের মানুষের চেতনা অনেক উন্নতি লাভ করতো।
গুরুমহারাজ বলেছিলেন – পুরুষ স্বভাবতই উদ্দাম, ঊশৃংখল, লাগামছাড়া, নির্লজ্জ, বহির্মুখী ! অপরপক্ষে নারী অনেকটাই শান্ত স্বভাবের, লজ্জা এদের স্বভাবে রয়েছে, এরা স্বভাব-বুদ্ধিমতি (পুরুষের অপেক্ষা বেশি বুদ্ধি) এবং স্বভাব অন্তর্মুখী হওয়ায় নারীরা এই জগৎ-কে যতটা এবং যেমনভাবে চেনে – পুরুষ ততটা চেনে না ! পুরুষ যেন নদের মতো, পাহাড়ি ঝর্ণার মতো – বর্ষায় প্রচন্ড উদ্দাম-উচ্ছল, কিন্তু পরক্ষনেই উদ্যমতাহীন, শীর্ণকায়া ! নারী যেন বরফগলা জলে পুষ্ট নদী – গভীরতা বেশি, স্থায়িত্ব বেশি, গম্ভীর এবং সতত গতিশীলতা সেখানে বিদ্যমান ! যুগে যুগে পুরুষেরা নারীকে জয় করতে চেয়েছে,স্থুলত করেছেও কিন্তু নারীর মন-জয় করতে পারেনি ৷ সেটা পেরেছে শুধুমাত্র মদন ভস্মকারী শিব এবং মদনমোহন শ্রীকৃষ্ণ ! আজও শত-সহস্র নারীদের আদর্শ এই দুটি ভঙ্গিমা । যদি সমাজে এখনও কোনো মদনভস্মকারী থাকেন – সেখানে নারীরা নির্ভয়, নিঃসংকোচ, এবং তাঁর কাছে কাছে থাকার জন্য শত সহস্র নারী পাগল ! ঠিক তেমনটাই ঘটতে পারে যদি নটবর শ্রীকৃষ্ণের ন্যায় মদনমোহন সমাজের কোথাও আবির্ভূত হন_ তাহলেও লক্ষ লক্ষ নারীরা ঠিক বাঁশির সুর শুনতে পেয়ে স্বামী-সংসার ফেলে ছুটে যাবে তাঁর সঙ্গ করার মানসে !
অর্থাৎ দেখা যাচ্ছে – সাধারণ মানুষেরা বা যুবকেরা ঠিক ঠিক style-টা জানে না বলেই অকারণ নারীর পিছনে ছুটে মরে – তাকে অকারণে impress করার চেষ্টা করে, এবং তার মনোবাসনা চরিতার্থ না হলে অর্থাৎ পৌরুষে ঘা লাগলে সে (বা তারা) হয়তো ওই নারীর উপর বল প্রয়োগ করে, অত্যাচার করে, অনাচার করে ! কিন্তু যদি কোন পুরুষ style-টা বদলাতে পারে অর্থাৎ সে যদি মদন-দমন (ভস্মকারী) বা মদনমোহন হয়ে উঠতে পারে তখন দেখা যাবে – তার জন্মজন্মান্তরের আকাঙ্ক্ষার অবসান ঘটবে –যে নারীকে impress করার জন্য সে এতোকাল কত চেষ্টা করেছে_আজ তারা এমনিই এসে ধরা দেবে। তখন সে নারীদের সরাতে চাইলেও সহস্র সহস্র নারী তাঁকে কেন্দ্র করেই ঘুরঘুর করবে, তার প্রতি প্রেম নিবেদন করবে – তাকেই যুগ যুগ ধরে পূজা করবে !
গুরুমহারাজ বলেছিলেন – নারী কিন্তু পুরুষের কাছে ত্যাগ প্রত্যাশা করে – ভোগাকাঙ্ক্ষা নয় । তবে নারীর প্রকৃতি অনুযায়ী নিশ্চয়ই এর ব্যতিক্রম রয়েছে – কিন্তু বেশিরভাগের ক্ষেত্রের কথাই গুরুমহারাজ বলেছিলেন । তবে গুরুমহারাজ আরও বলেছিলেন – পশুসমাজ, পক্ষীসমাজ বা আরো নিম্নতর প্রাণী সমাজেও পুরুষ-নারীর পারস্পরিক কাছে আসার প্রবণতা শুধুমাত্র বংশবৃদ্ধির কারণেই । সেখানে মায়া, মোহ, লোভ, প্রেম-ভালোবাসা ইত্যাদি খুব একটা স্থান পায় না ! অপত্যস্নেহ ব্যাপারটা সকলের মধ্যেই রয়েছে – এটা ঈশ্বরপ্রদত্ত বা instinct ! তবে যে কোন পশু-পাখির মধ্যে দেখা যায় – মায়ের মধ্যে এই অপত্যস্নেহ একটা নির্দিষ্ট বয়সকাল পর্যন্ত থাকে – তারপর কিন্তু আর থাকে না । সন্তান একটু বড় হয়ে গেলে – ‘মা’ নিজেই সন্তানকে সরিয়ে দেয় বা নিজে দূরে চলে যায় ৷ মনুষ্য-সমাজে কিন্তু দেখা যায় উল্টো চিত্র – পিতা-মাতারা সন্তানের প্রতি মায়ায় আবদ্ধ হয় বা মোহগ্রস্ত হয়ে পড়ে ! পিতা-মাতারা ওই সন্তানের কাছে অনেক কিছু প্রত্যাশা করে বলেই এমনটা হয় । বৃদ্ধ বয়সে তাদের এই প্রত্যাশাপূরণ হয়না বলেই তারা দু্ঃখ পায়।… [ক্রমশঃ]
