গুরুমহারাজ স্বামী পরমানন্দ, পরমানন্দ মিশন(বনগ্রাম)-এ অথবা অন্যান্য স্থানে বিভিন্ন সিটিং-এ মহাকাব্যসহ বিভিন্ন পৌরাণিক কাহিনীর বৈজ্ঞানিক, সামাজিক এবং তাত্ত্বিক ব্যাখ্যা করে ঘটনাগুলি সুন্দরভাবে আমাদেরকে বুঝিয়ে দিতেন । আমরা সেইগুলোই এইখানে আলোচনাকারে প্রকাশ করছিলাম ।
ভারতীয় শাস্ত্রাদি পড়ে অনেকে মনে করে যে, বশিষ্ট ঋষি বোধহয় বহুকাল ধরে অর্থাৎ কয়েক হাজার বছর ধরে শরীর ধারণ করেছিলেন কারণ – বশিষ্ট, মনু, জনক রাজা, প্রমুখের নাম এইরকমই বিভিন্ন সময়ের বিভিন্ন শাস্ত্র গ্রন্থে উল্লেখ পাওয়া যায় । গুরুমহারাজ বলেছিলেন – বশিষ্ঠ, মনু, জনক – এইগুলি হল Post-এর নাম বা এগুলো ছিল উপাধি ! এগুলো কোন ব্যক্তি বিশেষের নাম নয় ৷ “বশিষ্ট” হলো ব্রহ্মজ্ঞ গুরুদের Post বা উপাধি ৷ “জনক” হলো আদর্শ রাজা অর্থাৎ ঋষিকল্প রাজাদের উপাধি । এক-একটা যুগ বা কালের ভার যাঁর উপর থাকে, তিনিই
“মনু”! প্রথম মনু, দ্বিতীয় মনু ….. ত্রয়োদশ মনু, চতুর্দশ মনু – এইরকম ভাবে এক এক যুগে এক একজন মনুর উপর যুগের ভার থাকে । এখন চলছে চতুর্দশ মনু বা বৈবস্বত মনুর কাল, এরপর আসবে স্বায়ম্ভুব মনুর কাল !
গুরুমহারাজ উদাহরণ হিসাবে বলেছিলেন – যেমন ধরা যাক ‘বিদ্যাসাগর’ একটা উপাধি ! ঈশ্বরচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায় লেখাপড়া করতে করতে ডিগ্রি পেতে পেতে তৎকালীন সর্বোচ্চ ডিগ্রি ‘বিদ্যাসাগর’ উপাধি লাভ করেছিলেন । আরো দুই-একজনও এই ‘ডিগ্রি’ লাভ করেছিল – কিন্তু ইশ্বরচন্দ্র একজন গ্রেট-ম্যান ছিলেন, তাই এই ডিগ্রী-টাই তাঁর উপাধি বা title হয়ে দাঁড়িয়েছিল । এখনকার অনেক ইয়ং জেনারেশন ঈশ্বরচন্দ্রের title যে বন্দ্যোপাধ্যায় তা-ই হয়তো ভুলে গেছে – তারা ভাবে ওনার নাম ছিল ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর, অর্থাৎ ‘বিদ্যাসাগর’-টাই যেন ওনার title !
এছাড়াও গুরুমহারাজ উদাহরণ দিয়েছিলেন – ” যেমন ধর্ শংকরাচার্য ! একজন আদিগুরু শঙ্করাচার্য যখন ভারতবর্ষের চার প্রান্তে চারটি মঠ প্রতিষ্ঠা করলেন (পূর্বপ্রান্তে – পুরীতে গোবর্ধন মঠ, পশ্চিমপ্রান্তে – দ্বারকায় সারদাপীঠ মঠ, উত্তরপ্রান্তে – বদ্রিকাশ্রমে জ্যোর্তিমঠ বা জোশীমঠ, দক্ষিণপ্রান্তে – রামেশ্বরে শৃঙ্গেরী মঠ) এবং ওনার প্রধান চার শিষ্যকে চারটি মঠের দায়িত্ব দিলেন, তাদের সকলেরই উপাধি হলো ‘শংকরাচার্য’! আজও এই দেশে এই চারটি মঠ রয়েছে এবং সম্মানের সঙ্গেই রয়েছে ! এখনও এই চারটি মঠের যারা প্রধান তাঁদেরকে ‘শঙ্করাচার্য’-ই বলা হয় । অর্থাৎ ভারতবর্ষে আচার্য শঙ্করের সিদ্ধান্তের পর থেকে সবসময়-ই চারজন করে শঙ্করাচার্য বিরাজমান ! যদিও বর্তমানে এদের কারো সাথে কারো মতের মিল নাই – সবাই নিজের নিজের মতো করে চলেন ৷ সাধারণ মানুষের সঙ্গে এদের দূরত্ব অনেক বেড়ে গেছে – ফলে আচার্যের সংকল্প বা যে উদ্দেশ্যে ওনার এই মঠগুলি তৈরি করা – সেই উদ্দেশ্য এখন অনেকটাই ব্যাহত ! গুরুমহারাজের কাছে আমরা শুনেছিলাম যে, নারী বা শুদ্ররা শঙ্করাচার্যদেরকে পায়ে হাত দিয়ে ছুঁয়ে প্রণাম করতে পারে না ! ব্রাহ্মণ হলেও একদিন নিরামিষ খেয়ে শরীর শুদ্ধ করে প্রণাম করতে হয় ৷ তবে পঞ্চাশ হাজার বা এক লাখ টাকা দিলে বাড়ি বাড়ি গিয়ে প্রণাম নিয়ে আসেন ! বর্তমানের ইয়ং জেনারেশন এইসব আচারের নামে অনাচার মেনে নেবে না – তাই এনারা এখন সাধারণ মানুষের মন থেকে দূরে সরে যাচ্ছে !
যাইহোক, আমাদের কথা হচ্ছিলো – পৌরাণিক যুগের বিভিন্ন post বা পদ অথবা title বা উপাধি নিয়ে, আমরা সেই আলোচনায় ফিরে যাই ! গুরুমহারাজের কাছে শুনেছিলাম – ” মিথিলার রাজাকেই সাধারণত ‘জনক’ বলা হতো । ‘জনক’ অর্থে পিতা ! সাধারণত শাস্ত্রে পঞ্চপিতার কথা উল্লেখ করা হয়েছে – .” জন্মদাতা, অন্নদাতা, শিক্ষাদাতা (দীক্ষাদাতা), ভয়ত্রাতা, যস্য কন্যাবিবাহিতা !” এইগুলির মধ্যে দেশের রাজাও পরে যাবেন – কারণ তিনি অন্নদাতা এবং ভয়ত্রাতা ! সম্রাট অশোকের শিলালিপিতেও পাওয়া যায় পালি ভাষায় লেখা রাজবাক্য “সবে মুনিষে পজা মম”। পালিভাষায় যুক্তস্বরের ও যুক্তাক্ষরের কোন প্রয়োগ ছিল না – সবই মুক্তাক্ষর ! তাই সংস্কৃত থেকে সৃষ্ট এই ভাষাটি সাধারণ মানুষের কাছে খুবই গ্রহণযোগ্য হয়েছিল । ভগবান বুদ্ধও এই ভাষাতেই শিক্ষাদান করতেন ! ফলে সম্রাট অশোকও বৌদ্ধধর্মে দীক্ষাগ্রহণের পর যখন থেকে এই ধর্ম প্রচার ও প্রসারের কাজে আত্মনিয়োগ করেন তখন তিনি বৌদ্ধ ধর্মচার্যাদের দ্বারা শিক্ষাদানের পাশাপাশি রাজ্যের বিভিন্ন স্থানে পাথরের স্তম্ভ স্থাপন করে তাতে বুদ্ধের বাণী এবং নিজের কথা লিখে – সাধারণ প্রজাদের শিক্ষা দিতেন । এইরকমই একটায় ঐ কথাগুলি পাওয়া গিয়েছিল “সবে মুনিষে পজা মম”- অর্থাৎ রাজ্যের সব মানুষই আমার সন্তান !
তাহলে বোঝাই যাচ্ছে কোনো রাজ্যের প্রজাদের কাছে রাজা হলো পিতার মতো – সেই অর্থে-ই ‘জনক’! তাছাড়া মিথিলার তৎকালীন রাজাদের আরও একটা বিশেষত্ব ছিল – তাঁরা শুধুই যে সুশাসক ছিলেন বা প্রজানুরঞ্জক রাজাই ছিলেন তা নয়, তাঁরা মহাজ্ঞানীও ছিলেন ৷ এইজন্যেই বলা হতো “রাজর্ষি জনক”! এই ‘রাজর্ষি’ যে সবাই ছিলেন তা নয়, কিন্তু বেশ কয়েকজন ছিলেন । তখন মিথিলার রাজসভায় প্রতিবৎসর শীতকালের সময়ে (পৌষ সংক্রান্তি বা এই ধরনের কোনো সময়ে) একটা বিশেষ উৎসব হতো, আর তা হলো – তৎকালীন যুগের শ্রেষ্ঠ পণ্ডিতদেরকে আমন্ত্রণ করে ওখানে নিয়ে আসা হতো এবং তাদের মধ্যে বেশ কয়েকদিন ধরে আধ্যাত্মিকতার বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা হতো, তর্ক-বিতর্ক হতো ! আর শেষকালে রাজর্ষি জনকের মধ্যস্থতায় সকলেই একটা সিদ্ধান্তে উপনীত হতো ! এটা যেন সবার কাছে ছিল একটা synthesis ! পরবর্তী সারাটা বছর ধরে ঐসব দিগগজ পণ্ডিতেরা বা ধর্মাচার্যরা আগের বছরের ধর্মমহাসম্মেলনের সিদ্ধান্তটাকেই সারাদেশে নিজের নিজের এলাকায় তাদের শিষ্যদের বা ছাত্রদেরকে শিক্ষা দিতো ।
এইভাবেই সমগ্র দেশজুড়ে আধ্যাত্মিক জগতে একটা মৈত্রীর ভাব বজায় থাকতো ! এর মধ্যে হয়তো কোন প্রান্তের কোনো নবীন পণ্ডিতের মনে নতুন কোনো সিদ্ধান্ত তৈরি হলো – সেগুলির মীমাংসা হতো পরবর্তী বৎসরের ধর্ম মহাসম্মেলনে ! এইভাবে রাজর্ষি জনকের রাজসভায় তখন সারা ভারতবর্ষের দিকপাল মহান মানুষেরা সমবেত হতো এবং সমগ্র দেশের কৃষ্টি-সংস্কৃতি-আধ্যাত্মিকতার মূলধারাটি যাতে অক্ষুন্ন থাকে তারজন্য রাজা জনক একটি বিরাট ভূমিকা পালন কোরতেন ।
ভারতীয় শাস্ত্রাদি পড়ে অনেকে মনে করে যে, বশিষ্ট ঋষি বোধহয় বহুকাল ধরে অর্থাৎ কয়েক হাজার বছর ধরে শরীর ধারণ করেছিলেন কারণ – বশিষ্ট, মনু, জনক রাজা, প্রমুখের নাম এইরকমই বিভিন্ন সময়ের বিভিন্ন শাস্ত্র গ্রন্থে উল্লেখ পাওয়া যায় । গুরুমহারাজ বলেছিলেন – বশিষ্ঠ, মনু, জনক – এইগুলি হল Post-এর নাম বা এগুলো ছিল উপাধি ! এগুলো কোন ব্যক্তি বিশেষের নাম নয় ৷ “বশিষ্ট” হলো ব্রহ্মজ্ঞ গুরুদের Post বা উপাধি ৷ “জনক” হলো আদর্শ রাজা অর্থাৎ ঋষিকল্প রাজাদের উপাধি । এক-একটা যুগ বা কালের ভার যাঁর উপর থাকে, তিনিই
“মনু”! প্রথম মনু, দ্বিতীয় মনু ….. ত্রয়োদশ মনু, চতুর্দশ মনু – এইরকম ভাবে এক এক যুগে এক একজন মনুর উপর যুগের ভার থাকে । এখন চলছে চতুর্দশ মনু বা বৈবস্বত মনুর কাল, এরপর আসবে স্বায়ম্ভুব মনুর কাল !
গুরুমহারাজ উদাহরণ হিসাবে বলেছিলেন – যেমন ধরা যাক ‘বিদ্যাসাগর’ একটা উপাধি ! ঈশ্বরচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায় লেখাপড়া করতে করতে ডিগ্রি পেতে পেতে তৎকালীন সর্বোচ্চ ডিগ্রি ‘বিদ্যাসাগর’ উপাধি লাভ করেছিলেন । আরো দুই-একজনও এই ‘ডিগ্রি’ লাভ করেছিল – কিন্তু ইশ্বরচন্দ্র একজন গ্রেট-ম্যান ছিলেন, তাই এই ডিগ্রী-টাই তাঁর উপাধি বা title হয়ে দাঁড়িয়েছিল । এখনকার অনেক ইয়ং জেনারেশন ঈশ্বরচন্দ্রের title যে বন্দ্যোপাধ্যায় তা-ই হয়তো ভুলে গেছে – তারা ভাবে ওনার নাম ছিল ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর, অর্থাৎ ‘বিদ্যাসাগর’-টাই যেন ওনার title !
এছাড়াও গুরুমহারাজ উদাহরণ দিয়েছিলেন – ” যেমন ধর্ শংকরাচার্য ! একজন আদিগুরু শঙ্করাচার্য যখন ভারতবর্ষের চার প্রান্তে চারটি মঠ প্রতিষ্ঠা করলেন (পূর্বপ্রান্তে – পুরীতে গোবর্ধন মঠ, পশ্চিমপ্রান্তে – দ্বারকায় সারদাপীঠ মঠ, উত্তরপ্রান্তে – বদ্রিকাশ্রমে জ্যোর্তিমঠ বা জোশীমঠ, দক্ষিণপ্রান্তে – রামেশ্বরে শৃঙ্গেরী মঠ) এবং ওনার প্রধান চার শিষ্যকে চারটি মঠের দায়িত্ব দিলেন, তাদের সকলেরই উপাধি হলো ‘শংকরাচার্য’! আজও এই দেশে এই চারটি মঠ রয়েছে এবং সম্মানের সঙ্গেই রয়েছে ! এখনও এই চারটি মঠের যারা প্রধান তাঁদেরকে ‘শঙ্করাচার্য’-ই বলা হয় । অর্থাৎ ভারতবর্ষে আচার্য শঙ্করের সিদ্ধান্তের পর থেকে সবসময়-ই চারজন করে শঙ্করাচার্য বিরাজমান ! যদিও বর্তমানে এদের কারো সাথে কারো মতের মিল নাই – সবাই নিজের নিজের মতো করে চলেন ৷ সাধারণ মানুষের সঙ্গে এদের দূরত্ব অনেক বেড়ে গেছে – ফলে আচার্যের সংকল্প বা যে উদ্দেশ্যে ওনার এই মঠগুলি তৈরি করা – সেই উদ্দেশ্য এখন অনেকটাই ব্যাহত ! গুরুমহারাজের কাছে আমরা শুনেছিলাম যে, নারী বা শুদ্ররা শঙ্করাচার্যদেরকে পায়ে হাত দিয়ে ছুঁয়ে প্রণাম করতে পারে না ! ব্রাহ্মণ হলেও একদিন নিরামিষ খেয়ে শরীর শুদ্ধ করে প্রণাম করতে হয় ৷ তবে পঞ্চাশ হাজার বা এক লাখ টাকা দিলে বাড়ি বাড়ি গিয়ে প্রণাম নিয়ে আসেন ! বর্তমানের ইয়ং জেনারেশন এইসব আচারের নামে অনাচার মেনে নেবে না – তাই এনারা এখন সাধারণ মানুষের মন থেকে দূরে সরে যাচ্ছে !
যাইহোক, আমাদের কথা হচ্ছিলো – পৌরাণিক যুগের বিভিন্ন post বা পদ অথবা title বা উপাধি নিয়ে, আমরা সেই আলোচনায় ফিরে যাই ! গুরুমহারাজের কাছে শুনেছিলাম – ” মিথিলার রাজাকেই সাধারণত ‘জনক’ বলা হতো । ‘জনক’ অর্থে পিতা ! সাধারণত শাস্ত্রে পঞ্চপিতার কথা উল্লেখ করা হয়েছে – .” জন্মদাতা, অন্নদাতা, শিক্ষাদাতা (দীক্ষাদাতা), ভয়ত্রাতা, যস্য কন্যাবিবাহিতা !” এইগুলির মধ্যে দেশের রাজাও পরে যাবেন – কারণ তিনি অন্নদাতা এবং ভয়ত্রাতা ! সম্রাট অশোকের শিলালিপিতেও পাওয়া যায় পালি ভাষায় লেখা রাজবাক্য “সবে মুনিষে পজা মম”। পালিভাষায় যুক্তস্বরের ও যুক্তাক্ষরের কোন প্রয়োগ ছিল না – সবই মুক্তাক্ষর ! তাই সংস্কৃত থেকে সৃষ্ট এই ভাষাটি সাধারণ মানুষের কাছে খুবই গ্রহণযোগ্য হয়েছিল । ভগবান বুদ্ধও এই ভাষাতেই শিক্ষাদান করতেন ! ফলে সম্রাট অশোকও বৌদ্ধধর্মে দীক্ষাগ্রহণের পর যখন থেকে এই ধর্ম প্রচার ও প্রসারের কাজে আত্মনিয়োগ করেন তখন তিনি বৌদ্ধ ধর্মচার্যাদের দ্বারা শিক্ষাদানের পাশাপাশি রাজ্যের বিভিন্ন স্থানে পাথরের স্তম্ভ স্থাপন করে তাতে বুদ্ধের বাণী এবং নিজের কথা লিখে – সাধারণ প্রজাদের শিক্ষা দিতেন । এইরকমই একটায় ঐ কথাগুলি পাওয়া গিয়েছিল “সবে মুনিষে পজা মম”- অর্থাৎ রাজ্যের সব মানুষই আমার সন্তান !
তাহলে বোঝাই যাচ্ছে কোনো রাজ্যের প্রজাদের কাছে রাজা হলো পিতার মতো – সেই অর্থে-ই ‘জনক’! তাছাড়া মিথিলার তৎকালীন রাজাদের আরও একটা বিশেষত্ব ছিল – তাঁরা শুধুই যে সুশাসক ছিলেন বা প্রজানুরঞ্জক রাজাই ছিলেন তা নয়, তাঁরা মহাজ্ঞানীও ছিলেন ৷ এইজন্যেই বলা হতো “রাজর্ষি জনক”! এই ‘রাজর্ষি’ যে সবাই ছিলেন তা নয়, কিন্তু বেশ কয়েকজন ছিলেন । তখন মিথিলার রাজসভায় প্রতিবৎসর শীতকালের সময়ে (পৌষ সংক্রান্তি বা এই ধরনের কোনো সময়ে) একটা বিশেষ উৎসব হতো, আর তা হলো – তৎকালীন যুগের শ্রেষ্ঠ পণ্ডিতদেরকে আমন্ত্রণ করে ওখানে নিয়ে আসা হতো এবং তাদের মধ্যে বেশ কয়েকদিন ধরে আধ্যাত্মিকতার বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা হতো, তর্ক-বিতর্ক হতো ! আর শেষকালে রাজর্ষি জনকের মধ্যস্থতায় সকলেই একটা সিদ্ধান্তে উপনীত হতো ! এটা যেন সবার কাছে ছিল একটা synthesis ! পরবর্তী সারাটা বছর ধরে ঐসব দিগগজ পণ্ডিতেরা বা ধর্মাচার্যরা আগের বছরের ধর্মমহাসম্মেলনের সিদ্ধান্তটাকেই সারাদেশে নিজের নিজের এলাকায় তাদের শিষ্যদের বা ছাত্রদেরকে শিক্ষা দিতো ।
এইভাবেই সমগ্র দেশজুড়ে আধ্যাত্মিক জগতে একটা মৈত্রীর ভাব বজায় থাকতো ! এর মধ্যে হয়তো কোন প্রান্তের কোনো নবীন পণ্ডিতের মনে নতুন কোনো সিদ্ধান্ত তৈরি হলো – সেগুলির মীমাংসা হতো পরবর্তী বৎসরের ধর্ম মহাসম্মেলনে ! এইভাবে রাজর্ষি জনকের রাজসভায় তখন সারা ভারতবর্ষের দিকপাল মহান মানুষেরা সমবেত হতো এবং সমগ্র দেশের কৃষ্টি-সংস্কৃতি-আধ্যাত্মিকতার মূলধারাটি যাতে অক্ষুন্ন থাকে তারজন্য রাজা জনক একটি বিরাট ভূমিকা পালন কোরতেন ।
