গুরুমহারাজ স্বামী পরমানন্দের বলা বিভিন্ন কথা, বিশেষতঃ ভারতীয় প্রাচীন শাস্ত্রাদিতে উল্লিখিত কথাগুলি নিয়ে এখানে আলোচনা করা হচ্ছিলো । এইগুলি আলোচনা করার অন্যতম একটা কারণ হচ্ছে – যেহেতু গুরুমহারাজ ঐসব ঘটনাগুলি বা ভারতীয় প্রাচীন শাস্ত্রাদির বিভিন্ন চরিত্রদেরকে নতুন আঙ্গিকে আমাদের কাছে তুলে ধরতেন, সেগুলির বৈজ্ঞানিক, সামাজিক ও তাত্ত্বিক ব্যাখ্যা দিতেন । এইজন্যেই এই চেষ্টা – যাতে সকল পাঠকেরা সেই taste কিছুটা হোলেও পেতে পারেন ৷ আমরা আগের দিনে দেবগুরু বৃহস্পতি এবং দৈত্যগুরু শুক্রাচার্যের নীতি এবং তাদের followers-দের নিয়ে আলোচনা করছিলাম । গুরুমহারাজ বলেছিলেন, একমাত্র ভারতীয় ঋষি, মহাত্মা, মহাপুরুষরাই দেবগুরু বৃহস্পতির নীতি বা আদর্শ অনুসারে নিজেরা জীবনধারণ করেছেন এবং সকলকে সেই নীতির কার্যকারিতা তুলে ধরেছেন । সেই শিক্ষায় শিক্ষিত হয়েই প্রাচ্য ও পাশ্চাত্যের বিভিন্ন মনীষীরাও বৃহস্পতির আদর্শ গ্রহণ করেছিলেন এবং বিভিন্ন গ্রন্থে তাঁদের মতামত সাধারণের উদ্দেশ্যে রেখেও গেছেন । কিন্তু তবুও পৃথিবীর বেশিরভাগ মানুষই শুক্রাচার্যের নীতি গ্রহণ করেছে অর্থাৎ ভোগ, ঐশ্বর্য, মৗেজ-মস্তি, উশৃঙ্খলতা, স্বার্থপরতা ইত্যাদিগুলিকে নিয়েই জীবন কাটাতে বেশি ভালোবেসেছে ! এই বেশিরভাগ জনগণকে ভোগবাদীতা থেকে সরিয়ে ত্যাগের পথে নিয়ে আসার চেষ্টাতেই মহাপুরুষ, মহামানবগণের শরীর ধারণ এবং সমাজে কাজ করতে আসা ! মানুষ যত-ই শুক্রাচার্যের নীতিতে বিশ্বাসী হয়ে জীবন-যাপন করতে থাকবে – ততই তার নিজের, সমাজের তথা সমগ্র পৃথিবীর সমস্যা সৃষ্টি করবে ! ততই সে পৃথিবীকে ধ্বংসের দিকে নিয়ে যাবে ! তত‌ই সে নিজেদের মধ্যে প্রতিযোগিতা, প্রতিদ্বন্দিতা, মারামারি করে মারা পড়বে । শুক্রাচার্যের নীতি গ্রহণ করে আগে আগেও এই পৃথিবীতে অনেক সভ্যতা ও সংস্কৃতির জন্ম হয়েছিল ৷ তারাও বড় বড় শহর-নগর তৈরি করেছিল (হরপ্পা, মহেঞ্জোদারো, মেহেরগড়, মায়া, অ্যাজটেক ইত্যাদি ধ্বংসপ্রাপ্ত সভ্যতা) – কিন্তু কালের কপোতোতলে ঐ সমস্ত সভ্যতা নীরবে কখন যে ধ্বংস হয়ে গেছে – আজ আর তার কোনো ইতিহাস-ই জানা নাই । এই কথাটাই মহাপুরুষ, অবতার পুরুষরা বারবার পৃথিবীর মানুষকে বলতে আসেন, সতর্ক করতে আসেন এবং এসবের দ্বারা মানুষের প্রকৃত কল্যাণ করতে আসেন । কিন্তু পৃথিবীর মানুষ যেহেতু এখনও খুবই নিম্ন চেতনায় রয়েছে তাই তাঁদের কথা আমরা সাধারন মানুষেরা বুঝতে পারি না – বুঝতে চাইও না ! বরং আমরা তাঁদের কথার বিরোধ করি, নিজেদের ভালোটা না বুঝে – তাঁদেরকেই সমাজের শত্রু, মানবতার শত্রু বলে প্রতিপন্ন করার চেষ্টা করি, বেশিরভাগ সময়েই তাদেরকে মেরে-ই ফেলি ! গুরুমহারাজ একবার বলেছিলেন – ” যতবার ঈশ্বরের অবতরণ হয়, ততবার-ই তাঁকে ক্রুশবিদ্ধ হতে হয় !” গুরুমহারাজ বলেছিলেন – রামায়নে বর্ণিত রাবণের লঙ্কাপুরী তৎকালীন যুগের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিতে খুবই উন্নত ছিল । ওই রাজ্যের এমন সমৃদ্ধি ছিল যে বলা হতো ” *সোনার লঙ্কা* “! রাজধানীতে প্রবেশের ক্ষেত্রে নিশ্চিদ্র নিরাপত্তা ছিল ! লঙ্কাপুরীর মধ্যে যে নিকুম্ভিলা যজ্ঞাগার ছিল সেখানে তো মাছিও গলতে পারতো না ! আমরা গুরু মহারাজের কাছে শুনেছিলাম “নিকুম্ভিলা যজ্ঞাগার” ছিল আজকের আমেরিকা যুক্তরাষ্ট্রের নাসার মতো উন্নত মহাকাশ গবেষণাকেন্দ্র এবং অত্যাধুনিক শস্ত্রবিদ্যার গবেষণাগার । আজকের নাসায় যেমন বাইরে থেকে যে কোনভাবে ঢোকা অসম্ভব – ঠিক তেমনই ছিল নিকুম্ভিলা যজ্ঞাগারে প্রবেশের ব্যাপারে কড়াকড়ি ! এখনকার মতোই face code, voice code বা এই ধরনের কোনো secret code-এর দ্বারা ওই গবেষণাগারে প্রবেশ করা যেতো ! বিভীষণ যেহেতু রাজপরিবারের সন্তান ছিল, তাই তার ওখানে প্রবেশের code জানা ছিল – বিভীষণ সাহায্য না করলে লক্ষণের পক্ষে ওই যজ্ঞাগারে প্রবেশ করা অসম্ভব ছিল । ওই গবেষণাগারে গিয়ে লক্ষণ বিভীষণের সহায়তায় ওখানকার সিস্টেমটাকেই নষ্ট করে দিয়েছিল – সব code গুলি decode করে দিয়েছিল ! ফলে লক্ষণের ওখানে প্রবেশের কারণে মেঘনাদের মৃত্যুই শুধু হয়নি – রাবণের পুরো space War-systemটাই নষ্ট হয়ে গিয়েছিল এবং এর ফলেই রামচন্দ্রের রাবণবিজয় সহজসাধ্য হয়েছিল । ওই নিকুম্ভিলা যজ্ঞাগারে (গবেষণাগার) যুদ্ধবিমান ছাড়াও অত্যাধুনিক অস্ত্র‌ও তৈরি করা হোতো । গুরুমহারাজ এমনও বলেছিলেন যে, শত্রুপক্ষ কি ধরনের অস্ত্র ব্যবহার করছে __তা দেখে সেই অস্ত্র নিষ্ক্রিয় করে দেওয়া বা তার থেকেও শক্তিশালী অস্ত্র তৈরি করারও ব্যবস্থা ছিল ঐ গবেষণাগারে ! কিন্তু এতো উন্নত system দিয়েও লঙ্কাপুরীকে রক্ষা করা গেল কি ? গেল না ! সোনার লঙ্কা ধ্বংস হয়ে গেল! আজকের উন্নত দেশগুলিরও সেই একইরকম অবস্থা ! প্রায় সকলেই শুক্রাচার্যের নীতি নিয়ে চলছে__ কবে কে ধ্বংস হয় কে জানে ? [ক্রমশঃ]