গুরুমহারাজ স্বামী পরমানন্দ বিভিন্ন সিটিং-এ ভারতীয় প্রাচীন শাস্ত্রাদি থেকে যে সমস্ত আলোচনা করতেন এবং যেগুলির আধুনিক ব্যাখ্যা করতেন – এখন সেইগুলি নিয়েই আলোচনা চলছিল । এইসব কথা বলতে গিয়ে আগের দিন “পুরোনো বনগ্রামের কথা” লেখা শুরুর কথাও বলেছিলাম ৷ আজকে এই প্রসঙ্গে আরও একটু কথা বলে নিই ৷ “পুরোনো বনগ্রামের কথা”- লেখা শুরু করতেই – ব্যক্তিগত নাম আসার সাথে সাথেই পরমানন্দ ভক্তদের অনেকেই (এদের মধ্যে গৃহীভক্ত, সন্ন্যাসী বা ব্রহ্মচারী ভক্ত সকলেই পড়ে যাবে) “গেল”- “গেল” রব তুলে দিয়েছিল ৷ আশ্রমের সেক্রেটারি মুরারী মহারাজ (স্বামী নিষ্কামানন্দ)-এর কাছে অনেক complain-ও জমা পড়েছিল ৷
এরপর যখন ধাত্রীগ্রামের আনন্দ “পুরোনো বনগ্রামের কথা” A-4 সাইজের 261 পাতার একটা প্রিন্টআউট বের করে মুরারী মহারাজকে দিয়ে এসেছিল – তখন মুরারী মহারাজ পুরো লেখাটা পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে পড়েছিলেন ৷ এরপর উনি আমাকে ডেকে পাঠালেন এবং বললেন – “গুরুমহারাজ আমাকে (স্বামী নিষ্কামানন্দকে) বলেছিলেন – ‘ মুরারী! তুই বনগ্রামের আশ্রমের ইতিহাস লিখে রাখবি ! কারণ তুই যতটা গভীরভাবে জানিস – তা আর কেউই জানে না ! বিশেষতঃ বনগ্রাম ছাড়া পরমানন্দ মিশনের বেশিরভাগ অন্যান্য শাখাগুলির প্রতিষ্ঠার ইতিহাস তুই-ই তো জানিস !’ কিন্তু আমার এসব করার সময় কোথায় ? আশ্রমের বিভিন্ন কাজ নিয়েই সামলে উঠতে পারছি না ! তাই তোমার এই লেখাটায় যেখানে যেখানে ভুল ছিল বা অসঙ্গতি ছিল – সেগুলি ঠিক করে দিয়েছি ! তুমি একটু ঠিক করে নেবে !”
এই কথা বলে মুরারী মহারাজ ওই প্রিন্ট-আউটের কপিটি এবং ওনার কারেকশন করা একটি খাতা (প্রায় ৩০/৪০ পাতা ভর্তি) আমাকে দিয়েছিলেন !
এই ঘটনায় আমি এতটা অভিভূত হয়ে গিয়েছিলাম যে, আমার ব্যাপারটা সামলাতে অনেকটা সময় লেগেছিল ! গুরুমহারাজের এতোটা দৃষ্টি রয়েছে এই লেখাগুলির উপর !! মুরারী মহারাজের মতো সদাব্যস্ত মানুষ এত ধৈর্য্য ধরে ‘লাইন বাই লাইন’ খুঁটিয়ে খুঁটিয়ে পড়ে এতে কারেকশন করেছেন ?? এখনও পর্যন্ত আপনারা যারা পুরোনো “পুরোনো সেই বনগ্রামের কথা” পড়েছেন – তারা ওই corrected রূপটা পাননি ! কিন্তু যদি কখনও বই আকারে বেরোয় – তাহলে নিশ্চয়ই পাবেন ! হয়তো পরে কোনোসময় মুরারী মহারাজ (স্বামী নিষ্কামানন্দ) “বনগ্রাম পরমানন্দ মিশনের ইতিহাস”- লিখতেও পারেন । কিন্তু এই লেখাটাকেই যে উনি নিজের হাতে কলম ধরে স্বীকৃতি দিয়েছেন – এটাও গুরুমহারাজেরই ইচ্ছা !
আমি বনগ্রাম আশ্রমে যাওয়া-আসা শুরু করেছিলাম ১৯৮৩ সাল থেকে ! আর বনগ্রাম আশ্রম প্রতিষ্ঠা হয়েছে ১৯৭৮ সালে – ফলে প্রথমদিকে বহু ঘটনাই আমি দেখিনি, কিন্তু প্রত্যক্ষদর্শীদের কাছে শুনেছিলাম । তাদের বলার ভুলে বা আমার বোঝার ভুলে লেখায় কিছু তথ্য বা তত্ত্বগত ভুল নিশ্চয়ই হোতে পারে ! এই ব্যাপারে আমি গুরুমহারাজের শেখানো একটা কায়দা অনুসরণ করি ! –উনি এই কথাটা বলেছিলেন যেকোনো নতুন ভাষাশিক্ষার ব্যাপারে ! উনি বলেছিলেন – “যে কোনো নতুন ভাষা শেখা আমার কাছে কোনো কঠিন কাজ নয় ! আমি প্রথমে সেই ভাষার গোটা ২০/২৫ অত্যন্ত প্রয়োজনীয় verb এবং তার conjunction টা শিখে নিই, তারপর person এবং pronoun গুলো শিখেই ওই ভাষাভাষীর লোকেদের সাথে কথা বলতে শুরু করে দিই ! একটু-আধটু ভুলভাল হলেও তারা তো বুঝতে পারে, ফলে communication টা হয়ে যায় ৷ পরে আমি ধীরে ধীরে তাদের কাছে সঠিকটা শিখে নিই – তারাই ভুলটা ধরিয়ে দেয় !”
লেখার ব্যাপারেও আমি গুরুমহারাজের এই theory-টাকে কাজে লাগাই ! আমি নিজে যেটুকু জানি – সেটাই প্রথমে লিখে ফেলি । তারপর অপেক্ষা করি উন্নত চেতনার পাঠকেরা বা গুরুমহারাজের ঘনিষ্ঠজনেরা কোনো সাজেশন দেন কিনা, কোন ভুল সংশোধন করে দেন কি না ! কারণ গুরুমহারাজ সংক্রান্ত যেকোনো লেখাই তো গুরুমহারাজকে উৎসর্গ করে – তাই এটা সবার ! সবার অধিকার রয়েছে – গুরুমহারাজের যে কোনো বক্তব্যকে তাঁর আদর্শকে সর্বাঙ্গসুন্দর করে রূপদান করতে !
তাই আসুন, আমরা সকলে মিলে গুরুমহারাজের সমস্ত কথা, তাঁর সমস্ত নির্দেশগুলিকে যতটা সম্ভব যথাযথভাবে মানুষের সামনে পরিবেশন করি । এখানে ego বা sentiment-এর কোনো মূল্যই নাই ! ভগবানের কাজ ভাগ্যবানে করে – আসুন না আমরা সকলেই ভগবানের কাজে কোনো না কোনো ভাবে অংশগ্রহণ করে সেই “ভাগ্যবান” হয়ে উঠি !!(ক্রমশঃ)
এরপর যখন ধাত্রীগ্রামের আনন্দ “পুরোনো বনগ্রামের কথা” A-4 সাইজের 261 পাতার একটা প্রিন্টআউট বের করে মুরারী মহারাজকে দিয়ে এসেছিল – তখন মুরারী মহারাজ পুরো লেখাটা পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে পড়েছিলেন ৷ এরপর উনি আমাকে ডেকে পাঠালেন এবং বললেন – “গুরুমহারাজ আমাকে (স্বামী নিষ্কামানন্দকে) বলেছিলেন – ‘ মুরারী! তুই বনগ্রামের আশ্রমের ইতিহাস লিখে রাখবি ! কারণ তুই যতটা গভীরভাবে জানিস – তা আর কেউই জানে না ! বিশেষতঃ বনগ্রাম ছাড়া পরমানন্দ মিশনের বেশিরভাগ অন্যান্য শাখাগুলির প্রতিষ্ঠার ইতিহাস তুই-ই তো জানিস !’ কিন্তু আমার এসব করার সময় কোথায় ? আশ্রমের বিভিন্ন কাজ নিয়েই সামলে উঠতে পারছি না ! তাই তোমার এই লেখাটায় যেখানে যেখানে ভুল ছিল বা অসঙ্গতি ছিল – সেগুলি ঠিক করে দিয়েছি ! তুমি একটু ঠিক করে নেবে !”
এই কথা বলে মুরারী মহারাজ ওই প্রিন্ট-আউটের কপিটি এবং ওনার কারেকশন করা একটি খাতা (প্রায় ৩০/৪০ পাতা ভর্তি) আমাকে দিয়েছিলেন !
এই ঘটনায় আমি এতটা অভিভূত হয়ে গিয়েছিলাম যে, আমার ব্যাপারটা সামলাতে অনেকটা সময় লেগেছিল ! গুরুমহারাজের এতোটা দৃষ্টি রয়েছে এই লেখাগুলির উপর !! মুরারী মহারাজের মতো সদাব্যস্ত মানুষ এত ধৈর্য্য ধরে ‘লাইন বাই লাইন’ খুঁটিয়ে খুঁটিয়ে পড়ে এতে কারেকশন করেছেন ?? এখনও পর্যন্ত আপনারা যারা পুরোনো “পুরোনো সেই বনগ্রামের কথা” পড়েছেন – তারা ওই corrected রূপটা পাননি ! কিন্তু যদি কখনও বই আকারে বেরোয় – তাহলে নিশ্চয়ই পাবেন ! হয়তো পরে কোনোসময় মুরারী মহারাজ (স্বামী নিষ্কামানন্দ) “বনগ্রাম পরমানন্দ মিশনের ইতিহাস”- লিখতেও পারেন । কিন্তু এই লেখাটাকেই যে উনি নিজের হাতে কলম ধরে স্বীকৃতি দিয়েছেন – এটাও গুরুমহারাজেরই ইচ্ছা !
আমি বনগ্রাম আশ্রমে যাওয়া-আসা শুরু করেছিলাম ১৯৮৩ সাল থেকে ! আর বনগ্রাম আশ্রম প্রতিষ্ঠা হয়েছে ১৯৭৮ সালে – ফলে প্রথমদিকে বহু ঘটনাই আমি দেখিনি, কিন্তু প্রত্যক্ষদর্শীদের কাছে শুনেছিলাম । তাদের বলার ভুলে বা আমার বোঝার ভুলে লেখায় কিছু তথ্য বা তত্ত্বগত ভুল নিশ্চয়ই হোতে পারে ! এই ব্যাপারে আমি গুরুমহারাজের শেখানো একটা কায়দা অনুসরণ করি ! –উনি এই কথাটা বলেছিলেন যেকোনো নতুন ভাষাশিক্ষার ব্যাপারে ! উনি বলেছিলেন – “যে কোনো নতুন ভাষা শেখা আমার কাছে কোনো কঠিন কাজ নয় ! আমি প্রথমে সেই ভাষার গোটা ২০/২৫ অত্যন্ত প্রয়োজনীয় verb এবং তার conjunction টা শিখে নিই, তারপর person এবং pronoun গুলো শিখেই ওই ভাষাভাষীর লোকেদের সাথে কথা বলতে শুরু করে দিই ! একটু-আধটু ভুলভাল হলেও তারা তো বুঝতে পারে, ফলে communication টা হয়ে যায় ৷ পরে আমি ধীরে ধীরে তাদের কাছে সঠিকটা শিখে নিই – তারাই ভুলটা ধরিয়ে দেয় !”
লেখার ব্যাপারেও আমি গুরুমহারাজের এই theory-টাকে কাজে লাগাই ! আমি নিজে যেটুকু জানি – সেটাই প্রথমে লিখে ফেলি । তারপর অপেক্ষা করি উন্নত চেতনার পাঠকেরা বা গুরুমহারাজের ঘনিষ্ঠজনেরা কোনো সাজেশন দেন কিনা, কোন ভুল সংশোধন করে দেন কি না ! কারণ গুরুমহারাজ সংক্রান্ত যেকোনো লেখাই তো গুরুমহারাজকে উৎসর্গ করে – তাই এটা সবার ! সবার অধিকার রয়েছে – গুরুমহারাজের যে কোনো বক্তব্যকে তাঁর আদর্শকে সর্বাঙ্গসুন্দর করে রূপদান করতে !
তাই আসুন, আমরা সকলে মিলে গুরুমহারাজের সমস্ত কথা, তাঁর সমস্ত নির্দেশগুলিকে যতটা সম্ভব যথাযথভাবে মানুষের সামনে পরিবেশন করি । এখানে ego বা sentiment-এর কোনো মূল্যই নাই ! ভগবানের কাজ ভাগ্যবানে করে – আসুন না আমরা সকলেই ভগবানের কাজে কোনো না কোনো ভাবে অংশগ্রহণ করে সেই “ভাগ্যবান” হয়ে উঠি !!(ক্রমশঃ)
