গুরুমহারাজ স্বামী পরমানন্দ পূর্বজন্ম, পুনঃর্জন্ম, পরজন্ম অর্থাৎ এককথায় বলা যায় “জন্মান্তর বিজ্ঞান” নিয়ে যে সমস্ত কথা বলেছিলেন – তারমধ্যে আমি যেটুকু শুনেছি বা যেটুকু আমার স্মৃতিতে রয়েছে – সেইগুলি আপনাদের সকলের সঙ্গে শেয়ার করে নেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে ।
কদিন আগেই (November,2020)পূর্বস্থলীর (পূর্ব বর্ধমান) কাছাকাছি আশ্রম করে থাকা সোমনাথ ব্রহ্মচারীর (গুরুমহারাজের একজন একনিষ্ঠ ভক্ত) সাথে বিমলেশ্বরে থাকা অদ্বৈতানন্দ গিরির সম্বন্ধে কথা হচ্ছিলো ! গুরুমহারাজ বলেছিলেন – ” অদ্বৈতানন্দ হোল ‘গোঁসাইজী’ অর্থাৎ বিজয়কৃষ্ণ গোস্বামীর উত্তর শরীর !” একথা শুনে আমরা তো অবাক হয়েছিলামই – কৌতুহলীও হয়েছিলাম ! কৌতুহলটা হচ্ছে – “ওনার সাথে যদি একবার দেখা হয় !” অদ্বৈতানন্দের বাঙালী শরীর হুগলী জেলার জাঙ্গীপাড়া,চন্ডীতলা অঞ্চলে ওনার জন্মভূমি । ওখানেও উনি আসেন – তাই দেখা হোতেই পারে – আমাদের আশ্রমের ২/৪ জন মহারাজ (সম্ভবতঃ মুরারী মহারাজও গিয়েছিলেন) ওখানে গিয়েছিলেন ! কিন্তু সোমনাথ ব্রহ্মচারী মহারাজ বললেন – অদ্বৈতানন্দ মহারাজের সাথে ওনার অন্ততঃ চারবার দেখা হয়েছে ! বিমলেশ্বর পাহাড়ে, বৃন্দাবনে (বৃন্দাবনে অদ্বৈতানন্দের নিজস্ব অাশ্রম রয়েছে) এবং হুগলীর চন্ডীতলা অঞ্চলেও I উনি অদ্বৈতানন্দ মহারাজের যা বর্ণনা দিলেন – তা শুনে গোঁসাইজীর ভক্তদের মন খারাপ হয়ে যাবে !
উনি দেখেছিলেন অদ্বৈতানন্দের শিষ্যরা তাদের গুরুকে “বিজয়কৃষ্ণের উত্তরশরীর” হিসাবেই উল্লেখ করছে, কিন্তু অদ্বৈতানন্দের মধ্যে গোঁসাইজীর ভাব একটুও আর নেই, এখন সবসময় ওনার মুখে অদ্বৈত-তত্ত্বের কথা !
শ্রীমদ্ভগবতগীতা হ’ল সনাতনপন্থীদের শ্রেষ্ঠ ধর্মগ্রন্থ ! সেখানকার বিভিন্ন শ্লোকের উল্লেখ করে গুরুমহারাজ আমাদের কাছে পূর্বজন্ম, পরজন্ম বা পুনর্জন্মের কথা বলতেন ! ভগবান শ্রীকৃষ্ণ অর্জুনকে একস্থানে বলেছেন – ” পূর্ব পূর্ব শরীরে এই কথাগুলি তোমাকে বলেছিলাম ! তুমি বিস্মৃত হয়ে গেছ – কিন্তু আমার সবই স্মৃতিতে রয়েছে !” ঠাকুর শ্রীরামকৃষ্ণকে মথুরবাবুর মৃত্যুর অনেক পরে কোনো এক ভক্ত জিজ্ঞাসা করেছিলেন – ” উনি তো আপনার অনেক সেবা করেছিলেন, তা হোলে ওঁর কি গতি হোল ?” ঠাকুর উত্তর দিয়েছিলেন – ” কোথাও রাজা-টাজা হয়ে জন্মেছে হয়তো ! কারণ ওর এখনও একটু ভোগ-বাসনা ছিল ৷” – কত সহজ উত্তর !
গুরুমহারাজ যখন ‘হাসনুহানা’ গাছটি পরবর্তীতে বনগ্রামের একটি মেয়ে হয়ে জন্মানোর কথা বলেছিলেন – তখন সেই মেয়েটিকে দেখার জন্যই কতটা ব্যাকুল হয়েছিলাম ! হায়দ্রাবাদের চিড়িয়াখানায় একটি হিপো (জলহস্তী)-কে পাউরুটী-কলা খাইয়ে তাকে মানুষ শরীরে এনেছিলেন গুরুমহারাজ ! সেই ছেলেটিও বনগ্রামেই শরীর নিয়েছিল । শিশুঅবস্থায় এদের (হাসনুহানা বা হিপো) মায়েরা যতবার গুরুমহারাজের কাছে আনতো, ততবার উনি ঐ শিশুদের মাথায় অনেকক্ষণ করে হাত দিয়ে থাকতেন, বিভিন্ন point-এ touch করতেন । উনি বলতেন – ” যেহেতু ওরা অনেকগুলি জন্ম অতিক্রম করে এসেছে, তাই ওদের মস্তিষ্ক সাদা কাগজের মতো ! মানুষ-সমাজে চলার মতো কোনো সংস্কারই নাই ! তাই আমাকে touch করে, শক্তি প্রদান করে সেগুলো input করতে হয় ! নাহলে এরা বর্তমান সমাজে চলতেই পারবে না – পদে পদে ঠোক্বর খাবে ।” কৃপাময়, করুণাময় ভগবান (স্বামী পরমানন্দ) কত কি লীলাই যে করে গেলেন – তা আমাদের মতো অবোধ সাধারণ মানুষ কিভাবে বুঝতে পারবো ? আমরা তো গুরুমহারাজের অযোগ্য সন্তান ! সারাজীবন শুধু তাঁর কাছ থেকে কৃপা নিয়েই গেলাম – বিনিময়ে এতটুকু শ্রদ্ধা-ভক্তিও ঠিকমতো তাঁকে দিতে পারিনি ! ধিক্ – ধিক্ – শতধিক্ আমাদের মতো পরমানন্দ ভক্তদের !! Punishment আমাদেরও হবে – আর তা এই জন্মেই শুধু নয়, পরের জন্মেও ভোগ করতেও হবে ৷
সেই অর্থে – আমরা অনেকটাই প্রচলিত অর্থে “জ্ঞানপাপী”! আমরা অনেক কিছুই বুঝি – কিন্তু সেগুলি জীবনে আচরণে আনি না, পালন করি না – আর সেইজন্যেই কষ্ট পাই ! পূর্ব-পূর্ব জীবনের সংস্কার, জড়তা-আলস্য-প্রমাদ আমাদেরকে অগ্রগতির পথে বাধাস্বরূপ হয়ে দাঁড়ায় । ভগবানদের তো এইজন্যেই অবতরণ বা আসা ! তাঁরা নিজেরা তাঁদের নিজেদের জীবনে সমস্ত কষ্ট-দুঃখ, লাঞ্ছনা-গঞ্জনা সহ্য করে, সমস্ত রকম যোগ, সাধন-ভজন করে – আমাদের মতাে সাধারণ মানুষদের দু্ঃখ-কষ্ট লাঘব করে, একটু একটু করে আমাদেরকে পূর্ণত্বের দিকে এগিয়ে দেন ! ওনাদের প্রচেষ্টাকে যদি আমরা একটুও support করি অর্থাৎ আমরাও আলস্য-প্রমাদ-ভোগবাদীতা থেকে সরে এসে একটু অন্তর্মুখী হবার চেষ্টা করি, তাহলে আমরাও অধ্যাত্ম জীবনে প্রবেশাধিকার পাবো ! আমরাও আমাদের পূর্ব পূর্ব জন্মে যে জীবন কাটিয়ে এসেছি তার আভাস পেতে পারবো ! [ক্রমশঃ]
কদিন আগেই (November,2020)পূর্বস্থলীর (পূর্ব বর্ধমান) কাছাকাছি আশ্রম করে থাকা সোমনাথ ব্রহ্মচারীর (গুরুমহারাজের একজন একনিষ্ঠ ভক্ত) সাথে বিমলেশ্বরে থাকা অদ্বৈতানন্দ গিরির সম্বন্ধে কথা হচ্ছিলো ! গুরুমহারাজ বলেছিলেন – ” অদ্বৈতানন্দ হোল ‘গোঁসাইজী’ অর্থাৎ বিজয়কৃষ্ণ গোস্বামীর উত্তর শরীর !” একথা শুনে আমরা তো অবাক হয়েছিলামই – কৌতুহলীও হয়েছিলাম ! কৌতুহলটা হচ্ছে – “ওনার সাথে যদি একবার দেখা হয় !” অদ্বৈতানন্দের বাঙালী শরীর হুগলী জেলার জাঙ্গীপাড়া,চন্ডীতলা অঞ্চলে ওনার জন্মভূমি । ওখানেও উনি আসেন – তাই দেখা হোতেই পারে – আমাদের আশ্রমের ২/৪ জন মহারাজ (সম্ভবতঃ মুরারী মহারাজও গিয়েছিলেন) ওখানে গিয়েছিলেন ! কিন্তু সোমনাথ ব্রহ্মচারী মহারাজ বললেন – অদ্বৈতানন্দ মহারাজের সাথে ওনার অন্ততঃ চারবার দেখা হয়েছে ! বিমলেশ্বর পাহাড়ে, বৃন্দাবনে (বৃন্দাবনে অদ্বৈতানন্দের নিজস্ব অাশ্রম রয়েছে) এবং হুগলীর চন্ডীতলা অঞ্চলেও I উনি অদ্বৈতানন্দ মহারাজের যা বর্ণনা দিলেন – তা শুনে গোঁসাইজীর ভক্তদের মন খারাপ হয়ে যাবে !
উনি দেখেছিলেন অদ্বৈতানন্দের শিষ্যরা তাদের গুরুকে “বিজয়কৃষ্ণের উত্তরশরীর” হিসাবেই উল্লেখ করছে, কিন্তু অদ্বৈতানন্দের মধ্যে গোঁসাইজীর ভাব একটুও আর নেই, এখন সবসময় ওনার মুখে অদ্বৈত-তত্ত্বের কথা !
শ্রীমদ্ভগবতগীতা হ’ল সনাতনপন্থীদের শ্রেষ্ঠ ধর্মগ্রন্থ ! সেখানকার বিভিন্ন শ্লোকের উল্লেখ করে গুরুমহারাজ আমাদের কাছে পূর্বজন্ম, পরজন্ম বা পুনর্জন্মের কথা বলতেন ! ভগবান শ্রীকৃষ্ণ অর্জুনকে একস্থানে বলেছেন – ” পূর্ব পূর্ব শরীরে এই কথাগুলি তোমাকে বলেছিলাম ! তুমি বিস্মৃত হয়ে গেছ – কিন্তু আমার সবই স্মৃতিতে রয়েছে !” ঠাকুর শ্রীরামকৃষ্ণকে মথুরবাবুর মৃত্যুর অনেক পরে কোনো এক ভক্ত জিজ্ঞাসা করেছিলেন – ” উনি তো আপনার অনেক সেবা করেছিলেন, তা হোলে ওঁর কি গতি হোল ?” ঠাকুর উত্তর দিয়েছিলেন – ” কোথাও রাজা-টাজা হয়ে জন্মেছে হয়তো ! কারণ ওর এখনও একটু ভোগ-বাসনা ছিল ৷” – কত সহজ উত্তর !
গুরুমহারাজ যখন ‘হাসনুহানা’ গাছটি পরবর্তীতে বনগ্রামের একটি মেয়ে হয়ে জন্মানোর কথা বলেছিলেন – তখন সেই মেয়েটিকে দেখার জন্যই কতটা ব্যাকুল হয়েছিলাম ! হায়দ্রাবাদের চিড়িয়াখানায় একটি হিপো (জলহস্তী)-কে পাউরুটী-কলা খাইয়ে তাকে মানুষ শরীরে এনেছিলেন গুরুমহারাজ ! সেই ছেলেটিও বনগ্রামেই শরীর নিয়েছিল । শিশুঅবস্থায় এদের (হাসনুহানা বা হিপো) মায়েরা যতবার গুরুমহারাজের কাছে আনতো, ততবার উনি ঐ শিশুদের মাথায় অনেকক্ষণ করে হাত দিয়ে থাকতেন, বিভিন্ন point-এ touch করতেন । উনি বলতেন – ” যেহেতু ওরা অনেকগুলি জন্ম অতিক্রম করে এসেছে, তাই ওদের মস্তিষ্ক সাদা কাগজের মতো ! মানুষ-সমাজে চলার মতো কোনো সংস্কারই নাই ! তাই আমাকে touch করে, শক্তি প্রদান করে সেগুলো input করতে হয় ! নাহলে এরা বর্তমান সমাজে চলতেই পারবে না – পদে পদে ঠোক্বর খাবে ।” কৃপাময়, করুণাময় ভগবান (স্বামী পরমানন্দ) কত কি লীলাই যে করে গেলেন – তা আমাদের মতো অবোধ সাধারণ মানুষ কিভাবে বুঝতে পারবো ? আমরা তো গুরুমহারাজের অযোগ্য সন্তান ! সারাজীবন শুধু তাঁর কাছ থেকে কৃপা নিয়েই গেলাম – বিনিময়ে এতটুকু শ্রদ্ধা-ভক্তিও ঠিকমতো তাঁকে দিতে পারিনি ! ধিক্ – ধিক্ – শতধিক্ আমাদের মতো পরমানন্দ ভক্তদের !! Punishment আমাদেরও হবে – আর তা এই জন্মেই শুধু নয়, পরের জন্মেও ভোগ করতেও হবে ৷
সেই অর্থে – আমরা অনেকটাই প্রচলিত অর্থে “জ্ঞানপাপী”! আমরা অনেক কিছুই বুঝি – কিন্তু সেগুলি জীবনে আচরণে আনি না, পালন করি না – আর সেইজন্যেই কষ্ট পাই ! পূর্ব-পূর্ব জীবনের সংস্কার, জড়তা-আলস্য-প্রমাদ আমাদেরকে অগ্রগতির পথে বাধাস্বরূপ হয়ে দাঁড়ায় । ভগবানদের তো এইজন্যেই অবতরণ বা আসা ! তাঁরা নিজেরা তাঁদের নিজেদের জীবনে সমস্ত কষ্ট-দুঃখ, লাঞ্ছনা-গঞ্জনা সহ্য করে, সমস্ত রকম যোগ, সাধন-ভজন করে – আমাদের মতাে সাধারণ মানুষদের দু্ঃখ-কষ্ট লাঘব করে, একটু একটু করে আমাদেরকে পূর্ণত্বের দিকে এগিয়ে দেন ! ওনাদের প্রচেষ্টাকে যদি আমরা একটুও support করি অর্থাৎ আমরাও আলস্য-প্রমাদ-ভোগবাদীতা থেকে সরে এসে একটু অন্তর্মুখী হবার চেষ্টা করি, তাহলে আমরাও অধ্যাত্ম জীবনে প্রবেশাধিকার পাবো ! আমরাও আমাদের পূর্ব পূর্ব জন্মে যে জীবন কাটিয়ে এসেছি তার আভাস পেতে পারবো ! [ক্রমশঃ]
