গুরুমহারাজ স্বামী পরমানন্দের বিভিন্ন সিটিং-এর কথা, তাঁর স্মৃতিচারণ এবং ভক্তদের সাথে ঘটা বিভিন্ন ঘটনা নিয়ে আমরা আলোচনা করছিলাম । এখন আমরা ছিলাম – গুরুমহারাজ যখন বনগ্রাম এবং দক্ষিণভারতের ভক্তদেরকে নিয়ে পেরেন্টাপল্লী গিয়েছিলেন – তখনকার কিছু ঘটনা ও কথায় ! সেইসময় যেহেতু বনগ্রাম আশ্রমের প্রলয় মহারাজ (চিন্ময়ানন্দ ব্রহ্মচারী) ওই দলে ছিলেন এবং গুরুমহারাজ ওনাকেই বয়স্কা মায়েদের (তপিমা-র মা, ন’কাকিমা প্রমূখ) দেখভালের দায়িত্ব দিয়েছিলেন । সেই হিসাবে প্রলয় মহারাজের কাছে শোনা গুরুমহারাজের সেইসব অপার্থিব ঘটনাসমূহের কথা এখানে সবার সাথে শেয়ার করা যাক্।
সেইসময় ওইদলে যেসব সদস্যরা ছিলেন, তারা সকলেই গোদাবরী নদীতে গুরুমহারাজের অদ্ভুত স্নান-লীলা প্রত্যক্ষ করেছিলেন। বৈষ্ণব শাস্ত্রকার বা বিশেষতঃ বৈষ্ণব কীর্তনীয়াদের মুখে আমরা নবদ্বীপে শ্রীমন্মহাপ্রভুর গঙ্গায় স্নানক্রীড়ার কথা শুনেছি। সেখানে উল্লেখ ছিল যে মহাপ্রভু গঙ্গার এপার-ওপার করতেন এবং গঙ্গার উজানস্রোতে সাঁতার কেটে উনি অনায়াসে চলে যেতে পারতেন ৷ সেই একই ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঘটেছিল সেদিন ওই গোদাবরী নদীতে। গুরুমহারাজ চিৎ হয়ে শুয়ে জলে ভেসে-ভেসে গোদাবরীর উজান স্রোতে বহুদূর চলে গিয়েছিলেন ! যেন গোদাবরীর স্রোত সেদিন উজানে বইছিল ! ইচ্ছাময়ের লীলার অন্ত কে করতে পারে ! ইচ্ছাময় স্বয়ং সেদিন ইচ্ছা প্রকাশ করেছিলেন ৫০০ বছর আগের কোন লীলার পুনরাবৃত্তি ঘটাবেন – তাই ঐরূপ লীলা সেদিন সংঘটিত হয়েছিল । যারা স্বয়ং স্বচক্ষে দেখেছিল – তারাও ধন্য হয়ে গিয়েছিল। ।
অবশ্য আমরাও (সেবার আমাদের দলে প্রায় ১০০ জনের কাছাকাছি লোক ছিল) উড়িষ্যার পুরীধামে গুরুমহারাজের সমুদ্রস্নান প্রত্যক্ষ করেছিলাম (এই ঘটনা বিস্তারিতভাবে আগে উল্লেখিত হয়েছে)! সেদিন গুরুমহারাজ তীর থেকে তীরবেগে সমুদ্রের প্রায় এক বা দেড় কিলোমিটার গভীরে চলে গিয়েছিলেন। গুরুমহারাজকে দেখাই যাচ্ছিল না এবং তারপরে বেশ কিছুক্ষণ পরে ঢেউয়ের মাথায় মাথায় সাঁতার কেটে আবার উনি__ আমরা সবাই যেখানে স্নান করছিলাম, সেখানে চলে এসেছিলেন। কিন্তু নদীর স্রোতের উজানে চিৎ হয়ে শুয়ে সাঁতার কেটে এগিয়ে যাওয়া – এটা সত্যিই আশ্চর্য্য এবং প্রকৃত অর্থে অলৌকিক ! ত্রৈলঙ্গস্বামীজী এমনটা করতেন, উনি কুম্ভক করা অবস্থায় জলের মধ্যে থেকে যেতেও পারতেন, আবার স্রোতের against-এই এক জায়গায় চিৎ হয়ে শুয়ে থাকতেন। কিন্তু এগুলি সবই তো শোনা কথা, স্বচক্ষে দেখেছে – এমন তো সাক্ষ্য দেবার কেউ নাই ! সুতরাং অনেকেই এই কথাগুলো অবিশ্বাসও করতে পারে ! কিন্তু গুরুমহারাজের এই ঘটনা স্বচক্ষে দেখার সৌভাগ্য যাদের হয়েছিল – তারা এখনো সশরীরে বর্তমান ! যে কেউ চাইলেই তাদের কাছে গিয়ে এইসব ঘটনার সত্যতা যাচাই করতে পারে !
আর একটা ঘটনার উল্লেখ করি – যেটা ঐ tour programe-এই ঘটেছিল। গুরুমহারাজকে নিয়ে নন্দীয়ালের সত্যমজীরা যখন দক্ষিণভারতের বিভিন্ন দর্শনীয় স্থানগুলি দেখাচ্ছিলেন, তখন এমন একটা মন্দির ছিল – যেটা অনেকটা উঁচুতে অবস্থিত ! ফলে মন্দিরে পৌঁছাতে হলে অনেকগুলি সিঁড়ি ভেঙে ভেঙে যেতে হয়। বয়স্কা মায়েদের ভার যেহেতু প্রলয় মহারাজের উপর ছিল, তাই উনি বনগ্রামের মেজোকাকিমা (তপিমার মা) এবং ন’কাকিমা (ন’কাকিমা বরাবরই রোগা-পাতলা চেহারার!)-কে হাত ধরে ধরে একটা একটা করে সিঁড়ি অতিক্রম করাচ্ছিলেন ! কিন্তু খানিকটা উপরে ওঠার পর ওনারা আর পারছিলেন না – সত্যিই ওনাদের খুবই কষ্ট হচ্ছিল ! প্রলয় মহারাজ ভাবছিলেন – এই অবস্থায় ওনাদের আরো উঁচুতে নিয়ে যাওয়াটা বোধহয় ঠিক হবে না !
ঠিক এই সময়েই ওইস্থানে গুরুমহারাজ এসে উপস্থিত হয়েছিলেন ! উনি এসেই প্রলয় মহারাজকে বললেন – “মেজোমা, ন’কাকিমা উপরে যাবেন। তুই হাত ছেড়ে দে, ওনারা আমার সাথে যাবেন।” এই বলে গুরুমহারাজ ওনাদের সাথে কথা বলতে বলতে হাঁটতে শুরু করলেন। কী আশ্চর্য্য ! প্রলয় মহারাজ অবাক হয়ে দেখলেন – যে দুজন বয়স্কা মহিলা একপা – একপা করে দিব্যি উপরে উঠে গেল ! একটু আগে যারা প্রলয় মহারাজের support নিয়েও সিঁড়ি বেয়ে উঠতে কষ্ট পাচ্ছিলেন – তারাই বেশ দিব্যি উঠতে শুরু করলেন এবং এক দমে সর্বোচ্চ point-এ উঠে মন্দির এবং মন্দিরে অবস্থিত দেব বা দেবী দর্শন করে অনায়াসে ফিরে এলেন !!!! [ক্রমশঃ]
সেইসময় ওইদলে যেসব সদস্যরা ছিলেন, তারা সকলেই গোদাবরী নদীতে গুরুমহারাজের অদ্ভুত স্নান-লীলা প্রত্যক্ষ করেছিলেন। বৈষ্ণব শাস্ত্রকার বা বিশেষতঃ বৈষ্ণব কীর্তনীয়াদের মুখে আমরা নবদ্বীপে শ্রীমন্মহাপ্রভুর গঙ্গায় স্নানক্রীড়ার কথা শুনেছি। সেখানে উল্লেখ ছিল যে মহাপ্রভু গঙ্গার এপার-ওপার করতেন এবং গঙ্গার উজানস্রোতে সাঁতার কেটে উনি অনায়াসে চলে যেতে পারতেন ৷ সেই একই ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঘটেছিল সেদিন ওই গোদাবরী নদীতে। গুরুমহারাজ চিৎ হয়ে শুয়ে জলে ভেসে-ভেসে গোদাবরীর উজান স্রোতে বহুদূর চলে গিয়েছিলেন ! যেন গোদাবরীর স্রোত সেদিন উজানে বইছিল ! ইচ্ছাময়ের লীলার অন্ত কে করতে পারে ! ইচ্ছাময় স্বয়ং সেদিন ইচ্ছা প্রকাশ করেছিলেন ৫০০ বছর আগের কোন লীলার পুনরাবৃত্তি ঘটাবেন – তাই ঐরূপ লীলা সেদিন সংঘটিত হয়েছিল । যারা স্বয়ং স্বচক্ষে দেখেছিল – তারাও ধন্য হয়ে গিয়েছিল। ।
অবশ্য আমরাও (সেবার আমাদের দলে প্রায় ১০০ জনের কাছাকাছি লোক ছিল) উড়িষ্যার পুরীধামে গুরুমহারাজের সমুদ্রস্নান প্রত্যক্ষ করেছিলাম (এই ঘটনা বিস্তারিতভাবে আগে উল্লেখিত হয়েছে)! সেদিন গুরুমহারাজ তীর থেকে তীরবেগে সমুদ্রের প্রায় এক বা দেড় কিলোমিটার গভীরে চলে গিয়েছিলেন। গুরুমহারাজকে দেখাই যাচ্ছিল না এবং তারপরে বেশ কিছুক্ষণ পরে ঢেউয়ের মাথায় মাথায় সাঁতার কেটে আবার উনি__ আমরা সবাই যেখানে স্নান করছিলাম, সেখানে চলে এসেছিলেন। কিন্তু নদীর স্রোতের উজানে চিৎ হয়ে শুয়ে সাঁতার কেটে এগিয়ে যাওয়া – এটা সত্যিই আশ্চর্য্য এবং প্রকৃত অর্থে অলৌকিক ! ত্রৈলঙ্গস্বামীজী এমনটা করতেন, উনি কুম্ভক করা অবস্থায় জলের মধ্যে থেকে যেতেও পারতেন, আবার স্রোতের against-এই এক জায়গায় চিৎ হয়ে শুয়ে থাকতেন। কিন্তু এগুলি সবই তো শোনা কথা, স্বচক্ষে দেখেছে – এমন তো সাক্ষ্য দেবার কেউ নাই ! সুতরাং অনেকেই এই কথাগুলো অবিশ্বাসও করতে পারে ! কিন্তু গুরুমহারাজের এই ঘটনা স্বচক্ষে দেখার সৌভাগ্য যাদের হয়েছিল – তারা এখনো সশরীরে বর্তমান ! যে কেউ চাইলেই তাদের কাছে গিয়ে এইসব ঘটনার সত্যতা যাচাই করতে পারে !
আর একটা ঘটনার উল্লেখ করি – যেটা ঐ tour programe-এই ঘটেছিল। গুরুমহারাজকে নিয়ে নন্দীয়ালের সত্যমজীরা যখন দক্ষিণভারতের বিভিন্ন দর্শনীয় স্থানগুলি দেখাচ্ছিলেন, তখন এমন একটা মন্দির ছিল – যেটা অনেকটা উঁচুতে অবস্থিত ! ফলে মন্দিরে পৌঁছাতে হলে অনেকগুলি সিঁড়ি ভেঙে ভেঙে যেতে হয়। বয়স্কা মায়েদের ভার যেহেতু প্রলয় মহারাজের উপর ছিল, তাই উনি বনগ্রামের মেজোকাকিমা (তপিমার মা) এবং ন’কাকিমা (ন’কাকিমা বরাবরই রোগা-পাতলা চেহারার!)-কে হাত ধরে ধরে একটা একটা করে সিঁড়ি অতিক্রম করাচ্ছিলেন ! কিন্তু খানিকটা উপরে ওঠার পর ওনারা আর পারছিলেন না – সত্যিই ওনাদের খুবই কষ্ট হচ্ছিল ! প্রলয় মহারাজ ভাবছিলেন – এই অবস্থায় ওনাদের আরো উঁচুতে নিয়ে যাওয়াটা বোধহয় ঠিক হবে না !
ঠিক এই সময়েই ওইস্থানে গুরুমহারাজ এসে উপস্থিত হয়েছিলেন ! উনি এসেই প্রলয় মহারাজকে বললেন – “মেজোমা, ন’কাকিমা উপরে যাবেন। তুই হাত ছেড়ে দে, ওনারা আমার সাথে যাবেন।” এই বলে গুরুমহারাজ ওনাদের সাথে কথা বলতে বলতে হাঁটতে শুরু করলেন। কী আশ্চর্য্য ! প্রলয় মহারাজ অবাক হয়ে দেখলেন – যে দুজন বয়স্কা মহিলা একপা – একপা করে দিব্যি উপরে উঠে গেল ! একটু আগে যারা প্রলয় মহারাজের support নিয়েও সিঁড়ি বেয়ে উঠতে কষ্ট পাচ্ছিলেন – তারাই বেশ দিব্যি উঠতে শুরু করলেন এবং এক দমে সর্বোচ্চ point-এ উঠে মন্দির এবং মন্দিরে অবস্থিত দেব বা দেবী দর্শন করে অনায়াসে ফিরে এলেন !!!! [ক্রমশঃ]
