গুরুমহারাজ স্বামী পরমানন্দ বিভিন্ন মহাপুরুষ সম্বন্ধে নানান আলোচনা করতেন – যেগুলো হয়তো কোনো গ্রন্থে উল্লেখ রয়েছে – আবার কোনো কোনো কথা এমন বলতেন, যেগুলো কোনো গ্রন্থেই উল্লেখ নাই ! এমন কিছু কিছু কথা শোনার পর আমি একদিন একান্তে গুরুমহারাজকে জিজ্ঞাসা করেছিলাম – ” গুরুজী ! আপনি বিভিন্ন মহাপুরুষদের সম্বন্ধে এমন অনেক কথা বলেন – যেগুলি তো সেইসব মহাপুরুষ সম্বন্ধীয় লিখিত গ্রন্থে পাওয়া যায় না ! তাহলে ওই কথাগুলো কি লিখবো ?” উনি উত্তর দিয়েছিলেন – ” নিশ্চয়ই লিখবি ! কেউ যদি কোনো প্রশ্ন তোলে – তাহলে বলবি স্বামী পরমানন্দের মুখ থেকে শুনেছি !” এরপর থেকেই আমার ২০ হাত বুকের পাটা ! ফলে ওনার কাছে শোনা কথাগুলি আমি অনায়াসে লিখে ফেলি ! তবে একটা কথা বলে উনি আমাকে সতর্ক করে দিয়েছিলেন – ” দেখবি যাতে কোনো লেখায় কোন পরম্পরা আঘাত না পায়, কারণ আমি কোনো কিছু ভাঙতে আসিনি – আমি এসেছি ভাঙ্গা জিনিসগুলো জোড়া লাগাতে !”
সেইজন্য স্বামী পরমানন্দের বলা কথা লেখার কাজটি খুবই দুরূহ ! প্রকৃতপক্ষে তাঁর কৃপা, করুণা বা আশীর্বাদ না থাকলে বা তাঁর ইচ্ছা না থাকলে লেখা একেবারেই অসম্ভব ! তাছাড়া ভুলভাল লেখা হলে বা ভগবানের বলা কথার তথ্যবিকৃত হোলে প্রারব্ধ-ভোগের সম্ভাবনাও প্রবল ! সেইজন্য মহাপুরুষদের বলা কথার সংকলন যারা করে – তাদের উপর যদি মহাপুরুষদের কৃপা না থাকে – তাহলে তাদের যে কি punishment হতে পারে তা আর কহতব্য নয় ! আর যদি সংকলকের মনে একবার অহংকার জন্মে যায় – “কি হনু রে”- ভাব জন্মায়, তাহলে তো হয়েই গেল ! এক লহমায় সব ‘ফুস্’ হয়ে যাবে ! ন’কাকা আমাকে বারবার মনে পারাতেন – ” বাবা ! লোকে যা বলে বলুক ! আমি নিজে তো জানি, আমি কি বা আমার ক্ষমতা কতটুকু ! যেটুকু আলো – সে তো তাঁরই ! কখন নিভিয়ে দেয় কে জানে ! তাই বাবা ! সেই মহান মানুষটির কৃপার কথা, করুনার কথা সবসময় স্মরণে রেখো – দেখবে শক্তি-সাহস-প্রেরণা-উদ্যম যা কিছু প্রয়োজন সেই যোগাবে !”
পরমারাধ্য গুরুমহারাজ এবং সদাশিব ন’কাকাকে সদা-সর্বদা মাথায় রেখে মহাপুরুষদের ভালো-মন্দের কথা এখন তুলে রাখলাম ৷ এবার গুরুদেবের অন্যান্য আলোচনায় ফিরে আসি ! একদিন গুরুমহারাজ সিটিং-এ বললেন – ” জানো, আমি মানুষের সারল্য ভীষণ ভালোবাসি। অবশ্য এই ভাবটা সব মানুষেরই অন্তঃকরণে রয়েছে – এই জন্যেই দেখবে যে কোনো মানুষই শিশুদের খুব ভালোবাসে। এমনকি অতি বড় নিষ্ঠুর ব্যক্তিও শিশুদেরকে আদর করে একপ্রকার সুখ পায় ! এই যে এখানে বসে আছে নগেন (বনগ্রামের নগেন মন্ডল) – সেও খুব সরল প্রকৃতির ছেলে। ও একদিন সামন্তীতে (বনগ্রামের পাশের গ্রাম) উৎসব বাড়িতে গিয়ে সবার পাল্লায় পড়ে একটু drink করেছিল । পরদিন সিটিং-এ বসেই ও আমাকে সরলভাবে ঘটনাটা বলে দিয়েছিল ! আমাদের আশ্রমের কেশব (দেবানন্দ মহারাজ বা ক্ষ্যাপা ঠাকুর)-ও খুব সরল ছেলে – ওর মনটা শিশুর মতো ! আগে তো ও ওর মনোজগতের একটা নির্দিষ্ট track-এ চলতো ! জগতের জটিলতা সম্বন্ধে ওর কোনো ধারনাই ছিল না ৷ আমার সংস্পর্শে থাকার ফলে ওর মস্তিষ্ক কোষের সমস্ত দিকগুলো ধীরে ধীরে খুলেছে। তবে তার ফলেও ওর সারল্যের হানি হয়নি ! আশ্রমের জগবন্ধু (ব্রহ্মচারী ব্রহ্মানন্দ) ও খুব সরল । সেও এই পৃথিবীর প্যাঁচ-পোঁচ অতটা বোঝে না ! ওর বিড়ি ফুরিয়ে গেলে – আমার কাছেই অনেক সময় পয়সা চেয়ে নিয়ে যায়। আমি ওকে ভালো সিগারেট দিতে চাইলেও ও নিতে চায় না – বলে ওর বিড়ি খেতেই বেশি ভালো লাগে ! এদেরকে আমি খুবই ভালোবাসি, সময় সুযোগ পেলে আমি এইসমস্ত মানুষদেরকে আলাদা করে সময় দিই !
আমার নিজেরও সহজ-সরল শিশুদের সাথে বা এই ধরণের সরল মানুষদের সাথে সময় কাটাতে খুবই ভালো লাগে ! দেখবে, যে কোনো নতুন জায়গায় কোনো বাড়িতে গেলেও সেই বাড়ির শিশুদের সাথে আমার সবচাইতে আগে এবং সবচাইতে বেশি ভাব হয়ে যায়। তারা আমাকে পেলে আর ছাড়তেই চায় না ! শিশুরা আমার কোলে ওঠে, কাঁধে চড়ে – আর এইসব দেখে সেই বাড়ির বড়রা ব্যতিব্যস্ত হয়ে পড়ে। তাদের মনে তো আমার জন্য গুরুর আসন রয়েছে, মনে শ্রদ্ধামিশ্রিত ভয় রয়েছে – তাই তারা শিশুদের অমঙ্গল হবে বলে ভয় পায়, তাদেরকে আমার সাথে বেশি মেশামেশি করতে দিতে চায় না ! কিন্তু শিশুরা শুনবে কেন – তারা আরো বেশি বেশি করে আমার সাথে খুনসুটি করতে চায় !
আবার কিছু ভক্তবাড়ি রয়েছে বা ভক্তরা রয়েছে – তারা আমার খেয়াল করে ! তারা ভাবে আমার হয়তো অসুবিধা হতে পারে – তাই তারা তাদের শিশুদেরকে আটকে আটকে রাখে ! কিন্তু জানো – আমার কোনো অসুবিধা হয় না ! এবার আমি মা জগদম্বার কাছে permission নিয়েই এসেছি যে, এবার আমি সবার সাথে মিশবো, সবার হাতে খাব – মা যেন আমাকে নিষেধ-বারণ না করে !”
প্রিয় পাঠকবর্গ – গুরুমহারাজ স্বামী পরমানন্দজীর _ মানুষের প্রতি করুণার কথা, প্রেমের কথা আমি আর কতটুকুই বা বলতে পারি_ শুধু প্রার্থনা করি সবার যেন পরমানন্দ পদে মতি জন্মায়! “গুরো কৃপাহি কেবলম্”।৷
সেইজন্য স্বামী পরমানন্দের বলা কথা লেখার কাজটি খুবই দুরূহ ! প্রকৃতপক্ষে তাঁর কৃপা, করুণা বা আশীর্বাদ না থাকলে বা তাঁর ইচ্ছা না থাকলে লেখা একেবারেই অসম্ভব ! তাছাড়া ভুলভাল লেখা হলে বা ভগবানের বলা কথার তথ্যবিকৃত হোলে প্রারব্ধ-ভোগের সম্ভাবনাও প্রবল ! সেইজন্য মহাপুরুষদের বলা কথার সংকলন যারা করে – তাদের উপর যদি মহাপুরুষদের কৃপা না থাকে – তাহলে তাদের যে কি punishment হতে পারে তা আর কহতব্য নয় ! আর যদি সংকলকের মনে একবার অহংকার জন্মে যায় – “কি হনু রে”- ভাব জন্মায়, তাহলে তো হয়েই গেল ! এক লহমায় সব ‘ফুস্’ হয়ে যাবে ! ন’কাকা আমাকে বারবার মনে পারাতেন – ” বাবা ! লোকে যা বলে বলুক ! আমি নিজে তো জানি, আমি কি বা আমার ক্ষমতা কতটুকু ! যেটুকু আলো – সে তো তাঁরই ! কখন নিভিয়ে দেয় কে জানে ! তাই বাবা ! সেই মহান মানুষটির কৃপার কথা, করুনার কথা সবসময় স্মরণে রেখো – দেখবে শক্তি-সাহস-প্রেরণা-উদ্যম যা কিছু প্রয়োজন সেই যোগাবে !”
পরমারাধ্য গুরুমহারাজ এবং সদাশিব ন’কাকাকে সদা-সর্বদা মাথায় রেখে মহাপুরুষদের ভালো-মন্দের কথা এখন তুলে রাখলাম ৷ এবার গুরুদেবের অন্যান্য আলোচনায় ফিরে আসি ! একদিন গুরুমহারাজ সিটিং-এ বললেন – ” জানো, আমি মানুষের সারল্য ভীষণ ভালোবাসি। অবশ্য এই ভাবটা সব মানুষেরই অন্তঃকরণে রয়েছে – এই জন্যেই দেখবে যে কোনো মানুষই শিশুদের খুব ভালোবাসে। এমনকি অতি বড় নিষ্ঠুর ব্যক্তিও শিশুদেরকে আদর করে একপ্রকার সুখ পায় ! এই যে এখানে বসে আছে নগেন (বনগ্রামের নগেন মন্ডল) – সেও খুব সরল প্রকৃতির ছেলে। ও একদিন সামন্তীতে (বনগ্রামের পাশের গ্রাম) উৎসব বাড়িতে গিয়ে সবার পাল্লায় পড়ে একটু drink করেছিল । পরদিন সিটিং-এ বসেই ও আমাকে সরলভাবে ঘটনাটা বলে দিয়েছিল ! আমাদের আশ্রমের কেশব (দেবানন্দ মহারাজ বা ক্ষ্যাপা ঠাকুর)-ও খুব সরল ছেলে – ওর মনটা শিশুর মতো ! আগে তো ও ওর মনোজগতের একটা নির্দিষ্ট track-এ চলতো ! জগতের জটিলতা সম্বন্ধে ওর কোনো ধারনাই ছিল না ৷ আমার সংস্পর্শে থাকার ফলে ওর মস্তিষ্ক কোষের সমস্ত দিকগুলো ধীরে ধীরে খুলেছে। তবে তার ফলেও ওর সারল্যের হানি হয়নি ! আশ্রমের জগবন্ধু (ব্রহ্মচারী ব্রহ্মানন্দ) ও খুব সরল । সেও এই পৃথিবীর প্যাঁচ-পোঁচ অতটা বোঝে না ! ওর বিড়ি ফুরিয়ে গেলে – আমার কাছেই অনেক সময় পয়সা চেয়ে নিয়ে যায়। আমি ওকে ভালো সিগারেট দিতে চাইলেও ও নিতে চায় না – বলে ওর বিড়ি খেতেই বেশি ভালো লাগে ! এদেরকে আমি খুবই ভালোবাসি, সময় সুযোগ পেলে আমি এইসমস্ত মানুষদেরকে আলাদা করে সময় দিই !
আমার নিজেরও সহজ-সরল শিশুদের সাথে বা এই ধরণের সরল মানুষদের সাথে সময় কাটাতে খুবই ভালো লাগে ! দেখবে, যে কোনো নতুন জায়গায় কোনো বাড়িতে গেলেও সেই বাড়ির শিশুদের সাথে আমার সবচাইতে আগে এবং সবচাইতে বেশি ভাব হয়ে যায়। তারা আমাকে পেলে আর ছাড়তেই চায় না ! শিশুরা আমার কোলে ওঠে, কাঁধে চড়ে – আর এইসব দেখে সেই বাড়ির বড়রা ব্যতিব্যস্ত হয়ে পড়ে। তাদের মনে তো আমার জন্য গুরুর আসন রয়েছে, মনে শ্রদ্ধামিশ্রিত ভয় রয়েছে – তাই তারা শিশুদের অমঙ্গল হবে বলে ভয় পায়, তাদেরকে আমার সাথে বেশি মেশামেশি করতে দিতে চায় না ! কিন্তু শিশুরা শুনবে কেন – তারা আরো বেশি বেশি করে আমার সাথে খুনসুটি করতে চায় !
আবার কিছু ভক্তবাড়ি রয়েছে বা ভক্তরা রয়েছে – তারা আমার খেয়াল করে ! তারা ভাবে আমার হয়তো অসুবিধা হতে পারে – তাই তারা তাদের শিশুদেরকে আটকে আটকে রাখে ! কিন্তু জানো – আমার কোনো অসুবিধা হয় না ! এবার আমি মা জগদম্বার কাছে permission নিয়েই এসেছি যে, এবার আমি সবার সাথে মিশবো, সবার হাতে খাব – মা যেন আমাকে নিষেধ-বারণ না করে !”
প্রিয় পাঠকবর্গ – গুরুমহারাজ স্বামী পরমানন্দজীর _ মানুষের প্রতি করুণার কথা, প্রেমের কথা আমি আর কতটুকুই বা বলতে পারি_ শুধু প্রার্থনা করি সবার যেন পরমানন্দ পদে মতি জন্মায়! “গুরো কৃপাহি কেবলম্”।৷
