শ্রী শ্রী গুরু মহারাজ স্বামী পরমানন্দের জীবনে ঘটা নানান ঘটনা, যেগুলির মধ্যে দিয়ে ওনার মহিমা শক্তির প্রকাশ ঘটেছিল – এখন সেইগুলো নিয়েই আলোচনা চলছিল। আমরা আগের দিন দেখেছিলাম – গুরুমহারাজ যখন (কিশোর বয়সে) একা একা হিমালয় অঞ্চলে ঘুরছিলেন সেইসময় উনি নেপালের নিকটবর্তী হিমালয় অঞ্চলে, কদলীবনে গিয়েছিলেন ‘রামায়ণের হনুমানে’র খোঁজে ! কারণ যেহেতু সাধুসমাজে একটা কথা প্রচলিত ছিল যে, হনুমান চারযুগেই অমর বরলাভ করেছিলেন, তাই তিনি স্থূলশরীরেই কোথাও-না-কোথাও রয়েছেন !
সে যাই হোক, উনি সেইসময় একা একাই ঘুরতেন, ফলে খাওয়া-দাওয়ার ব্যাপারে কোনো ঝামেলা ছিল না। বনে-জঙ্গলে যখন যা জুটতো তাই খেতেন – না জুটলে খেতেন না। _কদলীবন অঞ্চলে ঘোরার সময় একদিন উনি একটা অদ্ভুত ফল দেখতে পেয়েছিলেন, যেটাকে দেখে ওনার মনে হলো – এটা খাওয়া যেতে পারে। ওই অঞ্চলে কিছুকাল আগে দাবানল সৃষ্টি হয়েছিল – তার একটু-আধটু রেশ তখনও ছিল। গুরুজী ওই আগুনে ফলটাকে ঝলসে নিয়ে গরম অবস্থাতেই বড় বড় পাতায় মুড়ে একটু দূরে থাকা ঝর্ণার জলধারার কাছে ওটাকে রেখে, উনি ঝরনার জলে হাত-পা-মুখ সবকিছু ভালোভাবে ধুয়ে নিচ্ছিলেন। ভেবেছিলেন ওখান থেকে উঠে গিয়ে ঐ ঝলসানো ফলটা খেয়ে একটু ক্ষুন্নিবৃত্তি করবেন !
কিন্তু ভালো করে হাত-পা ধুয়ে উনি যেই জল ছেড়ে উঠতে যাবেন, এমন সময় উনি দেখলেন যে, কাছের গাছ থেকে ঝুপ্ করে একটা হনুমান লাফ দিয়ে নেমে পড়ে ঐ ঝলসানো ফলটা হাতে করে নিয়ে আবার গাছের উপরে উঠে গেল এবং কামড়ে কামড়ে খেতে লাগলো ! গুরুমহারাজ মনে মনে ভাবলেন – ” মা জগদম্বা ফলটি ওর জন্যই বরাদ্দ করেছিল – তাঁর জন্য নয় !” – তাই উনি আবার জলে নেমে দু-আঁজলা জল খেয়ে ক্ষুধা মেটানোর চেষ্টা করতে লাগলেন।
হঠাৎ একটা আওয়াজ শুনে উনি চমকে গিয়ে পিছনে তাকাতেই দেখলেন, সেই হনুমানটি আর্ত চিৎকার করে ধুপ্ করে গাছ থেকে পড়ে গেল এবং তার মুখ দিয়ে প্রচুর লালা ঝরতে লাগলো !
গুরুমহারাজ মুহূর্তের মধ্যেই পুরো বিষয়টি বুঝে গেলেন – উনি তাড়াতাড়ি ওনার পড়নের বসন(হয়তো শুধু একটা প্যান্ট পড়নে ছিল) খুলে জলে ডুবিয়ে নিয়ে দৌড়ে হনুমানটির কাছে গিয়ে ওটি নিংড়ে তার মাথায়-মুখে জল দিতে লাগলেন। একবার করে ছুটে ঝর্ণায় যাচ্ছেন – বস্ত্রটি ডুবিয়ে জলে ভিজিয়ে নিচ্ছেন – আবার দৌড়ে এসে বস্ত্রটি নিংড়ে নিংড়ে হনুমানটির মাথায়-মুখে জল দিচ্ছেন_ ! এইভাবে অনেকটা সময় কেটে গেল।
ততক্ষণে অনেক হনুমান সেখানে জড়ো হয়ে গেছিলো। তারা সকলেই wait করছিল – ব্যাপারটা কি হয়, তা দেখার জন্য ! যদি খারাপ কিছু হয় – তাহলে হয়তো ওরা গুরুমহারাজকে attack করতেও পারতো ! কিন্তু তা হয়নি ! গুরুমহারাজের শুশ্রূষায় এবং প্রচেষ্টায় অসুস্থ হনুমানটি সুস্থ হয়ে গিয়েছিল – এবং সে টলতে টলতে উঠে গিয়ে গাছের তলায় গিয়ে বসেছিল। এটা দেখেই সমবেত সমস্ত হনুমান নিশ্চিন্ত হয়ে আপন আপন জায়গায় চলে গিয়েছিল ! গুরুমহারাজও সেই স্থান ত্যাগ করে তাঁর পরবর্তী গন্তব্যের দিকে চলে গিয়েছিলেন !
কিন্তু গুরুমহারাজ এই ঘটনাটির বিবরণ দিতে গিয়ে বলেছিলেন – ” সেদিন মা জগদম্বা ঐভাবে আমার প্রাণ রক্ষা করেছিলেন। হনুমানটির জায়গায় আমি যদি ঐ ঝলসানো ফলটি খেতাম – তাহলে আমার প্রাণসংকট হোতে পারতো ! আর ঐ নির্জন প্রান্তরে আমার মুখে-মাথায় জল দেবার কেউ-ই থাকতো না !” প্রকৃত হনুমান (রামায়নে বর্ণিত)-এর সাথে আমার সাক্ষাৎ না হোলেও অন্য কোনোভাবে বনের জীব ঐ হনুমানটি সেদিন আমার প্রাণ রক্ষা করেছিল।
তবে, পরে আমি এটাও চিন্তা করেছিলাম যে, ওই হনুমানটি-ই বা ঐ ফলটি খেতে গেল কেন ? কারণ ওরা বনের পশু – তায় আবার খুবই বুদ্ধিমান প্রাণী ! ওদের তো এইরকম ভুল হওয়ার কথা নয় ? পরে মনে পড়লো – ওঃ আচ্ছা ! ওই যে ফলটি ঝলসানো হয়েছিল – এরজন্যই ঐ হনুমানটি প্রকৃত ফলটিকে চিনতে পারেনি ! নাহলে ও কোনো কারনেই ফলটি খেতো না !”
গুরুমহারাজ হরিদ্বারে (কৈলাস ত্যাগীজীর বাড়ি ছিল ওখানে) এক ভক্তের বাড়িতে থাকাকালীন এইরকম একটা ঘটনা(হনুমানদের বিষাক্ত জিনিস চেনার ক্ষমতা) স্বচক্ষে দেখেছিলেন। ওখানের এক ময়রার দোকানে হনুমানরা খুবই উৎপাত করতো – মিষ্টির থালা নিয়ে পালাতো। একদিন ঐ দোকানদার লাড্ডুতে জীবনঘাতী বিষ মিশিয়ে ট্রে সাজিয়ে সামনেই রেখে দিয়েছিল – যাতে অন্ততঃ দু’চারটে হনুমান মরে যায় – তাহলেই বাকিরা আর ঐ দোকানে ঝামেলা করবে না ! কিন্তু আশ্চর্যের ব্যাপার এই যে, সেদিন হনুমানরা ঐ লাড্ডু ভর্তি পাত্রের কাছে এসেও কেউ একটা লাড্ডুতেও হাত দিলো না ! বহুক্ষণ পর একটি বৃদ্ধ হনুমান ঐ লাড্ডুগুলির কাছে এসে ভাল করে শুঁকে দেখলো – তারপর চলে গেল। কিছুক্ষনের মধ্যেই ঐ হনুমানটি কিছু লতাপাতা নিয়ে এসে সেইগুলি লাড্ডুতে মিশিয়ে দিয়ে খেতে শুরু করলো। তার দেখাদেখি বাকি হনুমানরাও নেমে এসে মুহূর্তে লাড্ডুর থালা খালি করে দিলো।
(এই ব্যাপারে ব্যাখ্যা পরের দিন!) [ক্রমশঃ]
সে যাই হোক, উনি সেইসময় একা একাই ঘুরতেন, ফলে খাওয়া-দাওয়ার ব্যাপারে কোনো ঝামেলা ছিল না। বনে-জঙ্গলে যখন যা জুটতো তাই খেতেন – না জুটলে খেতেন না। _কদলীবন অঞ্চলে ঘোরার সময় একদিন উনি একটা অদ্ভুত ফল দেখতে পেয়েছিলেন, যেটাকে দেখে ওনার মনে হলো – এটা খাওয়া যেতে পারে। ওই অঞ্চলে কিছুকাল আগে দাবানল সৃষ্টি হয়েছিল – তার একটু-আধটু রেশ তখনও ছিল। গুরুজী ওই আগুনে ফলটাকে ঝলসে নিয়ে গরম অবস্থাতেই বড় বড় পাতায় মুড়ে একটু দূরে থাকা ঝর্ণার জলধারার কাছে ওটাকে রেখে, উনি ঝরনার জলে হাত-পা-মুখ সবকিছু ভালোভাবে ধুয়ে নিচ্ছিলেন। ভেবেছিলেন ওখান থেকে উঠে গিয়ে ঐ ঝলসানো ফলটা খেয়ে একটু ক্ষুন্নিবৃত্তি করবেন !
কিন্তু ভালো করে হাত-পা ধুয়ে উনি যেই জল ছেড়ে উঠতে যাবেন, এমন সময় উনি দেখলেন যে, কাছের গাছ থেকে ঝুপ্ করে একটা হনুমান লাফ দিয়ে নেমে পড়ে ঐ ঝলসানো ফলটা হাতে করে নিয়ে আবার গাছের উপরে উঠে গেল এবং কামড়ে কামড়ে খেতে লাগলো ! গুরুমহারাজ মনে মনে ভাবলেন – ” মা জগদম্বা ফলটি ওর জন্যই বরাদ্দ করেছিল – তাঁর জন্য নয় !” – তাই উনি আবার জলে নেমে দু-আঁজলা জল খেয়ে ক্ষুধা মেটানোর চেষ্টা করতে লাগলেন।
হঠাৎ একটা আওয়াজ শুনে উনি চমকে গিয়ে পিছনে তাকাতেই দেখলেন, সেই হনুমানটি আর্ত চিৎকার করে ধুপ্ করে গাছ থেকে পড়ে গেল এবং তার মুখ দিয়ে প্রচুর লালা ঝরতে লাগলো !
গুরুমহারাজ মুহূর্তের মধ্যেই পুরো বিষয়টি বুঝে গেলেন – উনি তাড়াতাড়ি ওনার পড়নের বসন(হয়তো শুধু একটা প্যান্ট পড়নে ছিল) খুলে জলে ডুবিয়ে নিয়ে দৌড়ে হনুমানটির কাছে গিয়ে ওটি নিংড়ে তার মাথায়-মুখে জল দিতে লাগলেন। একবার করে ছুটে ঝর্ণায় যাচ্ছেন – বস্ত্রটি ডুবিয়ে জলে ভিজিয়ে নিচ্ছেন – আবার দৌড়ে এসে বস্ত্রটি নিংড়ে নিংড়ে হনুমানটির মাথায়-মুখে জল দিচ্ছেন_ ! এইভাবে অনেকটা সময় কেটে গেল।
ততক্ষণে অনেক হনুমান সেখানে জড়ো হয়ে গেছিলো। তারা সকলেই wait করছিল – ব্যাপারটা কি হয়, তা দেখার জন্য ! যদি খারাপ কিছু হয় – তাহলে হয়তো ওরা গুরুমহারাজকে attack করতেও পারতো ! কিন্তু তা হয়নি ! গুরুমহারাজের শুশ্রূষায় এবং প্রচেষ্টায় অসুস্থ হনুমানটি সুস্থ হয়ে গিয়েছিল – এবং সে টলতে টলতে উঠে গিয়ে গাছের তলায় গিয়ে বসেছিল। এটা দেখেই সমবেত সমস্ত হনুমান নিশ্চিন্ত হয়ে আপন আপন জায়গায় চলে গিয়েছিল ! গুরুমহারাজও সেই স্থান ত্যাগ করে তাঁর পরবর্তী গন্তব্যের দিকে চলে গিয়েছিলেন !
কিন্তু গুরুমহারাজ এই ঘটনাটির বিবরণ দিতে গিয়ে বলেছিলেন – ” সেদিন মা জগদম্বা ঐভাবে আমার প্রাণ রক্ষা করেছিলেন। হনুমানটির জায়গায় আমি যদি ঐ ঝলসানো ফলটি খেতাম – তাহলে আমার প্রাণসংকট হোতে পারতো ! আর ঐ নির্জন প্রান্তরে আমার মুখে-মাথায় জল দেবার কেউ-ই থাকতো না !” প্রকৃত হনুমান (রামায়নে বর্ণিত)-এর সাথে আমার সাক্ষাৎ না হোলেও অন্য কোনোভাবে বনের জীব ঐ হনুমানটি সেদিন আমার প্রাণ রক্ষা করেছিল।
তবে, পরে আমি এটাও চিন্তা করেছিলাম যে, ওই হনুমানটি-ই বা ঐ ফলটি খেতে গেল কেন ? কারণ ওরা বনের পশু – তায় আবার খুবই বুদ্ধিমান প্রাণী ! ওদের তো এইরকম ভুল হওয়ার কথা নয় ? পরে মনে পড়লো – ওঃ আচ্ছা ! ওই যে ফলটি ঝলসানো হয়েছিল – এরজন্যই ঐ হনুমানটি প্রকৃত ফলটিকে চিনতে পারেনি ! নাহলে ও কোনো কারনেই ফলটি খেতো না !”
গুরুমহারাজ হরিদ্বারে (কৈলাস ত্যাগীজীর বাড়ি ছিল ওখানে) এক ভক্তের বাড়িতে থাকাকালীন এইরকম একটা ঘটনা(হনুমানদের বিষাক্ত জিনিস চেনার ক্ষমতা) স্বচক্ষে দেখেছিলেন। ওখানের এক ময়রার দোকানে হনুমানরা খুবই উৎপাত করতো – মিষ্টির থালা নিয়ে পালাতো। একদিন ঐ দোকানদার লাড্ডুতে জীবনঘাতী বিষ মিশিয়ে ট্রে সাজিয়ে সামনেই রেখে দিয়েছিল – যাতে অন্ততঃ দু’চারটে হনুমান মরে যায় – তাহলেই বাকিরা আর ঐ দোকানে ঝামেলা করবে না ! কিন্তু আশ্চর্যের ব্যাপার এই যে, সেদিন হনুমানরা ঐ লাড্ডু ভর্তি পাত্রের কাছে এসেও কেউ একটা লাড্ডুতেও হাত দিলো না ! বহুক্ষণ পর একটি বৃদ্ধ হনুমান ঐ লাড্ডুগুলির কাছে এসে ভাল করে শুঁকে দেখলো – তারপর চলে গেল। কিছুক্ষনের মধ্যেই ঐ হনুমানটি কিছু লতাপাতা নিয়ে এসে সেইগুলি লাড্ডুতে মিশিয়ে দিয়ে খেতে শুরু করলো। তার দেখাদেখি বাকি হনুমানরাও নেমে এসে মুহূর্তে লাড্ডুর থালা খালি করে দিলো।
(এই ব্যাপারে ব্যাখ্যা পরের দিন!) [ক্রমশঃ]
