শ্রী শ্রী গুরুমহারাজ স্বামী পরমানন্দের জীবনে প্রকটিত নানান মহিমার কথা এখানে বলা হচ্ছিল। যে সমস্ত ঘটনা সাধারণ মানুষের জীবনে ঘটার সম্ভাবনার কথাও কেউ ভাবতে পারে না – সেইসকল ঘটনারাজি অহরহ স্বামী পরমানন্দের জীবনে ঘটে যেতো ! অনেক সময় সেইসব ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী কেউ কেউ থাকতো – অনেক সময় কেউ থাকতো না। তখন মা জগদম্বা তাঁর প্রিয় পুত্রের সাথে একা একাই লীলা করতেন ! সেইসব লীলার কাহিনী গুরুমহারাজ যখন আমাদের সঙ্গে কোনো কোনো সময় আলোচনা করতেন__ তখন আমরা তা জানতে পারতাম।
আমরা আগের দিন হিমালয়ে পরিভ্রমণকালে গুরুমহারাজের সাথে ‘রামায়ণের হনুমানে’-র দেখা পাওয়ার চেষ্টা করাকালীন অন্য একটি হনুমানকে নিয়ে ঘটে যাওয়া বিভ্রাটের কথা আলোচনা করছিলাম।
আজকে __ঐসময়েই (অর্থাৎ ছোটবেলায় হাফ-প্যান্ট পড়া অবস্থায়) হিমালয় অঞ্চলে আরো দুটি ঘটনার কথা এখানে উল্লেখ করা হবে, যেখানে উনি দুটি পৃথক পৃথক জন্তুর হাত থেকে ওনার নিজের বূদ্ধিমত্তাকে কাজে লাগিয়ে অনায়াসে রক্ষা পেয়েছিলেন !
একদিন উনি যখন কেদারনাথ থেকে নামছিলেন (তীর্থযাত্রীদের যাওয়া প্রচলিত পথে নিশ্চয়ই নয় – ওই পথটা ছিল সাধুদের যাওয়া-আসার নিমিত্ত দূর্গম পাকদন্ডী পথ ! কেননা গুরুমহারাজের কাছে শুনেছিলাম বদ্রীনাথ থেকে কেদারনাথ যাবার short-cut রাস্তা রয়েছে। কিন্তু সেই পথ অত্যন্ত দুর্গম এবং বিপদসংকুল ! বহুপূর্বে সাধকেরা বা উন্নত আধারের পুরোহিতরা একই দিনে বদ্রীনারায়ণের পূজো সেরে কেদারনাথের পূজা করতে আসতো। অথচ এখন যদি কেউ সরকারের তৈরী করে দেওয়া রাস্তা ধরে গাড়ীতে বা line-bus-এ উত্তরাঞ্চল ভ্রমণে যান __ তাহলে রুদ্রপ্রয়াগ থেকে বদ্রীনাথধাম একদিন লাগবে। আবার পরেরদিন পুনরায় রুদ্রপ্রয়াগে ফিরে এসে কেদারনাথের রাস্তা ধরে সেখানে পৌছাতে গোটা একদিন লেগে যাবে !)
গুরুমহারাজ যখন ফিরছিলেন তখন সন্ধ্যা আগতপ্রায়, তার উপর গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টি পড়ছিল (কেদারনাথের রাস্তায় এই হঠাৎ হঠাৎ বৃষ্টিপাত প্রায়শই হয়)। কেদারনাথ পাহাড়ের একেবারে শীর্ষদেশে কেদারনাথের মন্দির – তাই স্থানটি খুবই উঁচুতে অবস্থিত (ভু-পৃষ্ঠ থেকে উচ্চতা প্রায় ১৪০০০ ফুট), এখান থেকে নামার পথ খুবই ঢালু এবং বৃষ্টিপাত হওয়ায় পিচ্ছিল ছিল। ফলে, গুরুমহারাজ__ তাঁর চলার পথের দিকে এবং তাঁর চলার দিকে এত বেশি ধ্যান দিয়েছিলেন যে, সামনে যে একটা বিরাট হিমালয়ান ভাল্লুক সাক্ষাৎ যমের মতো ঐ পথেই এগিয়ে অাসছে ___তা তিনি মোটেই খেয়াল করেন নি ! তাছাড়া যে জায়গায় ভল্লুকের সাথে ওনার সাক্ষাৎ হয়েছিল – সেখানে একটা বাঁকও ছিল, তার উপর প্রায় অন্ধকার রাস্তা। এইসব বিভিন্ন কারণে – গুরুমহারাজ আগে থাকতে ভল্লুকটিকে খেয়াল করেন নি। যখন খেয়াল হোল __তখন ভল্লুকটি একেবারে ৫/৭ হাতের মধ্যে চলে এসেছিলেন !
গুরুমহারাজ বলেছিলেন _’পৃথিবীতে poler bear বা মেরু ভল্লুক সবচাইতে বড় এবং শক্তিশালী, তবে হিমালয়ান ভল্লুকও কম বড় বা কম শক্তিশালী নয় ! ওরা ওদের শক্তিশালী হাত এবং বড় বড় শক্ত নখ দিয়ে – যেকোনো মানুষের বুক বিদীর্ণ করে তাকে মেরে ফেলে। অনেক সময় ভল্লুক মানুষকে মেরে তার হৃদপিন্ড, লিভার ইত্যাদি শরীর-অভ্যন্তরস্থ অঙ্গগুলি তাজা অবস্থায় খেয়ে নেয় !
ভল্লুক নিরামিষ ও আমিষ উভয় প্রকার খাদ্যই গ্রহণ করে। মাছ এবং মাংস দুটোই খায়, আবার ফুল-ফল-পাতা-মূল, মধু ইত্যাদিও খায়। একটা adult হিমালয়ান ভল্লুক সারাদিনে ৫/৭ কেজি খাবার খেয়ে নিতে পারে ! ওদের গায়ে অসম্ভব জোর – কোন মানুষকে জোরে চেপে ধরেই তার বুকের পাঁজরের হাড় ভেঙে দিতে পারে !
যাইহোক, গুরুমহারাজের সাথে ঐ ভল্লুকটির হঠাৎ দেখা হোতেই ভল্লুকটি দুই পায়ে খাড়া দাঁড়িয়ে পড়েছিল। গুরুমহারাজ বললেন – দাঁড়ানো অবস্থায় সেটার hight ৭ফুট তো ছিলই – কিছু বেশিও হতে পারে !
গুরুমহারাজও ঘটনার আকস্মিকতায় প্রথমটায় একটু ঘাবড়ে গিয়ে দাঁড়িয়ে পড়েছিলেন। ভল্লুকটি উপরের দিকে উঠছিল আর গুরুমহারাজ নিচের দিকে নামছিলেন। আর পাহাড়ি রাস্তায় একদিকে গভীর খাদ এবং অন্যদিকে খাড়া পাহাড়ের পাথুরে দেওয়াল ! ফলে গুরুমহারাজকে হয় ফিরে যেতে হবে উজানপথে অর্থাৎ উৎরাই-এর পথে। কিন্তু পিচ্ছিল উৎরাই পথে ওঠার সময় ভল্লুকটি যদি পিছনে পিছনে তাড়া করে তাহলে ঘোর বিপদের সম্ভাবনা। তার চেয়ে যদি কোনক্রমে ভল্লুকটার পাশ দিয়ে বা অন্যভাবে নিচের দিকে নেমে যাওয়া যায় – তাহলে অনেক দ্রুত পালানো সম্ভব হবে __আর ভল্লুক উল্টো দিকে ঘুরে সাধারণত পশ্চাদ্ধাবন করেও না !
সেইজন্য গুরুমহারাজ ভল্লুকটার দিকেই আরও ২/৩ পা এগিয়ে গিয়ে একেবারে তার মুখোমুখি হয়ে গেলেন ! গুরুমহারাজের হাতে একটা গাছের ডালের শক্ত লাঠি ছিল, যেটাকে support দিয়ে উনি পাহাড়ি রাস্তায় ওঠানামা করতেন। উনি সেই লাঠিটার মাঝখানে দুই হাতে আড়াআড়ি ভাবে (মাটির সাথে সমান্তরাল)শক্ত করে ধরে, ভল্লুকটির দিকে নির্ভয়ে এগিয়ে গেলেন! ভল্লুকটা কিছু না বুঝেই সাথে সাথেইওই লাঠিটা ধরে ফেললো ! ( বাকিটা পরেরদিন)… [ক্রমশঃ]
আমরা আগের দিন হিমালয়ে পরিভ্রমণকালে গুরুমহারাজের সাথে ‘রামায়ণের হনুমানে’-র দেখা পাওয়ার চেষ্টা করাকালীন অন্য একটি হনুমানকে নিয়ে ঘটে যাওয়া বিভ্রাটের কথা আলোচনা করছিলাম।
আজকে __ঐসময়েই (অর্থাৎ ছোটবেলায় হাফ-প্যান্ট পড়া অবস্থায়) হিমালয় অঞ্চলে আরো দুটি ঘটনার কথা এখানে উল্লেখ করা হবে, যেখানে উনি দুটি পৃথক পৃথক জন্তুর হাত থেকে ওনার নিজের বূদ্ধিমত্তাকে কাজে লাগিয়ে অনায়াসে রক্ষা পেয়েছিলেন !
একদিন উনি যখন কেদারনাথ থেকে নামছিলেন (তীর্থযাত্রীদের যাওয়া প্রচলিত পথে নিশ্চয়ই নয় – ওই পথটা ছিল সাধুদের যাওয়া-আসার নিমিত্ত দূর্গম পাকদন্ডী পথ ! কেননা গুরুমহারাজের কাছে শুনেছিলাম বদ্রীনাথ থেকে কেদারনাথ যাবার short-cut রাস্তা রয়েছে। কিন্তু সেই পথ অত্যন্ত দুর্গম এবং বিপদসংকুল ! বহুপূর্বে সাধকেরা বা উন্নত আধারের পুরোহিতরা একই দিনে বদ্রীনারায়ণের পূজো সেরে কেদারনাথের পূজা করতে আসতো। অথচ এখন যদি কেউ সরকারের তৈরী করে দেওয়া রাস্তা ধরে গাড়ীতে বা line-bus-এ উত্তরাঞ্চল ভ্রমণে যান __ তাহলে রুদ্রপ্রয়াগ থেকে বদ্রীনাথধাম একদিন লাগবে। আবার পরেরদিন পুনরায় রুদ্রপ্রয়াগে ফিরে এসে কেদারনাথের রাস্তা ধরে সেখানে পৌছাতে গোটা একদিন লেগে যাবে !)
গুরুমহারাজ যখন ফিরছিলেন তখন সন্ধ্যা আগতপ্রায়, তার উপর গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টি পড়ছিল (কেদারনাথের রাস্তায় এই হঠাৎ হঠাৎ বৃষ্টিপাত প্রায়শই হয়)। কেদারনাথ পাহাড়ের একেবারে শীর্ষদেশে কেদারনাথের মন্দির – তাই স্থানটি খুবই উঁচুতে অবস্থিত (ভু-পৃষ্ঠ থেকে উচ্চতা প্রায় ১৪০০০ ফুট), এখান থেকে নামার পথ খুবই ঢালু এবং বৃষ্টিপাত হওয়ায় পিচ্ছিল ছিল। ফলে, গুরুমহারাজ__ তাঁর চলার পথের দিকে এবং তাঁর চলার দিকে এত বেশি ধ্যান দিয়েছিলেন যে, সামনে যে একটা বিরাট হিমালয়ান ভাল্লুক সাক্ষাৎ যমের মতো ঐ পথেই এগিয়ে অাসছে ___তা তিনি মোটেই খেয়াল করেন নি ! তাছাড়া যে জায়গায় ভল্লুকের সাথে ওনার সাক্ষাৎ হয়েছিল – সেখানে একটা বাঁকও ছিল, তার উপর প্রায় অন্ধকার রাস্তা। এইসব বিভিন্ন কারণে – গুরুমহারাজ আগে থাকতে ভল্লুকটিকে খেয়াল করেন নি। যখন খেয়াল হোল __তখন ভল্লুকটি একেবারে ৫/৭ হাতের মধ্যে চলে এসেছিলেন !
গুরুমহারাজ বলেছিলেন _’পৃথিবীতে poler bear বা মেরু ভল্লুক সবচাইতে বড় এবং শক্তিশালী, তবে হিমালয়ান ভল্লুকও কম বড় বা কম শক্তিশালী নয় ! ওরা ওদের শক্তিশালী হাত এবং বড় বড় শক্ত নখ দিয়ে – যেকোনো মানুষের বুক বিদীর্ণ করে তাকে মেরে ফেলে। অনেক সময় ভল্লুক মানুষকে মেরে তার হৃদপিন্ড, লিভার ইত্যাদি শরীর-অভ্যন্তরস্থ অঙ্গগুলি তাজা অবস্থায় খেয়ে নেয় !
ভল্লুক নিরামিষ ও আমিষ উভয় প্রকার খাদ্যই গ্রহণ করে। মাছ এবং মাংস দুটোই খায়, আবার ফুল-ফল-পাতা-মূল, মধু ইত্যাদিও খায়। একটা adult হিমালয়ান ভল্লুক সারাদিনে ৫/৭ কেজি খাবার খেয়ে নিতে পারে ! ওদের গায়ে অসম্ভব জোর – কোন মানুষকে জোরে চেপে ধরেই তার বুকের পাঁজরের হাড় ভেঙে দিতে পারে !
যাইহোক, গুরুমহারাজের সাথে ঐ ভল্লুকটির হঠাৎ দেখা হোতেই ভল্লুকটি দুই পায়ে খাড়া দাঁড়িয়ে পড়েছিল। গুরুমহারাজ বললেন – দাঁড়ানো অবস্থায় সেটার hight ৭ফুট তো ছিলই – কিছু বেশিও হতে পারে !
গুরুমহারাজও ঘটনার আকস্মিকতায় প্রথমটায় একটু ঘাবড়ে গিয়ে দাঁড়িয়ে পড়েছিলেন। ভল্লুকটি উপরের দিকে উঠছিল আর গুরুমহারাজ নিচের দিকে নামছিলেন। আর পাহাড়ি রাস্তায় একদিকে গভীর খাদ এবং অন্যদিকে খাড়া পাহাড়ের পাথুরে দেওয়াল ! ফলে গুরুমহারাজকে হয় ফিরে যেতে হবে উজানপথে অর্থাৎ উৎরাই-এর পথে। কিন্তু পিচ্ছিল উৎরাই পথে ওঠার সময় ভল্লুকটি যদি পিছনে পিছনে তাড়া করে তাহলে ঘোর বিপদের সম্ভাবনা। তার চেয়ে যদি কোনক্রমে ভল্লুকটার পাশ দিয়ে বা অন্যভাবে নিচের দিকে নেমে যাওয়া যায় – তাহলে অনেক দ্রুত পালানো সম্ভব হবে __আর ভল্লুক উল্টো দিকে ঘুরে সাধারণত পশ্চাদ্ধাবন করেও না !
সেইজন্য গুরুমহারাজ ভল্লুকটার দিকেই আরও ২/৩ পা এগিয়ে গিয়ে একেবারে তার মুখোমুখি হয়ে গেলেন ! গুরুমহারাজের হাতে একটা গাছের ডালের শক্ত লাঠি ছিল, যেটাকে support দিয়ে উনি পাহাড়ি রাস্তায় ওঠানামা করতেন। উনি সেই লাঠিটার মাঝখানে দুই হাতে আড়াআড়ি ভাবে (মাটির সাথে সমান্তরাল)শক্ত করে ধরে, ভল্লুকটির দিকে নির্ভয়ে এগিয়ে গেলেন! ভল্লুকটা কিছু না বুঝেই সাথে সাথেইওই লাঠিটা ধরে ফেললো ! ( বাকিটা পরেরদিন)… [ক্রমশঃ]
