শ্রী শ্রী গুরুমহারাজ স্বামী পরমানন্দের জীবনে প্রকটিত নানান মহিমার কথা এখানে বর্ণনা করা হচ্ছিলো। আমরা আগেরদিন আলোচনা করছিলাম – গুরুমহারাজ যখন কেদারনাথ পাহাড় থেকে নেমে আসছিলেন সেইসময় এক ভল্লুকের সঙ্গে ওনার মুখোমুখি হবার ঘটনার কথা।
ভল্লুকটির সাথে অকস্মাৎ সামনাসামনি হোতেই উনি ওনার হাতে থাকা একটি গাছের ডাল (যেটা উনি পাহাড়ের চড়াই-উৎরাই ভাঙ্গার জন্য ব্যবহার করছিলেন) আড়াআড়ি ভাবে দুই হাতে ধরে সামনের দিকে আগিয়ে গিয়ে ভল্লুকটির কাছে পৌঁছাতেই __ভল্লুকটিও, কি ভেবে তার দুই হাত দিয়ে ঐ ডালটি ধরে ফেলল !
এইবার শুরু হোলো ঠেলাঠেলি ! গুরুমহারাজ প্রথমে আস্তে করে ওকে ঠেলে দিলেন – ভল্লুকটিও তার প্রত্যুত্তরে গুরুমহারাজকে হালকা করে পিছনে ঠেলে দিল। এবার গুরুমহারাজ আর একটু বেশি জোরে ঠেললেন – উল্টোদিক থেকে সে-ও আরেকটু জোরে ঠেলা দিল। এইভাবে হিমালয়ের সেই নির্জন প্রান্তরে, সন্ধ্যার প্রাক্কালে দুটি অদ্ভুত প্রকৃতির জীবের (একজন স্বয়ং ভগবান, অন্যজন তাঁরই সৃষ্ট মহাভাগ্যবান মনুষ্যেতর জীব) এই অপরূপ খেলার দ্রষ্টাই বা কে ছিল, আর সেই লীলাখেলার আস্বাদনকারীই বা কে ছিল – সেটা নিশ্চয়ই ভাবার বিষয় !
যাইহোক, সেদিন শেষমেষ যে ঘটনাটা ঘটেছিল সেটা হোলো এই যে, ঐরকমভাবে ঠেলাঠেলি করতে করতেই গুরুমহারাজ (তখন কিশোর বয়সী রবীন) আচমকা ভল্লুকটাকে জোরে ঠেলে একটু পিছিয়ে দিয়েই নিচু হয়ে ঝুঁকে ওর দুটো পায়ের ফাঁক গলে বেরিয়ে এসেই নিচের দিকে __’মার ছুট্’ ! অনেকটা পথ নেমে আসার পর উনি পিছনে তাকিয়ে দেখেছিলেন__ ভল্লুকটি সেইখানেই দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে লাঠিটাকে নিয়ে আপন মনেই একইরকমভাবে ঠেলাঠেলির খেলা করে যাচ্ছিলো ! সে হয়তো তখনও তার বিপরীতদিকে কোনো একজন প্রতিপক্ষকে দেখতে পাচ্ছিলো !
গুরুমহারাজ ঐসময়েই একবার একটা হাতির দলের সম্মুখেও পড়েছিলেন। সেবার ঐরকমই দুর্গম পাহাড়ি পাকদন্ডী পথের বাঁকে হঠাৎ করে একপাল হাতির সঙ্গে তাঁর মুখোমুখি সাক্ষাৎ হয়েছিল। হাতির দলকে কিভাবে কব্জা করতে হয়, — সেই কায়দা গুরুমহারাজের ভালোমতোই জানা ছিল ! উনি হঠাৎ করে হাতির দলকে দেখে যেমন চমকে দাঁড়িয়ে গিয়েছিলেন – ঠিক তেমনই হাতির দলও কিশোর বয়সী গুরুমহারাজকে হটাৎ সামনে দেখে দাঁড়িয়ে পড়েছিল। হাতির দলের নিয়ম হচ্ছে – সবার সামনে থাকবে দলপতি ! ফলে এখানেও বিশাল এক দাঁতাল হাতি ছিল সামনে, আর পিছনে পিছনে একটা একটা করে অন্ততঃ ৪০ থেকে ৫০ টা হাতি ছিল ! যেহেতু পাকদণ্ডী পথ – একদিকে খাদ এবং অন্যদিকে খাড়া পাহাড় – তাই একজনের বেশী হাতি এক লাইনে থাকার জায়গা ছিল না বলেই পর পর একটা একটা করে _বিরাট এক লাইনে হাতিগুলি দাঁড়িয়েছিল।
গুরুমহারাজ ওই পাকদণ্ডী পথ ধরে উপরের দিক থেকে নিচের দিকে নামছিলেন – আর হাতিগুলি উপরের দিকে উঠছিল। তাই গুরুমহারাজ উঁচুতে ছিলেন বলেই পুরো হস্তিযূথকেই দেখতে পাচ্ছিলেন। গুরুমহারাজ একবার তাকিয়ে দেখে নিয়েছিলেন যে, উনি যেখানে দাঁড়িয়েছিলেন তার বাঁ পাশে খাড়া অংশে এমন কিছু খাঁজ রয়েছে, যা বেয়ে খানিকটা উপরে ওঠা সম্ভব। কিন্তু তা করতে গেলে হাতিদের দলকে বা অন্ততঃ দলপতিটিকে কিছুক্ষণের জন্য ব্যস্ত রাখা দরকার – না হলে ওই দলপতির লম্বা শুঁড় দিয়ে__ সে অনায়াসেই গুরু মহারাজকে ধরে ফেলতে পারবে – কারণ ওনার এবং হস্তিযূথের মধ্যেকার দূরত্ব খুব বেশি ছিল না। গুরুমহারাজ হয়তো পিছন দিকেও দৌড়ে পালাতে পারতেন ___কিন্তু ছোট বয়স থেকেই এইটা গুরুমহারাজের স্বভাবে ছিল না ! উনি কোনো ব্যাপারেই কখনও পিছু হটতেন না ! ওনার মন্ত্র ছিল,__’সবসময় সামনের দিকে চলো – চরৈবেতি – চরৈবেতি – চরৈবেতি’ !
গুরুমহারাজ সেই সময় করলেন কি – ঝট্ করে উনি ওনার গায়ের বস্ত্রটি খুলে হাতে ঝুলিয়ে নিয়ে খুব আস্তে আস্তে একবার বাঁদিকে নিয়ে গেলেন – আবার একবার ডানদিকে নিয়ে যেতে থাকলেন ! এদিকে হোল কি – দলপতি হাতিটিও গুরুমহারাজের হাতকে follow করে একবার বাঁদিকে তাকালো, আবার ধীরে ধীরে গুরুমহারাজের হাত follow করে ডানদিকে মাথাটাকে নিয়ে যেতে লাগলো। গুরুমহারাজ এইরকম কাজ __বার বার করতে লাগলেন! আর দলপতি হাতিটিও তার শুঁড়সহ মাথাটাও একবার বাঁদিকে আর একবার ডানদিকে দোলাতে শুরু করলো। গুরুমহারাজ এটা দেখে খুবই মজা পাচ্ছিলেন, কিন্তু উনি এর থেকেও বেশি মজা পেলেন – যখন দেখলেন যে, পুরো হাতির দলটিই তাদের দলপতিকে follow করে তাদের শুঁড়সহ মাথাগুলি একবার বাঁদিকে একবার ডানদিকে দোলাতে শুরু করলো!
এরপর গুরুমহারাজ তাঁর বস্ত্রসহ হাত দোলানো বন্ধ করলেও হাতির দল মাথা নাড়ানো বন্ধ করলো না ! আর এই সুযোগে গুরুমহারাজ বাঁদিকের পাহাড়ের খাঁজ ধরে __বেশ কিছুটা উঁচুতে উঠে পড়েছিলেন। কিছুক্ষণ মাথা দোলানোর পর হাতির দলপতি যখন বুঝতে পারলো – সামনে
কেউ নাই, তখন তারা ধীরে ধীরে নিজেদের গন্তব্যের দিকে চলতে শুরু করলো। তাদের চলে যাবার পর গুরুমহারাজও উঁচু থেকে নেমে সামনের দিকে চলতে লাগলেন।৷
ভল্লুকটির সাথে অকস্মাৎ সামনাসামনি হোতেই উনি ওনার হাতে থাকা একটি গাছের ডাল (যেটা উনি পাহাড়ের চড়াই-উৎরাই ভাঙ্গার জন্য ব্যবহার করছিলেন) আড়াআড়ি ভাবে দুই হাতে ধরে সামনের দিকে আগিয়ে গিয়ে ভল্লুকটির কাছে পৌঁছাতেই __ভল্লুকটিও, কি ভেবে তার দুই হাত দিয়ে ঐ ডালটি ধরে ফেলল !
এইবার শুরু হোলো ঠেলাঠেলি ! গুরুমহারাজ প্রথমে আস্তে করে ওকে ঠেলে দিলেন – ভল্লুকটিও তার প্রত্যুত্তরে গুরুমহারাজকে হালকা করে পিছনে ঠেলে দিল। এবার গুরুমহারাজ আর একটু বেশি জোরে ঠেললেন – উল্টোদিক থেকে সে-ও আরেকটু জোরে ঠেলা দিল। এইভাবে হিমালয়ের সেই নির্জন প্রান্তরে, সন্ধ্যার প্রাক্কালে দুটি অদ্ভুত প্রকৃতির জীবের (একজন স্বয়ং ভগবান, অন্যজন তাঁরই সৃষ্ট মহাভাগ্যবান মনুষ্যেতর জীব) এই অপরূপ খেলার দ্রষ্টাই বা কে ছিল, আর সেই লীলাখেলার আস্বাদনকারীই বা কে ছিল – সেটা নিশ্চয়ই ভাবার বিষয় !
যাইহোক, সেদিন শেষমেষ যে ঘটনাটা ঘটেছিল সেটা হোলো এই যে, ঐরকমভাবে ঠেলাঠেলি করতে করতেই গুরুমহারাজ (তখন কিশোর বয়সী রবীন) আচমকা ভল্লুকটাকে জোরে ঠেলে একটু পিছিয়ে দিয়েই নিচু হয়ে ঝুঁকে ওর দুটো পায়ের ফাঁক গলে বেরিয়ে এসেই নিচের দিকে __’মার ছুট্’ ! অনেকটা পথ নেমে আসার পর উনি পিছনে তাকিয়ে দেখেছিলেন__ ভল্লুকটি সেইখানেই দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে লাঠিটাকে নিয়ে আপন মনেই একইরকমভাবে ঠেলাঠেলির খেলা করে যাচ্ছিলো ! সে হয়তো তখনও তার বিপরীতদিকে কোনো একজন প্রতিপক্ষকে দেখতে পাচ্ছিলো !
গুরুমহারাজ ঐসময়েই একবার একটা হাতির দলের সম্মুখেও পড়েছিলেন। সেবার ঐরকমই দুর্গম পাহাড়ি পাকদন্ডী পথের বাঁকে হঠাৎ করে একপাল হাতির সঙ্গে তাঁর মুখোমুখি সাক্ষাৎ হয়েছিল। হাতির দলকে কিভাবে কব্জা করতে হয়, — সেই কায়দা গুরুমহারাজের ভালোমতোই জানা ছিল ! উনি হঠাৎ করে হাতির দলকে দেখে যেমন চমকে দাঁড়িয়ে গিয়েছিলেন – ঠিক তেমনই হাতির দলও কিশোর বয়সী গুরুমহারাজকে হটাৎ সামনে দেখে দাঁড়িয়ে পড়েছিল। হাতির দলের নিয়ম হচ্ছে – সবার সামনে থাকবে দলপতি ! ফলে এখানেও বিশাল এক দাঁতাল হাতি ছিল সামনে, আর পিছনে পিছনে একটা একটা করে অন্ততঃ ৪০ থেকে ৫০ টা হাতি ছিল ! যেহেতু পাকদণ্ডী পথ – একদিকে খাদ এবং অন্যদিকে খাড়া পাহাড় – তাই একজনের বেশী হাতি এক লাইনে থাকার জায়গা ছিল না বলেই পর পর একটা একটা করে _বিরাট এক লাইনে হাতিগুলি দাঁড়িয়েছিল।
গুরুমহারাজ ওই পাকদণ্ডী পথ ধরে উপরের দিক থেকে নিচের দিকে নামছিলেন – আর হাতিগুলি উপরের দিকে উঠছিল। তাই গুরুমহারাজ উঁচুতে ছিলেন বলেই পুরো হস্তিযূথকেই দেখতে পাচ্ছিলেন। গুরুমহারাজ একবার তাকিয়ে দেখে নিয়েছিলেন যে, উনি যেখানে দাঁড়িয়েছিলেন তার বাঁ পাশে খাড়া অংশে এমন কিছু খাঁজ রয়েছে, যা বেয়ে খানিকটা উপরে ওঠা সম্ভব। কিন্তু তা করতে গেলে হাতিদের দলকে বা অন্ততঃ দলপতিটিকে কিছুক্ষণের জন্য ব্যস্ত রাখা দরকার – না হলে ওই দলপতির লম্বা শুঁড় দিয়ে__ সে অনায়াসেই গুরু মহারাজকে ধরে ফেলতে পারবে – কারণ ওনার এবং হস্তিযূথের মধ্যেকার দূরত্ব খুব বেশি ছিল না। গুরুমহারাজ হয়তো পিছন দিকেও দৌড়ে পালাতে পারতেন ___কিন্তু ছোট বয়স থেকেই এইটা গুরুমহারাজের স্বভাবে ছিল না ! উনি কোনো ব্যাপারেই কখনও পিছু হটতেন না ! ওনার মন্ত্র ছিল,__’সবসময় সামনের দিকে চলো – চরৈবেতি – চরৈবেতি – চরৈবেতি’ !
গুরুমহারাজ সেই সময় করলেন কি – ঝট্ করে উনি ওনার গায়ের বস্ত্রটি খুলে হাতে ঝুলিয়ে নিয়ে খুব আস্তে আস্তে একবার বাঁদিকে নিয়ে গেলেন – আবার একবার ডানদিকে নিয়ে যেতে থাকলেন ! এদিকে হোল কি – দলপতি হাতিটিও গুরুমহারাজের হাতকে follow করে একবার বাঁদিকে তাকালো, আবার ধীরে ধীরে গুরুমহারাজের হাত follow করে ডানদিকে মাথাটাকে নিয়ে যেতে লাগলো। গুরুমহারাজ এইরকম কাজ __বার বার করতে লাগলেন! আর দলপতি হাতিটিও তার শুঁড়সহ মাথাটাও একবার বাঁদিকে আর একবার ডানদিকে দোলাতে শুরু করলো। গুরুমহারাজ এটা দেখে খুবই মজা পাচ্ছিলেন, কিন্তু উনি এর থেকেও বেশি মজা পেলেন – যখন দেখলেন যে, পুরো হাতির দলটিই তাদের দলপতিকে follow করে তাদের শুঁড়সহ মাথাগুলি একবার বাঁদিকে একবার ডানদিকে দোলাতে শুরু করলো!
এরপর গুরুমহারাজ তাঁর বস্ত্রসহ হাত দোলানো বন্ধ করলেও হাতির দল মাথা নাড়ানো বন্ধ করলো না ! আর এই সুযোগে গুরুমহারাজ বাঁদিকের পাহাড়ের খাঁজ ধরে __বেশ কিছুটা উঁচুতে উঠে পড়েছিলেন। কিছুক্ষণ মাথা দোলানোর পর হাতির দলপতি যখন বুঝতে পারলো – সামনে
কেউ নাই, তখন তারা ধীরে ধীরে নিজেদের গন্তব্যের দিকে চলতে শুরু করলো। তাদের চলে যাবার পর গুরুমহারাজও উঁচু থেকে নেমে সামনের দিকে চলতে লাগলেন।৷
