শ্রী শ্রী গুরুমহারাজ স্বামী পরমানন্দের মহিমার কথা বলা হচ্ছিলো। আগেই বলা হয়েছে গুরুমহারাজের সমগ্র জীবনটাই মহিমান্বিত ! তাঁর অবতরণের পূর্ব ঘটনা, শতভিষা থেকে শক্তিগ্রহণ, তারপর পৃথিবীতে প্রথম হিমালয়ে অবতরণ, গঙ্গার ধারা ধরে সেখান থেকে মাতৃজঠরে প্রবেশ, ভূমিষ্ঠ হওয়া, শিশুবয়সের লীলা, কৈশোর-প্রৗেগন্ড বয়সের লীলা এবং যৌবনে গুরুরূপে আত্মপ্রকাশলীলা – এই সবগুলির প্রতিটি ক্ষেত্রেই শুধু ঈশ্বরের মহিমা আর মহিমা ! তাই এককথায় বলা যায় – তাঁর পূণ্য জীবনের যা কিছু সে সবই ঈশ্বরীয় মহিমায় মহিমান্বিত ! তাই এরপর থেকে আর বারবার ‘তাঁর মহিমময়’- ‘তাঁর মহিমা’ কথাটি ব্যবহার করা হবে না ! শুধু তাঁর কথাই বলা হবে !
আমরা “পুরোনো সেই বনগ্রামের কথা”- শুরু করেছিলাম এই ভেবে যে, আমি সেইসময় (১৯৮৩ সালের ২৫ শে ডিসেম্বর) থেকে বনগ্রাম আশ্রমকে কেমন দেখেছিলাম, কেমনভাবে আশ্রমের রূপ একটু একটু করে পাল্টাচ্ছিল, কিভাবে পরমানন্দ মিশনের সার্বিক বিকাশ হতে লাগলো, তাছাড়া গুরুমহারাজের কাছে আসা পুরোনো ভক্তবৃন্দ যারা সময়ের সাথে সাথে এখনই হারিয়ে যেতে বসেছে – অদূর ভবিষ্যতে যারা হয়তো একেবারেই ফুরিয়ে যাবে – তাদের কথা, বিভিন্ন ভক্তদের সাথে গুরুমহারাজের সম্পর্কের কথা, বিভিন্ন মহারাজ-ব্রহ্মচারীদের কথা – ইত্যাদি বিষয়গুলি আলোচনা করা হবে। কিন্তু সেইটা করতে গিয়ে এমন বাধা পেয়ে গেছিলাম যে, সেখান থেকে সরে আসতে বাধ্য হয়েছিলাম ! কি হোলো জানেন – গুরুমহারাজের যে ভক্তের সম্বন্ধেই (তা সে সাধু-সন্ন্যাসী বা গৃহীভক্ত যেই হোক) কথা বলা হচ্ছে, সে বা তিনি ভালো দিকটা গ্রহণ করছে/করছেন, কিন্তু তার চলার পথের বা কার্যের যেটুকু সামান্য ত্রুটি-বিচ্যুতি রয়েছে – সেইটা উল্লেখ করতেই একেবারে “গেল”- “গেল” রব উঠে যাচ্ছিল ! তারা ভেবে বসল যে, আমি ইচ্ছা করে ঐসমস্ত ব্যক্তিদেরকে ছোট করছি !!
আমাকে সেইসময় যে কি ভীষণ সমস্যার সম্মুখীন হতে হয়েছে – তা আর আপনাদের কাছে কি করে ভাষায় প্রকাশ করবো ! বিভিন্ন দিক থেকে ফোন আসা, ফোনে হুমকি – নোংরামি, কমেন্টের মাধ্যমে অপমান করা, বনগ্রামে গিয়ে complain করে আসা – কত কি-ই না হয়েছে। তাই বাধ্য হয়ে সেই সমস্ত কথা বন্ধ করে শুধু গুরুমহারাজের সিটিং এবং বিভিন্ন কথার ব্যাখ্যা – ‘আমি যেটুকু বুঝেছি’– সেইগুলো এখানে পরিবেশিত হচ্ছিলো ! কিন্তু আমার প্রাণটা ছটফট করে সেইসব দিনগুলোয় যেসব ভক্ত মানুষেরা আসতো – তাদের সাথে গুরুমহারাজের interaction, মজার মজার কত ঘটনা সেইগুলো সবার সামনে তুলে ধরবার ! কিন্তু সেটা বোধহয় সম্ভব হবে না !
তবে, এটা একেবারেই যে অসম্ভব তাও নয় – কারণ যদি কখনও ‘বনগ্রাম পরমানন্দ মিশন’ permission দেয় বা ‘সাথ’ দেয় তাহলে এটা সম্ভব হোলেও হতে পারে – অন্যথায় নয় !
আমার অনেক হিতৈষী বন্ধুরা আমাকে suggestion দিয়েছিল যে, কারো ‘নাম’ উল্লেখ না করে ‘জনৈক ব্যক্তি’ বলে – লেখাগুলো লিখতে ! কিন্তু সেইটা করতে গিয়ে দেখা গেল – গুরুমহারাজের সঙ্গে সেই ব্যক্তির interaction-এর flovour-টাই নষ্ট হয়ে যাচ্ছে ! যতটা পরিষ্কার করে বলতে চাই – সেটা বলা যাচ্ছে না ! তাই ঐ চেষ্টাও বন্ধ করতে হয়েছিল ! তবু এখন আবার আমার খুবই ইচ্ছা হচ্ছে পরমানন্দ মিশনের সমস্ত পুরোনো ব্রহ্মচারী-মহারাজ (বিশেষতঃ যারা মূল মিশনে থাকেন না) এবং বিশেষ বিশেষ পরমানন্দ ভক্তদের (অর্থাৎ যাদেরকে গুরুমহারাজ অধিক গুরুত্ব দিতেন) সঙ্গে গুরুমহারাজের যে সম্পর্ক ছিল (যেটুকু আমি নিজের চোখে দেখেছিলাম) সেইগুলি তুলে ধরি ! কিন্তু এই কাজটাও অতটা সহজ নয় ! কারণ যে সময়ের কথা তুলে ধরা হবে – তখন গুরুমহারাজ সশরীরে present ! ফলে তখন তিনি একাই সূর্য আর বাকিরা (ব্রহ্মচারী, মহারাজ, অধিক পাত্তা পাওয়া গৃহী ভক্ত) সবাই সেই তুলনায় দু-একটা একটু-আধটু উজ্জ্বল থাকলেও বাকিরা ছিল টিম্-টিম্ করা আলো ! কিন্তু এখন অর্থাৎ স্বামী পরমানন্দের স্থুলশরীর ছেড়ে চলে যাবার ২০/২১ বছর পরের অবস্থা ভিন্ন ! এখন সেই টিম্-টিম্ করা বাতিদের অনেকেই নিজ নিজ ক্ষেত্রে বা অবস্থানে প্রােজ্বল ! তাদেরকে ঘিরেও এখন তাদের নিজস্ব ভক্তমন্ডলী তৈরি হয়ে গেছে ! ফলে সামান্য কথায় – বহু মানুষের sentiment-এ ঘা লাগার সম্ভাবনা ! আর যেহেতু এই লেখাগুলি facebook-এ post করা হচ্ছে – সেখানে তো এক লহমায় সহস্র মানুষের দরবারে পৌঁছে যাওয়া ! আর মানুষের মুখে বা কলমে তো কোনো লাগাম পড়ানো নাই – যা খুশি মন্তব্য করো!!!
তাই, কি করা যায় – সবার সাথে আলোচনা করছি। যদি অনেকেই অভয় দেয় – তাহলে সেই কাজে হাত দেবো। আমি জানি তৃপ্তিমা (সংহিতাপ্রাণা, এখন আদিত্যপুর/বোলপুর আশ্রমে রয়েছেন) এবং রমেন চক্রবর্তী (‘শ্রুতি’ গ্রন্থের লেখক)–ওনারাও অল্প কথায় পরমানন্দের কাছের মানুষদের জীবনী লিপিবদ্ধ করার কাজ করছেন, হয়তো তারা ‘পরমানন্দ ভক্তমালিকা’-র ন্যায় কোনো গ্রন্থ রচনা করতে চাইছেন ! তবে আমি যেটা চাইছিলাম – সেটা অন্য ! কোনো জীবনী নয় – তাদের সাথে গুরুমহারাজের যেটুকু interaction –যেটা আমি নিজের চোখে দেখেছি বা গুরুজীর কাছে শুনেছি –শুধু সেইটুকু তুলে ধরার। জানিনা, এই চেষ্টা সফল হবে কি না ! (ক্রমশঃ)