শ্রী শ্রী গুরুমহারাজ স্বামী পরমানন্দের সাথে তাঁর ভক্তদের __যে সংযোগের ঘটনাগুলি তখন প্রত্যক্ষ করেছিলাম, সেইগুলি এখন এখানে আলোচনা করা হচ্ছিলো। আমরা এর আগে “পুরোনো সেই বনগ্রামের কথা”-য় মিহির মহারাজ বা স্বামী প্রজ্ঞানন্দের অনেক কথা আলোচনা করেছিলাম। কিন্তু সেগুলির ফাঁকে যা দু’চারটি কথা এখনও বলা হয়নি – সেগুলিরই এখানে উল্লেখ করার চেষ্টা করা হচ্ছে।
আমরা আগেই বলেছিলাম যে, গুরুমহারাজের সাথে মিহির মহারাজের প্রায় পিতা-পুত্রের ন্যায় সম্পর্ক ছিল। মিহির মহারাজ একান্তে গুরুমহারাজের কাছে খুবই আব্দার করতেন, অল্পতেই অভিমান করতেন, আবার অভিযোগ-অনুযোগও করতেন। আমরা প্রথম প্রথম বনগ্রামে যাওয়া-আসা শুরু করার পরপরই মিহির মহারাজ (স্বামী প্রজ্ঞানন্দ), অমূল্য মহারাজ (স্বামী অভয়ানন্দ), খোকন মহারাজ (স্বামী আত্মানন্দ), মানিক মহারাজ (স্বামী অখন্ডানন্দ) প্রমুখরা বনগ্রাম আশ্রম ছেড়ে গুরুমহারাজের নির্দেশে নিজ নিজ আশ্রম তৈরি করে বা সাধন ভজনের জন্য স্থান নির্দিষ্ট করে চলে যান। মিহির মহারাজ গুরুজীর নির্দেশে গিয়েছিলেন হিমাচলে, ডালহৌসি শহরের সন্নিকট বনিখেত নামক স্থানে। সেখানেই উনি সাধন-ভজন করতেন এবং উত্তর ভারতের ভক্তবৃন্দদের সাথে বনগ্রাম মিশনের একজন সংযোগ-সাধকরূপে কাজ করতেন।
গুরুমহারাজ প্রতিবছর না হলেও ২/৩ বছরে অন্ততঃ একবার করে বনিখেতের ঐ আশ্রমটিতে যেতেন। আর উনি যখন ওখানে যেতেন, তখন যেন আশ্রমটিতে চাঁদের হাট বসে যেতো ! স্থানীয় মানুষজন, উত্তরভারতের মানুষজন, পশ্চিমবাংলার ভক্তেরা ছাড়াও বিদেশাগত ভক্তরাও ওখানে ভিড় জমাতো ! গঙ্গানারায়ন বন্দোপাধ্যায় মহাশয়ের “গুরুসঙ্গে হিমাচল” গ্রন্থে বনিখেত আশ্রমে গুরুমহারাজ থাকাকালীন সময়ের কিছুটা বর্ণনা পাওয়া যায়। তাছাড়া জয়দীপ ‘চরৈবেতি’ পত্রিকায় দু-একটা article লিখেছিল, যার মধ্যে গুরুমহারাজের সাথে ওর বনিখেত আশ্রমে কাটানোর স্মৃতিকথা রয়েছে।
বনিখেত আশ্রমের কথা থাক – আমরা আলোচনা করছিলাম মিহির মহারাজের কথা। ওই মহারাজ একটু অদ্ভুত চরিত্রের মানুষ (সন্ন্যাসী) ছিলেন। আমরা (আমি এবং ধাত্রীগ্রামের আনন্দ) চেষ্টা করছি ‘চরৈবেতি’ পত্রিকায় ওনার লেখা বেশ কিছু article আপনাদের কাছে পরিবেশন করার – একটু সময়-সুযোগ পেলেই অবশ্য এটা শুরু করবো ! ওনার লেখাগুলো পড়লেই আপনারাও বুঝতে পারবেন – কেন ওনাকে “অদ্ভুত ধরনের” মানুষ (সন্ন্যাসী) বলা হোল !
পড়াশোনার জীবনে উনি অতটা বিজ্ঞানানুরাগী ছিলেন না, কিন্তু পরবর্তীতে (অর্থাৎ গুরুজীর কাছে সন্ন্যাস নেবার পর) উনি ধর্ম বা আধ্যাত্মিকতাকে বর্তমানের জড়-বিজ্ঞান দিয়ে বুঝবার বা সকলকে বোঝাবার খুবই চেষ্টা করেছিলেন! তার প্রমাণ পাওয়া যায়_ ঐসব article-গুলোর মাধ্যমে! আমি শুনেছিলাম ‘চরৈবেতি’তে প্রকাশিত article-গুলি ছাড়াও ওনার বেশকিছু না-ছাপা manuscript-ও ছিল, যেগুলি থেকে হয়তো একটা বা দুটো গ্রন্থ হয়ে যেতে পারতো ! তবে সেইসব manuscript এখন কোথায় রয়েছে – আর সেগুলি আদৌ print হবে কি না – তা জানা যায় না ! আমি এটাও শুনেছিলাম যে, ঐ লেখাগুলির মধ্যে নাকি গুরুমহারাজ সম্বন্ধেও অনেক কথা লিপিবদ্ধ রয়েছে (উনি কখন আবার শরীর নেবেন, কেমন হবে সেই শরীর, গুরুমহারাজের স্থূল শরীর ত্যাগ – ইত্যাদি – যেগুলি গুরুমহারাজ একান্তে ওনার সাথে আলোচনা করেছিলেন)।
মিহির মহারাজ সাধারণতঃ শীতকালটা Bengal-এ কাটাতেন, কারণ হিমাচলে তখন প্রচন্ড শীত পড়তো, মাঝে মাঝে বরফপাতও হোত ঐসব অঞ্চলে(হিমাচলে)। তাই উনি শীতের দুই-আড়াই মাস এখানে(বাংলায়) কাটিয়ে যেতেন। উনি বনগ্রামে কম-ই থাকতেন, রায়না(ওনার জন্মভূমি)-তেও কম থাকতেন – তবে উনি ২৫-শে ডিসেম্বরের কাছাকাছি সময়টা (১৯৯০সালের পর থেকে) আজিমগঞ্জ আশ্রমে কাটাতেন এবং বাকি সময়টা উনি কাটাতে ভালবাসতেন সিঙ্গুর তত্ত্বমসি যোগাশ্রমে ! ওনার ছোট ছোট মজার মজার কথা __উপস্থিতজনকে আনন্দে মাতিয়ে রাখতো। যারজন্যে সেইসময়ে সিঙ্গুরাগত ছেলেমেয়েদের কাছে মিহির মহারাজের জনপ্রিয়তা তুঙ্গে ছিল।
মিহির মহারাজ বরাবরই একটু খেতে ভালোবাসতেন এবং আর পাঁচজনের চাইতে একটু বেশি পরিমাণেই খেতে পারতেন। তাই সিঙ্গুরের ভক্তেরা ওনাকে বাড়ি বাড়ি নেমন্তন্ন করে নিয়ে গিয়ে খাওয়াতেও ভালবাসতেন। মিহির মহারাজের বাউলগান রচনা ও গাওয়ার ক্ষমতা ছিল – সেটা আগেই বলা হয়েছিল। উনি বহুবার গুরুমহারাজকেও গান শুনিয়েছিলেন – ওনার গান শুনে গুরুমহারাজ খুবই সন্তুষ্ট হোতেন। একবার মিহির মহারাজের গানের সাথে গুরুজীকেও গলা মেলাতে দেখেছিলাম। মিহির মহারাজ এক এক সময়ে এক একরকম যন্ত্র বাজিয়ে গুরু মহারাজকে গান শোনাতেন। কোনো সময় গুবা বা খমক্ বাজিয়ে, কোনো সময় একতারা বাজিয়ে এবং কোনো সময়ে ছোট ‘কি বোর্ডের’ মতো যন্ত্র বাজিয়ে উনি ওনার সংগীত পরিবেশনে নতুনত্ব আনার চেষ্টা করতেন।।
কি সুন্দর ছিল সেই দিনগুলি ! এখন আপনাদেরকে বলার জন্য যখন সেই পুরোনো কথাগুলি মনে করছি – তখন অজান্তেই আমার অন্তঃকরণ আনন্দে ভরে উঠছে, মনটা যেন অনাবিল এক শান্তিতে আপ্লুত হয়ে যাচ্ছে ! আমি আন্তরিকভাবে চাইছি – আপনারাও সকলে সেই একই আনন্দ ও শান্তি লাভ করুন !
ওঁ শান্তিঃ শান্তিঃ শান্তিঃ।৷ [ ক্রমশঃ]
আমরা আগেই বলেছিলাম যে, গুরুমহারাজের সাথে মিহির মহারাজের প্রায় পিতা-পুত্রের ন্যায় সম্পর্ক ছিল। মিহির মহারাজ একান্তে গুরুমহারাজের কাছে খুবই আব্দার করতেন, অল্পতেই অভিমান করতেন, আবার অভিযোগ-অনুযোগও করতেন। আমরা প্রথম প্রথম বনগ্রামে যাওয়া-আসা শুরু করার পরপরই মিহির মহারাজ (স্বামী প্রজ্ঞানন্দ), অমূল্য মহারাজ (স্বামী অভয়ানন্দ), খোকন মহারাজ (স্বামী আত্মানন্দ), মানিক মহারাজ (স্বামী অখন্ডানন্দ) প্রমুখরা বনগ্রাম আশ্রম ছেড়ে গুরুমহারাজের নির্দেশে নিজ নিজ আশ্রম তৈরি করে বা সাধন ভজনের জন্য স্থান নির্দিষ্ট করে চলে যান। মিহির মহারাজ গুরুজীর নির্দেশে গিয়েছিলেন হিমাচলে, ডালহৌসি শহরের সন্নিকট বনিখেত নামক স্থানে। সেখানেই উনি সাধন-ভজন করতেন এবং উত্তর ভারতের ভক্তবৃন্দদের সাথে বনগ্রাম মিশনের একজন সংযোগ-সাধকরূপে কাজ করতেন।
গুরুমহারাজ প্রতিবছর না হলেও ২/৩ বছরে অন্ততঃ একবার করে বনিখেতের ঐ আশ্রমটিতে যেতেন। আর উনি যখন ওখানে যেতেন, তখন যেন আশ্রমটিতে চাঁদের হাট বসে যেতো ! স্থানীয় মানুষজন, উত্তরভারতের মানুষজন, পশ্চিমবাংলার ভক্তেরা ছাড়াও বিদেশাগত ভক্তরাও ওখানে ভিড় জমাতো ! গঙ্গানারায়ন বন্দোপাধ্যায় মহাশয়ের “গুরুসঙ্গে হিমাচল” গ্রন্থে বনিখেত আশ্রমে গুরুমহারাজ থাকাকালীন সময়ের কিছুটা বর্ণনা পাওয়া যায়। তাছাড়া জয়দীপ ‘চরৈবেতি’ পত্রিকায় দু-একটা article লিখেছিল, যার মধ্যে গুরুমহারাজের সাথে ওর বনিখেত আশ্রমে কাটানোর স্মৃতিকথা রয়েছে।
বনিখেত আশ্রমের কথা থাক – আমরা আলোচনা করছিলাম মিহির মহারাজের কথা। ওই মহারাজ একটু অদ্ভুত চরিত্রের মানুষ (সন্ন্যাসী) ছিলেন। আমরা (আমি এবং ধাত্রীগ্রামের আনন্দ) চেষ্টা করছি ‘চরৈবেতি’ পত্রিকায় ওনার লেখা বেশ কিছু article আপনাদের কাছে পরিবেশন করার – একটু সময়-সুযোগ পেলেই অবশ্য এটা শুরু করবো ! ওনার লেখাগুলো পড়লেই আপনারাও বুঝতে পারবেন – কেন ওনাকে “অদ্ভুত ধরনের” মানুষ (সন্ন্যাসী) বলা হোল !
পড়াশোনার জীবনে উনি অতটা বিজ্ঞানানুরাগী ছিলেন না, কিন্তু পরবর্তীতে (অর্থাৎ গুরুজীর কাছে সন্ন্যাস নেবার পর) উনি ধর্ম বা আধ্যাত্মিকতাকে বর্তমানের জড়-বিজ্ঞান দিয়ে বুঝবার বা সকলকে বোঝাবার খুবই চেষ্টা করেছিলেন! তার প্রমাণ পাওয়া যায়_ ঐসব article-গুলোর মাধ্যমে! আমি শুনেছিলাম ‘চরৈবেতি’তে প্রকাশিত article-গুলি ছাড়াও ওনার বেশকিছু না-ছাপা manuscript-ও ছিল, যেগুলি থেকে হয়তো একটা বা দুটো গ্রন্থ হয়ে যেতে পারতো ! তবে সেইসব manuscript এখন কোথায় রয়েছে – আর সেগুলি আদৌ print হবে কি না – তা জানা যায় না ! আমি এটাও শুনেছিলাম যে, ঐ লেখাগুলির মধ্যে নাকি গুরুমহারাজ সম্বন্ধেও অনেক কথা লিপিবদ্ধ রয়েছে (উনি কখন আবার শরীর নেবেন, কেমন হবে সেই শরীর, গুরুমহারাজের স্থূল শরীর ত্যাগ – ইত্যাদি – যেগুলি গুরুমহারাজ একান্তে ওনার সাথে আলোচনা করেছিলেন)।
মিহির মহারাজ সাধারণতঃ শীতকালটা Bengal-এ কাটাতেন, কারণ হিমাচলে তখন প্রচন্ড শীত পড়তো, মাঝে মাঝে বরফপাতও হোত ঐসব অঞ্চলে(হিমাচলে)। তাই উনি শীতের দুই-আড়াই মাস এখানে(বাংলায়) কাটিয়ে যেতেন। উনি বনগ্রামে কম-ই থাকতেন, রায়না(ওনার জন্মভূমি)-তেও কম থাকতেন – তবে উনি ২৫-শে ডিসেম্বরের কাছাকাছি সময়টা (১৯৯০সালের পর থেকে) আজিমগঞ্জ আশ্রমে কাটাতেন এবং বাকি সময়টা উনি কাটাতে ভালবাসতেন সিঙ্গুর তত্ত্বমসি যোগাশ্রমে ! ওনার ছোট ছোট মজার মজার কথা __উপস্থিতজনকে আনন্দে মাতিয়ে রাখতো। যারজন্যে সেইসময়ে সিঙ্গুরাগত ছেলেমেয়েদের কাছে মিহির মহারাজের জনপ্রিয়তা তুঙ্গে ছিল।
মিহির মহারাজ বরাবরই একটু খেতে ভালোবাসতেন এবং আর পাঁচজনের চাইতে একটু বেশি পরিমাণেই খেতে পারতেন। তাই সিঙ্গুরের ভক্তেরা ওনাকে বাড়ি বাড়ি নেমন্তন্ন করে নিয়ে গিয়ে খাওয়াতেও ভালবাসতেন। মিহির মহারাজের বাউলগান রচনা ও গাওয়ার ক্ষমতা ছিল – সেটা আগেই বলা হয়েছিল। উনি বহুবার গুরুমহারাজকেও গান শুনিয়েছিলেন – ওনার গান শুনে গুরুমহারাজ খুবই সন্তুষ্ট হোতেন। একবার মিহির মহারাজের গানের সাথে গুরুজীকেও গলা মেলাতে দেখেছিলাম। মিহির মহারাজ এক এক সময়ে এক একরকম যন্ত্র বাজিয়ে গুরু মহারাজকে গান শোনাতেন। কোনো সময় গুবা বা খমক্ বাজিয়ে, কোনো সময় একতারা বাজিয়ে এবং কোনো সময়ে ছোট ‘কি বোর্ডের’ মতো যন্ত্র বাজিয়ে উনি ওনার সংগীত পরিবেশনে নতুনত্ব আনার চেষ্টা করতেন।।
কি সুন্দর ছিল সেই দিনগুলি ! এখন আপনাদেরকে বলার জন্য যখন সেই পুরোনো কথাগুলি মনে করছি – তখন অজান্তেই আমার অন্তঃকরণ আনন্দে ভরে উঠছে, মনটা যেন অনাবিল এক শান্তিতে আপ্লুত হয়ে যাচ্ছে ! আমি আন্তরিকভাবে চাইছি – আপনারাও সকলে সেই একই আনন্দ ও শান্তি লাভ করুন !
ওঁ শান্তিঃ শান্তিঃ শান্তিঃ।৷ [ ক্রমশঃ]
