গুরুমহারাজ স্বামী পরমানন্দের লীলা সহচরদের প্রসঙ্গক্রমে এখন রায়নার জগাদা (জগন্নাথ দত্ত)-র কথা আলোচনা করা হচ্ছিলো। আমরা আগের দিন জগাদার সাথে গুরুজীর প্রথম আলাপের কথা এবং সন্ধ্যামার বাড়ীতে সন্ধ্যার সময় গান-বাজনার আসরের কথায় ছিলাম৷ ঐসময় গুরুমহারাজ সারাদিন রুরাল ইলেকট্রিফিকেশনের কাজে থাকতেন এবং সন্ধ্যার সময় হারুদা, জগাদা, সন্ধ্যামা, মিহিরদা, অচ্যুৎদা, দিলীপদা – প্রমুখদের নিয়ে গান-বাজনা, আধ্যাত্মিক আলোচনা ইত্যাদির মাধ্যমে আনন্দ করতেন। আর গভীর রাত্রিতে উনি চলে যেতেন রায়নার শ্মশানে অথবা কোনো নির্জন স্থানে – যেখানে তিনি গভীর সাধনায় হোতেন নিমগ্ন।
গুরুমহারাজ রায়নায় যখন কর্মরত অবস্থায় ছিলেন, তার আগেই উনি মধ্যমগ্রাম বা অন্যান্যস্থানে ইলেকট্রিফিকেশনের কাজ করে এসেছিলেন। ফলে তৃষাণদা (স্বামী পরমেশ্বরানন্দ), খোকনদা (স্বামী আত্মানন্দ), মানিকদা (স্বামী অখন্ডানন্দ)- প্রমুখরাও ওখানে যাওয়া আসা করতো ! রায়না অঞ্চলে কাজ শেষ করেই উনি চক্ষণযাদী, ধামাস ইত্যাদি অঞ্চলে রুরাল ইলেক্ট্রিফিকেশনের কাজ করতে চলে গিয়েছিলেন। ফলে টগরদা (টগর মল্লিক),বিমলদা(বিমল সোম) প্রমুখরাও ধীরে ধীরে ঐ দলে যোগদান করতে শুরু করেছিলো।
যাইহোক, সেইসময় (রায়নায় ক্যাম্পে থাকাকালীন সময়ে) গুরু মহারাজের মধ্যে নানান ঐশ্বর্যের প্রকাশ ঘটে যেতো এবং রায়নার তৎকালীন সৌভাগ্যবান অনেক ভক্তগণই রয়েছেন – যাঁরা সেগুলি প্রত্যক্ষ করেছিলেন। সন্ধ্যামার বাড়িতে গান-বাজনার আসরে ‘ভাবস্থ’ হয়ে যাবার ঘটনা প্রায়ই ঘটতো, ভাবাবস্থায় উনি অনেক সময় নিজের কথাও বলতেন – আবার উপস্থিতজনেদেরও নানা কথা( ভূত,ভবিষ্যৎ) বলে দিতেন। উনি সেই অবস্থায় ঐ সকল ভক্তদের নানান আব্দার, দাবী ইত্যাদিও মিটিয়ে দিতেন। আনন্দময় ঐ মহাপুরুষটির সান্নিধ্যে থেকে ঐ কতিপয় ভক্তগন সদাসর্বদাই আনন্দমুখর হয়ে থাকতো ! ওনারাও সকলে সারাদিন নিজ নিজ কর্ম করতেন – কিন্তু দিনান্তে একবার রবীনদার সান্নিধ্য-সুধা না পেলেই নয়! গুরুমহারাজ স্বামী পরমানন্দ (তৎকালীন রবীন দা) যেন একটু একটু করে তাঁর ওই প্রিয় ভক্তদেরকে গ্রাস করে নিচ্ছিলেন !!
তখনকার জগাদা কেমন দুর্ধর্ষ প্রকৃতির মানুষ ছিলেন, সেকথা আগেই একটু বলা হয়েছে কিন্তু হারুদা (হারাধন ঘোষ, স্কুলশিক্ষক, বর্তমানে রায়না আশ্রমের ব্রহ্মচারী), মিহিরদা, অচ্যুতদা, দিলীপদা প্রমুখরাও কম কিছু ছিল না ! তখন হারুদা কলেজে পাঠরত। ছাত্র হিসাবে খুবই মেধাবী কিন্তু বদমাইশিতেও পয়লা নম্বর ! কলেজে ছাত্র-রাজনীতি করা যুবক ! ওনাদের একটা ইয়ং ব্যাচ্ ছিল – যারা একটা ক্লাব তৈরি করেছিল, যার নাম দিয়েছিল “বেকারেশ্বরী ক্লাব” (বেকার + ঈশ্বরী)! তখন ঐ গ্রুপের কেউই কোনো চাকরি করতো না – তাই বোধহয় এমন একটা নাম দেওয়া হয়েছিল। তবে ওই গ্রুপের সদস্যরা ছোটখাটো দুর্নীতিমূলক কাজে বেশ পোক্ত ছিল ! ওরা প্রথম দিনেই গুরুমহারাজের ক্যাম্পের কিছু মালপত্র সরিয়ে ফেলেছিল ! পরে অবশ্য গুরুমহারাজ ধরে ফেলেছিলেন, কিন্তু ওরা এটা করেছিল।
ধীরে ধীরে ঐসব ছোটো ছোটো গ্রুপ ভেঙে গিয়েছিল এবং রায়নায় একটা নতুন গ্রুপ তৈরি হয়েছিল, যেটাকে বলা যায় আগামী দিনের “পরমানন্দ মন্ডলী”। জগাদার বাড়িতে, সন্ধ্যামার বাড়িতে, অচ্যুত বড়ুয়ার বাড়িতে – ইত্যাদি নানান স্থানে রবীনদাকে নিয়ে ভক্তমণ্ডলী আসর বসাতো আর আনন্দময় পুরুষ পরমানন্দকে সাথে পেয়ে সকলেই পরমানন্দে সময় কাটাতো ! অচ্যুতদাও খুবই আধ্যাত্মিক প্রকৃতির মানুষ ছিলেন। ওনার ভাইয়েরা (বিদ্যুৎ বড়ুয়া এবং পার্থ বড়ুয়া) ও বোনেরা (মাধু, …..)-ও গুরুমহারাজের ভক্ত হয়ে উঠেছিল। বিদ্যুৎ বড়ুয়া পরবর্তীতে D.M.S.পাস করে হোমিওপ্যাথি প্র্যাকটিস শুরু করেন এবং সেই শুরু থেকে আজও বনগ্রাম আশ্রমে দাতব্য চিকিৎসালয়ে সপ্তাহে একদিন (প্রতি রবিবার) free হোমিওপ্যাথি চিকিৎসা এবং আকুপাংচার চিকিৎসা করেন ! গুরুমহারাজ বিদ্যুৎদা এবং দীপ্তি মহারাজ (স্বামী ভূমানন্দ)-কে দক্ষিণ ভারতে ডঃ দেবনাথের কাছে পাঠিয়ে “আকুপাংচার” শিক্ষা করিয়ে এনেছিলেন। বর্তমানে ডঃ বিদ্যুৎ প্রথিতযশা ডাক্তার হিসেবে খ্যাতি অর্জন করেছেন৷
অচ্যুত বড়ুয়ার মা-ও খুবই বাৎসল্যপরায়ণ নারী ছিলেন। উনি গুরুমহারাজকে সন্তানবৎ স্নেহ করতেন৷ তবে রায়নায় থাকাকালীন গুরুমহারাজ সর্বাপেক্ষা বেশি জগাদা-দের বাড়িতেই কাটাতেন। ওইখানেই উনি যেন অধিক স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করতেন।
জগাদাদের সংসারে তখন যত বেশি অভাব, গুরুমহারাজ স্বামী পরমানন্দের তখন যেন তত বেশি আবদার, ততো বেশি প্রশ্রয় ! গুরুমহারাজ তো থাকতেনই – তায় আবার বহিরাগত ভক্তরাও (তৃষাণ মহারাজ বা অন্যান্য মহারাজেরা) ঐ বাড়িতে থাকা-খাওয়া করতেন। জগাদার সমগ্র পরিবার নিজেদের সমস্ত অসুবিধা ভুলে গুরুমহারাজের সেবার কোন ত্রুটি যাতে না হয় – তার চেষ্টা সর্বান্তকরণে করতেন ! কিন্তু একদিন আর কিছুই ছিল না – ছিল শুধুমাত্র “খুদঘাঁটা”! ভগবান পরমানন্দ সেদিন হাসিমুখে বাড়ির সকলের সাথে ওই বিদুরের “খুদঘাঁটা”-ই পরম তৃপ্তি করে খেয়ে নিয়েছিলেন ! [ক্রমশঃ]
গুরুমহারাজ রায়নায় যখন কর্মরত অবস্থায় ছিলেন, তার আগেই উনি মধ্যমগ্রাম বা অন্যান্যস্থানে ইলেকট্রিফিকেশনের কাজ করে এসেছিলেন। ফলে তৃষাণদা (স্বামী পরমেশ্বরানন্দ), খোকনদা (স্বামী আত্মানন্দ), মানিকদা (স্বামী অখন্ডানন্দ)- প্রমুখরাও ওখানে যাওয়া আসা করতো ! রায়না অঞ্চলে কাজ শেষ করেই উনি চক্ষণযাদী, ধামাস ইত্যাদি অঞ্চলে রুরাল ইলেক্ট্রিফিকেশনের কাজ করতে চলে গিয়েছিলেন। ফলে টগরদা (টগর মল্লিক),বিমলদা(বিমল সোম) প্রমুখরাও ধীরে ধীরে ঐ দলে যোগদান করতে শুরু করেছিলো।
যাইহোক, সেইসময় (রায়নায় ক্যাম্পে থাকাকালীন সময়ে) গুরু মহারাজের মধ্যে নানান ঐশ্বর্যের প্রকাশ ঘটে যেতো এবং রায়নার তৎকালীন সৌভাগ্যবান অনেক ভক্তগণই রয়েছেন – যাঁরা সেগুলি প্রত্যক্ষ করেছিলেন। সন্ধ্যামার বাড়িতে গান-বাজনার আসরে ‘ভাবস্থ’ হয়ে যাবার ঘটনা প্রায়ই ঘটতো, ভাবাবস্থায় উনি অনেক সময় নিজের কথাও বলতেন – আবার উপস্থিতজনেদেরও নানা কথা( ভূত,ভবিষ্যৎ) বলে দিতেন। উনি সেই অবস্থায় ঐ সকল ভক্তদের নানান আব্দার, দাবী ইত্যাদিও মিটিয়ে দিতেন। আনন্দময় ঐ মহাপুরুষটির সান্নিধ্যে থেকে ঐ কতিপয় ভক্তগন সদাসর্বদাই আনন্দমুখর হয়ে থাকতো ! ওনারাও সকলে সারাদিন নিজ নিজ কর্ম করতেন – কিন্তু দিনান্তে একবার রবীনদার সান্নিধ্য-সুধা না পেলেই নয়! গুরুমহারাজ স্বামী পরমানন্দ (তৎকালীন রবীন দা) যেন একটু একটু করে তাঁর ওই প্রিয় ভক্তদেরকে গ্রাস করে নিচ্ছিলেন !!
তখনকার জগাদা কেমন দুর্ধর্ষ প্রকৃতির মানুষ ছিলেন, সেকথা আগেই একটু বলা হয়েছে কিন্তু হারুদা (হারাধন ঘোষ, স্কুলশিক্ষক, বর্তমানে রায়না আশ্রমের ব্রহ্মচারী), মিহিরদা, অচ্যুতদা, দিলীপদা প্রমুখরাও কম কিছু ছিল না ! তখন হারুদা কলেজে পাঠরত। ছাত্র হিসাবে খুবই মেধাবী কিন্তু বদমাইশিতেও পয়লা নম্বর ! কলেজে ছাত্র-রাজনীতি করা যুবক ! ওনাদের একটা ইয়ং ব্যাচ্ ছিল – যারা একটা ক্লাব তৈরি করেছিল, যার নাম দিয়েছিল “বেকারেশ্বরী ক্লাব” (বেকার + ঈশ্বরী)! তখন ঐ গ্রুপের কেউই কোনো চাকরি করতো না – তাই বোধহয় এমন একটা নাম দেওয়া হয়েছিল। তবে ওই গ্রুপের সদস্যরা ছোটখাটো দুর্নীতিমূলক কাজে বেশ পোক্ত ছিল ! ওরা প্রথম দিনেই গুরুমহারাজের ক্যাম্পের কিছু মালপত্র সরিয়ে ফেলেছিল ! পরে অবশ্য গুরুমহারাজ ধরে ফেলেছিলেন, কিন্তু ওরা এটা করেছিল।
ধীরে ধীরে ঐসব ছোটো ছোটো গ্রুপ ভেঙে গিয়েছিল এবং রায়নায় একটা নতুন গ্রুপ তৈরি হয়েছিল, যেটাকে বলা যায় আগামী দিনের “পরমানন্দ মন্ডলী”। জগাদার বাড়িতে, সন্ধ্যামার বাড়িতে, অচ্যুত বড়ুয়ার বাড়িতে – ইত্যাদি নানান স্থানে রবীনদাকে নিয়ে ভক্তমণ্ডলী আসর বসাতো আর আনন্দময় পুরুষ পরমানন্দকে সাথে পেয়ে সকলেই পরমানন্দে সময় কাটাতো ! অচ্যুতদাও খুবই আধ্যাত্মিক প্রকৃতির মানুষ ছিলেন। ওনার ভাইয়েরা (বিদ্যুৎ বড়ুয়া এবং পার্থ বড়ুয়া) ও বোনেরা (মাধু, …..)-ও গুরুমহারাজের ভক্ত হয়ে উঠেছিল। বিদ্যুৎ বড়ুয়া পরবর্তীতে D.M.S.পাস করে হোমিওপ্যাথি প্র্যাকটিস শুরু করেন এবং সেই শুরু থেকে আজও বনগ্রাম আশ্রমে দাতব্য চিকিৎসালয়ে সপ্তাহে একদিন (প্রতি রবিবার) free হোমিওপ্যাথি চিকিৎসা এবং আকুপাংচার চিকিৎসা করেন ! গুরুমহারাজ বিদ্যুৎদা এবং দীপ্তি মহারাজ (স্বামী ভূমানন্দ)-কে দক্ষিণ ভারতে ডঃ দেবনাথের কাছে পাঠিয়ে “আকুপাংচার” শিক্ষা করিয়ে এনেছিলেন। বর্তমানে ডঃ বিদ্যুৎ প্রথিতযশা ডাক্তার হিসেবে খ্যাতি অর্জন করেছেন৷
অচ্যুত বড়ুয়ার মা-ও খুবই বাৎসল্যপরায়ণ নারী ছিলেন। উনি গুরুমহারাজকে সন্তানবৎ স্নেহ করতেন৷ তবে রায়নায় থাকাকালীন গুরুমহারাজ সর্বাপেক্ষা বেশি জগাদা-দের বাড়িতেই কাটাতেন। ওইখানেই উনি যেন অধিক স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করতেন।
জগাদাদের সংসারে তখন যত বেশি অভাব, গুরুমহারাজ স্বামী পরমানন্দের তখন যেন তত বেশি আবদার, ততো বেশি প্রশ্রয় ! গুরুমহারাজ তো থাকতেনই – তায় আবার বহিরাগত ভক্তরাও (তৃষাণ মহারাজ বা অন্যান্য মহারাজেরা) ঐ বাড়িতে থাকা-খাওয়া করতেন। জগাদার সমগ্র পরিবার নিজেদের সমস্ত অসুবিধা ভুলে গুরুমহারাজের সেবার কোন ত্রুটি যাতে না হয় – তার চেষ্টা সর্বান্তকরণে করতেন ! কিন্তু একদিন আর কিছুই ছিল না – ছিল শুধুমাত্র “খুদঘাঁটা”! ভগবান পরমানন্দ সেদিন হাসিমুখে বাড়ির সকলের সাথে ওই বিদুরের “খুদঘাঁটা”-ই পরম তৃপ্তি করে খেয়ে নিয়েছিলেন ! [ক্রমশঃ]
