শ্রী শ্রী গুরুমহারাজ ও তাঁর ভক্ত-শিষ্য-পার্ষদদের সম্বন্ধে কিছু কিছু কথা বলা হচ্ছিলো। এখন আমরা করিমপুরে পঙ্কজবাবু (মন্ডল)-র কথায় ছিলাম। পঙ্কজ মণ্ডল খুব সুন্দর কথা বলতে পারতেন। গুরুমহারাজের কথা, তাঁর মহিমার কথা খুব ভালো ভালো ভাষা দিয়ে এতো সুন্দর করে বলতেন যে, যে শুনতো সেই আকৃষ্ট হোতো ! কত মানুষ বনগ্রাম আশ্রমে এসেছে – শুধুমাত্র পঙ্কজদার মুখে গুরুমহারাজের কথা শুনে ! আমি শুনেছিলাম যে, পঙ্কজবাবু শেষের দিকে অফিসের (ইলেকট্রিক ডিপার্টমেন্ট) কাজ, তাঁর পরিবারের দায়-দায়িত্ব এইসব উপেক্ষা করে, ‘পরমানন্দ মিশনের কাজে লাগতে পারে’– এমন কোনো মানুষ (ব্যবসাদার বা চাকুরে)-দের পিছনে লেগে থাকতেন – যাতে সেই ব্যক্তি অন্ততঃ একবারের জন্য হোলেও বনগ্রাম আশ্রমে গিয়ে গুরুদেব স্বামী পরমানন্দকে দেখে আসে !
এগুলোও সাধনা ! গুরুগতপ্রাণ হয়ে গুরু-আশ্রমের যাতে একটু ‘আসান’ হয়, তারজন্য সর্বদা নিয়ত থাকা – সাধনা নয় তো আর কি-ই বা হোতে পারে ! একজন ধনী ভদ্রলোককে আশ্রমমুখী করার জন্য দিনের পর দিন উনি অনিচ্ছা সত্ত্বেও তার সঙ্গে বসে বসে ‘তাস’ খেলেছেন এবং অবশেষে সেই ভদ্রলোককে আশ্রমের নিয়ে আসতে সমর্থ হয়েছিলেন। পরে সেই ব্যবসাদার ভদ্রলোক গুরুমহারাজের কাছে দীক্ষাও নিয়েছিলেন এবং আশ্রমের যেকোনো development work-এ বিশেষভাবে মহারাজদের পাশে দাঁড়াতেন।
আগেই বলা হয়েছে যে, প্রথম প্রথম দীক্ষা নেবার পর পঙ্কজবাবু খুব ‘জোর’ সাধন-ভজন করতেন। প্রত্যেক রাত্রে ওনার বহরমপুরের বাড়ির ছাদে বা কৃষ্ণনগরের বাসায় (ওখানকার ইলেকট্রিক অফিসেই উনি চাকরি করতেন) গভীর রাত্রি পর্যন্ত উনি ধ্যান করতেন। সেই সময় রাত্রে ধ্যান করাকালীন ওনার নানারকম ‘দর্শন’ হোতো ! এইসব ‘দর্শনে’র গল্পগুলি যখন উনি পরবর্তীকালে আমাদের কাছে বলতেন – তখন অনেকেই সেই কথাগুলি বিশ্বাস করতো, আবার অনেকে বিশ্বাস করতো না ! বিশ্বাস না করার অবশ্য যথেষ্ট কারণ ছিল। আসলে উনি এমন এমন কথা বলতেন যাতে করে মনে হতো উনি নিজেকে খুব উন্নত অবস্থার একজন মহাপুরুষ হিসাবে প্রকাশ করতে চাইছেন ! আর এটাই শ্রোতৃমন্ডলীর পক্ষে শুনে যাওয়াটা বিরক্তিকর হয়ে যেতো !
তাছাড়া ওই গোটাকয়েক দর্শনের কথা বারবার বলে বলে__ উনি ঘটনাগুলিকেও ‘খেলো’ করে ফেলেছিলেন ! প্রথমবার যে ব্যক্তি ওনার মুখে ওইসব দর্শনের কথা শুনতো – সে অবাক হয়ে যেতো ! আর ঐরকম একটা মহান ভক্ত-সাধকের সান্নিধ্যলাভ করতে পেরে সে যেন ধন্য হয়ে গেছে___এমন একটা ভাব দেখাতো! এইভাবে পঙ্কজবাবু (মণ্ডল)-কে ঘিরে সেই সময় বেশ একটা ভক্তমন্ডলী তৈরী হয়ে গিয়েছিল। পঙ্কজবাবুর ভাবালুতার প্রভাবে সেইসব ভক্তদের (বিশেষতঃ মহিলা ভক্ত) মধ্যেও আমরা খুবই ভাবালুতার প্রাধান্য দেখতাম। ভাবালুতা বা আবেগপ্রবণতা ! গুরুমহারাজ অবশ্য এই ‘আবেগপ্রবণ’-দেরকে খুবই বকাবকি করতেন। বলতেন – ” এখানে যারা আসে তারা বেশিরভাগই তো দেখছি হয় (আবেগ)’বেগকুমার’ না হয় ‘বেগকুমারী’ ! তোরা তোদের এই ‘আবেগ’কে সংযত কর্ ! না হলে পরমানন্দের স্বাদ পাবি কি করে ! একটুতেই ওতটা উতলা হলে চলবে কেন ?”
কিন্তু পঙ্কজবাবুর আবেগ-উচ্ছ্বাস শেষ বয়স পর্যন্তও কমেনি ! উনি গুরুমহারাজের জন্য (অর্থাৎ আশ্রমের জন্য) যেমন করেছেন, তেমনি গুরুমহারাজও ওনাকে অনেকটাই শক্তি বা সামর্থ্য (আধ্যাত্মিকভাবে) দান করেছিলেন। এর ফলে পঙ্কজবাবু লোক-সংগ্রাহক হিসাবে কাজ করেছেন – করিমপুর, বোলপুর (আদিত্যপুর), শিলিগুড়ি (বিধাননগর) ইত্যাদি স্থানগুলিতে পরমানন্দ মিশনের শাখা তৈরীর কাজে এবং সেগুলির বিকাশে সক্রিয় ভূমিকা পালন করেছেন, বহু ভক্তমন্ডলীর কাছে বিশেষ শ্রদ্ধার আসন তৈরি করেছেন – এগুলো তো আমরা নিজের চোখে দেখেছি !
আবার দেখেছিলাম – ওই ব্যক্তির মধ্যেই কতকটা প্রচ্ছন্ন এবং সময়ে সময়ে প্রকট ‘অহং’-ভাবের প্রকাশ ঘটতে ! গুরুমহারাজের কোষ্ঠীতে ছিল ওনার ‘রাশ’নাম ‘পঙ্কজ’ ! পঙ্কজবাবু সেটাকেও capitalised করতে ছাড়তেন না ! আবেগের আতিশয্যে নিজেকে “সপ্তর্ষিমণ্ডলের সদস্য” বলতেও তাঁর মুখে আটকাতো না ! কোনো কোনো সময় নিজেকে ‘ঋষিশ্রেষ্ঠ’ বলেও আমাদের কাছে প্রকাশ করে ফেলতেন ! আমরা ঐ ধরনের কথাবার্তা শুনে অনেক সময় মৃদু প্রতিবাদ করতাম (বয়স্ক মানুষ, সম্মানীয় মানুষ – হয়তো মনে কষ্ট পাবেন, তাই জোর করে কিছু বলা যেতো না ! এইসব আবেগপ্রবণ মানুষের আবেগে জোর ধাক্কা লাগলে এরা যে কোনো অঘটন ঘটাতে পারে, এমনকি suicide-ও করতে পারে ! তখন আবার নিমিত্তকারণহেতু দোষের ভাগীদার হতে হবে !)–কিন্তু তাতে কোনো কাজ হোতো না ! উনি নিজের জায়গায় অবিচল থাকতেন।
শেষ বয়সটায় উনি ওনার সাধন-সম্পদের প্রায় সবটাই হারিয়ে ফেলেছিলেন– এটাও দেখলাম ! ধনী মানুষ, নির্ধন হয়ে গেলে যে অব্যক্ত যন্ত্রণা ভোগ করে –অধ্যাত্মসম্পদ হারিয়ে ওনার ততোধিক যন্ত্রণা ভোগ করতেন । উনি প্রায়ই ফোনে আমার কাছে সেসব কথা প্রকাশ করতেন। আমি ছাড়াও উনি পুরোনো অনেক ভারতকেই ফোন করতেন। কিন্তু আমাদের আর কি-ই বা করার ! গুরুমহারাজই জানেন – তাঁর প্রিয় এই ভক্তটির কিসে মঙ্গল হবে ! আর অতি অবশ্যই উনি বর্তমানে সুক্ষশরীরে থাকা পঙ্কজবাবুর জন্য সেই ব্যবস্থা করে দিয়েছেন।।(ক্রমশঃ)
[🙏জয় স্বামী পরমানন্দ🙏]
এগুলোও সাধনা ! গুরুগতপ্রাণ হয়ে গুরু-আশ্রমের যাতে একটু ‘আসান’ হয়, তারজন্য সর্বদা নিয়ত থাকা – সাধনা নয় তো আর কি-ই বা হোতে পারে ! একজন ধনী ভদ্রলোককে আশ্রমমুখী করার জন্য দিনের পর দিন উনি অনিচ্ছা সত্ত্বেও তার সঙ্গে বসে বসে ‘তাস’ খেলেছেন এবং অবশেষে সেই ভদ্রলোককে আশ্রমের নিয়ে আসতে সমর্থ হয়েছিলেন। পরে সেই ব্যবসাদার ভদ্রলোক গুরুমহারাজের কাছে দীক্ষাও নিয়েছিলেন এবং আশ্রমের যেকোনো development work-এ বিশেষভাবে মহারাজদের পাশে দাঁড়াতেন।
আগেই বলা হয়েছে যে, প্রথম প্রথম দীক্ষা নেবার পর পঙ্কজবাবু খুব ‘জোর’ সাধন-ভজন করতেন। প্রত্যেক রাত্রে ওনার বহরমপুরের বাড়ির ছাদে বা কৃষ্ণনগরের বাসায় (ওখানকার ইলেকট্রিক অফিসেই উনি চাকরি করতেন) গভীর রাত্রি পর্যন্ত উনি ধ্যান করতেন। সেই সময় রাত্রে ধ্যান করাকালীন ওনার নানারকম ‘দর্শন’ হোতো ! এইসব ‘দর্শনে’র গল্পগুলি যখন উনি পরবর্তীকালে আমাদের কাছে বলতেন – তখন অনেকেই সেই কথাগুলি বিশ্বাস করতো, আবার অনেকে বিশ্বাস করতো না ! বিশ্বাস না করার অবশ্য যথেষ্ট কারণ ছিল। আসলে উনি এমন এমন কথা বলতেন যাতে করে মনে হতো উনি নিজেকে খুব উন্নত অবস্থার একজন মহাপুরুষ হিসাবে প্রকাশ করতে চাইছেন ! আর এটাই শ্রোতৃমন্ডলীর পক্ষে শুনে যাওয়াটা বিরক্তিকর হয়ে যেতো !
তাছাড়া ওই গোটাকয়েক দর্শনের কথা বারবার বলে বলে__ উনি ঘটনাগুলিকেও ‘খেলো’ করে ফেলেছিলেন ! প্রথমবার যে ব্যক্তি ওনার মুখে ওইসব দর্শনের কথা শুনতো – সে অবাক হয়ে যেতো ! আর ঐরকম একটা মহান ভক্ত-সাধকের সান্নিধ্যলাভ করতে পেরে সে যেন ধন্য হয়ে গেছে___এমন একটা ভাব দেখাতো! এইভাবে পঙ্কজবাবু (মণ্ডল)-কে ঘিরে সেই সময় বেশ একটা ভক্তমন্ডলী তৈরী হয়ে গিয়েছিল। পঙ্কজবাবুর ভাবালুতার প্রভাবে সেইসব ভক্তদের (বিশেষতঃ মহিলা ভক্ত) মধ্যেও আমরা খুবই ভাবালুতার প্রাধান্য দেখতাম। ভাবালুতা বা আবেগপ্রবণতা ! গুরুমহারাজ অবশ্য এই ‘আবেগপ্রবণ’-দেরকে খুবই বকাবকি করতেন। বলতেন – ” এখানে যারা আসে তারা বেশিরভাগই তো দেখছি হয় (আবেগ)’বেগকুমার’ না হয় ‘বেগকুমারী’ ! তোরা তোদের এই ‘আবেগ’কে সংযত কর্ ! না হলে পরমানন্দের স্বাদ পাবি কি করে ! একটুতেই ওতটা উতলা হলে চলবে কেন ?”
কিন্তু পঙ্কজবাবুর আবেগ-উচ্ছ্বাস শেষ বয়স পর্যন্তও কমেনি ! উনি গুরুমহারাজের জন্য (অর্থাৎ আশ্রমের জন্য) যেমন করেছেন, তেমনি গুরুমহারাজও ওনাকে অনেকটাই শক্তি বা সামর্থ্য (আধ্যাত্মিকভাবে) দান করেছিলেন। এর ফলে পঙ্কজবাবু লোক-সংগ্রাহক হিসাবে কাজ করেছেন – করিমপুর, বোলপুর (আদিত্যপুর), শিলিগুড়ি (বিধাননগর) ইত্যাদি স্থানগুলিতে পরমানন্দ মিশনের শাখা তৈরীর কাজে এবং সেগুলির বিকাশে সক্রিয় ভূমিকা পালন করেছেন, বহু ভক্তমন্ডলীর কাছে বিশেষ শ্রদ্ধার আসন তৈরি করেছেন – এগুলো তো আমরা নিজের চোখে দেখেছি !
আবার দেখেছিলাম – ওই ব্যক্তির মধ্যেই কতকটা প্রচ্ছন্ন এবং সময়ে সময়ে প্রকট ‘অহং’-ভাবের প্রকাশ ঘটতে ! গুরুমহারাজের কোষ্ঠীতে ছিল ওনার ‘রাশ’নাম ‘পঙ্কজ’ ! পঙ্কজবাবু সেটাকেও capitalised করতে ছাড়তেন না ! আবেগের আতিশয্যে নিজেকে “সপ্তর্ষিমণ্ডলের সদস্য” বলতেও তাঁর মুখে আটকাতো না ! কোনো কোনো সময় নিজেকে ‘ঋষিশ্রেষ্ঠ’ বলেও আমাদের কাছে প্রকাশ করে ফেলতেন ! আমরা ঐ ধরনের কথাবার্তা শুনে অনেক সময় মৃদু প্রতিবাদ করতাম (বয়স্ক মানুষ, সম্মানীয় মানুষ – হয়তো মনে কষ্ট পাবেন, তাই জোর করে কিছু বলা যেতো না ! এইসব আবেগপ্রবণ মানুষের আবেগে জোর ধাক্কা লাগলে এরা যে কোনো অঘটন ঘটাতে পারে, এমনকি suicide-ও করতে পারে ! তখন আবার নিমিত্তকারণহেতু দোষের ভাগীদার হতে হবে !)–কিন্তু তাতে কোনো কাজ হোতো না ! উনি নিজের জায়গায় অবিচল থাকতেন।
শেষ বয়সটায় উনি ওনার সাধন-সম্পদের প্রায় সবটাই হারিয়ে ফেলেছিলেন– এটাও দেখলাম ! ধনী মানুষ, নির্ধন হয়ে গেলে যে অব্যক্ত যন্ত্রণা ভোগ করে –অধ্যাত্মসম্পদ হারিয়ে ওনার ততোধিক যন্ত্রণা ভোগ করতেন । উনি প্রায়ই ফোনে আমার কাছে সেসব কথা প্রকাশ করতেন। আমি ছাড়াও উনি পুরোনো অনেক ভারতকেই ফোন করতেন। কিন্তু আমাদের আর কি-ই বা করার ! গুরুমহারাজই জানেন – তাঁর প্রিয় এই ভক্তটির কিসে মঙ্গল হবে ! আর অতি অবশ্যই উনি বর্তমানে সুক্ষশরীরে থাকা পঙ্কজবাবুর জন্য সেই ব্যবস্থা করে দিয়েছেন।।(ক্রমশঃ)
[🙏জয় স্বামী পরমানন্দ🙏]
