শ্রী শ্রী গুরুমহারাজ স্বামী পরমানন্দের ভক্ত, পার্ষদ ইত্যাদিদের কথা বলা হচ্ছিলো। একটা কথা কিন্তু এখানে বলে রাখা ভালো যে, ভগবানের পার্ষদদের তবুও একটু-আধটু কূলকিনারা করা যায় বা তাদের কার্যকলাপ দেখে হয়তো recognise করা যায়_’তাঁরা বিশেষ কেউ হয়তো হবেন’। কিন্তু ভগবানের ভক্তদের সংখ্যা নির্ণয় করা বা তাদের সাথে ভগবানের লীলাবিলাসের ছোটোখাটো ‘কথা ও কাহিনী’ সম্পূর্ণভাবে কখনোই জানা যায় না ! কোনো কোনো ভক্ত যদি সেই লীলার কিয়দংশ কখনো কোনো লেখকের সামনে প্রকাশ করে ফেলে – তবেই পরবর্তীকালে মানুষেরা ওই সমস্ত ভক্তদের সাথে ভগবানের লীলার কথা লেখার মাধ্যমে জানতে পারে। আর ভক্তপ্রবরগণ অর্থাৎ ভগবানের বিশেষ ভক্তগণ (এঁরা পার্ষদও হোতে পারেন), যাদের লীলার কথা বহুকাল ধরে মনুষ্যসমাজে একটা ‘মাইলস্টোন’ হিসাবে থেকে যায়। উদাহরন হিসাবে আধুনিককালে এমন দু-একজনের নাম করা যায় যেমন – মহাপ্রভুর সাথে শ্রীবাসের লীলা, ঠাকুরের সাথে ভক্ত-ভৈরব গিরিশের লীলা ইত্যাদি।
ভগবান পরমানন্দ লীলাতেও এই ধরনের দু-চারজন প্রমুখ ভক্ত নিশ্চয়ই রয়েছেন যাঁদের সাথে তাঁর লীলাকাহিনীর কথা বহুকাল ধরে মানুষ মনে রাখবে, সেইগুলিই আবার এই যুগের নতুন “মাইলস্টোন” হবে !
বই পড়ে সাধারণত মানুষ এইসব বিশেষ বিশেষ লীলার কথা জানতে পারে আর যেগুলি পড়ে বা শুনেই ‘আহা’ ‘আহা’ করে ! আমরাও তো করেছি ! স্বামী পরমানন্দের কাছে আসার আগে কত ধর্মগ্রন্থ-ই পড়েছি, ভারতের সাধক সাধিকাদের কথা পড়ে আকুল হয়েছি, শ্রীচৈতন্যবিষয়ক গ্রন্থগুলি পাঠ করে কেঁদে আকুল হয়েছি – নয়নের জলকে বাধা মানাতে পারিনি! ঠাকুর শ্রীরামকৃষ্ণবিষয়ক বইগুলি পড়ে কখনো ভক্তিতে আপ্লুত হয়েছি, কখনো বেদনায় অব্যক্ত কষ্ট পেয়েছি, আবার কখনো ওইসব গ্রন্থ পড়তে পড়তে আপন মনেই হো হো করে হেসে উঠেছি ! বাড়িতে আমার গর্ভধারিনী মা রান্না করতে করতে শুনতে পেয়ে বলেছেন – ” কি হোলো রে ! ক্ষ্যাপার মতো ঘরে বসে বসে অত জোরে জোরে হাসছিস কেন ?” আমি আর কি উত্তর দেব ! বলতে হয়তো ইচ্ছে হোতো “পাগলের পাল্লায় পড়লে যে ক্ষ্যাপা ( পাগল নয়, কারণ পাগল হওয়া কঠিন ! গুরুমহারাজ বলেছিলেন – ” যিনি পেয়েছেন – তিনিই পাগল।”) না হয়ে উপায় থাকেনা !
যাইহোক, কথা হচ্ছিলো পরমানন্দ ভক্তদের প্রসঙ্গে। এইবারের ভগবানের পরমানন্দ লীলায় প্রায় সমগ্র পৃথিবীব্যাপী তাঁর কর্মকাণ্ড ! আর এবার তিনি অন্য কারো উপর (অর্থাৎ তাঁর পার্ষদের) কিছু চাপিয়ে দেননি – তিনি নিজেই সমস্ত জায়গায় ছুটে ছুটে গেছেন, সেখানকার ভক্তমন্ডলীর সাথে যোগাযোগ করেছেন, তাঁদেরকে আকর্ষণী মুদ্রায় টেনে এনেছেন এবং পরে তাঁদেরকে কাজে লাগিয়েছেন ! তাই এবার পরমানন্দ ভক্তের সংখ্যাও অজস্র আর ছোটখাটো লীলাকাহিনীর সংখ্যাও অজস্র ! পরমানন্দ জগতে এমন ভক্ত খুবই কম রয়েছে (এই কম সংখ্যার মধ্যে এমন হোতে পারে যে, যারা দু-একবার ওনার সাথে যোগাযোগ করে আর বনগ্রামে যায়ও নি, তাঁর নির্দেশও পালন করেনি, গুরুবাক্যকে অবহেলা করেছে) যাদের সাথে পরমানন্দের কোনো না কোনো ‘লীলা’ হয়নি !
এখানে লীলা বলতে আমি বলতে চাইছি – ওই সমস্ত ব্যক্তিদের জীবনে এমন কিছু ছোটখাটো ঘটনা ঘটে গেছে যা লৌকিক নয় অর্থাৎ এমন কিছু ঘটনা – যা ঘটার নয়, কিন্তু পরমানন্দের কৃপায় ঘটে গেছে ! এমন কিছু চাহিদা যা মেটার নয়, কিন্তু পরমানন্দের কৃপায় তা মিটে গেছে !
তবে,এ তো গেল সাধারণ চাহিদার কথা বা প্রার্থনা পূরণের কথা ! এবার আসি যারা নিয়মিত ধ্যান-জপ করেন – তাদের কথায় ! গুরুজীর সাথে সাক্ষাৎ হবার পর বা তাঁর touch বা সংস্পর্শ পাওয়ার পর এমন বহু ব্যক্তির জীবনেই বিভিন্নভাবে আধ্যাত্মিক শক্তি লাভ হয়েছে ! তার শরীর অভ্যন্তরস্থ কুণ্ডলিনী শক্তি জাগ্রত হয়েছে, বিভিন্ন চক্রে ওই শক্তির ক্রিয়া শুরু হয়েছে, বিভিন্ন দেব-দেবী, মহাপুরুষের দর্শন হয়েছে – স্বামী পরমানন্দ-ই যে সমস্ত মহাপুরুষ, দেবদেবীর সম্মিলিত রূপ তার বোধও হয়েছে।
সমস্ত এই ধরনের পরমানন্দ ভক্তরা যদি তাদের জীবনের সেই সব অভিজ্ঞতার কথা __সকল ভক্তদের কাছে তুলে ধরে – তাহলে কত খন্ড যে “পরমানন্দ লীলাপ্রসঙ্গ” সৃষ্টি হতে পারে, তার ইয়ত্তা করা যাবে না ! আমার সকল পরমানন্দ-ভক্তদের কাছে অনুরোধ – তারা যদি তাদের জীবনের ওইসব মধুর স্মৃতি, ওইসব উপলব্ধি-অনুভূতি সবার সাথে শেয়ার করেন তাহলে অনেকেই আরও অনুপ্রাণিত হবে ! অবশ্য অধ্যাত্মজগতের যে ‘বোধ’ – সেটা তো শেয়ার হয় না, সেটা নিজস্ব। গুরুজী বলেছিলেন – ” গুরুর কাছে পাওয়া বা সাধন করে পাওয়া অধ্যাত্মসম্পদ স্ত্রীলোকের বক্ষ-সম্পদের ন্যায় গোপন রাখতে হয়। তা শুধু স্বামী এবং সন্তানের কাছেই উন্মুক্ত হতে পারে !” তাই এই সম্পদ গুরুর কাছে এবং পরবর্তীতে ওই ব্যক্তির শিষ্যদের কাছে উন্মুক্ত হোতে পারে_অন্য কারো কাছে নয়। [ক্রমশঃ]
ভগবান পরমানন্দ লীলাতেও এই ধরনের দু-চারজন প্রমুখ ভক্ত নিশ্চয়ই রয়েছেন যাঁদের সাথে তাঁর লীলাকাহিনীর কথা বহুকাল ধরে মানুষ মনে রাখবে, সেইগুলিই আবার এই যুগের নতুন “মাইলস্টোন” হবে !
বই পড়ে সাধারণত মানুষ এইসব বিশেষ বিশেষ লীলার কথা জানতে পারে আর যেগুলি পড়ে বা শুনেই ‘আহা’ ‘আহা’ করে ! আমরাও তো করেছি ! স্বামী পরমানন্দের কাছে আসার আগে কত ধর্মগ্রন্থ-ই পড়েছি, ভারতের সাধক সাধিকাদের কথা পড়ে আকুল হয়েছি, শ্রীচৈতন্যবিষয়ক গ্রন্থগুলি পাঠ করে কেঁদে আকুল হয়েছি – নয়নের জলকে বাধা মানাতে পারিনি! ঠাকুর শ্রীরামকৃষ্ণবিষয়ক বইগুলি পড়ে কখনো ভক্তিতে আপ্লুত হয়েছি, কখনো বেদনায় অব্যক্ত কষ্ট পেয়েছি, আবার কখনো ওইসব গ্রন্থ পড়তে পড়তে আপন মনেই হো হো করে হেসে উঠেছি ! বাড়িতে আমার গর্ভধারিনী মা রান্না করতে করতে শুনতে পেয়ে বলেছেন – ” কি হোলো রে ! ক্ষ্যাপার মতো ঘরে বসে বসে অত জোরে জোরে হাসছিস কেন ?” আমি আর কি উত্তর দেব ! বলতে হয়তো ইচ্ছে হোতো “পাগলের পাল্লায় পড়লে যে ক্ষ্যাপা ( পাগল নয়, কারণ পাগল হওয়া কঠিন ! গুরুমহারাজ বলেছিলেন – ” যিনি পেয়েছেন – তিনিই পাগল।”) না হয়ে উপায় থাকেনা !
যাইহোক, কথা হচ্ছিলো পরমানন্দ ভক্তদের প্রসঙ্গে। এইবারের ভগবানের পরমানন্দ লীলায় প্রায় সমগ্র পৃথিবীব্যাপী তাঁর কর্মকাণ্ড ! আর এবার তিনি অন্য কারো উপর (অর্থাৎ তাঁর পার্ষদের) কিছু চাপিয়ে দেননি – তিনি নিজেই সমস্ত জায়গায় ছুটে ছুটে গেছেন, সেখানকার ভক্তমন্ডলীর সাথে যোগাযোগ করেছেন, তাঁদেরকে আকর্ষণী মুদ্রায় টেনে এনেছেন এবং পরে তাঁদেরকে কাজে লাগিয়েছেন ! তাই এবার পরমানন্দ ভক্তের সংখ্যাও অজস্র আর ছোটখাটো লীলাকাহিনীর সংখ্যাও অজস্র ! পরমানন্দ জগতে এমন ভক্ত খুবই কম রয়েছে (এই কম সংখ্যার মধ্যে এমন হোতে পারে যে, যারা দু-একবার ওনার সাথে যোগাযোগ করে আর বনগ্রামে যায়ও নি, তাঁর নির্দেশও পালন করেনি, গুরুবাক্যকে অবহেলা করেছে) যাদের সাথে পরমানন্দের কোনো না কোনো ‘লীলা’ হয়নি !
এখানে লীলা বলতে আমি বলতে চাইছি – ওই সমস্ত ব্যক্তিদের জীবনে এমন কিছু ছোটখাটো ঘটনা ঘটে গেছে যা লৌকিক নয় অর্থাৎ এমন কিছু ঘটনা – যা ঘটার নয়, কিন্তু পরমানন্দের কৃপায় ঘটে গেছে ! এমন কিছু চাহিদা যা মেটার নয়, কিন্তু পরমানন্দের কৃপায় তা মিটে গেছে !
তবে,এ তো গেল সাধারণ চাহিদার কথা বা প্রার্থনা পূরণের কথা ! এবার আসি যারা নিয়মিত ধ্যান-জপ করেন – তাদের কথায় ! গুরুজীর সাথে সাক্ষাৎ হবার পর বা তাঁর touch বা সংস্পর্শ পাওয়ার পর এমন বহু ব্যক্তির জীবনেই বিভিন্নভাবে আধ্যাত্মিক শক্তি লাভ হয়েছে ! তার শরীর অভ্যন্তরস্থ কুণ্ডলিনী শক্তি জাগ্রত হয়েছে, বিভিন্ন চক্রে ওই শক্তির ক্রিয়া শুরু হয়েছে, বিভিন্ন দেব-দেবী, মহাপুরুষের দর্শন হয়েছে – স্বামী পরমানন্দ-ই যে সমস্ত মহাপুরুষ, দেবদেবীর সম্মিলিত রূপ তার বোধও হয়েছে।
সমস্ত এই ধরনের পরমানন্দ ভক্তরা যদি তাদের জীবনের সেই সব অভিজ্ঞতার কথা __সকল ভক্তদের কাছে তুলে ধরে – তাহলে কত খন্ড যে “পরমানন্দ লীলাপ্রসঙ্গ” সৃষ্টি হতে পারে, তার ইয়ত্তা করা যাবে না ! আমার সকল পরমানন্দ-ভক্তদের কাছে অনুরোধ – তারা যদি তাদের জীবনের ওইসব মধুর স্মৃতি, ওইসব উপলব্ধি-অনুভূতি সবার সাথে শেয়ার করেন তাহলে অনেকেই আরও অনুপ্রাণিত হবে ! অবশ্য অধ্যাত্মজগতের যে ‘বোধ’ – সেটা তো শেয়ার হয় না, সেটা নিজস্ব। গুরুজী বলেছিলেন – ” গুরুর কাছে পাওয়া বা সাধন করে পাওয়া অধ্যাত্মসম্পদ স্ত্রীলোকের বক্ষ-সম্পদের ন্যায় গোপন রাখতে হয়। তা শুধু স্বামী এবং সন্তানের কাছেই উন্মুক্ত হতে পারে !” তাই এই সম্পদ গুরুর কাছে এবং পরবর্তীতে ওই ব্যক্তির শিষ্যদের কাছে উন্মুক্ত হোতে পারে_অন্য কারো কাছে নয়। [ক্রমশঃ]
