শ্রী শ্রী গুরুমহারাজ স্বামী পরমানন্দ এবং তাঁর শিষ্য-পার্ষদ-ভক্তদেরকে নিয়ে কথা হচ্ছিলো। গুরুমহারাজের পার্ষদদের কথা বলতে গিয়ে আমরা মদন মহারাজ (স্বামী চিৎবিলাসানন্দ)-এর সম্বন্ধে কিছু কথা আলোচনা করছিলাম। বহু পুরোনো একটা প্রবাদবাক্য আমরা প্রায় সকলেই জানি, সেটা হোল – “পঞ্চভূতের ফাঁদে, ব্রহ্ম পড়ে কাঁদে!” এই কথাটার ব্যাখ্যাও আমরা গুরুমহারাজের কাছে শুনেছিলাম – উনি বলেছিলেন এই “কাঁদা ব্রহ্ম”-টা হোল “সাধারণ মানুষ” অর্থাৎ “আমরা”! জীব তো স্বরূপতঃ ব্রহ্ম-ই, কিন্তু নিজের স্বরূপ ভুলে জীব নিজেকে অন্যকিছু ভাবছে [–যেমন মানুষেরা ভাবছে আমি অমুক (তার নাম-ধাম-বংশ), আমি ধনী, আমি শিক্ষিত, আমি শক্তিমান, আমি বুদ্ধিমান, আমি হিন্দু, আমি মুসলমান,- ইত্যাদি ইত্যাদি] ! আর তখনই জীবের “কাঁদা” শুরু হয়ে যায়। ‘কাঁদা’ অর্থে ত্রিতাপ জ্বালায় যন্ত্রণাক্লিষ্ট হওয়া ! এইভাবেই এই বিরাট জগৎ-সংসারে দেখা যায় সবাই (সকল জীব) যেন ‘কাঁদছে’ ! সকলেই অতৃপ্তির জ্বালায় জ্বলছে ! সকলেই নিরাপত্তার অভাববোধ করছে – আর তাইতো সকলেই আর একটু better, আরো একটু better অবস্থা প্রাপ্ত হতে চাইছে।
আর এই ‘চাওয়া’ রয়েছে বলেই জীবজগতের বাহ্যিক ও আভ্যন্তরীন (শারীরিক, মানসিক, আত্মিক) গঠনের অগ্রগতি (evolution) হয়ে চলেছে। কি আশ্চর্য্য ! তাই না ! কত মোটা মোটা জীবনবিজ্ঞানের বিভিন্ন ভাষার বই-এর কঠিন কঠিন সূত্রের ব্যাখ্যা করতে গিয়ে গুরুমহারাজ ঐ কথাগুলোর দ্বারা আমাদেরকে কতো সহজে বুঝিয়ে দিয়েছিলেন ! আর দেবেন নাই বা কেন – সমস্ত জ্ঞানের আকর যে তিনি, তিনিই যে জ্ঞানের উৎস, তাঁকে কেন্দ্র করেই যে জগতের যত জ্ঞান আবর্তিত হয় ! এই কথাগুলি ভুলে যাওয়া মানেই তো আবার ‘জ্বালা’-র জগতে প্রবেশ করা – আবার কাঁদতে থাকা !
উনি-ই তো আমাদের শিখিয়েছিলেন, “ঈশ্বর জ্ঞান-ই জ্ঞান, বাকি সব অজ্ঞান !” আমাদের মতো বেশীরভাগ সাধারণ মানুষেরই তো “ঈশ্বরজ্ঞান” নাই – তাই সেই অর্থে, আমরা প্রায় সবাই অজ্ঞানী ! যাইহোক, আমরা কিন্তু বলতে চাইছিলাম অন্য কথা – মদন মহারাজ বা চিৎবিলাসানন্দ মহারাজের কথা ! আর সেই প্রসঙ্গেই আরো বলতে চাইছিলাম যে, আমরা (সাধারণ মানুষেরা) পঞ্চভূতের ফাঁদে পড়ে তো অহরহ কাঁদছিই – কিন্তু ভগবানের পার্ষদেরা, উন্নত অবস্থার সাধকেরা, ধ্যানী-যোগীরাও এই পৃথিবীতে শরীরধারণ করলেই পঞ্চভূতের ফাঁদে পড়ে যান ! ফলে তাঁদের জীবনেও নানান ঘাত-প্রতিঘাত, সংশয়-অসংশয়, উত্থান-পতন ইত্যাদিগুলি আসে। তাঁরাও ছোটবয়স থেকে দোষে-গুণে আর পাঁচটা সাধারণ মানুষের মতোই জীবন-যাপন করেন৷ হয়তো মাঝে মাঝে তাঁদের মধ্যে হঠাৎ হঠাৎ দু-একটা এমন কিছু প্রকাশ পেয়ে যায় – যাতে মনে হতে পারে এই ছেলেটি (বা মেয়েটি) বোধয় আর পাঁচজনের থেকে আলাদা ! কিন্তু, সমকালীন এমন অনেকেই থাকতে পারে, যারা বলবে ” না-না ! ঐ ব্যাক্তিকে তোমরা যেমনটা ভাবছো বা বলছো, ও তেমনটা নয় ! ওর তো ‘এই – এই’ দোষ ছিল !” এই বলে উদ্দিষ্ট ব্যাক্তির নামে আপনাকে দু-চারটে দোষের কথা শুনিয়ে দেবে !
কিন্তু আশ্চর্য্যের ব্যাপারটা কি জানেন – ইতিহাস কিন্তু ভক্ত,পার্ষদদের ঐসব দোষের কথা (যা তাঁর সমগ্র জীবনের কর্মক্ষেত্রের বিচারে একেবারেই নগণ্য) মনে রাখে না ! পরবর্ত্তীকালের মানুষ মহাত্মা, মহাপুরুষ, যোগী, ধ্যানী, জ্ঞানী, পরমভক্ত – ইত্যাদিদের জীবনের ভালো ভালো দিক নিয়েই আলোচনা করে, সেইগুলিকেই জানতে চায় ! ফলে তাঁদের গুণাবলী সংক্রান্ত গ্রন্থ-ই বাজারে প্রকাশিত হয়, সেইগুলিই ইতিহাস হয়। হয়তো দু-একজন উত্তরকালের সমালোচক খুঁজে খুঁজে বিভিন্ন মহাত্মা-মহাপুরুষদের দোষ-ত্রুটি ধরার বা ছিদ্রান্বেষণের চেষ্টা করে থাকেন, তারা এই নিয়ে গ্রন্থও লেখেন কিন্তু সেগুলি তাৎক্ষণিকভাবে বুদ্ধিজীবীদের বুদ্ধিচর্চার খোরাক হোলেও – মানুষের মনোজগতে স্থায়ীভাবে বসে যাওয়া ঐ মহাত্মাদের জীবনের মহিমাকে কোনো অংশে ক্ষুণ্ণ করতে পারে না !
গুরুমহারাজ বলেছিলেন – ” কাউকে সমালোচনার দ্বারা ছোট করা যায় না ! যদি কাউকে ছোট করতেই হয় – তাহলে নিজেকে বড় হোতে হয়। যেমন, একটা দাগকে না মুছে তাকে ছোট প্রতিপন্ন করতে গেলে পাশে একটা বড় দাগ টানতে হয় !” সুতরাং আমরাও গুরুমহারাজ স্বামী পরমানন্দের ভক্ত-পার্ষদ-লীলাসহচরদের জীবনের good-side গুলো নিয়েই আলোচনা করবাে ! মদন মহারাজের কথা বলতে গিয়ে আজকের গৌরচন্দ্রিকাটাই এত বড় হয়ে গেল যে – আজকে মূল কীর্ত্তনের কথা আর বলাই হোল না। তা নাই হোক – আগামী এপিসোডে হবে – এটা নিশ্চিত ! আপনারা সকলে স্বামী পরমানন্দের কৃপালাভ করুন – তাঁর রাতুল চরণে এই কাতর প্রার্থনা করি !!! (ক্রমশঃ)
আর এই ‘চাওয়া’ রয়েছে বলেই জীবজগতের বাহ্যিক ও আভ্যন্তরীন (শারীরিক, মানসিক, আত্মিক) গঠনের অগ্রগতি (evolution) হয়ে চলেছে। কি আশ্চর্য্য ! তাই না ! কত মোটা মোটা জীবনবিজ্ঞানের বিভিন্ন ভাষার বই-এর কঠিন কঠিন সূত্রের ব্যাখ্যা করতে গিয়ে গুরুমহারাজ ঐ কথাগুলোর দ্বারা আমাদেরকে কতো সহজে বুঝিয়ে দিয়েছিলেন ! আর দেবেন নাই বা কেন – সমস্ত জ্ঞানের আকর যে তিনি, তিনিই যে জ্ঞানের উৎস, তাঁকে কেন্দ্র করেই যে জগতের যত জ্ঞান আবর্তিত হয় ! এই কথাগুলি ভুলে যাওয়া মানেই তো আবার ‘জ্বালা’-র জগতে প্রবেশ করা – আবার কাঁদতে থাকা !
উনি-ই তো আমাদের শিখিয়েছিলেন, “ঈশ্বর জ্ঞান-ই জ্ঞান, বাকি সব অজ্ঞান !” আমাদের মতো বেশীরভাগ সাধারণ মানুষেরই তো “ঈশ্বরজ্ঞান” নাই – তাই সেই অর্থে, আমরা প্রায় সবাই অজ্ঞানী ! যাইহোক, আমরা কিন্তু বলতে চাইছিলাম অন্য কথা – মদন মহারাজ বা চিৎবিলাসানন্দ মহারাজের কথা ! আর সেই প্রসঙ্গেই আরো বলতে চাইছিলাম যে, আমরা (সাধারণ মানুষেরা) পঞ্চভূতের ফাঁদে পড়ে তো অহরহ কাঁদছিই – কিন্তু ভগবানের পার্ষদেরা, উন্নত অবস্থার সাধকেরা, ধ্যানী-যোগীরাও এই পৃথিবীতে শরীরধারণ করলেই পঞ্চভূতের ফাঁদে পড়ে যান ! ফলে তাঁদের জীবনেও নানান ঘাত-প্রতিঘাত, সংশয়-অসংশয়, উত্থান-পতন ইত্যাদিগুলি আসে। তাঁরাও ছোটবয়স থেকে দোষে-গুণে আর পাঁচটা সাধারণ মানুষের মতোই জীবন-যাপন করেন৷ হয়তো মাঝে মাঝে তাঁদের মধ্যে হঠাৎ হঠাৎ দু-একটা এমন কিছু প্রকাশ পেয়ে যায় – যাতে মনে হতে পারে এই ছেলেটি (বা মেয়েটি) বোধয় আর পাঁচজনের থেকে আলাদা ! কিন্তু, সমকালীন এমন অনেকেই থাকতে পারে, যারা বলবে ” না-না ! ঐ ব্যাক্তিকে তোমরা যেমনটা ভাবছো বা বলছো, ও তেমনটা নয় ! ওর তো ‘এই – এই’ দোষ ছিল !” এই বলে উদ্দিষ্ট ব্যাক্তির নামে আপনাকে দু-চারটে দোষের কথা শুনিয়ে দেবে !
কিন্তু আশ্চর্য্যের ব্যাপারটা কি জানেন – ইতিহাস কিন্তু ভক্ত,পার্ষদদের ঐসব দোষের কথা (যা তাঁর সমগ্র জীবনের কর্মক্ষেত্রের বিচারে একেবারেই নগণ্য) মনে রাখে না ! পরবর্ত্তীকালের মানুষ মহাত্মা, মহাপুরুষ, যোগী, ধ্যানী, জ্ঞানী, পরমভক্ত – ইত্যাদিদের জীবনের ভালো ভালো দিক নিয়েই আলোচনা করে, সেইগুলিকেই জানতে চায় ! ফলে তাঁদের গুণাবলী সংক্রান্ত গ্রন্থ-ই বাজারে প্রকাশিত হয়, সেইগুলিই ইতিহাস হয়। হয়তো দু-একজন উত্তরকালের সমালোচক খুঁজে খুঁজে বিভিন্ন মহাত্মা-মহাপুরুষদের দোষ-ত্রুটি ধরার বা ছিদ্রান্বেষণের চেষ্টা করে থাকেন, তারা এই নিয়ে গ্রন্থও লেখেন কিন্তু সেগুলি তাৎক্ষণিকভাবে বুদ্ধিজীবীদের বুদ্ধিচর্চার খোরাক হোলেও – মানুষের মনোজগতে স্থায়ীভাবে বসে যাওয়া ঐ মহাত্মাদের জীবনের মহিমাকে কোনো অংশে ক্ষুণ্ণ করতে পারে না !
গুরুমহারাজ বলেছিলেন – ” কাউকে সমালোচনার দ্বারা ছোট করা যায় না ! যদি কাউকে ছোট করতেই হয় – তাহলে নিজেকে বড় হোতে হয়। যেমন, একটা দাগকে না মুছে তাকে ছোট প্রতিপন্ন করতে গেলে পাশে একটা বড় দাগ টানতে হয় !” সুতরাং আমরাও গুরুমহারাজ স্বামী পরমানন্দের ভক্ত-পার্ষদ-লীলাসহচরদের জীবনের good-side গুলো নিয়েই আলোচনা করবাে ! মদন মহারাজের কথা বলতে গিয়ে আজকের গৌরচন্দ্রিকাটাই এত বড় হয়ে গেল যে – আজকে মূল কীর্ত্তনের কথা আর বলাই হোল না। তা নাই হোক – আগামী এপিসোডে হবে – এটা নিশ্চিত ! আপনারা সকলে স্বামী পরমানন্দের কৃপালাভ করুন – তাঁর রাতুল চরণে এই কাতর প্রার্থনা করি !!! (ক্রমশঃ)
