শ্রী শ্রী গুরুমহারাজ স্বামী পরমানন্দের ভক্ত-শিষ্য ও পার্ষদদের নিয়ে এখানে আলোচনা করা হচ্ছিলো। এখন আমরা ছিলাম স্বামী ভাগবতানন্দ মহারাজ (বাউল বাবা) বা সুকুমার দার কথায়। “বাউল বাবা” স্বামী ভাগবতানন্দ(তখনকার সুকুমারদা) প্রথম গুরুমহারাজের কথা জানতে পারেন ধাত্রীগ্রামে নিকটস্থ মালতীপুরের গোবিন্দদা (গোবিন্দ প্রামানিক)-র কাছ থেকে। এই গোবিন্দদার কথা আমরা পূর্বে আলোচনা করেছি, যিনি বিজারার সম্পর্কে কৃষ্ণদেবপুরের বাড়ির জামাই ছিলেন ! যিনি খুব ভালো শ্যামাসংগীত গাইতে পারতেন এবং যাঁকে পরবর্তীতে গুরুমহারাজ আশ্রমের রান্নাঘরের রান্নার দায়িত্ব দিয়েছিলেন ! গোবিন্দদা নিষ্ঠার সহিত অন্ততঃ সাত-আট বছর এই দায়িত্ব পালনও করেছিলেন।
যাইহোক, “বাউল বাবা” নামটা শুনেই বোঝা যাচ্ছে যে, ওনার সাথে বাউলগানের একটা সম্পর্ক ছিল।ভাগবতানন্দের ভ্রাম্যমান বা পরিব্রাজন জীবনে উনি সাথে একটা একতারা বা অন্যান্য কিছু তাল-বাদ্যযন্ত্র রাখতেন। আর যেখানেই সুযোগ পেতেন বা উপযুক্ত সাথী পেতেই – সেখানেই গান-বাজনা শুরু করে দিতেন ! সেই হিসাবে সেই সময় বাউল বাবার বিভিন্ন স্থানে ‘ঠেক’ ছিল। ‘ঠেক’ ছিল অর্থে, সেইসব স্থানে গান-বাজনা করতে পারে এমন একদল মানুষজনের গ্রুপ ছিল – যারা ‘বাউল বাবা’কে পেলে খুবই আনন্দিত হোত এবং সেখানে গভীর রাত্রি পর্যন্ত চলতো সংগীতের আসর। শ্রোতারা কে কি শুনলো,কে কি বুঝলো সেটা বড় কথা নয় – গান গাওয়ার আনন্দে গান গাওয়া !
ধাত্রীগ্রামের নিকটে মালতিপুর গ্রামেও ‘বাউল বাবা’র ওই ধরনের একটি গান-বাজনার দল ছিল – যে দলের পরিচালনায় ছিল গোবিন্দ প্রামানিক ওরফে গোবিন্দদা !
গোবিন্দদা শ্বশুরবাড়ি সম্পর্কে যেহেতু বিজারার স্বামী স্বরূপানন্দের পরিবারের জামাই,তাই কৃষ্ণদেবপুরের গুরুমহারাজের পরিবারের সাথেও তার খুবই যোগাযোগ ছিল ! ফলে, গোবিন্দদা গুরুমহারাজ সম্বন্ধে আগে থাকতেই অনেক কিছু জানতো। কথায় কথায় গোবিন্দদাই ‘বাউল বাবা’কে গুরুমহারাজের কথা বলেন। তিনি আরও বলেছিলেন যে, গুরুমহারাজ স্বামী পরমানন্দ বাউল গান শুনতে খুবই ভালোবাসেন ! গোবিন্দদার কাছে এই কথা শুনে ‘বাউল বাবা’ সুকুমার দা গুরুমহারাজের (তৎকালীন রবীন দা) ব্যাপারে খুবই উৎসাহিত হ’ন এবং খুব শীঘ্রই বনগ্রামে গিয়ে তাঁকে গান শুনিয়ে আসার ব্যাপারে গোবিন্দদাকে আশ্বস্ত করেন ! এরপর উনি ধাত্রীগ্রাম অঞ্চল থেকে আবার কলকাতায় ফিরে যান।
‘কলকাতায় ফিরে যান’, তার কারণ হোচ্ছে __উনি তখন ওখানেই একজন নামকরা contractor-এর অধীনে কাঠের কাজ করতেন৷ ঐ contractor টিও ছিল খুব নামকরা লোক ! তখন কলকাতায় বড় বড় এবং important কাজের বরাদ্দ পেতেন ঐ ভদ্রলোক ৷ যেমন -তৎকালীন রাষ্ট্রপতি বা প্রধানমন্ত্রী এসে salt-lake এলাকায় কোনো project-এর উদ্বোধন করবেন বা সেখানেই কোনো house-এ থাকবেন — সেই সমস্ত স্থানের designing করার কাজ ওনারা করতেন।
যে কোনো কাজে ‘বাউল বাবা’র ছিল প্রচন্ড নিষ্ঠা এবং একাগ্রতা – তাই তার কাজগুলি হোত খুবই নিখুঁত। এইজন্যে ঐ contractor-এর সাথে মহারাজের (বাউল বাবা, সুকুমার দা) খুবই একটা হৃদ্যতা বা সুন্দর একটা সম্পর্ক গড়ে উঠেছিল। এই সম্পর্কের বাঁধন(ছোটবেলা থেকে বাউল-স্বভাব হওয়া সত্ত্বেও) মহারাজকে অনেকটাই বেঁধে ফেলেছিল এবং এইজন্যেই প্রথমবারে গুরুমহারাজ সম্বন্ধে নানাকথা শোনার পরেও ‘বাউল বাবা’কে সেইদিনে বনগ্রামে না এসে কলকাতায় ফিরে যেতে হয়েছিল ! কিন্তু কিছুদিনের মধ্যেই সামান্য একটা ব্যাপারে ভুল বোঝাবুঝি হওয়ায় –মালিকের সঙ্গে ওনার ওই মায়ার বাঁধনটিও ছিন্ন হয়ে যায় এবং এরফলেই ‘বাউল বাবা’ আবার রাস্তায় বেড়িয়ে পড়ার সুযোগ পেয়েছিলেন !
যাই হোক, সেসব অন্য প্রসঙ্গ_আমরা তাঁর প্রথম জীবনের দিকে একটু আলোকপাত করি ! বাড়িতে বাবা-মা বা অন্যান্য পরিজেনরা থাকতেও ছোটো বয়স থেকে এতটা বহির্মুখী স্বভাব কেন ? –এই জিজ্ঞাসা করায় ‘বাউল বাবা’ উত্তর দিয়েছিলেন – ” ওটা ছোটো থেকে আমার স্বভাবেই ছিল। বাড়িতে আটকে থাকতে, স্নেহ-প্রেম-মায়া-মমতার বাঁধনে থাকতে আমার ভালো লাগতো না। পথে-ঘাটে-মাঠে-প্রান্তরে ঘুরে বেড়াতেই আমার বেশি ভালো লাগতো। কোথায় খেতে পাবো, কোথায় শোবার জায়গা পাবো –এই নিয়েও কোনো মাথাব্যথা ছিল না ! এইভাবে কপর্দকহীন ভাবে, জাগতিক দৃষ্টিতে উদ্দেশ্যহীন ভাবে ঘুরে বেড়ানোই যে ‘বাউল ভাব’- এটাও তখন জানতাম না ! চলার পথে আলাপ হওয়া লোকেরাই আমাকে ‘বাউল বাবা’ নামটি দিয়েছিল।”
প্রিয় পাঠকবৃন্দ ! অতি সামান্য হোলেও, আমরা কেমন একটা অদ্ভুত মিল পাচ্ছি না ? স্বামী পরমানন্দের সাথে তাঁর এক প্রিয় ত্যাগী ভক্ত স্বামী ভাগবতানন্দের ভ্রাম্যমান জীবনের! অবশ্য ভগবান পরমানন্দের সাথে কারও তুলনা করা চলে না ! আমরা শুধু একটু মিলের কথা বলছিলাম! গুরুমহারাজ স্বামী পরমানন্দ পথে-প্রান্তরে, পাহাড়ে-জঙ্গলে, দেশে-বিদেশে এইভাবে ঘুরে বেড়িয়েছেন _ ঠিকই, কিন্তু তাঁর ঘুরে বেড়ানোর অনন্ত উদ্দেশ্য! আমাদের সাধারণ বুদ্ধিতে আমরা বলতে পারি__প্রথম জীবনে উনি ঘুরেছিলেন পৃথিবী গ্রহে যা কিছু ‘ভালো’ রয়েছে – সেগুলি আহরণ করে নিজের মধ্যে আত্মস্থ করার জন্য এবং তাঁর কাজের সহযোগীদের collection করার জন্য ! আর পরবর্তীতে আশ্রম প্রতিষ্ঠা হবার পর গুরুমহারাজ পৃথিবীর বিভিন্ন প্রান্তে ঘুরে বেড়ালেন – এতদিন ধরে তিনি যা (পার্থিব আধ্যাত্মিক সম্পদ) আত্মস্থ করেছিলেন বা যা (মহাপ্রাকৃতিক আধ্যাত্মিক সম্পদ) সাথে করে নিয়ে এসেছিলেন – সেগুলিকে অকাতরে বিতরণ করার জন্য ! [ক্রমশঃ]
যাইহোক, “বাউল বাবা” নামটা শুনেই বোঝা যাচ্ছে যে, ওনার সাথে বাউলগানের একটা সম্পর্ক ছিল।ভাগবতানন্দের ভ্রাম্যমান বা পরিব্রাজন জীবনে উনি সাথে একটা একতারা বা অন্যান্য কিছু তাল-বাদ্যযন্ত্র রাখতেন। আর যেখানেই সুযোগ পেতেন বা উপযুক্ত সাথী পেতেই – সেখানেই গান-বাজনা শুরু করে দিতেন ! সেই হিসাবে সেই সময় বাউল বাবার বিভিন্ন স্থানে ‘ঠেক’ ছিল। ‘ঠেক’ ছিল অর্থে, সেইসব স্থানে গান-বাজনা করতে পারে এমন একদল মানুষজনের গ্রুপ ছিল – যারা ‘বাউল বাবা’কে পেলে খুবই আনন্দিত হোত এবং সেখানে গভীর রাত্রি পর্যন্ত চলতো সংগীতের আসর। শ্রোতারা কে কি শুনলো,কে কি বুঝলো সেটা বড় কথা নয় – গান গাওয়ার আনন্দে গান গাওয়া !
ধাত্রীগ্রামের নিকটে মালতিপুর গ্রামেও ‘বাউল বাবা’র ওই ধরনের একটি গান-বাজনার দল ছিল – যে দলের পরিচালনায় ছিল গোবিন্দ প্রামানিক ওরফে গোবিন্দদা !
গোবিন্দদা শ্বশুরবাড়ি সম্পর্কে যেহেতু বিজারার স্বামী স্বরূপানন্দের পরিবারের জামাই,তাই কৃষ্ণদেবপুরের গুরুমহারাজের পরিবারের সাথেও তার খুবই যোগাযোগ ছিল ! ফলে, গোবিন্দদা গুরুমহারাজ সম্বন্ধে আগে থাকতেই অনেক কিছু জানতো। কথায় কথায় গোবিন্দদাই ‘বাউল বাবা’কে গুরুমহারাজের কথা বলেন। তিনি আরও বলেছিলেন যে, গুরুমহারাজ স্বামী পরমানন্দ বাউল গান শুনতে খুবই ভালোবাসেন ! গোবিন্দদার কাছে এই কথা শুনে ‘বাউল বাবা’ সুকুমার দা গুরুমহারাজের (তৎকালীন রবীন দা) ব্যাপারে খুবই উৎসাহিত হ’ন এবং খুব শীঘ্রই বনগ্রামে গিয়ে তাঁকে গান শুনিয়ে আসার ব্যাপারে গোবিন্দদাকে আশ্বস্ত করেন ! এরপর উনি ধাত্রীগ্রাম অঞ্চল থেকে আবার কলকাতায় ফিরে যান।
‘কলকাতায় ফিরে যান’, তার কারণ হোচ্ছে __উনি তখন ওখানেই একজন নামকরা contractor-এর অধীনে কাঠের কাজ করতেন৷ ঐ contractor টিও ছিল খুব নামকরা লোক ! তখন কলকাতায় বড় বড় এবং important কাজের বরাদ্দ পেতেন ঐ ভদ্রলোক ৷ যেমন -তৎকালীন রাষ্ট্রপতি বা প্রধানমন্ত্রী এসে salt-lake এলাকায় কোনো project-এর উদ্বোধন করবেন বা সেখানেই কোনো house-এ থাকবেন — সেই সমস্ত স্থানের designing করার কাজ ওনারা করতেন।
যে কোনো কাজে ‘বাউল বাবা’র ছিল প্রচন্ড নিষ্ঠা এবং একাগ্রতা – তাই তার কাজগুলি হোত খুবই নিখুঁত। এইজন্যে ঐ contractor-এর সাথে মহারাজের (বাউল বাবা, সুকুমার দা) খুবই একটা হৃদ্যতা বা সুন্দর একটা সম্পর্ক গড়ে উঠেছিল। এই সম্পর্কের বাঁধন(ছোটবেলা থেকে বাউল-স্বভাব হওয়া সত্ত্বেও) মহারাজকে অনেকটাই বেঁধে ফেলেছিল এবং এইজন্যেই প্রথমবারে গুরুমহারাজ সম্বন্ধে নানাকথা শোনার পরেও ‘বাউল বাবা’কে সেইদিনে বনগ্রামে না এসে কলকাতায় ফিরে যেতে হয়েছিল ! কিন্তু কিছুদিনের মধ্যেই সামান্য একটা ব্যাপারে ভুল বোঝাবুঝি হওয়ায় –মালিকের সঙ্গে ওনার ওই মায়ার বাঁধনটিও ছিন্ন হয়ে যায় এবং এরফলেই ‘বাউল বাবা’ আবার রাস্তায় বেড়িয়ে পড়ার সুযোগ পেয়েছিলেন !
যাই হোক, সেসব অন্য প্রসঙ্গ_আমরা তাঁর প্রথম জীবনের দিকে একটু আলোকপাত করি ! বাড়িতে বাবা-মা বা অন্যান্য পরিজেনরা থাকতেও ছোটো বয়স থেকে এতটা বহির্মুখী স্বভাব কেন ? –এই জিজ্ঞাসা করায় ‘বাউল বাবা’ উত্তর দিয়েছিলেন – ” ওটা ছোটো থেকে আমার স্বভাবেই ছিল। বাড়িতে আটকে থাকতে, স্নেহ-প্রেম-মায়া-মমতার বাঁধনে থাকতে আমার ভালো লাগতো না। পথে-ঘাটে-মাঠে-প্রান্তরে ঘুরে বেড়াতেই আমার বেশি ভালো লাগতো। কোথায় খেতে পাবো, কোথায় শোবার জায়গা পাবো –এই নিয়েও কোনো মাথাব্যথা ছিল না ! এইভাবে কপর্দকহীন ভাবে, জাগতিক দৃষ্টিতে উদ্দেশ্যহীন ভাবে ঘুরে বেড়ানোই যে ‘বাউল ভাব’- এটাও তখন জানতাম না ! চলার পথে আলাপ হওয়া লোকেরাই আমাকে ‘বাউল বাবা’ নামটি দিয়েছিল।”
প্রিয় পাঠকবৃন্দ ! অতি সামান্য হোলেও, আমরা কেমন একটা অদ্ভুত মিল পাচ্ছি না ? স্বামী পরমানন্দের সাথে তাঁর এক প্রিয় ত্যাগী ভক্ত স্বামী ভাগবতানন্দের ভ্রাম্যমান জীবনের! অবশ্য ভগবান পরমানন্দের সাথে কারও তুলনা করা চলে না ! আমরা শুধু একটু মিলের কথা বলছিলাম! গুরুমহারাজ স্বামী পরমানন্দ পথে-প্রান্তরে, পাহাড়ে-জঙ্গলে, দেশে-বিদেশে এইভাবে ঘুরে বেড়িয়েছেন _ ঠিকই, কিন্তু তাঁর ঘুরে বেড়ানোর অনন্ত উদ্দেশ্য! আমাদের সাধারণ বুদ্ধিতে আমরা বলতে পারি__প্রথম জীবনে উনি ঘুরেছিলেন পৃথিবী গ্রহে যা কিছু ‘ভালো’ রয়েছে – সেগুলি আহরণ করে নিজের মধ্যে আত্মস্থ করার জন্য এবং তাঁর কাজের সহযোগীদের collection করার জন্য ! আর পরবর্তীতে আশ্রম প্রতিষ্ঠা হবার পর গুরুমহারাজ পৃথিবীর বিভিন্ন প্রান্তে ঘুরে বেড়ালেন – এতদিন ধরে তিনি যা (পার্থিব আধ্যাত্মিক সম্পদ) আত্মস্থ করেছিলেন বা যা (মহাপ্রাকৃতিক আধ্যাত্মিক সম্পদ) সাথে করে নিয়ে এসেছিলেন – সেগুলিকে অকাতরে বিতরণ করার জন্য ! [ক্রমশঃ]
