শ্রী শ্রী গুরুমহারাজ স্বামী পরমানন্দ এবং তাঁর ভক্ত-শিষ্য-পার্ষদ, ত্যাগী ভক্তদের কথা বলা হচ্ছিলো। গুরুমহারাজের এইবারকার লীলা বড়ই বিচিত্র ! ভগবান বুদ্ধ থেকে যদি আমরা ভগবানের পার্ষদদের বিচারে আসি – তাহলে সাধারণভাবে (আধ্যাত্মিক ভাবে নয়) আমরা ওনার তৎকালীন ত্যাগী-সন্ন্যাসী ভক্তদেরকেই ওনার পার্ষদ হিসাবে জেনে এসেছি ! আচার্য শঙ্করের ক্ষেত্রেও (বুদ্ধের থেকে প্রায় ১৫০০ বছর পরের কথা) প্রায় তাই-ই বলা যায়, কারণ মন্ডন মিশ্র এবং তাঁর স্ত্রী উভয় ভারতী দুজনেই অসাধারণ পন্ডিত ছিলেন, সবসময় শাস্ত্রচর্চা-ধর্মচর্চায় জীবন অতিবাহিত করতেন। তাছাড়া তাঁরা আচার্য শঙ্করের সান্নিধ্যে আসার পর-ই পরিপূর্ণভাবে গুরুর কাজে নিজেদেরকে আত্মনিয়োগ করেন। সুরেশ্বরাচার্য নাম গ্রহণ করে মন্ডন আচার্যের চার প্রধান শিষ্যদের অন্যতম হয়ে উঠেছিলেন। ঐ চারজনকে(পদ্মপাদ, হস্তমলক,সুরেশ্বর, তোটক)-ই ভারতবর্ষের চার প্রান্তে অবস্থিত চারটি মঠের(পূর্বে –পুরী, পশ্চিমে– দ্বারকা, উত্তরে–যোশীমঠ এবং দক্ষিণে– কর্ণাটকের শৃঙ্গেরী )দায়িত্ব সঁপে, মহাপ্রস্থানের পথে যাত্রা করেছিলেন আচার্য শঙ্কর !
মহাপ্রভু শ্রীচৈতন্যের ক্ষেত্রে (আচার্য শংকরের আরও পাঁচশো বছর পরে) আমরা দেখেছিলাম অদ্ভুত লীলা ! পার্ষদ হিসাবে গৃহী-সন্ন্যাসী উভয় আশ্রমের মানুষদেরকেই কেমন যেন মিলিয়ে মিশিয়ে দিয়েছিলেন তিনি। প্রতিষ্ঠা করেছিলেন “অচিন্ত্যভেদাভেদ তত্ত্ব” ! যেখানে বলা হয়েছে ব্রহ্ম এবং তাঁর শক্তির (জীব ও জগৎ) মধ্যে ভেদ ও অভেদ সম্বন্ধ বিদ্যমান, কিন্তু এই ভেদ ও অভেদ সম্বন্ধ হোলো “অচিন্ত্য”! তাই এই মতকে বলা হয় ‘অচিন্ত্যভেদাভেদ তত্ত্ব’। আর যারা এই মতবাদ মানে, তাদেরকেই গৌড়ীয় বৈষ্ণব বলা হয় [এই কথাগুলি গুরুমহারাজের লেখা “বাউল কথা”-য় প্রথম খন্ডে বিস্তারিত রয়েছে।]।
যাইহোক, যে কথা হচ্ছিলো – মহাপ্রভু আবাল্য ব্রহ্মচারী নিত্যানন্দকে সংসারী বানালেন, আর নিজে দু-দুটো বিবাহ করেও মাত্র চব্বিশ বছর বয়সে সংসারের বন্ধন ছিন্ন করে _সন্ন্যাসীশ্রেষ্ঠ হয়ে জীবন অতিবাহিত করলেন ! সংসারী শ্রীবাস আচার্য – সংসারী অদ্বৈত আচার্যকে করলেন তাঁরই অংশ শক্তি ! যে পাঁচজনকে বৈষ্ণব শাশ্ত্রে ‘পঞ্চতত্ত্ব’ বলা হয়েছে, তাঁদের মধ্যে _মহাপ্রভূ শ্রীচৈতন্য একলা ঈশ্বর, কিন্তু এইবার তিনি ‘ভক্তভাব’ গ্রহণ করে লীলা করেছেন। নিত্যানন্দ প্রভু ”ভক্তস্বরূপ”, শ্রীবাস আচার্য ছিলেন “ভক্ততত্ত্ব”– বা “শুদ্ধভক্ততত্ত্ব” এবং অদ্বৈত আচার্য ছিলেন “ভক্ত-অবতার” তত্ত্ব ! গদাধর ছিলেন মহাপ্রভূর “শক্তি অবতার” ! গৌড়ীয় বৈষ্ণবগণের মতে শ্রীচৈতন্য স্বয়ং “মহাপ্রভু” এবং নিত্যানন্দ এবং অদ্বৈত আচার্য-ও “প্রভু” পদবাচ্য ! এইজন্য _”চৈতন্য মহাপ্রভু” কিন্তু নিত্যানন্দ “প্রভু” এবং অদ্বৈত “প্রভু” !
এবার আমরা মহাপ্রভুর আরও ৩৫০ বছর (প্রায়) পরের ঈশ্বরের লীলা দেখছি শ্রীরামকৃষ্ণরূপে ! সেখানেও ঠাকুরের অন্তরঙ্গ লীলায় সামিল হয়েছেন গৃহী এবং ত্যাগী সন্ন্যাসী-ব্রহ্মচারী ভক্তরা ! কিন্তু পরবর্তীতে স্বামীজী (স্বামী বিবেকানন্দ) সকলকে ছাপিয়ে একেবারে হিমালয়ের মতো সুউচ্চ হয়ে গেলেন। তিনি এতটাই বড় হয়ে গেলেন যে, সকলের ধরাছোঁয়ার বাইরে চলে গেলেন ! তিনি তাঁর ত্যাগী-ব্রহ্মচারীর-সন্ন্যাসী ভক্তদেরকে (হয়তো সকলকে নয়) উদ্দেশ্য করে এমন কিছু কড়া ও কঠোর নির্দেশ দিয়ে গেছিলেন যে, বর্তমান সমাজে তাঁর অনুগামীদের মধ্যে_ আবার গৃহী এবং সন্ন্যাসীর মধ্যে একটা বিভাগের সুস্পষ্ট রেখা তৈরি হয়ে গিয়েছে ! অবশ্য এটাও সত্যি যে এযুগে_ মন্ডন মিশ্র, শ্রীবাস আচার্য্য, অদ্বৈত আচার্য্যের ন্যায় গৃহী-পার্ষদরাই বা কোথায় অথবা রাম দত্ত, বলরাম বসু গিরিশ ঘোষ, মাস্টারমশাই (মহেন্দ্র গুপ্ত)-এর মতো গৃহীভক্তরাই বা কোথায় ! তাছাড়া ব্রহ্মচারী বা সন্ন্যাসীরা সাধনকালের প্রথমাবস্থায় তার চারিদিকে একটা বেড়া দিতে বাধ্য হয়, গৃহীদের সাথে মেলামেশার ব্যাপারে_ একটা ‘আগল’ রাখে,্ এইজন্য যে, এটা না করলে তার সাধনজীবনের অগ্রগতিতে বাধা পড়তে পারে ! সুতরাং “গৃহী বলেই অছ্যুত”_এই বিভেদের প্রাচীরের ব্যাপারটা থাকলে জানতে হবে__ঐ ব্রহ্মচারী বা সন্ন্যাসীটি একেবারেই প্রাথমিক stage-এ রয়েছে। তার নিজের ইন্দ্রিয়ের প্রতি এখনোও নিয়ন্ত্রণ আসেনি, গুরু বা ইষ্টের প্রতি অতোটা নির্ভরতা জন্মায় নি ! তবে সাধনা করতে করতে একবার জগৎ-সংসার সম্বন্ধে সম্যক ধারণা হয়ে গেলে__ আর ভেদাভেদের প্রয়োজন হয় না ! তবে যতোক্ষণ না আত্মতত্ত্বের বোধ হোচ্ছে ততক্ষণ কিন্তু কেউই নিরাপদ নয়– তার আবার পদস্খলন হোতেও পারে ! কিন্তু একবার আত্মতত্ত্বের বোধ হয়ে গেলে “নির্ভয়” হওয়া যায়। এইরূপ ব্যক্তিই তখন গুরু-র ভূমিকা পালন করেন, তাঁর সান্নিধ্যে আসা ব্রহ্মচারী, গৃহী সকল ভক্তদের মধ্যে তিনি তাঁর অর্জিত আধ্যাত্মিক শক্তির transfer ঘটাতে পারেন ! এইভাবে ঈশ্বরের অবতারের আরব্ধ কাজের অংশীদার হয়ে যান তাঁরা ! তাই বলে সবাইকে যে কানে মন্ত্র দিয়ে ‘গুরু’ হোতে হবে – তার কোনো মানে নাই – আধ্যাত্মিক শক্তিসম্পন্ন ব্যক্তি শুধু সান্নিধ্য, সঙ্গ এমনকি বক্তব্যের মাধ্যমেও মানুষের কল্যাণ করতে পারেন।
তবে পরমানন্দ জগতের বিচিত্র বিধান ! এবার উনি নিজের মুখেই বলেছিলেন – ” এবার আমার এখানে বিভিন্ন পরম্পরার লোকেরা রয়েছে ! এবার আগের আগের অনেক গৃহী ভক্তরা সন্ন্যাসী-ব্রহ্মচারী হিসাবে কাজ করছে, আবার আগের আগের শরীরের অনেক ব্রহ্মচারী-সন্ন্যাসীরা এবার গৃহে রয়েছে, সংসার করছে ! এটা আমার একটা experiment ! এই experiment যদি succesful হয়, তাহলে এবার থেকে এমনটাই চলবে !” আসলে ব্যাপারটা কি জানেন,__ পৃথিবীগ্রহেরও তো বয়স বাড়ছে! আর তার সাথে সাথেই পৃথিবীগ্রহের শ্রেষ্ঠ জীব মানুষেরও চেতনার জগতের বয়স বাড়ছে। জন্ম-জন্মান্তরের অভিজ্ঞতার সিঁড়ি বেয়ে বেয়ে মানুষও উপরে উঠে আসছে। ফলে আধ্যাত্মিকভাবে উন্নত হোতে গেলে সংসার ত্যাগী-সন্ন্যাসী-ব্রহ্মচারী হোতেই হবে – এই concept টারও একটু পরিবর্তন ঘটছে ! গৃহীর জীবনযাপন করছে এমন শত শত নারী ও পুরুষ তাদের নিজ নিজ গৃহেও প্রচুর ধ্যান-জপ, সাধন-ভজন করে চলেছে – তারাও চেতনার level-এ যথেষ্ট উন্নতি সাধন করে চলেছে। গুরুমহারাজ তো সেইজন্যেই বলে গেলেন – ” এবার আর আমার শুধু সন্ন্যাসীদের দ্বারা পরিচালিত আশ্রমগুলোই মানবকল্যাণের কাজ করবে তা নয় – অনেক গৃহস্থাশ্রম থেকেও আমার কাজ হবে !” এই যে বললেন – “অনেক গৃহস্থাশ্রম”– এই কথা থেকেই বোঝা যাচ্ছে, এবার গুরুমহারাজের বহু গৃহীভক্তরাও (নারী-পুরুষ নির্বিশেষে) আধ্যাত্মিকভাবে খুবই উন্নত ! এবার গুরুমহারাজের নতুন এবং অদ্ভুত লীলা – বিচিত্র লীলা ! এই লীলার সুফল পাবে আগামীর মানুষেরা ! আজ আর স্বামী ভাগবতানন্দের কথা কিছুই বলা হোলো না – সেটা পরের দিন হবে। [ক্রমশঃ]
মহাপ্রভু শ্রীচৈতন্যের ক্ষেত্রে (আচার্য শংকরের আরও পাঁচশো বছর পরে) আমরা দেখেছিলাম অদ্ভুত লীলা ! পার্ষদ হিসাবে গৃহী-সন্ন্যাসী উভয় আশ্রমের মানুষদেরকেই কেমন যেন মিলিয়ে মিশিয়ে দিয়েছিলেন তিনি। প্রতিষ্ঠা করেছিলেন “অচিন্ত্যভেদাভেদ তত্ত্ব” ! যেখানে বলা হয়েছে ব্রহ্ম এবং তাঁর শক্তির (জীব ও জগৎ) মধ্যে ভেদ ও অভেদ সম্বন্ধ বিদ্যমান, কিন্তু এই ভেদ ও অভেদ সম্বন্ধ হোলো “অচিন্ত্য”! তাই এই মতকে বলা হয় ‘অচিন্ত্যভেদাভেদ তত্ত্ব’। আর যারা এই মতবাদ মানে, তাদেরকেই গৌড়ীয় বৈষ্ণব বলা হয় [এই কথাগুলি গুরুমহারাজের লেখা “বাউল কথা”-য় প্রথম খন্ডে বিস্তারিত রয়েছে।]।
যাইহোক, যে কথা হচ্ছিলো – মহাপ্রভু আবাল্য ব্রহ্মচারী নিত্যানন্দকে সংসারী বানালেন, আর নিজে দু-দুটো বিবাহ করেও মাত্র চব্বিশ বছর বয়সে সংসারের বন্ধন ছিন্ন করে _সন্ন্যাসীশ্রেষ্ঠ হয়ে জীবন অতিবাহিত করলেন ! সংসারী শ্রীবাস আচার্য – সংসারী অদ্বৈত আচার্যকে করলেন তাঁরই অংশ শক্তি ! যে পাঁচজনকে বৈষ্ণব শাশ্ত্রে ‘পঞ্চতত্ত্ব’ বলা হয়েছে, তাঁদের মধ্যে _মহাপ্রভূ শ্রীচৈতন্য একলা ঈশ্বর, কিন্তু এইবার তিনি ‘ভক্তভাব’ গ্রহণ করে লীলা করেছেন। নিত্যানন্দ প্রভু ”ভক্তস্বরূপ”, শ্রীবাস আচার্য ছিলেন “ভক্ততত্ত্ব”– বা “শুদ্ধভক্ততত্ত্ব” এবং অদ্বৈত আচার্য ছিলেন “ভক্ত-অবতার” তত্ত্ব ! গদাধর ছিলেন মহাপ্রভূর “শক্তি অবতার” ! গৌড়ীয় বৈষ্ণবগণের মতে শ্রীচৈতন্য স্বয়ং “মহাপ্রভু” এবং নিত্যানন্দ এবং অদ্বৈত আচার্য-ও “প্রভু” পদবাচ্য ! এইজন্য _”চৈতন্য মহাপ্রভু” কিন্তু নিত্যানন্দ “প্রভু” এবং অদ্বৈত “প্রভু” !
এবার আমরা মহাপ্রভুর আরও ৩৫০ বছর (প্রায়) পরের ঈশ্বরের লীলা দেখছি শ্রীরামকৃষ্ণরূপে ! সেখানেও ঠাকুরের অন্তরঙ্গ লীলায় সামিল হয়েছেন গৃহী এবং ত্যাগী সন্ন্যাসী-ব্রহ্মচারী ভক্তরা ! কিন্তু পরবর্তীতে স্বামীজী (স্বামী বিবেকানন্দ) সকলকে ছাপিয়ে একেবারে হিমালয়ের মতো সুউচ্চ হয়ে গেলেন। তিনি এতটাই বড় হয়ে গেলেন যে, সকলের ধরাছোঁয়ার বাইরে চলে গেলেন ! তিনি তাঁর ত্যাগী-ব্রহ্মচারীর-সন্ন্যাসী ভক্তদেরকে (হয়তো সকলকে নয়) উদ্দেশ্য করে এমন কিছু কড়া ও কঠোর নির্দেশ দিয়ে গেছিলেন যে, বর্তমান সমাজে তাঁর অনুগামীদের মধ্যে_ আবার গৃহী এবং সন্ন্যাসীর মধ্যে একটা বিভাগের সুস্পষ্ট রেখা তৈরি হয়ে গিয়েছে ! অবশ্য এটাও সত্যি যে এযুগে_ মন্ডন মিশ্র, শ্রীবাস আচার্য্য, অদ্বৈত আচার্য্যের ন্যায় গৃহী-পার্ষদরাই বা কোথায় অথবা রাম দত্ত, বলরাম বসু গিরিশ ঘোষ, মাস্টারমশাই (মহেন্দ্র গুপ্ত)-এর মতো গৃহীভক্তরাই বা কোথায় ! তাছাড়া ব্রহ্মচারী বা সন্ন্যাসীরা সাধনকালের প্রথমাবস্থায় তার চারিদিকে একটা বেড়া দিতে বাধ্য হয়, গৃহীদের সাথে মেলামেশার ব্যাপারে_ একটা ‘আগল’ রাখে,্ এইজন্য যে, এটা না করলে তার সাধনজীবনের অগ্রগতিতে বাধা পড়তে পারে ! সুতরাং “গৃহী বলেই অছ্যুত”_এই বিভেদের প্রাচীরের ব্যাপারটা থাকলে জানতে হবে__ঐ ব্রহ্মচারী বা সন্ন্যাসীটি একেবারেই প্রাথমিক stage-এ রয়েছে। তার নিজের ইন্দ্রিয়ের প্রতি এখনোও নিয়ন্ত্রণ আসেনি, গুরু বা ইষ্টের প্রতি অতোটা নির্ভরতা জন্মায় নি ! তবে সাধনা করতে করতে একবার জগৎ-সংসার সম্বন্ধে সম্যক ধারণা হয়ে গেলে__ আর ভেদাভেদের প্রয়োজন হয় না ! তবে যতোক্ষণ না আত্মতত্ত্বের বোধ হোচ্ছে ততক্ষণ কিন্তু কেউই নিরাপদ নয়– তার আবার পদস্খলন হোতেও পারে ! কিন্তু একবার আত্মতত্ত্বের বোধ হয়ে গেলে “নির্ভয়” হওয়া যায়। এইরূপ ব্যক্তিই তখন গুরু-র ভূমিকা পালন করেন, তাঁর সান্নিধ্যে আসা ব্রহ্মচারী, গৃহী সকল ভক্তদের মধ্যে তিনি তাঁর অর্জিত আধ্যাত্মিক শক্তির transfer ঘটাতে পারেন ! এইভাবে ঈশ্বরের অবতারের আরব্ধ কাজের অংশীদার হয়ে যান তাঁরা ! তাই বলে সবাইকে যে কানে মন্ত্র দিয়ে ‘গুরু’ হোতে হবে – তার কোনো মানে নাই – আধ্যাত্মিক শক্তিসম্পন্ন ব্যক্তি শুধু সান্নিধ্য, সঙ্গ এমনকি বক্তব্যের মাধ্যমেও মানুষের কল্যাণ করতে পারেন।
তবে পরমানন্দ জগতের বিচিত্র বিধান ! এবার উনি নিজের মুখেই বলেছিলেন – ” এবার আমার এখানে বিভিন্ন পরম্পরার লোকেরা রয়েছে ! এবার আগের আগের অনেক গৃহী ভক্তরা সন্ন্যাসী-ব্রহ্মচারী হিসাবে কাজ করছে, আবার আগের আগের শরীরের অনেক ব্রহ্মচারী-সন্ন্যাসীরা এবার গৃহে রয়েছে, সংসার করছে ! এটা আমার একটা experiment ! এই experiment যদি succesful হয়, তাহলে এবার থেকে এমনটাই চলবে !” আসলে ব্যাপারটা কি জানেন,__ পৃথিবীগ্রহেরও তো বয়স বাড়ছে! আর তার সাথে সাথেই পৃথিবীগ্রহের শ্রেষ্ঠ জীব মানুষেরও চেতনার জগতের বয়স বাড়ছে। জন্ম-জন্মান্তরের অভিজ্ঞতার সিঁড়ি বেয়ে বেয়ে মানুষও উপরে উঠে আসছে। ফলে আধ্যাত্মিকভাবে উন্নত হোতে গেলে সংসার ত্যাগী-সন্ন্যাসী-ব্রহ্মচারী হোতেই হবে – এই concept টারও একটু পরিবর্তন ঘটছে ! গৃহীর জীবনযাপন করছে এমন শত শত নারী ও পুরুষ তাদের নিজ নিজ গৃহেও প্রচুর ধ্যান-জপ, সাধন-ভজন করে চলেছে – তারাও চেতনার level-এ যথেষ্ট উন্নতি সাধন করে চলেছে। গুরুমহারাজ তো সেইজন্যেই বলে গেলেন – ” এবার আর আমার শুধু সন্ন্যাসীদের দ্বারা পরিচালিত আশ্রমগুলোই মানবকল্যাণের কাজ করবে তা নয় – অনেক গৃহস্থাশ্রম থেকেও আমার কাজ হবে !” এই যে বললেন – “অনেক গৃহস্থাশ্রম”– এই কথা থেকেই বোঝা যাচ্ছে, এবার গুরুমহারাজের বহু গৃহীভক্তরাও (নারী-পুরুষ নির্বিশেষে) আধ্যাত্মিকভাবে খুবই উন্নত ! এবার গুরুমহারাজের নতুন এবং অদ্ভুত লীলা – বিচিত্র লীলা ! এই লীলার সুফল পাবে আগামীর মানুষেরা ! আজ আর স্বামী ভাগবতানন্দের কথা কিছুই বলা হোলো না – সেটা পরের দিন হবে। [ক্রমশঃ]
