শ্রী শ্রী গুরুমহারাজ স্বামী পরমানন্দ এবং তাঁর ভক্ত-শিষ্য-পার্ষদদের কথা এখানে আলোচনা করা হচ্ছিলো ৷ আমরা এখন ছিলাম স্বামী ভাগবতানন্দ বা সুকুমার মহারাজ ওরফে ‘বাউল বাবা’-র কথায়। আমরা আগের লেখায় ওনার প্রথম বনগ্রামে আগমনের আলোচনায় ছিলাম। এখন তারপর থেকে শুরু করছি—!
প্রথমবার ভাগবতানন্দ মহারাজ (তখনকার সুকুমার) বনগ্রামে গিয়েছিলেন ধাত্রীগ্রাম থেকে। ওনাদের কথা ছিল, সরস্বতীপূজোর দিন (১৯৭৯ সাল) ওনারা গোবিন্দদা (মালতিপুরের)সহ পুরো গান-বাজনার দল নিয়ে বনগ্রামে যাবেন – গুরুমহারাজকে গান শোনাতে। কিন্তু সেবার সরস্বতীপূজোর সময় ওখানে প্রচন্ড বৃষ্টি হয়েছিল। তাছাড়া কালনার সরস্বতীপূজার জাঁকজমকের একটা সুনাম ছিল, সেখানে যাবারও একটা ব্যাপার ছিল – এইসব বিভিন্ন কারণে ওনাদের সেইদিন বনগ্রামে আসা হয়নি ! বৃষ্টির জন্য ওনারা পরেরদিনেও আসতে পারেননি – এসেছিলেন তারও পরের দিন ! এদিকে Hotline-এ যোগাযোগ চলছে। গুরুমহারাজ ওখানে উপস্থিতজনেদের বলে রেখেছিলেন যে, সরস্বতীপূজার দিনে কালনা অঞ্চল থেকে কয়েকজন আসবে ওনাকে গান শোনাতে ! কিন্তু সেইদিনেই গুরুজীর নির্বিকল্পে বসার বিরাট প্রস্তুতি চলছে – তৃষাণ মহারাজসহ বাকিরা সবাই ওই নিয়েই ব্যস্ত এবং খুবই চিন্তাগ্রস্থ ! কিন্তু ভাগবতানন্দ মহারাজদের দল সারাদিনেও এসে না পৌঁছনোয় গুরুমহারাজ অপেক্ষা করে করে_রাত করে আসনে বসেছিলেন !
তার মানে হোচ্ছে – divine plan-এ বা মহাজাগতিক নিয়মে গুরুমহারাজের নির্বিকল্প সমাধির জন্য আসনে বসার আগেই, ওনার সাথে ভাগবতানন্দ মহারাজের একবার সাক্ষাৎ হওয়ার ব্যাপার নির্দিষ্ট ছিল ! কিন্তু সেটা তখন ঘটলো না, আর ঘটলো না বলেই আরো অনেক বড় অঘটন (অথবা সেটাই ঘটনা?) ঘটে গিয়েছিল !
যাইহোক, আমরা এখন ভাগবতানন্দ বা সুকুমার মহারাজের কথায় ফিরে যাই। ওনারা অর্থাৎ মহারাজ এবং ধাত্রীগ্রাম অঞ্চলের ওনার সাথে গান-বাজনা করার দলটি (যার মধ্যে গোবিন্দ দা-ও ছিল), মাকড়ি সপ্তমীর দিনে এসে বনগ্রাম আশ্রমে এসে পৌঁছেছিলেন। ওনারা বনগ্রাম আশ্রমের মাঠে এসে পৌঁছাতেই, ওখানে দেবীপ্রসাদ বাবু (ন’কাকার বড়দা)-র সাথে ওনাদের দেখা হয়েছিল। আগেই বলা হয়েছে যে, গুরুমহারাজ তার দুদিন আগেই বনগ্রামের ঐ কুঠিয়াতে নির্বিকল্প সমাধির জন্য নির্দিষ্ট আসনে বসে পড়েছিলেন ! ফলে সবসময়েই কেউ না কেউ প্রহরায় থাকতো, হয়তো ওই সময়ে দেবীবাবু-ই প্রহরার কাজটি করেছিলেন ! দেবীবাবু ওনাদের পরিচয় পেয়ে এবং ওরা কালনা অঞ্চল থেকে আসছে শুনেই বলে উঠেছিলেন – “তোমাদের তো সরস্বতীপূজোর দিন আসার কথা ছিল, উনি তোমাদের জন্য রাত্রি পর্যন্ত অপেক্ষা করেছিলেন ! তোমরা এলে না দেখে – উনি সংকল্প করে ওনার আসনে বসে পড়েছেন। এখন তো আর তোমাদের সাথে দেখা হবে না, গান শোনানোও হবে না ! তোমরা বরং গ্রামে আমাদের বাড়িতে চলো। ওখানে মায়ের মন্দির আছে – ওখানেই বসে গান গাইবে, ৺রী মা-কে গান শোনালেই ওনাকে (গুরুজীকে) গান শোনানো হবে !”
ফলে ওনারা দেবীবাবুর সাথে ফিরে গিয়েছিলেন গ্রামের বাড়িতে ! সেখানে কালীমন্দিরে ওনাদের জন্য দাওয়ায় কম্বল পেতে দেওয়া হয়েছিল। তখন মা করুণাময়ীর বর্তমান মন্দিরটি ছিল না। তখন কালীঘর ছিল, আর বারান্দাটির চারিপাশ ইঁট দিয়ে বাঁধানো ছিল। ওইখানেই চা-জলখাবার একটু খেয়ে নিয়ে গান শুরু হয়েছিল। গ্রামের প্রচুর লোক গান শোনার জন্য ওখানে জড়ো হয়ে গেছিলো ! বহুক্ষণ গান চলায় মুখার্জি বাড়ির মায়েরা সবার জন্য মধ্যাহ্নভোজনের ব্যবস্থা করেছিলেন। সেইসময় ভাগবতানন্দ মহারাজ লক্ষ্য করেছিলেন যে, মুখার্জি বাড়ির-ই একটা রোগা-পাতলা ফর্সা মতো মেয়ে, বারবার বাড়ি থেকে আশ্রমের দিকে যাচ্ছে এবং ফিরে এসে বাড়ির বড়দেরকে গুরুমহারাজের অবস্থা সম্বন্ধে report করছে ! মহারাজ পরে জেনেছিলেন ওই মেয়েটি-ই “তপিমা” ! ওইদিন ভাগবতানন্দ মহারাজদের খাওয়া-দাওয়া হবার পর যখন ওনারা ✓রী মায়ের (বর্তমান মা করুণাময়ী) মন্দিরে যখন একটু বিশ্রামের জন্য বসেছিলেন, ঠিক সেইসময়ে সেই পাতলা-ছিপছিপে মেয়েটি (অর্থাৎ তপিমা) দৌড়াতে দৌড়াতে এসে মুখার্জি বাড়িতে খবর দিয়েছিল যে, “রবীনদা (গুরুমহারাজ) দুয়ার খুলেছে !”
[খুব সম্ভবতঃ ভাগবতানন্দ মহারাজরা যখন প্রথমেই আশ্রমে পৌঁছেছিলেন, তখনই ওনারা খোল-করতাল সহযোগে হরিনাম সংকীর্তন করেছিলেন। সেই আওয়াজ পেয়েই দেবীবাবু গিয়ে ওনাদের নিরস্ত করেন এবং গ্রামের বাড়িতে নিয়ে এসেছিলেন। আর এই ঘটনাতেই হয়তো গুরুমহারাজের নির্বিকল্পের ‘তাল’ কেটে গেছিল এবং উনি বন্ধ ঘরের দুয়ার খুলে দিয়েছিলেন।]
তপিমার মুখে এই কথা শুনেই বাড়ির সকলে এবং ওখানে উপস্থিতজনেদের অনেকেই ছুটলো আশ্রমের দিকে। ভাগবতানন্দ মহারাজও__ তাদের সঙ্গে আশ্রমে গিয়েছিলেন। [ওখানে গিয়ে কি দেখলেন – এবং আরো কি হোলো, সেসব কথা পরের দিন।]
প্রথমবার ভাগবতানন্দ মহারাজ (তখনকার সুকুমার) বনগ্রামে গিয়েছিলেন ধাত্রীগ্রাম থেকে। ওনাদের কথা ছিল, সরস্বতীপূজোর দিন (১৯৭৯ সাল) ওনারা গোবিন্দদা (মালতিপুরের)সহ পুরো গান-বাজনার দল নিয়ে বনগ্রামে যাবেন – গুরুমহারাজকে গান শোনাতে। কিন্তু সেবার সরস্বতীপূজোর সময় ওখানে প্রচন্ড বৃষ্টি হয়েছিল। তাছাড়া কালনার সরস্বতীপূজার জাঁকজমকের একটা সুনাম ছিল, সেখানে যাবারও একটা ব্যাপার ছিল – এইসব বিভিন্ন কারণে ওনাদের সেইদিন বনগ্রামে আসা হয়নি ! বৃষ্টির জন্য ওনারা পরেরদিনেও আসতে পারেননি – এসেছিলেন তারও পরের দিন ! এদিকে Hotline-এ যোগাযোগ চলছে। গুরুমহারাজ ওখানে উপস্থিতজনেদের বলে রেখেছিলেন যে, সরস্বতীপূজার দিনে কালনা অঞ্চল থেকে কয়েকজন আসবে ওনাকে গান শোনাতে ! কিন্তু সেইদিনেই গুরুজীর নির্বিকল্পে বসার বিরাট প্রস্তুতি চলছে – তৃষাণ মহারাজসহ বাকিরা সবাই ওই নিয়েই ব্যস্ত এবং খুবই চিন্তাগ্রস্থ ! কিন্তু ভাগবতানন্দ মহারাজদের দল সারাদিনেও এসে না পৌঁছনোয় গুরুমহারাজ অপেক্ষা করে করে_রাত করে আসনে বসেছিলেন !
তার মানে হোচ্ছে – divine plan-এ বা মহাজাগতিক নিয়মে গুরুমহারাজের নির্বিকল্প সমাধির জন্য আসনে বসার আগেই, ওনার সাথে ভাগবতানন্দ মহারাজের একবার সাক্ষাৎ হওয়ার ব্যাপার নির্দিষ্ট ছিল ! কিন্তু সেটা তখন ঘটলো না, আর ঘটলো না বলেই আরো অনেক বড় অঘটন (অথবা সেটাই ঘটনা?) ঘটে গিয়েছিল !
যাইহোক, আমরা এখন ভাগবতানন্দ বা সুকুমার মহারাজের কথায় ফিরে যাই। ওনারা অর্থাৎ মহারাজ এবং ধাত্রীগ্রাম অঞ্চলের ওনার সাথে গান-বাজনা করার দলটি (যার মধ্যে গোবিন্দ দা-ও ছিল), মাকড়ি সপ্তমীর দিনে এসে বনগ্রাম আশ্রমে এসে পৌঁছেছিলেন। ওনারা বনগ্রাম আশ্রমের মাঠে এসে পৌঁছাতেই, ওখানে দেবীপ্রসাদ বাবু (ন’কাকার বড়দা)-র সাথে ওনাদের দেখা হয়েছিল। আগেই বলা হয়েছে যে, গুরুমহারাজ তার দুদিন আগেই বনগ্রামের ঐ কুঠিয়াতে নির্বিকল্প সমাধির জন্য নির্দিষ্ট আসনে বসে পড়েছিলেন ! ফলে সবসময়েই কেউ না কেউ প্রহরায় থাকতো, হয়তো ওই সময়ে দেবীবাবু-ই প্রহরার কাজটি করেছিলেন ! দেবীবাবু ওনাদের পরিচয় পেয়ে এবং ওরা কালনা অঞ্চল থেকে আসছে শুনেই বলে উঠেছিলেন – “তোমাদের তো সরস্বতীপূজোর দিন আসার কথা ছিল, উনি তোমাদের জন্য রাত্রি পর্যন্ত অপেক্ষা করেছিলেন ! তোমরা এলে না দেখে – উনি সংকল্প করে ওনার আসনে বসে পড়েছেন। এখন তো আর তোমাদের সাথে দেখা হবে না, গান শোনানোও হবে না ! তোমরা বরং গ্রামে আমাদের বাড়িতে চলো। ওখানে মায়ের মন্দির আছে – ওখানেই বসে গান গাইবে, ৺রী মা-কে গান শোনালেই ওনাকে (গুরুজীকে) গান শোনানো হবে !”
ফলে ওনারা দেবীবাবুর সাথে ফিরে গিয়েছিলেন গ্রামের বাড়িতে ! সেখানে কালীমন্দিরে ওনাদের জন্য দাওয়ায় কম্বল পেতে দেওয়া হয়েছিল। তখন মা করুণাময়ীর বর্তমান মন্দিরটি ছিল না। তখন কালীঘর ছিল, আর বারান্দাটির চারিপাশ ইঁট দিয়ে বাঁধানো ছিল। ওইখানেই চা-জলখাবার একটু খেয়ে নিয়ে গান শুরু হয়েছিল। গ্রামের প্রচুর লোক গান শোনার জন্য ওখানে জড়ো হয়ে গেছিলো ! বহুক্ষণ গান চলায় মুখার্জি বাড়ির মায়েরা সবার জন্য মধ্যাহ্নভোজনের ব্যবস্থা করেছিলেন। সেইসময় ভাগবতানন্দ মহারাজ লক্ষ্য করেছিলেন যে, মুখার্জি বাড়ির-ই একটা রোগা-পাতলা ফর্সা মতো মেয়ে, বারবার বাড়ি থেকে আশ্রমের দিকে যাচ্ছে এবং ফিরে এসে বাড়ির বড়দেরকে গুরুমহারাজের অবস্থা সম্বন্ধে report করছে ! মহারাজ পরে জেনেছিলেন ওই মেয়েটি-ই “তপিমা” ! ওইদিন ভাগবতানন্দ মহারাজদের খাওয়া-দাওয়া হবার পর যখন ওনারা ✓রী মায়ের (বর্তমান মা করুণাময়ী) মন্দিরে যখন একটু বিশ্রামের জন্য বসেছিলেন, ঠিক সেইসময়ে সেই পাতলা-ছিপছিপে মেয়েটি (অর্থাৎ তপিমা) দৌড়াতে দৌড়াতে এসে মুখার্জি বাড়িতে খবর দিয়েছিল যে, “রবীনদা (গুরুমহারাজ) দুয়ার খুলেছে !”
[খুব সম্ভবতঃ ভাগবতানন্দ মহারাজরা যখন প্রথমেই আশ্রমে পৌঁছেছিলেন, তখনই ওনারা খোল-করতাল সহযোগে হরিনাম সংকীর্তন করেছিলেন। সেই আওয়াজ পেয়েই দেবীবাবু গিয়ে ওনাদের নিরস্ত করেন এবং গ্রামের বাড়িতে নিয়ে এসেছিলেন। আর এই ঘটনাতেই হয়তো গুরুমহারাজের নির্বিকল্পের ‘তাল’ কেটে গেছিল এবং উনি বন্ধ ঘরের দুয়ার খুলে দিয়েছিলেন।]
তপিমার মুখে এই কথা শুনেই বাড়ির সকলে এবং ওখানে উপস্থিতজনেদের অনেকেই ছুটলো আশ্রমের দিকে। ভাগবতানন্দ মহারাজও__ তাদের সঙ্গে আশ্রমে গিয়েছিলেন। [ওখানে গিয়ে কি দেখলেন – এবং আরো কি হোলো, সেসব কথা পরের দিন।]
