শ্রী শ্রী গুরুমহারাজ স্বামী পরমানন্দ এবং তাঁর ভক্ত-শিষ্য-পার্ষদদের কথা এখানে আলোচনা করা হচ্ছিলো। আমরা এখন আলোচনা করছিলাম ভাগবতানন্দ মহারাজের কথা। ভাগবতানন্দ – এই নামটা অবশ্যই গুরুমহারাজের দেওয়া !! বনগ্রাম আশ্রম থেকে যে সমস্ত ত্যাগী-ভক্তরা ব্রহ্মচর্য বা সন্ন্যাস নিতেন, গুরুমহারাজই তাঁদের নামকরণ করতেন। তবে উনি প্রত্যেককেই জিজ্ঞাসা করতেন যে, তাঁদের এই ব্যাপারে নিজস্ব কোনো মতামত রয়েছে কিনা ! যদি ঐ ব্রহ্মচারী কোনো পছন্দের নাম থাকতো, তাহলে তিনি তা বলতেন –এবং তখন গুরুমহারাজ সেটাকেই grant করে দিতেন।
তবে বেশিরভাগ ব্রহ্মচারীরাই নামকরণের ব্যাপারটা গুরুমহারাজের উপরেই ছেড়ে দিতেন এবং আমি শুনেছিলাম গুরুমহারাজ, বনগ্রামের ন’কাকা (শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়)-র সাথে পরামর্শ করে নামকরণ করতেন(ওনাদের সাথে খুব সম্ভবত তৃষাণ মহারাজও থাকতেন)। একবার বর্ধমান সদগুরু পরমানন্দ মিশনের অধ্যক্ষ মাধবানন্দ মহারাজের সাথে, কোনো এক অন্তরঙ্গ মুহূর্তে ওনার নামকরণের (সন্ন্যাস নামকরণ) ব্যাপারে কথা হচ্ছিলো। উনি আমাকে বলেছিলেন যে, ওনার ব্রহ্মচর্য সংস্কারের সময়_ যখন নামকরণের turn-টা এলো, তখন গুরুমহারাজ ওনাকে জিজ্ঞাসা করেছিলেন যে, মাধবানন্দ মহারাজের (তখনকার মহাদেব মুখার্জি) এই ব্যাপারে কোনো choice রয়েছে কিনা ? মহারাজ উত্তর দিয়েছিলেন – ওনার কোনো নিজস্ব choice নাই, কিন্তু যদি ওনার পূর্বনামের (পিতৃদত্ত নাম) সাথে কিছুটা হোলেও মিল থাকে (যেমন আদ্যক্ষরটা যদি Same হয়) – তাহলে ভালো হয় ! সেটা শোনার পরই গুরুমহারাজ ওনার নামকরণ করেছিলেন – “স্বামী মাধবানন্দ”।
তাই আমরা ধরে নিতে পারি__ভাগবতানন্দ মহারাজেরও নামকরণ নিশ্চয়ই ঐভাবেই হয়েছিল। যাইহোক, আমরা এইসব কথা থেকে পুনরায় ফিরে যাবো সেই দিনের কথায়, যেদিন গুরুমহারাজের নির্বিকল্পের তাল কেটে গিয়েছিল এবং গুরু মহারাজের ভাবটা এমন ছিল, যেন স্থূলতঃ ঐ ঘটনায় উনি খুবই ভেঙে পড়েছিলেন। মুখার্জি বাড়ির সকলে এবং ওখানে উপস্থিত অন্যান্য মহারাজরা(তৃষাণ মহারাজ, মিহির মহারাজ, শম্ভু মহারাজ প্রমুখরা)-ও এই ঘটনাটিতে খুবই মর্মাহত ছিলেন ! এনাদের সবার সাথে সমানভাবেই কষ্ট পাচ্ছিলেন ভাগবতানন্দ মহারাজও ! সেই রাত্রে ওনাদের কালীমন্দির প্রাঙ্গণে অবস্থিত টিনের চালাঘরে বিশ্রামের ব্যবস্থা হোলেও – রাত্রে ভাগবতানন্দ একটুও ঘুমাতে পারেননি ! বিছানায় শুয়েও ছট্-ফট্ করছিলেন – ফলে ওনার সাথীদেরও (গোবিন্দ প্রামানিক ও অন্যান্যরা) ভালো করে বিশ্রাম হয় নি। অনেক রাত্রে মহারাজ ওনাদের বলেন – ” চলো ! রবীন সাধুবাবা(তখনও স্বামী পরমানন্দ হ’ন নি)-র সাথে এই সুযোগে দেখা করে আসি ! ওনার সাথে তো কোনো কথাই হোলো না ! আমরা সকাল-সকাল চলে যাবো – কিন্তু যাবার আগে আমার ওনার সাথে কিছু individual কথা আছে ! আমি সেগুলো ওনার সাথে এখুনি বলে নিতে চাই !”
মহারাজের কথা শুনে বাকিরাও রাজি হয়ে গেছিলো। ওনারা সেই শীতের রাত্রির অন্ধকারে (ভোরের দিক হোলেও খুবই অন্ধকার ছিল !) হি-হি করে কাঁপতে কাঁপতে গ্রাম থেকে মাঠের দিকে অর্থাৎ গুরুমহারাজের সেই ছোট্ট কুটিয়া লক্ষ্য করে হাঁটতে শুরু করেছিলেন। মাঘ মাসের রাত্রি, তায় আবার গত দু’দিন ধরে বৃষ্টি হয়েছিল, ফলে প্রচণ্ড কুয়াশার সৃষ্টি হয়েছিল, আর তেমনি কনকনে ঠাণ্ডা ! কুয়াশার মধ্যে ওনারা রাস্তা হাতড়ে হাতড়ে কোনোক্রমে গুরুমহারাজের কুটিয়ার কাছে গিয়ে পৌঁছেছিলেন। গুরুমহারাজের ছোট্ট কুটিয়ার সামনের দিকটায়__ একটা হালকা বেড়া দিয়ে ঘেরা জায়গা ছিল, যার মধ্যে দু-চারটি ফুলগাছ লাগানো ছিল (খুব সম্ভবত তপিমা, গাঙ্গুলী-বাড়ির কৃষ্ণা ইত্যাদিরা এই অতি ছোট ফুলবাগানটি তৈরি করেছিল) ! ফলে ছাগল আটকানোর জন্য সেখানে একটা বাঁশের বাকারির ‘আগল’ও ছিল।
ভাগবতানন্দ মহারাজরা সেই পাতলা ‘আগল’-টিতে হাত দিয়ে ভাবছিলেন – গুরুজীকে এইসময় বিরক্ত করা যায় কি না ! ঠিক সেইসময়েই ওনাদেরকে চমকে দিয়ে দরজাবন্ধ ঘরের ভিতর থেকে গুরুমহারাজের আওয়াজ ভেসে এসেছিল – ” বাইরে প্রচন্ড ঠান্ডা ! তোমরা বাইরে থেকো না, দরজা খুলে ঘরের ভিতরে ঢুকে পড়ো !” এইরকম একটা ঘটনায় ওনারা প্রথমটায় হতচকিত হয়ে পড়লেও – সমস্ত জড়তা কাটিয়ে ঘরের দরজা খুলে ভেতরে ঢুকে পড়েছিলেন। ঘরের ভিতরে ঢুকে দেখেন যে – ঘরটি খুবই ছোটো ! গুরুমহারাজ একটা ছোটো চৌকির উপরে শুয়েছিলেন – ওটার পরে যেটুকু জায়গা ছিল, তাতে ওনাদের চারজন কোনোক্রমে ঘেঁষাঘেঁষি করে বসার জায়গা পেয়েছিলেন।
সামান্য কুশল বিনিময়ের পরেই ভাগবতানন্দ মহারাজ আসল কথার উপস্থাপনা করেছিলেন ! কারণ সারাদিনের ঘটনা পরম্পরায় উনি বুঝতে পেরেছিলেন – এতদিন উনি বিভিন্ন মঠ-মিশন-আশ্রমে যাঁকে খুঁজছিলেন– ইনিই সেই ব্যক্তি ! [ক্রমশঃ]
তবে বেশিরভাগ ব্রহ্মচারীরাই নামকরণের ব্যাপারটা গুরুমহারাজের উপরেই ছেড়ে দিতেন এবং আমি শুনেছিলাম গুরুমহারাজ, বনগ্রামের ন’কাকা (শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়)-র সাথে পরামর্শ করে নামকরণ করতেন(ওনাদের সাথে খুব সম্ভবত তৃষাণ মহারাজও থাকতেন)। একবার বর্ধমান সদগুরু পরমানন্দ মিশনের অধ্যক্ষ মাধবানন্দ মহারাজের সাথে, কোনো এক অন্তরঙ্গ মুহূর্তে ওনার নামকরণের (সন্ন্যাস নামকরণ) ব্যাপারে কথা হচ্ছিলো। উনি আমাকে বলেছিলেন যে, ওনার ব্রহ্মচর্য সংস্কারের সময়_ যখন নামকরণের turn-টা এলো, তখন গুরুমহারাজ ওনাকে জিজ্ঞাসা করেছিলেন যে, মাধবানন্দ মহারাজের (তখনকার মহাদেব মুখার্জি) এই ব্যাপারে কোনো choice রয়েছে কিনা ? মহারাজ উত্তর দিয়েছিলেন – ওনার কোনো নিজস্ব choice নাই, কিন্তু যদি ওনার পূর্বনামের (পিতৃদত্ত নাম) সাথে কিছুটা হোলেও মিল থাকে (যেমন আদ্যক্ষরটা যদি Same হয়) – তাহলে ভালো হয় ! সেটা শোনার পরই গুরুমহারাজ ওনার নামকরণ করেছিলেন – “স্বামী মাধবানন্দ”।
তাই আমরা ধরে নিতে পারি__ভাগবতানন্দ মহারাজেরও নামকরণ নিশ্চয়ই ঐভাবেই হয়েছিল। যাইহোক, আমরা এইসব কথা থেকে পুনরায় ফিরে যাবো সেই দিনের কথায়, যেদিন গুরুমহারাজের নির্বিকল্পের তাল কেটে গিয়েছিল এবং গুরু মহারাজের ভাবটা এমন ছিল, যেন স্থূলতঃ ঐ ঘটনায় উনি খুবই ভেঙে পড়েছিলেন। মুখার্জি বাড়ির সকলে এবং ওখানে উপস্থিত অন্যান্য মহারাজরা(তৃষাণ মহারাজ, মিহির মহারাজ, শম্ভু মহারাজ প্রমুখরা)-ও এই ঘটনাটিতে খুবই মর্মাহত ছিলেন ! এনাদের সবার সাথে সমানভাবেই কষ্ট পাচ্ছিলেন ভাগবতানন্দ মহারাজও ! সেই রাত্রে ওনাদের কালীমন্দির প্রাঙ্গণে অবস্থিত টিনের চালাঘরে বিশ্রামের ব্যবস্থা হোলেও – রাত্রে ভাগবতানন্দ একটুও ঘুমাতে পারেননি ! বিছানায় শুয়েও ছট্-ফট্ করছিলেন – ফলে ওনার সাথীদেরও (গোবিন্দ প্রামানিক ও অন্যান্যরা) ভালো করে বিশ্রাম হয় নি। অনেক রাত্রে মহারাজ ওনাদের বলেন – ” চলো ! রবীন সাধুবাবা(তখনও স্বামী পরমানন্দ হ’ন নি)-র সাথে এই সুযোগে দেখা করে আসি ! ওনার সাথে তো কোনো কথাই হোলো না ! আমরা সকাল-সকাল চলে যাবো – কিন্তু যাবার আগে আমার ওনার সাথে কিছু individual কথা আছে ! আমি সেগুলো ওনার সাথে এখুনি বলে নিতে চাই !”
মহারাজের কথা শুনে বাকিরাও রাজি হয়ে গেছিলো। ওনারা সেই শীতের রাত্রির অন্ধকারে (ভোরের দিক হোলেও খুবই অন্ধকার ছিল !) হি-হি করে কাঁপতে কাঁপতে গ্রাম থেকে মাঠের দিকে অর্থাৎ গুরুমহারাজের সেই ছোট্ট কুটিয়া লক্ষ্য করে হাঁটতে শুরু করেছিলেন। মাঘ মাসের রাত্রি, তায় আবার গত দু’দিন ধরে বৃষ্টি হয়েছিল, ফলে প্রচণ্ড কুয়াশার সৃষ্টি হয়েছিল, আর তেমনি কনকনে ঠাণ্ডা ! কুয়াশার মধ্যে ওনারা রাস্তা হাতড়ে হাতড়ে কোনোক্রমে গুরুমহারাজের কুটিয়ার কাছে গিয়ে পৌঁছেছিলেন। গুরুমহারাজের ছোট্ট কুটিয়ার সামনের দিকটায়__ একটা হালকা বেড়া দিয়ে ঘেরা জায়গা ছিল, যার মধ্যে দু-চারটি ফুলগাছ লাগানো ছিল (খুব সম্ভবত তপিমা, গাঙ্গুলী-বাড়ির কৃষ্ণা ইত্যাদিরা এই অতি ছোট ফুলবাগানটি তৈরি করেছিল) ! ফলে ছাগল আটকানোর জন্য সেখানে একটা বাঁশের বাকারির ‘আগল’ও ছিল।
ভাগবতানন্দ মহারাজরা সেই পাতলা ‘আগল’-টিতে হাত দিয়ে ভাবছিলেন – গুরুজীকে এইসময় বিরক্ত করা যায় কি না ! ঠিক সেইসময়েই ওনাদেরকে চমকে দিয়ে দরজাবন্ধ ঘরের ভিতর থেকে গুরুমহারাজের আওয়াজ ভেসে এসেছিল – ” বাইরে প্রচন্ড ঠান্ডা ! তোমরা বাইরে থেকো না, দরজা খুলে ঘরের ভিতরে ঢুকে পড়ো !” এইরকম একটা ঘটনায় ওনারা প্রথমটায় হতচকিত হয়ে পড়লেও – সমস্ত জড়তা কাটিয়ে ঘরের দরজা খুলে ভেতরে ঢুকে পড়েছিলেন। ঘরের ভিতরে ঢুকে দেখেন যে – ঘরটি খুবই ছোটো ! গুরুমহারাজ একটা ছোটো চৌকির উপরে শুয়েছিলেন – ওটার পরে যেটুকু জায়গা ছিল, তাতে ওনাদের চারজন কোনোক্রমে ঘেঁষাঘেঁষি করে বসার জায়গা পেয়েছিলেন।
সামান্য কুশল বিনিময়ের পরেই ভাগবতানন্দ মহারাজ আসল কথার উপস্থাপনা করেছিলেন ! কারণ সারাদিনের ঘটনা পরম্পরায় উনি বুঝতে পেরেছিলেন – এতদিন উনি বিভিন্ন মঠ-মিশন-আশ্রমে যাঁকে খুঁজছিলেন– ইনিই সেই ব্যক্তি ! [ক্রমশঃ]
