শ্রী শ্রী গুরুমহারাজ স্বামী পরমানন্দ এবং তাঁর ভক্ত-শিষ্য-পার্ষদদের নিয়ে এখানে কথা হচ্ছিলো। এখন আমরা ছিলাম বাউলবাবা বা স্বামী ভাগবতানন্দ মহারাজের কথায়। ভাগবতানন্দ মহারাজ বর্তমানে মালদহ শহরের নিকটস্থ ছোট কাদিরপুরে আশ্রম করে রয়েছেন। প্রথমাবস্থায় মহানন্দা নদীর তীরে একটা ছোট্ট কুটিয়া দিয়ে শুরু করে__ বর্তমানে উনি এখন সেই স্থানটির কাছেই বেশ বড়সড় আশ্রম বানিয়েছেন। যদিও উত্তরবঙ্গে পরমানন্দ-ভক্তদের সংখ্যা অনেকটাই কম – তবুও উনি অক্লান্ত পরিশ্রম করে এবং ভগবান পরমানন্দের উপর নির্ভর করে আশ্রমটির রূপ ও বিকাশদান করে চলেছেন। বাউলগান এখনও তাঁর নিত্যসঙ্গী ! বাউলগান প্রধানতঃ মাটির গান, সহজ মানুষের গান, সহজিয়াদের গান –(আবার গুরুমহারাজ স্বামী পরমানন্দেরও অত্যন্ত প্রিয় ছিল) তাই এই বাউলগানে যে কোনো মানুষ সহজেই প্রভাবিত হয়ে যায় ! তাই বাউল গানটা অবশ্যই ভাগবতানন্দ মহারাজের একটা প্লাসপয়েন্ট ! তাছাড়া আশ্রমের প্রয়োজনে স্বাধীন ও নিজস্ব প্রচেষ্টায় কিছু রোজগার করার জন্য উনি বাণিজ্যিকভাবে মৌমাছি পালনও করে থাকেন। এই কাজে খুবই কষ্ট – মাঠে মাঠে ক্যাম্প তৈরি করে মৌমাছিদের সাথে রাত কাটাতে হয় ! কিন্তু মহারাজের একতারা সাথী, ওটাকেই সঙ্গী করে দিব্যি উনি একাকী পরমানন্দে রাতের পর রাত কাটিয়ে দিতে পারেন৷ যাইহোক, এইভাবেই বহু পরিশ্রম করে উনি_ মালদহ জেলার ছোটো কাদিরপুরে, বর্তমান আশ্রমটির রূপদান করেছেন।
ফলে এখন যেকোনো পরমানন্দ-ভক্ত নিঃসংকোচে ভাগবতানন্দের মালদহ আশ্রমে (ছোট কাদিরপুর) পরিবারসহ যেতেই পারেন। থাকা-খাওয়া, পায়খানা-বাথরুম, জল ইত্যাদির আর কোনো সমস্যাই নাই। মহারাজ পরমানন্দ-ভক্তদের স্বাচ্ছন্দ্যের কথা ভেবে – সবরকম ব্যবস্থাই করে দিয়েছেন। গুরুমহারাজ অনেকবার ওই আশ্রমে গেছেন [আগেরটাতেই বেশিরভাগ গেছেন, সেটা এখনকার আশ্রমের বিল্ডিংটা থেকে কিছুটা মাত্র দূরে অবস্থিত। আর নতুনটায় শেষবারে(১৯৯৮-সালে) গেছিলেন।], সুতরাং ওখানে রয়েছে গুরুমহারাজের অনেক স্মৃতি এবং ওনার স্মৃতি-বিজড়িত নানান ঘটনা ! রাত্রিবেলার অবসরে সবার সাথে বসে বসে সেইসব স্মৃতিচারণের মধ্যে দিয়ে উঠে আসতে পারে গুরুমহারাজের নানান লীলাকাহিনী ! আর মহারাজ যেহেতু সংগীত-শিল্পী, তাই অবশ্যই উপরি পাওনা হিসেবে শোনা যাবে “বাউলগান”। দেহতত্ত্বমূলক গানের মূর্ছনায় মধ্যরাত্রির অন্ধকারের বুক চিরে দূর থেকে বহুদূরে – হয়তো নক্ষত্রলোকের কোনো অচিনপুর পর্যন্ত পৌঁছে যাওয়া যাবে। সেই সুর হয়তো সেখানেও পৌঁছে যাবে যেখানে শতভিষা নক্ষত্রের সেই বিশেষ গ্রহটি রয়েছে, যেখান থেকে মহাবাউলরাজ স্বামী পরমানন্দ তাঁর এবারকার লীলার প্রয়োজনীয় শক্তি আহরণ করেছিলেন !
এখন এসব কল্পনার কথা থাক্ – আমরা আমাদের মূল আলোচনায় ফিরে যাই অর্থাৎ ভাগবতানন্দ মহারাজের প্রথম আগমনের সেই রাত্রি-নিশীথের কথায় ! আর কল্পনার কথা যেটা বলা হচ্ছিলো – সেখানেও একটা কথা বলাই যায় যে, ‘কল্পনা’র এমনিতে বিশেষ কোনো মূল্য না থাকলেও __যদি কোনো কল্পনা ভগবান স্বামী পরমানন্দকে নিয়ে হয়, তাহলে সেই কল্পনাও _ স্থূল কোনো কার্য্যের চাইতে অধ্যাত্মজগতে কম মূল্য পাবে না – এটা আত্যন্তিক সত্য ! যাইহোক, আমরা চলে যাই বনগ্রামের সেই মাঠে অর্থাৎ এখন যেখানে বড় বড় বিল্ডিং সমন্বিত ‘পরমানন্দ মিশন’–তৎকালীন সেইস্থানের একটা ছোট্ট মাটির কুটিয়ায় ! সেখানে তখন গুরুমহারাজ ছোটো চৌকি বা বেদীর মতো একটা স্থানে পূর্ব-পশ্চিম বরাবর শুয়েছিলেন এবং ঘেঁষাঘেষি করে বসেছিলেন ভাগবতানন্দ মহারাজেরা চারজন !
ঐ চারজনের মধ্যে বাকিদের অন্তর্জগতে তেমন কোনো আলোড়ন চলছিল কিনা জানা যায় না – কিন্তু মহারাজের অন্তঃকরণে তখন চলছিল তীব্র আধ্যাত্মিক আলোড়ন ! ভাগবতানন্দ দীর্ঘদিন বাউলভাবে পথে পথে ঘুরেছেন, শুধুমাত্র এইরকম একটা মানুষের অন্বেষণেই ! তাঁকে যখন হাতের কাছে পেয়েই গেছেন – তখন আর ছাড়াছাড়ি নাই ! যা হয় হবে, ‘আজকেই এনার কাছে আত্মসমর্পণ করতেই হবে’ – এইরকম একটা তীব্র ব্যাকুলতা তখন ওনার মনের মধ্যে চলছিল। কিন্তু মনের কথা, বিশেষতঃ প্রাণের কথা সবার সামনে বলা যায় না ! তাই মহারাজ একটু একান্ত খুঁজছিলেন। সে সুযোগও করে দিয়েছিলেন গুরুমহারাজ স্বামী পরমানন্দ ! সুযোগ পেয়েই ভাগবতানন্দ মহারাজ গুরুজীকে জিজ্ঞাসা করেছিলেন – ” এখন আমি কি করবো ?” অর্থাৎ উনি বলতে চেয়েছিলেন – “এতো দিন যেভাবে কেটেছে, তা কেটেছে ! কিন্তু একবার তোমাকে যখন পেয়েই গেছি__ তাহলে এবার তুমি আমাকে ‘তোমার’ করে নাও !”
এই কথায় গুরুমহারাজ খুব প্রসন্ন দৃষ্টিতে ভাগবতানন্দের দিকে বেশ কিছুক্ষণ চেয়েছিলেন, তারপর একটা মন্ত্র (ওটাই সম্ভবতঃ পরবর্তীতে ওনার দীক্ষামন্ত্রও ছিল!) কাগজে লিখে দিয়ে গুরুমহারাজ ওনাকে বলেছিলেন, ” এখন থেকে ‘এইটা’ জপ করবে। সবসময় জপ করতে পারো, শুচি-অশুচির ভাবনা ভাববে না। শ্বাসে-প্রশ্বাসে জপ কোরো, আর সময়-সুযোগ পেলেই এখানে চলে আসবে।” তাছাড়া উনি আরও বলেছিলেন_” যখন যেখানে থাকবে, সেখানেই সাধুমানুষের সঙ্গ করবে, সৎসঙ্গ করবে।” [ক্রমশঃ]
ফলে এখন যেকোনো পরমানন্দ-ভক্ত নিঃসংকোচে ভাগবতানন্দের মালদহ আশ্রমে (ছোট কাদিরপুর) পরিবারসহ যেতেই পারেন। থাকা-খাওয়া, পায়খানা-বাথরুম, জল ইত্যাদির আর কোনো সমস্যাই নাই। মহারাজ পরমানন্দ-ভক্তদের স্বাচ্ছন্দ্যের কথা ভেবে – সবরকম ব্যবস্থাই করে দিয়েছেন। গুরুমহারাজ অনেকবার ওই আশ্রমে গেছেন [আগেরটাতেই বেশিরভাগ গেছেন, সেটা এখনকার আশ্রমের বিল্ডিংটা থেকে কিছুটা মাত্র দূরে অবস্থিত। আর নতুনটায় শেষবারে(১৯৯৮-সালে) গেছিলেন।], সুতরাং ওখানে রয়েছে গুরুমহারাজের অনেক স্মৃতি এবং ওনার স্মৃতি-বিজড়িত নানান ঘটনা ! রাত্রিবেলার অবসরে সবার সাথে বসে বসে সেইসব স্মৃতিচারণের মধ্যে দিয়ে উঠে আসতে পারে গুরুমহারাজের নানান লীলাকাহিনী ! আর মহারাজ যেহেতু সংগীত-শিল্পী, তাই অবশ্যই উপরি পাওনা হিসেবে শোনা যাবে “বাউলগান”। দেহতত্ত্বমূলক গানের মূর্ছনায় মধ্যরাত্রির অন্ধকারের বুক চিরে দূর থেকে বহুদূরে – হয়তো নক্ষত্রলোকের কোনো অচিনপুর পর্যন্ত পৌঁছে যাওয়া যাবে। সেই সুর হয়তো সেখানেও পৌঁছে যাবে যেখানে শতভিষা নক্ষত্রের সেই বিশেষ গ্রহটি রয়েছে, যেখান থেকে মহাবাউলরাজ স্বামী পরমানন্দ তাঁর এবারকার লীলার প্রয়োজনীয় শক্তি আহরণ করেছিলেন !
এখন এসব কল্পনার কথা থাক্ – আমরা আমাদের মূল আলোচনায় ফিরে যাই অর্থাৎ ভাগবতানন্দ মহারাজের প্রথম আগমনের সেই রাত্রি-নিশীথের কথায় ! আর কল্পনার কথা যেটা বলা হচ্ছিলো – সেখানেও একটা কথা বলাই যায় যে, ‘কল্পনা’র এমনিতে বিশেষ কোনো মূল্য না থাকলেও __যদি কোনো কল্পনা ভগবান স্বামী পরমানন্দকে নিয়ে হয়, তাহলে সেই কল্পনাও _ স্থূল কোনো কার্য্যের চাইতে অধ্যাত্মজগতে কম মূল্য পাবে না – এটা আত্যন্তিক সত্য ! যাইহোক, আমরা চলে যাই বনগ্রামের সেই মাঠে অর্থাৎ এখন যেখানে বড় বড় বিল্ডিং সমন্বিত ‘পরমানন্দ মিশন’–তৎকালীন সেইস্থানের একটা ছোট্ট মাটির কুটিয়ায় ! সেখানে তখন গুরুমহারাজ ছোটো চৌকি বা বেদীর মতো একটা স্থানে পূর্ব-পশ্চিম বরাবর শুয়েছিলেন এবং ঘেঁষাঘেষি করে বসেছিলেন ভাগবতানন্দ মহারাজেরা চারজন !
ঐ চারজনের মধ্যে বাকিদের অন্তর্জগতে তেমন কোনো আলোড়ন চলছিল কিনা জানা যায় না – কিন্তু মহারাজের অন্তঃকরণে তখন চলছিল তীব্র আধ্যাত্মিক আলোড়ন ! ভাগবতানন্দ দীর্ঘদিন বাউলভাবে পথে পথে ঘুরেছেন, শুধুমাত্র এইরকম একটা মানুষের অন্বেষণেই ! তাঁকে যখন হাতের কাছে পেয়েই গেছেন – তখন আর ছাড়াছাড়ি নাই ! যা হয় হবে, ‘আজকেই এনার কাছে আত্মসমর্পণ করতেই হবে’ – এইরকম একটা তীব্র ব্যাকুলতা তখন ওনার মনের মধ্যে চলছিল। কিন্তু মনের কথা, বিশেষতঃ প্রাণের কথা সবার সামনে বলা যায় না ! তাই মহারাজ একটু একান্ত খুঁজছিলেন। সে সুযোগও করে দিয়েছিলেন গুরুমহারাজ স্বামী পরমানন্দ ! সুযোগ পেয়েই ভাগবতানন্দ মহারাজ গুরুজীকে জিজ্ঞাসা করেছিলেন – ” এখন আমি কি করবো ?” অর্থাৎ উনি বলতে চেয়েছিলেন – “এতো দিন যেভাবে কেটেছে, তা কেটেছে ! কিন্তু একবার তোমাকে যখন পেয়েই গেছি__ তাহলে এবার তুমি আমাকে ‘তোমার’ করে নাও !”
এই কথায় গুরুমহারাজ খুব প্রসন্ন দৃষ্টিতে ভাগবতানন্দের দিকে বেশ কিছুক্ষণ চেয়েছিলেন, তারপর একটা মন্ত্র (ওটাই সম্ভবতঃ পরবর্তীতে ওনার দীক্ষামন্ত্রও ছিল!) কাগজে লিখে দিয়ে গুরুমহারাজ ওনাকে বলেছিলেন, ” এখন থেকে ‘এইটা’ জপ করবে। সবসময় জপ করতে পারো, শুচি-অশুচির ভাবনা ভাববে না। শ্বাসে-প্রশ্বাসে জপ কোরো, আর সময়-সুযোগ পেলেই এখানে চলে আসবে।” তাছাড়া উনি আরও বলেছিলেন_” যখন যেখানে থাকবে, সেখানেই সাধুমানুষের সঙ্গ করবে, সৎসঙ্গ করবে।” [ক্রমশঃ]
