শ্রী শ্রী গুরুমহারাজ স্বামী পরমানন্দ এবং তাঁর ভক্ত-শিষ্য-পার্ষদদের নিয়ে এখানে আলোচনা করা হচ্ছিলো। এখন আমরা আলোচনা করছিলাম মানিক মহারাজ বা স্বামী অখন্ডানন্দ গিরি মহারাজের কথা ( যদিও আমাদের স্বামী ভাগবতানন্দের সম্বন্ধে আরও কিছু কথা বলা বাকি রয়েছে, সেটাও আগামীতে বলা হবে।)। মানিক মহারাজের বাড়ি ছিল বর্ধমান-কালনা বাসরুটের উপরেই অবস্থিত ‘নবস্থা’-য়। আগেই বলা হয়েছিল যে, উনি ‘কবিরাজ’ পরিবারের সদস্য ছিলেন। মহারাজের কোনো এক পূর্বপুরুষ (দাদু বা তার বাবা)খুবই নামকরা কবিরাজ ছিলেন, যার জন্য ওনাদের পদবী (title)-ই পরিবর্তিত হয়ে কবিরাজ হয়ে গেছিলো !,
যাইহোক, কবিরাজ পরিবারের ছেলে হোলেও মানিক মহারাজের কবিরাজি করা বা ডাক্তারি করার ব্যাপারে চরম অনীহা ছিল। ফলতঃ পরবর্তীতে অর্থাৎ যখন উনি গুরুমহারাজের কাছে ব্রহ্মচর্য নিয়ে বনগ্রাম আশ্রমে থাকতে শুরু করেছিলেন – তখন গুরুমহারাজ ওনাকে বলেছিলেন – আশ্রমের দাতব্য হোমিওপ্যাথি ক্লিনিকের সাথে যুক্ত হোতে এবং ওখানে যারা কর্মরত ছিলেন (প্রশান্তদা – স্বামী সচ্চিদানন্দ, দীপ্তিদা – স্বামী ভূমানন্দ) তাঁদেরকে সহযোগিতা করতে। কিন্তু মহারাজ দৃঢ়কন্ঠে উত্তর দিয়েছিলেন – ” ডাক্তার-খানায় আমি বসতে পারবো না ! ওখানে মেয়েরা আসবে, তাদের নানা গোপন রোগের কথা বলবে, হয়তো কাপড় তুলে শরীরের রোগ (ব্যথা-বেদনা ইত্যাদি) দেখাবে ! – আমি ঐসব দেখবো তো ‘ব্রহ্মচর্য’ নিলাম কেন ? আমি ধ্যান-জপ করতে চাই, আত্মদর্শন করতে চাই ! তার জন্য কি করতে হবে – আমাকে তুমি সেইটা বলে দাও !” গুরুমহারাজ হাসতে হাসতে বলেছিলেন – ” কিন্তু তোকে ওটাই করতে হবে রে ! ওই কর্মটি (ডাক্তারি করা) যে তোর সংস্কারে রয়েছে !”
এরপরে অবশ্য আমরা সকলেই দেখেছি যে, গুরুমহারাজই সঠিক ছিলেন এবং মানিক মহারাজকে সেই চিকিৎসা কার্যেই নিয়োজিত হোতে হয়েছিল। অবশ্য এর সূচনা হয়েছিল বনগ্রামেই। যে দাতব্য চিকিৎসাকেন্দ্রে গুরুমহারাজ মানিকদা(স্বামী অখন্ডানন্দ)-কে চিকিৎসায় সাহায্য করতে বলেছিলেন – সেখানেই উনি দীপ্তি মহারাজের সাথে বেশ কিছুদিন হোমিওপ্যাথি চিকিৎসার শিক্ষাগ্রহণ করেছিলেন। এরপর যখন গুরুমহারাজের আদেশে মিহির মহারাজ (স্বামী প্রজ্ঞানন্দ) বাংলার বাইরে গিয়ে উত্তরাখণ্ডের ডালহৌসির নিকট বনিখেতে এবং খোকন মহারাজ (স্বামী আত্মানন্দ) উত্তরপ্রদেশের মজঃফরনগরে গিয়ে আশ্রম বানিয়ে থাকতে শুরু করেছিলেন, তখন মানিক মহারাজ কিছুদিন মজঃফরনগরে গিয়েছিলেন – খোকন মহারাজের কাজে সহযোগিতা করার জন্য ! কিন্তু ওখানে উনি বেশিদিন থাকতে পারেননি – ফিরে এসেছিলেন বনগ্রামে। আর তখনই গুরুমহারাজের কথায় আশ্রমের দাতব্য চিকিৎসালয়ে চিকিৎসা শিক্ষা শুরু করেছিলেন।
কিন্তু মানিক মহারাজ বাঁকুড়ায় ধরমপুরে গেলেন কেন ? এই রহস্য জানতে গেলে, আমাদেরকে একটু অমূল্য মহারাজ (স্বামী অভয়ানন্দ)-এর কথা জেনে নিতে হবে। বহুপূর্বে অর্থাৎ গুরুমহারাজ যখন আট-দশ বছরের বালক – সেই অবস্থায় গুরুমহারাজ বাঁকুড়া, পুরুলিয়ার বেশ কিছু অংশ, বিশেষতঃ জঙ্গলমহলের গ্রামে গ্রামে ঘুরেছিলেন। অভয়ানন্দ মহারাজের কাছে শুনেছিলাম লালজল এলাকার পরমানন্দ মিশনের দু-চারজন বয়স্ক ভক্ত ওনাকে বলেছিলেন যে, ” তাদের মনে পড়ে একটা সুন্দর দর্শন বালক, ওদের গ্রামের কোনো একটি উৎসবে কোথা থেকে যেন এসেছিল এবং সে সবাইকে অবাক করে দিয়ে ২/৩ বালতি খিচুড়ি খেয়েছিল !
যাইহোক, যে কথা হচ্ছিলো সেই কথাতেই ফিরে যাই। অমূল্য মহারাজ (স্বামী অভয়ানন্দ) পুরুলিয়া এলাকারই গ্রাম্য এলাকার মানুষ ! ছোটবেলা থেকেই ওনার মধ্যে তীব্র বৈরাগ্য ছিল আর ছিল কোনো না কোনো মহাপুরুষের সান্নিধ্যলাভের ঐকান্তিক ইচ্ছা ! সেইসময় পুরুলিয়ার এক প্রত্যন্ত একটি গ্রাম, যার নাম ছিল ‘কুমারী’ গ্রাম – এই গ্রামে “বনবাসী কল্যাণ আশ্রমের” একটি স্কুল ছিল। ঐ স্কুলে নবকুমার সরকার (পরবর্তীতে স্বামী অসীমানন্দ) শিক্ষকতা করতেন। ওই স্কুলে অনুপদা (স্বামী পূর্ণানন্দ)-ও পড়াতেন। ওনাদের সাথে অমূল্য মহারাজের যোগাযোগ হয়। আর সেই সূত্রেই অমূল্য মহারাজের প্রথম বনগ্রামে আসা এবং গুরুমহারাজের সাথে পরিচয় ! তারপর দু-একবার যাতায়াতের পরেই অমূল্য মহারাজের ব্রহ্মচর্য সংস্কার গ্রহণ ! ওনারা যখন ব্রহ্মচর্য নিয়েছিলেন – তখন সেই ব্যাচে ছিলেন আটজন। ওনাদের সংস্কার হয়েছিল আজিমগঞ্জ আশ্রমের নিকটে গঙ্গার ঘাটে। ওখানে এটাই ছিল গুরু মহারাজের প্রথম ব্রহ্মচর্য সংস্কার দান ! এর আগের দুটো ব্যাচের ব্রহ্মচর্য (এবং স্বামী শংকরানন্দের সন্ন্যাস) হয়েছিল, ধাত্রীগ্রামের গঙ্গার ধারে একটি ইঁটভাটার লাগোয়া ঘাটে। ওখানকার প্রথম ব্যাচেই ছিলেন মানিক মহারাজসহ আরও পাঁচজন অর্থাৎ মোট ছয়জন। [ক্রমশঃ]
যাইহোক, কবিরাজ পরিবারের ছেলে হোলেও মানিক মহারাজের কবিরাজি করা বা ডাক্তারি করার ব্যাপারে চরম অনীহা ছিল। ফলতঃ পরবর্তীতে অর্থাৎ যখন উনি গুরুমহারাজের কাছে ব্রহ্মচর্য নিয়ে বনগ্রাম আশ্রমে থাকতে শুরু করেছিলেন – তখন গুরুমহারাজ ওনাকে বলেছিলেন – আশ্রমের দাতব্য হোমিওপ্যাথি ক্লিনিকের সাথে যুক্ত হোতে এবং ওখানে যারা কর্মরত ছিলেন (প্রশান্তদা – স্বামী সচ্চিদানন্দ, দীপ্তিদা – স্বামী ভূমানন্দ) তাঁদেরকে সহযোগিতা করতে। কিন্তু মহারাজ দৃঢ়কন্ঠে উত্তর দিয়েছিলেন – ” ডাক্তার-খানায় আমি বসতে পারবো না ! ওখানে মেয়েরা আসবে, তাদের নানা গোপন রোগের কথা বলবে, হয়তো কাপড় তুলে শরীরের রোগ (ব্যথা-বেদনা ইত্যাদি) দেখাবে ! – আমি ঐসব দেখবো তো ‘ব্রহ্মচর্য’ নিলাম কেন ? আমি ধ্যান-জপ করতে চাই, আত্মদর্শন করতে চাই ! তার জন্য কি করতে হবে – আমাকে তুমি সেইটা বলে দাও !” গুরুমহারাজ হাসতে হাসতে বলেছিলেন – ” কিন্তু তোকে ওটাই করতে হবে রে ! ওই কর্মটি (ডাক্তারি করা) যে তোর সংস্কারে রয়েছে !”
এরপরে অবশ্য আমরা সকলেই দেখেছি যে, গুরুমহারাজই সঠিক ছিলেন এবং মানিক মহারাজকে সেই চিকিৎসা কার্যেই নিয়োজিত হোতে হয়েছিল। অবশ্য এর সূচনা হয়েছিল বনগ্রামেই। যে দাতব্য চিকিৎসাকেন্দ্রে গুরুমহারাজ মানিকদা(স্বামী অখন্ডানন্দ)-কে চিকিৎসায় সাহায্য করতে বলেছিলেন – সেখানেই উনি দীপ্তি মহারাজের সাথে বেশ কিছুদিন হোমিওপ্যাথি চিকিৎসার শিক্ষাগ্রহণ করেছিলেন। এরপর যখন গুরুমহারাজের আদেশে মিহির মহারাজ (স্বামী প্রজ্ঞানন্দ) বাংলার বাইরে গিয়ে উত্তরাখণ্ডের ডালহৌসির নিকট বনিখেতে এবং খোকন মহারাজ (স্বামী আত্মানন্দ) উত্তরপ্রদেশের মজঃফরনগরে গিয়ে আশ্রম বানিয়ে থাকতে শুরু করেছিলেন, তখন মানিক মহারাজ কিছুদিন মজঃফরনগরে গিয়েছিলেন – খোকন মহারাজের কাজে সহযোগিতা করার জন্য ! কিন্তু ওখানে উনি বেশিদিন থাকতে পারেননি – ফিরে এসেছিলেন বনগ্রামে। আর তখনই গুরুমহারাজের কথায় আশ্রমের দাতব্য চিকিৎসালয়ে চিকিৎসা শিক্ষা শুরু করেছিলেন।
কিন্তু মানিক মহারাজ বাঁকুড়ায় ধরমপুরে গেলেন কেন ? এই রহস্য জানতে গেলে, আমাদেরকে একটু অমূল্য মহারাজ (স্বামী অভয়ানন্দ)-এর কথা জেনে নিতে হবে। বহুপূর্বে অর্থাৎ গুরুমহারাজ যখন আট-দশ বছরের বালক – সেই অবস্থায় গুরুমহারাজ বাঁকুড়া, পুরুলিয়ার বেশ কিছু অংশ, বিশেষতঃ জঙ্গলমহলের গ্রামে গ্রামে ঘুরেছিলেন। অভয়ানন্দ মহারাজের কাছে শুনেছিলাম লালজল এলাকার পরমানন্দ মিশনের দু-চারজন বয়স্ক ভক্ত ওনাকে বলেছিলেন যে, ” তাদের মনে পড়ে একটা সুন্দর দর্শন বালক, ওদের গ্রামের কোনো একটি উৎসবে কোথা থেকে যেন এসেছিল এবং সে সবাইকে অবাক করে দিয়ে ২/৩ বালতি খিচুড়ি খেয়েছিল !
যাইহোক, যে কথা হচ্ছিলো সেই কথাতেই ফিরে যাই। অমূল্য মহারাজ (স্বামী অভয়ানন্দ) পুরুলিয়া এলাকারই গ্রাম্য এলাকার মানুষ ! ছোটবেলা থেকেই ওনার মধ্যে তীব্র বৈরাগ্য ছিল আর ছিল কোনো না কোনো মহাপুরুষের সান্নিধ্যলাভের ঐকান্তিক ইচ্ছা ! সেইসময় পুরুলিয়ার এক প্রত্যন্ত একটি গ্রাম, যার নাম ছিল ‘কুমারী’ গ্রাম – এই গ্রামে “বনবাসী কল্যাণ আশ্রমের” একটি স্কুল ছিল। ঐ স্কুলে নবকুমার সরকার (পরবর্তীতে স্বামী অসীমানন্দ) শিক্ষকতা করতেন। ওই স্কুলে অনুপদা (স্বামী পূর্ণানন্দ)-ও পড়াতেন। ওনাদের সাথে অমূল্য মহারাজের যোগাযোগ হয়। আর সেই সূত্রেই অমূল্য মহারাজের প্রথম বনগ্রামে আসা এবং গুরুমহারাজের সাথে পরিচয় ! তারপর দু-একবার যাতায়াতের পরেই অমূল্য মহারাজের ব্রহ্মচর্য সংস্কার গ্রহণ ! ওনারা যখন ব্রহ্মচর্য নিয়েছিলেন – তখন সেই ব্যাচে ছিলেন আটজন। ওনাদের সংস্কার হয়েছিল আজিমগঞ্জ আশ্রমের নিকটে গঙ্গার ঘাটে। ওখানে এটাই ছিল গুরু মহারাজের প্রথম ব্রহ্মচর্য সংস্কার দান ! এর আগের দুটো ব্যাচের ব্রহ্মচর্য (এবং স্বামী শংকরানন্দের সন্ন্যাস) হয়েছিল, ধাত্রীগ্রামের গঙ্গার ধারে একটি ইঁটভাটার লাগোয়া ঘাটে। ওখানকার প্রথম ব্যাচেই ছিলেন মানিক মহারাজসহ আরও পাঁচজন অর্থাৎ মোট ছয়জন। [ক্রমশঃ]
