শ্রী শ্রী গুরুমহারাজ স্বামী পরমানন্দ এবং তাঁর ভক্ত-শিষ্য-পার্ষদদের কথা এখানে আলোচনা করা হচ্ছিলো। আমরা ছিলাম মানিক মহারাজ বা স্বামী অখন্ডানন্দের কথায়। উনি সদ্য প্রয়াত হয়েছেন (24/08/2021), আগামী 08/09/2021 তারিখে ধরমপুর “পরমানন্দ যোগাশ্রম” ( আশ্রমের নামটি গুরুমহারাজেরই দেওয়া) কেন্দ্রে ওনার পারলৌকিক ক্রিয়া ও সাধুভান্ডারার আয়োজন করা হয়েছে। আশা করা যাচ্ছে অনেক সাধু-সন্ত-মহাত্মা এবং অগণিত ভক্তজনেরা সেইদিন উক্ত আশ্রমে সমবেত হবেন।
আমরা ছিলাম ওনাদের (মানিক মহারাজ এবং অমূল্য মহারাজ) দুজনের বাঁকুড়ায় প্রথম আশ্রম প্রতিষ্ঠার কথায়। মহারাজেরা ১৯৮৫ সালে নভেম্বর মাসে (কার্তিক) বনগ্রাম থেকে বাঁকুড়ার উদ্দেশ্যে যাত্রা করেছিলেন কিন্তু দুয়ারীপালে পূর্ণিমা মায়ের দেওয়া জায়গায় আলাদা করে ঘর বানানোর উদ্যোগ নিতে নিতে প্রায় ১৯৮৬ সালের মার্চ মাস অর্থাৎ ফাল্গুন মাস এসে গিয়েছিল। তখন বনগ্রাম আশ্রমে ফাল্গুন সংক্রান্তির উৎসব হোতো। যাইহোক, ইতিমধ্যে ফুলকুসুমা অঞ্চলের অনেক মানুষ বনগ্রাম আশ্রমে ঘুরে এসেছে,বা গুরু মহারাজের কাছে দীক্ষা নিয়েছে – এইরূপ অনেকজনেদের মধ্যে স্বপন ডাক্তারের পরিবারের সদস্যরাও ছিল। আসলে আমাদের পূর্বোক্ত জনার্দন সিং-এর (বাসনা মায়ের পরিবারের লোক) দোকানের পাশেই নানকু-দা বা আন-দা (স্বপন ডাক্তারের দাদা)-র সাইকেলের দোকান ছিল। স্বপন ডাক্তারের পরিবার এবং ওখানকার কয়েকজন মাস্টারমশাই গুরুমহারাজকে দেখে আসার পর থেকে(বা দীক্ষা গ্রহণের পর থেকে), তাঁরাও এই দুজন মহারাজের কাজে সাহায্য করতে এগিয়ে এসেছিল।
এই ভাবেই ফাল্গুন মাসের মধ্যে, দুয়ারীপাল গ্রাম এবং পাশাপাশি গ্রাম থেকে অনেক খড় যোগাড় হোলো, দু-এক কুঠুরি ঘরের মতো প্রয়োজনীয় বাঁশ এবং কাঠও যোগাড় হয়ে গেলো।
এরমধ্যে মানিক মহারাজ এবং অন্যান্যরা মিলে ঠিক করেছিলেন যে, collection-এর জন্য বিলবই ছাপানো একান্ত প্রয়োজন৷ সেইমতো বিলবই ছাপানোর সিদ্ধান্ত হোলো। কিন্তু বিলবই-এর উপরের heading কি হবে _অর্থাৎ আশ্রমের নাম কি হবে ? কেউ কেউ প্রস্তাব দিয়েছিল যে, এই ব্যাপারে গুরুমহারাজের permission নেওয়া দরকার ! কিন্তু মানিক মহারাজ বলে দিয়েছিলেন – “সেটার প্রয়োজন নাই ! আমি নামকরণ করে দিচ্ছি ! আমাদের নবনির্মিত আশ্রমের নাম হবে – “রামকৃষ্ণ বিবেকানন্দ হার্মিটেজ”! সেইমতোই সিদ্ধান্ত হয়ে গেলো। কিন্তু একহাজার বিলবই ছাপাবার টাকাই বা কে দেবে_আর ছাপাই বা হবে কোথা থেকে ? তারও ব্যবস্থা হয়ে গেলো – জনার্দন সিং-এর ভগ্নিপতি রামধীরজ সিং সেইসময় ওখানে এসে হাজির ! উনি ক্যালকাটা পুলিশে চাকরি করতেন। উনি দায়িত্ব নিলেন বিলবই ছাপানোর। ফলতঃ অমূল্য মহারাজ (স্বামী অভয়ানন্দ) ওই ভদ্রলোকের সঙ্গে চলে গেলেন কলকাতায় বিলবই ছাপিয়ে আনার জন্য।
দুয়ারীপালের পূর্ণিমা-মায়ের স্বামীর নাম ছিল প্রহ্লাদ শবর। ওনাদের তখন ছেলে-মেয়ে নিয়ে ভরপুর সংসার। প্রহ্লাদ শবরদের original বাড়ি ছিল বর্তমান ঝাড়খণ্ডের একটি গ্রামে। যেকোনো কারণে প্রহ্লাদ শবর, মানিক মহারাজ (স্বামী অখন্ডানন্দ)কে নিয়ে সেইসময়েই কয়েকদিনের জন্য ঝাড়খন্ডের ঐ গ্রামে গিয়েছিলেন। প্রথম থেকেই মানিক মহারাজ প্রচন্ড ধ্যান-জপ করতেন। ওনার ধ্যানের তন্ময়তা দেখে এবং ওনার জ্ঞানগর্ভ শাস্ত্রব্যাখ্যা, গুরুজীর বলা কথাগুলির পুনঃকথন – ইত্যাদি শুনে ঐ অঞ্চলের বহুমানুষ মানিক মহারাজের প্রতি খুবই আকৃষ্ট হয়ে গেছিলো ! প্রহ্লাদ শবরও মানিক মহারাজকে গুরুর মতোই শ্রদ্ধা-ভক্তি করতো ! ঝাড়খন্ডে একসঙ্গে ঘোরা এবং একসাথে থাকার সুবাদে উভয়ের মধ্যে নানারকম কথাবার্তা হয়েছিলো (সেটা আধ্যাত্মিক জগতের কথাও হোতে পারে বা জাগতিক অর্থাৎ পারিবারিক কথাও হোতে পারে।) । ঐসব কথাবার্তা__ প্রহ্লাদ শবরের মনে গভীর রেখাপাত করেছিল! ঝাড়খন্ড থেকে দুয়ারীপালে ফেরার পরই মানিক মহারাজ বনগ্রাম আশ্রমে চলে এসেছিলেন ফাল্গুন-সংক্রান্তির উৎসবে যোগ দেবার জন্য।
কিন্তু প্রহ্লাদ শবর ওখান থেকে ফেরার পর থেকেই কেমন যেন মনমরা হয়ে থাকতো ! তারপর তার কি হোলো ঈশ্বর জানেন – কাউকে কিছু না বলে, ওই যে নতুন আশ্রম বানানোর জন্য প্রচুর খড়-বাঁশ-কাঠ জোগাড় করা হয়েছিল, সেই খড়ের গাদায় কেরোসিন ঢেলে সে আগুন ধরিয়ে দিয়েছিলো এবং নিজে সেই আগুনে ঝাঁপিয়ে পড়েছিলো ! পূর্ণিমা-মায়ের চেঁচামেচিতে অনেক লোক জড়ো হোলেও ওই ভীষণ লেলিহান অগ্নিশিখার মধ্যে থেকে প্রহ্লাদ শররকে বাঁচানো যায় নি !
মানিক মহারাজ তো তখন বনগ্রামেই ছিলেন, এদিকে অমূল্য মহারাজ কলকাতায় থাকতেই স্থানীয় এক ভদ্রলোকের(দুয়ারীপালের পাশের গ্রামে বাড়ি, উনিও পুলিশে কাজ করতেন।) মাধ্যমে খবরটা পেয়েছিলেন এবং সরাসরি উনিও বনগ্রামে গুরুমহারাজের কাছে ফিরে এসেছিলেন৷ [ক্রমশঃ]
আমরা ছিলাম ওনাদের (মানিক মহারাজ এবং অমূল্য মহারাজ) দুজনের বাঁকুড়ায় প্রথম আশ্রম প্রতিষ্ঠার কথায়। মহারাজেরা ১৯৮৫ সালে নভেম্বর মাসে (কার্তিক) বনগ্রাম থেকে বাঁকুড়ার উদ্দেশ্যে যাত্রা করেছিলেন কিন্তু দুয়ারীপালে পূর্ণিমা মায়ের দেওয়া জায়গায় আলাদা করে ঘর বানানোর উদ্যোগ নিতে নিতে প্রায় ১৯৮৬ সালের মার্চ মাস অর্থাৎ ফাল্গুন মাস এসে গিয়েছিল। তখন বনগ্রাম আশ্রমে ফাল্গুন সংক্রান্তির উৎসব হোতো। যাইহোক, ইতিমধ্যে ফুলকুসুমা অঞ্চলের অনেক মানুষ বনগ্রাম আশ্রমে ঘুরে এসেছে,বা গুরু মহারাজের কাছে দীক্ষা নিয়েছে – এইরূপ অনেকজনেদের মধ্যে স্বপন ডাক্তারের পরিবারের সদস্যরাও ছিল। আসলে আমাদের পূর্বোক্ত জনার্দন সিং-এর (বাসনা মায়ের পরিবারের লোক) দোকানের পাশেই নানকু-দা বা আন-দা (স্বপন ডাক্তারের দাদা)-র সাইকেলের দোকান ছিল। স্বপন ডাক্তারের পরিবার এবং ওখানকার কয়েকজন মাস্টারমশাই গুরুমহারাজকে দেখে আসার পর থেকে(বা দীক্ষা গ্রহণের পর থেকে), তাঁরাও এই দুজন মহারাজের কাজে সাহায্য করতে এগিয়ে এসেছিল।
এই ভাবেই ফাল্গুন মাসের মধ্যে, দুয়ারীপাল গ্রাম এবং পাশাপাশি গ্রাম থেকে অনেক খড় যোগাড় হোলো, দু-এক কুঠুরি ঘরের মতো প্রয়োজনীয় বাঁশ এবং কাঠও যোগাড় হয়ে গেলো।
এরমধ্যে মানিক মহারাজ এবং অন্যান্যরা মিলে ঠিক করেছিলেন যে, collection-এর জন্য বিলবই ছাপানো একান্ত প্রয়োজন৷ সেইমতো বিলবই ছাপানোর সিদ্ধান্ত হোলো। কিন্তু বিলবই-এর উপরের heading কি হবে _অর্থাৎ আশ্রমের নাম কি হবে ? কেউ কেউ প্রস্তাব দিয়েছিল যে, এই ব্যাপারে গুরুমহারাজের permission নেওয়া দরকার ! কিন্তু মানিক মহারাজ বলে দিয়েছিলেন – “সেটার প্রয়োজন নাই ! আমি নামকরণ করে দিচ্ছি ! আমাদের নবনির্মিত আশ্রমের নাম হবে – “রামকৃষ্ণ বিবেকানন্দ হার্মিটেজ”! সেইমতোই সিদ্ধান্ত হয়ে গেলো। কিন্তু একহাজার বিলবই ছাপাবার টাকাই বা কে দেবে_আর ছাপাই বা হবে কোথা থেকে ? তারও ব্যবস্থা হয়ে গেলো – জনার্দন সিং-এর ভগ্নিপতি রামধীরজ সিং সেইসময় ওখানে এসে হাজির ! উনি ক্যালকাটা পুলিশে চাকরি করতেন। উনি দায়িত্ব নিলেন বিলবই ছাপানোর। ফলতঃ অমূল্য মহারাজ (স্বামী অভয়ানন্দ) ওই ভদ্রলোকের সঙ্গে চলে গেলেন কলকাতায় বিলবই ছাপিয়ে আনার জন্য।
দুয়ারীপালের পূর্ণিমা-মায়ের স্বামীর নাম ছিল প্রহ্লাদ শবর। ওনাদের তখন ছেলে-মেয়ে নিয়ে ভরপুর সংসার। প্রহ্লাদ শবরদের original বাড়ি ছিল বর্তমান ঝাড়খণ্ডের একটি গ্রামে। যেকোনো কারণে প্রহ্লাদ শবর, মানিক মহারাজ (স্বামী অখন্ডানন্দ)কে নিয়ে সেইসময়েই কয়েকদিনের জন্য ঝাড়খন্ডের ঐ গ্রামে গিয়েছিলেন। প্রথম থেকেই মানিক মহারাজ প্রচন্ড ধ্যান-জপ করতেন। ওনার ধ্যানের তন্ময়তা দেখে এবং ওনার জ্ঞানগর্ভ শাস্ত্রব্যাখ্যা, গুরুজীর বলা কথাগুলির পুনঃকথন – ইত্যাদি শুনে ঐ অঞ্চলের বহুমানুষ মানিক মহারাজের প্রতি খুবই আকৃষ্ট হয়ে গেছিলো ! প্রহ্লাদ শবরও মানিক মহারাজকে গুরুর মতোই শ্রদ্ধা-ভক্তি করতো ! ঝাড়খন্ডে একসঙ্গে ঘোরা এবং একসাথে থাকার সুবাদে উভয়ের মধ্যে নানারকম কথাবার্তা হয়েছিলো (সেটা আধ্যাত্মিক জগতের কথাও হোতে পারে বা জাগতিক অর্থাৎ পারিবারিক কথাও হোতে পারে।) । ঐসব কথাবার্তা__ প্রহ্লাদ শবরের মনে গভীর রেখাপাত করেছিল! ঝাড়খন্ড থেকে দুয়ারীপালে ফেরার পরই মানিক মহারাজ বনগ্রাম আশ্রমে চলে এসেছিলেন ফাল্গুন-সংক্রান্তির উৎসবে যোগ দেবার জন্য।
কিন্তু প্রহ্লাদ শবর ওখান থেকে ফেরার পর থেকেই কেমন যেন মনমরা হয়ে থাকতো ! তারপর তার কি হোলো ঈশ্বর জানেন – কাউকে কিছু না বলে, ওই যে নতুন আশ্রম বানানোর জন্য প্রচুর খড়-বাঁশ-কাঠ জোগাড় করা হয়েছিল, সেই খড়ের গাদায় কেরোসিন ঢেলে সে আগুন ধরিয়ে দিয়েছিলো এবং নিজে সেই আগুনে ঝাঁপিয়ে পড়েছিলো ! পূর্ণিমা-মায়ের চেঁচামেচিতে অনেক লোক জড়ো হোলেও ওই ভীষণ লেলিহান অগ্নিশিখার মধ্যে থেকে প্রহ্লাদ শররকে বাঁচানো যায় নি !
মানিক মহারাজ তো তখন বনগ্রামেই ছিলেন, এদিকে অমূল্য মহারাজ কলকাতায় থাকতেই স্থানীয় এক ভদ্রলোকের(দুয়ারীপালের পাশের গ্রামে বাড়ি, উনিও পুলিশে কাজ করতেন।) মাধ্যমে খবরটা পেয়েছিলেন এবং সরাসরি উনিও বনগ্রামে গুরুমহারাজের কাছে ফিরে এসেছিলেন৷ [ক্রমশঃ]
