শ্রী শ্রী গুরুমহারাজ স্বামী পরমানন্দ এবং তাঁর ভক্ত-শিষ্য-পার্ষদদের নিয়ে এখানে আলোচনা করা হচ্ছিলো। আমরা এখন ছিলাম বাঁকুড়া জেলার ধরমপুর আশ্রমের জন্মলগ্নের কথায়। গুরুমহারাজের দীক্ষিত শিষ্য ভবেশ দে মহাশয়ের খুব বড় একটা জমির উপর প্রথম আশ্রমের ঘর নির্মাণের কাজ শুরু হয়েছিল। পরে পাশের গ্রামের গোয়ালাদের জমির উপর মূল আশ্রম তৈরি এবং প্রতিষ্ঠা হয়। এরপর গুরুজীর দেওয়া নামকরণ অনুযায়ী আশ্রমটির নাম হয় “ধরমপুর পরমানন্দ যোগাশ্রম”। ওখানে প্রথমে যে Excutive body তৈরি হয়েছিল, তার প্রেসিডেন্ট ছিলেন স্বয়ং গুরুমহারাজ স্বামী পরমানন্দ !
কিন্তু দু-এক বছরের মধ্যেই গুরুমহারাজের নির্দেশে Executive Comitee থেকে গুরুমহারাজের জায়গায় President হিসাবে স্বামী অভয়ানন্দের (অমূল্য মহারাজ) নাম লিপিবদ্ধ হয় আর সেক্রেটারি হ’ন মানিক মহারাজ (স্বামী অখন্ডানন্দ)। ওই কমিটিতে গুরুমহারাজ ছাড়া আরও যারা ছিলেন – তাদের মধ্যে (দুজন মহারাজ অর্থাৎ অমূল্য মহারাজ ও মানিক মহারাজ ছাড়া), ধরমপুরের ভবেশ দে, ধ্রুব দে, সনাতন দে, নিরঞ্জন বিশুই, রবি মল্লিক, ফুলকুসুমার অমিয় সাউ, স্বপন ডাক্তার, সহদেব আহির, মদন মাহাতো, মোরিয়ালার মাস্টার নবকিশোর মল্লিক প্রমুখরা। প্রথমে এঁদের মধ্যে থেকে নয় (৯) জনকে নিয়ে ‘কমিটি’ গঠন করা হয়েছিল।
ভবেশ দে, ধ্রুব দে, সনাতন দে – প্রমুখরা যে জমিটি প্রথমে আশ্রমের জন্য দান করেছিলেন সেটি প্রায় বিঘা পাঁচেক হবে। সেইসময় ঐসব অঞ্চলে বিশেষ কোনো ফসলই হোতো না। বালি-আঁশ মাটি, তাছাড়া উষ্ণাঞ্চল_তাই ওখানে ভালোভাবে ঘাস পর্যন্ত হোতো না। যাইহোক, এই দে পরিবার (ভবেশ দে, ধ্রুব দে, সনাতন দে – প্রমুখরা) পরবর্তীতে আরও ১৪ (চৌদ্দ) বিঘা জমি আশ্রমকে দান করেছিলেন, যে জায়গা থেকে একটু সংস্কার করলেই অন্তত ৪/৫ বিঘা চাষযোগ্য জমির হোতে পারে ! আর দু-কুঠুরি পাকাঘর নির্মাণ হয়েছিল পাশের গ্রামের গোয়ালা-ঘোষ পরিবারের কাছ থেকে। ঐ স্থানটিও দু-আড়াই বিঘা হবে। ঐ স্থানটির ৬৫ (পঁয়ষট্টি) জন অংশীদার ছিল। কিন্তু বিশ্বনাথ ক্ষেত্রপাল মহাশয় এবং স্থানীয় আরো দুই-একজন সেটেলমেন্ট অফিসের কর্মী – সেইসময় আশ্রমের সঙ্গে যুক্ত হওয়ায়, অতোগুলি শরিকানা থাকা সত্ত্বেও জমিটি রেজিস্ট্রি হওয়া সম্ভব হয়েছিল।
তবে ওই ৬৫ জনের মধ্যে শম্ভু গিরি নামে একজন শরিক রেজিস্ট্রি করতে আসেনি । অমূল্য মহারাজ তার বাড়ি গিয়ে জানতে পারলেন যে, তার ওই আশ্রমের মহারাজের উপর অভিমান-রাগ ইত্যাদি রয়েছে । রাগের কারণ কি– তা জানতে চাওয়ায় সে বলেছিল যে, মহারাজ নাকি ওর মেয়েকে খিস্তি-খেউর করে গালাগালি করেছে। অমূল্য মহারাজ তৎক্ষণাৎ উপস্থিত বুদ্ধি প্রয়োগ করেছিলেন । উনি তাদেরকে বলেছিলেন__” তোমরা বামদেবের নাম শুনেছো, যিনি তারাপীঠে থাকতেন ! তারা মায়ের সাধক”! ওরা বললো_ “হ্যাঁ-হ্যাঁ, শুনেছি ! রেডিওয় যাত্রাপালা শুনেছি ! কালী সাধক ছিলেন, যাকে যা বলতেন_ তাই ফলে যেতো।” মহারাজ বললেন-“হ্যাঁ, ঠিকই শুনেছো, উনি তারা মায়ের বড় সাধক ছিলেন কিন্তু উনি মুখে নানা রকম খিস্তি-খেউড় উচ্চারণ করতেন ! তবে, যার উপর রাগ করে ওইসব কথা বলতেন__ তারই রোগব্যাধি ভালো হয়ে যেতো। তা ছাড়াও তার নানাবিধ কল্যাণও হোতো।”
এইটা শুনে সেই শম্ভু গিরি খুব খুশি ! এরপরে ওই ভদ্রলোক অন্যায় স্বীকার করে নিয়েছিল এবং অফিসে গিয়ে রেজিস্ট্রি করে দিয়েছিল।
আসলে, মানিক মহারাজ (স্বামী অখন্ডানন্দ) একটু দুর্মুখ প্রকৃতির ছিলেন । অনেক সময়ই যাকে-তাকে, যা-তা বলে দিতেন ! তার মধ্যে দু’চারটে খিস্তি-খেউড়েও থাকতো ! অনেকেই এই ব্যাপারটা গুরুমহারাজের কানে তোলায়, একদিন গুরু মহারাজ__মানিক মহারাজকে ডেকে বলেছিলেন__” হ্যাঁরে মানিক ! তুই গেরুয়া কাপড় পড়ে মানুষজনকে খিস্তি করিস, গালাগালি দিস ? দ্যাখ্ তুই এগুলো করবিনা ! সাধু ব্যক্তির এগুলো করা শোভা পায়না ! গেরুয়া কাপড়টা খুলে ওসব করতে পারিস কিন্তু গেরুয়া কাপড় পড়ে নয় ! কারন সমাজের মানুষের চোখে__ সাধুর একটা ভাবমূর্তি রয়েছে ! সমাজে থাকতে হোলে সাধুকে সাধূচিত আচরণ করতে হবে । নাহলে তাকে লোকালয় থেকে দূরে থাকতে হবে !” এরপর থেকে মনে হয় মহারাজের মুখের ভাষা অনেকটাই সংযত হয়েছিল ।
মানিক মহারাজের শাপ-শাপান্তের ব্যাপারটাও গুরুমহারাজই হরণ করে নিয়েছিলেন । দু একটা ঐরূপ ঘটনা ঘটে যাবার পর ধরমপুর অঞ্চলের এক পরমানন্দ-ভক্ত পরিবারের একজন সদস্যকে (ইতির দাদা) যখন মহারাজ ঐ ধরণের কথা বলেছিলেন__ তখন তারা সোজা বনগ্রামে গুরু মহারাজের কাছে চলে গিয়েছিল । ওদের কাছে সব কথা শুনে গুরুমহারাজ বলেছিলেন __”আচ্ছা, আচ্ছা_ ঠিক আছে ! তোমরা খাওয়া-দাওয়া করো এবং বিশ্রাম নাও । আর আমি বলে দিচ্ছি যে, এরপর থেকে মানিক মহারাজের আর কোনো অভিশাপ ক্রিয়াশীল হবে না!”
এইভাবেই গুরু মহারাজ তাঁর রাগী সন্তানটিকে, “থোরা হঠকে”-সন্তানটিকে__ আগলে রেখেছিলেন, পরবর্তীতে বাঁকুড়ার ঐ সব প্রত্যন্ত এলাকার মানুষের সেবা কার্য করার জন্য উপযোগী করে গড়ে তুলেছিলেন।।
কিন্তু দু-এক বছরের মধ্যেই গুরুমহারাজের নির্দেশে Executive Comitee থেকে গুরুমহারাজের জায়গায় President হিসাবে স্বামী অভয়ানন্দের (অমূল্য মহারাজ) নাম লিপিবদ্ধ হয় আর সেক্রেটারি হ’ন মানিক মহারাজ (স্বামী অখন্ডানন্দ)। ওই কমিটিতে গুরুমহারাজ ছাড়া আরও যারা ছিলেন – তাদের মধ্যে (দুজন মহারাজ অর্থাৎ অমূল্য মহারাজ ও মানিক মহারাজ ছাড়া), ধরমপুরের ভবেশ দে, ধ্রুব দে, সনাতন দে, নিরঞ্জন বিশুই, রবি মল্লিক, ফুলকুসুমার অমিয় সাউ, স্বপন ডাক্তার, সহদেব আহির, মদন মাহাতো, মোরিয়ালার মাস্টার নবকিশোর মল্লিক প্রমুখরা। প্রথমে এঁদের মধ্যে থেকে নয় (৯) জনকে নিয়ে ‘কমিটি’ গঠন করা হয়েছিল।
ভবেশ দে, ধ্রুব দে, সনাতন দে – প্রমুখরা যে জমিটি প্রথমে আশ্রমের জন্য দান করেছিলেন সেটি প্রায় বিঘা পাঁচেক হবে। সেইসময় ঐসব অঞ্চলে বিশেষ কোনো ফসলই হোতো না। বালি-আঁশ মাটি, তাছাড়া উষ্ণাঞ্চল_তাই ওখানে ভালোভাবে ঘাস পর্যন্ত হোতো না। যাইহোক, এই দে পরিবার (ভবেশ দে, ধ্রুব দে, সনাতন দে – প্রমুখরা) পরবর্তীতে আরও ১৪ (চৌদ্দ) বিঘা জমি আশ্রমকে দান করেছিলেন, যে জায়গা থেকে একটু সংস্কার করলেই অন্তত ৪/৫ বিঘা চাষযোগ্য জমির হোতে পারে ! আর দু-কুঠুরি পাকাঘর নির্মাণ হয়েছিল পাশের গ্রামের গোয়ালা-ঘোষ পরিবারের কাছ থেকে। ঐ স্থানটিও দু-আড়াই বিঘা হবে। ঐ স্থানটির ৬৫ (পঁয়ষট্টি) জন অংশীদার ছিল। কিন্তু বিশ্বনাথ ক্ষেত্রপাল মহাশয় এবং স্থানীয় আরো দুই-একজন সেটেলমেন্ট অফিসের কর্মী – সেইসময় আশ্রমের সঙ্গে যুক্ত হওয়ায়, অতোগুলি শরিকানা থাকা সত্ত্বেও জমিটি রেজিস্ট্রি হওয়া সম্ভব হয়েছিল।
তবে ওই ৬৫ জনের মধ্যে শম্ভু গিরি নামে একজন শরিক রেজিস্ট্রি করতে আসেনি । অমূল্য মহারাজ তার বাড়ি গিয়ে জানতে পারলেন যে, তার ওই আশ্রমের মহারাজের উপর অভিমান-রাগ ইত্যাদি রয়েছে । রাগের কারণ কি– তা জানতে চাওয়ায় সে বলেছিল যে, মহারাজ নাকি ওর মেয়েকে খিস্তি-খেউর করে গালাগালি করেছে। অমূল্য মহারাজ তৎক্ষণাৎ উপস্থিত বুদ্ধি প্রয়োগ করেছিলেন । উনি তাদেরকে বলেছিলেন__” তোমরা বামদেবের নাম শুনেছো, যিনি তারাপীঠে থাকতেন ! তারা মায়ের সাধক”! ওরা বললো_ “হ্যাঁ-হ্যাঁ, শুনেছি ! রেডিওয় যাত্রাপালা শুনেছি ! কালী সাধক ছিলেন, যাকে যা বলতেন_ তাই ফলে যেতো।” মহারাজ বললেন-“হ্যাঁ, ঠিকই শুনেছো, উনি তারা মায়ের বড় সাধক ছিলেন কিন্তু উনি মুখে নানা রকম খিস্তি-খেউড় উচ্চারণ করতেন ! তবে, যার উপর রাগ করে ওইসব কথা বলতেন__ তারই রোগব্যাধি ভালো হয়ে যেতো। তা ছাড়াও তার নানাবিধ কল্যাণও হোতো।”
এইটা শুনে সেই শম্ভু গিরি খুব খুশি ! এরপরে ওই ভদ্রলোক অন্যায় স্বীকার করে নিয়েছিল এবং অফিসে গিয়ে রেজিস্ট্রি করে দিয়েছিল।
আসলে, মানিক মহারাজ (স্বামী অখন্ডানন্দ) একটু দুর্মুখ প্রকৃতির ছিলেন । অনেক সময়ই যাকে-তাকে, যা-তা বলে দিতেন ! তার মধ্যে দু’চারটে খিস্তি-খেউড়েও থাকতো ! অনেকেই এই ব্যাপারটা গুরুমহারাজের কানে তোলায়, একদিন গুরু মহারাজ__মানিক মহারাজকে ডেকে বলেছিলেন__” হ্যাঁরে মানিক ! তুই গেরুয়া কাপড় পড়ে মানুষজনকে খিস্তি করিস, গালাগালি দিস ? দ্যাখ্ তুই এগুলো করবিনা ! সাধু ব্যক্তির এগুলো করা শোভা পায়না ! গেরুয়া কাপড়টা খুলে ওসব করতে পারিস কিন্তু গেরুয়া কাপড় পড়ে নয় ! কারন সমাজের মানুষের চোখে__ সাধুর একটা ভাবমূর্তি রয়েছে ! সমাজে থাকতে হোলে সাধুকে সাধূচিত আচরণ করতে হবে । নাহলে তাকে লোকালয় থেকে দূরে থাকতে হবে !” এরপর থেকে মনে হয় মহারাজের মুখের ভাষা অনেকটাই সংযত হয়েছিল ।
মানিক মহারাজের শাপ-শাপান্তের ব্যাপারটাও গুরুমহারাজই হরণ করে নিয়েছিলেন । দু একটা ঐরূপ ঘটনা ঘটে যাবার পর ধরমপুর অঞ্চলের এক পরমানন্দ-ভক্ত পরিবারের একজন সদস্যকে (ইতির দাদা) যখন মহারাজ ঐ ধরণের কথা বলেছিলেন__ তখন তারা সোজা বনগ্রামে গুরু মহারাজের কাছে চলে গিয়েছিল । ওদের কাছে সব কথা শুনে গুরুমহারাজ বলেছিলেন __”আচ্ছা, আচ্ছা_ ঠিক আছে ! তোমরা খাওয়া-দাওয়া করো এবং বিশ্রাম নাও । আর আমি বলে দিচ্ছি যে, এরপর থেকে মানিক মহারাজের আর কোনো অভিশাপ ক্রিয়াশীল হবে না!”
এইভাবেই গুরু মহারাজ তাঁর রাগী সন্তানটিকে, “থোরা হঠকে”-সন্তানটিকে__ আগলে রেখেছিলেন, পরবর্তীতে বাঁকুড়ার ঐ সব প্রত্যন্ত এলাকার মানুষের সেবা কার্য করার জন্য উপযোগী করে গড়ে তুলেছিলেন।।
