শ্রী শ্রী গুরুমহারাজ স্বামী পরমানন্দ এবং তাঁর ভক্ত, শিষ্য, পার্ষদদের নিয়ে আলোচনা প্রসঙ্গে আমরা এখন ছিলাম স্বামী ভাগবতানন্দের কথায় । আমরা আগের আলোচনায় দেখেছিলাম যে ওনার 1980 সালে ধাত্রীগ্রামে, গঙ্গার তীরে গুরুমহারাজের কাছে ব্রহ্মচর্য দীক্ষা হয়েছিল – শিবরাত্রির দিনে ! ওই সময় ওনারা মোট ছয়জন ছিলেন, তা আগের সংখ্যায় উল্লেখ করা হয়েছে । ওই বছরেই অর্থাৎ 1980 সালের গোড়ার দিকে বুদ্ধপূর্ণিমায় ধাত্রীগ্রামের ওই একই স্থানে (GBM ইঁটভাটার পাশে শিবমন্দির সংলগ্ন ঘাটে) গুরুমহারাজ প্রথম ব্রহ্মচর্য্য এবং তার সাথে একজনের সন্ন্যাসের ব্যবস্থা করেছিলেন ! ওই দলে যাঁরা ছিলেন, তাঁরা হলেন – দীপ্তি মহারাজ (স্বামী ভূমানন্দ), খোকন মহারাজ ( স্বামী আত্মানন্দ ), মানিক মহারাজ (স্বামী অখন্ডানন্দ), মিহির মহারাজ ( স্বামী প্রজ্ঞানন্দ), প্রশান্ত মহারাজ ( স্বামী সচ্চিদানন্দ, উনি এখন ত্রিপুরায় থাকেন), উদয় মহারাজ (স্বামী স্বরূপানন্দ), শম্ভু মহারাজ ( স্বামী সত্যানন্দ) ! তিনজন মহিলা যাঁরা ব্রহ্মচর্য নিয়েছিলেন, তাঁরা হোলেন তপি মা (পবিত্রপ্রাণা), পুতুল মা (রামকৃষ্ণপ্রাণা), তৃপ্তি মা (সংহিতাপ্রাণা) ! ওই দিনে মাত্র একজনেরই সন্ন্যাস হয়েছিল, আর তিনি হলেন স্বামী শংকরানন্দ ! অর্থাৎ ওই দিনে মোট 11 জনের ব্রহ্মচর্য বা সন্ন্যাস-সংস্কার হয়েছিল ।
এর অনেক পরে 1982 সালে আজিমগঞ্জ আশ্রম প্রতিষ্ঠা হয়েছিল এবং 1983 সালে তৃতীয় বারের জন্য যে ব্রহ্মচর্য প্রদানের অনুষ্ঠান হয়েছিল – সেটি হয়েছিল আজিমগঞ্জে গঙ্গার ঘাটে । আজিমগঞ্জে ওটাই প্রথম ব্রহ্মচর্য অনুষ্ঠান ! গুরুমহারাজ সেবার – কৃষ্ণানন্দ মহারাজ, হরি মহারাজ (স্বামী সহজানন্দ), মদন মহারাজ (স্বামী চিৎ-বিলাসানন্দ), কাশীনাথ (উড়িয়া বাবা স্বামী নির্বানানন্দ), অমূল্য মহারাজ (স্বামী অভয়ানন্দ) – এই পাঁচজনের ব্রহ্মচর্য হয়েছিল !
যাইহোক, আমরা এসব কথা রেখে এখন ফিরে আসি স্বামী ভাগবতানন্দের কথায় ! সেদিন গভীর নির্জনতা ভরা বনগ্রাম আশ্রমের খেলার মাঠে গুরুমহারাজের সাথে ভাগবতানন্দজীর কথা হচ্ছিলো । গুরুমহারাজ ওনাকে শাখা-আশ্রম তৈরির প্রয়োজনীয়তার গুরুত্ব সম্বন্ধে বোঝাচ্ছিলেন, আর ভাগবতানন্দজী গুরুজীর কথাগুলি বিভিন্ন যুক্তির অবতারণা করে খন্ডন করার চেষ্টা করছিলেন। কিন্তু গুরুমহারাজ মহারাজ যখন – _’আশ্রম প্রতিষ্ঠার দ্বারা মানব সেবার কথা’_ বললেন, তখনই ভাগবতানন্দজী চুপ করে গিয়েছিলেন ! তিনি বুঝতে পেরেছিলেন যে বৃহতের ইচ্ছা বা মহৎ-এর অভিপ্রায়(divine plan) রয়েছে ! তাই উনি এরপর শুধু জিজ্ঞাসা করেছিলেন –” তাহলে শাখা আশ্রমটি হবে কোথায়?” গুরুজী ওনাকে বলেছিলেন – “তোমার বাড়ির কাছাকাছি কোনো স্থানে করার চেষ্টা করো!” কিন্তু ভাগবতানন্দজী তাতে রাজি হননি । উনি বলেছিলেন যে, বাড়ি থেকে দূরবর্তী কোনো স্থানে আশ্রম হোলে ভালো হয় ! সেটা শুনে গুরুমহারাজ বলেছিলেন – “তাহলে মুর্শিদাবাদের কোনো স্থানে আশ্রম প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করো ! কারণ, মুর্শিদাবাদে গঙ্গার তীরে আমাদের আশ্রম হবে।”
এরপর মহারাজ মুর্শিদাবাদের বিভিন্ন অঞ্চলে ঘুরেছিলেন ! উনি উত্তরবঙ্গের আরো অনেক জায়গাতেই সেসময় গিয়েছিলেন । ওইভাবে ঘোরার সময় বিভিন্ন মানুষের সঙ্গে ওনার আলাপ হয়েছিল। আজিমগঞ্জের “মেরি” নামে একজন ভদ্রমহিলার সাথেও ওনার যোগাযোগ হয়েছিল ! সেই মহিলাটি খুবই ভক্তিমতী ছিলেন !
এদিকে, মুর্শিদাবাদ অঞ্চলে আশ্রম প্রতিষ্ঠা করার কথা গুরু মহারাজ বনগ্রাম আশ্রমের অন্তরঙ্গ জনের সাথে আলোচনা করেছিলেন । ফলে তৃষাণ মহারাজ (স্বামী পরমেশ্বরানন্দ)-ও এই ব্যাপারে যথেষ্ট সচেষ্ট ছিলেন । সেই সময় তৃষাণ মহারাজ মাঝেমাঝেই বনগ্রাম আশ্রমের বিভিন্ন প্রয়োজনে দূর্গাপুরে সেজোকাকা (উমাপ্রসাদ মুখার্জি, বনগ্রামের ন’কাকার সেজো দাদা)-র বাড়ি যেতেন। ওখানেই সেজকাকার বন্ধু সুশান্তবাবুর সাথে তৃষাণ মহারাজের আলাপ হয় । ওনার মুখে এবং সেজ কাকার মুখে গুরুমহারাজের কথা শুনে সুশান্তবাবু বনগ্রামে এসেছিলেন এবং গুরুমহারাজের কাছে দীক্ষা গ্রহণও করেছিলেন । ওনাদের দেশের বাড়ি ছিল মুর্শিদাবাদের মোরগ্রামের অন্তর্গত সাঁকোবাজারে । সুশান্তবাবু ওইখানে আশ্রম বানানোর জন্য জায়গা দিতে রাজি হয়েছিলেন।
গুরু মহারাজের নির্দেশে শম্ভু মহারাজ (স্বামী সত্যানন্দ) এবং ভাগবতানন্দ মহারাজ প্রথমে গিয়েছিলেন সাঁকোবাজারে, সুশান্তবাবুর দেশের বাড়িতে ! শম্ভু মহারাজ দু’চারদিন আগেই ওখানে পৌঁছেছিলেন, আর ভাগবতানন্দ মহারাজ এসেছিলেন দু’চারদিন পরে ।
কারণ সেই সময় দিনাজপুর অঞ্চলের একটি ছেলে ত্যাগব্রত গ্রহণ করার ব্যাপারে আগ্রহী ছিল ! ভাগবতানন্দজী, গুরুমহারাজকে তার কথা বলে তাকে আনার জন্য দিনাজপুরে গিয়েছিলেন ! কিন্তু ছেলেটি পরবর্তীতে আর আসেনি !
যাইহোক, এইভাবে সত্যানন্দ মহারাজ এবং ভাগবতানন্দ মহারাজ প্রথম মোরগ্রামে সুশান্তবাবু বাড়িতে একটি পুরোনো গোয়াল ঘর এবং একটি বসবাসের ঘর নিয়ে থাকতে শুরু করেছিলেন ! ওইখানে থাকাকালীনই সুশান্ত বাবুর বোন মেরি-দির সাথে ওনাদের পুনরায় আলাপ হয় ! মেরি-দির শ্বশুরবাড়ি ছিল আজিমগঞ্জে, আর গুরুমহারাজ যখন প্রথমবার মোরগ্রামে গিয়েছিলেন – তখন মহারাজরা ওখান থেকে ওনাকে আজিমগঞ্জে মেরি-দির বাড়ি নিয়ে গিয়েছিলেন । গুরুমহারাজ মেরি-দির সাথে ডাহাপাড়া ধাম(প্রভূ জগদ্বন্ধুসুন্দরের জন্মভূমি) এবং আরো দু-চারটি দর্শনীয় স্থান ঘুরতে নিয়ে গিয়েছিলেন ! ওখানে অর্থাৎ আজিমগঞ্জে একটা বিপরীত প্রতিক্রিয়ার মধ্যে দিয়ে ববিন দা, বিষ্ণু দা এবং বিজয়দার সঙ্গে গুরুমহারাজের আলাপ হয়েছিল । যাঁরা ছিলেন আজিমগঞ্জ(দিয়ারা মাহিনগর) আশ্রমের প্রধান রূপকার ! সেই সব কথা পরের দিন….! (ক্রমশঃ)
এর অনেক পরে 1982 সালে আজিমগঞ্জ আশ্রম প্রতিষ্ঠা হয়েছিল এবং 1983 সালে তৃতীয় বারের জন্য যে ব্রহ্মচর্য প্রদানের অনুষ্ঠান হয়েছিল – সেটি হয়েছিল আজিমগঞ্জে গঙ্গার ঘাটে । আজিমগঞ্জে ওটাই প্রথম ব্রহ্মচর্য অনুষ্ঠান ! গুরুমহারাজ সেবার – কৃষ্ণানন্দ মহারাজ, হরি মহারাজ (স্বামী সহজানন্দ), মদন মহারাজ (স্বামী চিৎ-বিলাসানন্দ), কাশীনাথ (উড়িয়া বাবা স্বামী নির্বানানন্দ), অমূল্য মহারাজ (স্বামী অভয়ানন্দ) – এই পাঁচজনের ব্রহ্মচর্য হয়েছিল !
যাইহোক, আমরা এসব কথা রেখে এখন ফিরে আসি স্বামী ভাগবতানন্দের কথায় ! সেদিন গভীর নির্জনতা ভরা বনগ্রাম আশ্রমের খেলার মাঠে গুরুমহারাজের সাথে ভাগবতানন্দজীর কথা হচ্ছিলো । গুরুমহারাজ ওনাকে শাখা-আশ্রম তৈরির প্রয়োজনীয়তার গুরুত্ব সম্বন্ধে বোঝাচ্ছিলেন, আর ভাগবতানন্দজী গুরুজীর কথাগুলি বিভিন্ন যুক্তির অবতারণা করে খন্ডন করার চেষ্টা করছিলেন। কিন্তু গুরুমহারাজ মহারাজ যখন – _’আশ্রম প্রতিষ্ঠার দ্বারা মানব সেবার কথা’_ বললেন, তখনই ভাগবতানন্দজী চুপ করে গিয়েছিলেন ! তিনি বুঝতে পেরেছিলেন যে বৃহতের ইচ্ছা বা মহৎ-এর অভিপ্রায়(divine plan) রয়েছে ! তাই উনি এরপর শুধু জিজ্ঞাসা করেছিলেন –” তাহলে শাখা আশ্রমটি হবে কোথায়?” গুরুজী ওনাকে বলেছিলেন – “তোমার বাড়ির কাছাকাছি কোনো স্থানে করার চেষ্টা করো!” কিন্তু ভাগবতানন্দজী তাতে রাজি হননি । উনি বলেছিলেন যে, বাড়ি থেকে দূরবর্তী কোনো স্থানে আশ্রম হোলে ভালো হয় ! সেটা শুনে গুরুমহারাজ বলেছিলেন – “তাহলে মুর্শিদাবাদের কোনো স্থানে আশ্রম প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করো ! কারণ, মুর্শিদাবাদে গঙ্গার তীরে আমাদের আশ্রম হবে।”
এরপর মহারাজ মুর্শিদাবাদের বিভিন্ন অঞ্চলে ঘুরেছিলেন ! উনি উত্তরবঙ্গের আরো অনেক জায়গাতেই সেসময় গিয়েছিলেন । ওইভাবে ঘোরার সময় বিভিন্ন মানুষের সঙ্গে ওনার আলাপ হয়েছিল। আজিমগঞ্জের “মেরি” নামে একজন ভদ্রমহিলার সাথেও ওনার যোগাযোগ হয়েছিল ! সেই মহিলাটি খুবই ভক্তিমতী ছিলেন !
এদিকে, মুর্শিদাবাদ অঞ্চলে আশ্রম প্রতিষ্ঠা করার কথা গুরু মহারাজ বনগ্রাম আশ্রমের অন্তরঙ্গ জনের সাথে আলোচনা করেছিলেন । ফলে তৃষাণ মহারাজ (স্বামী পরমেশ্বরানন্দ)-ও এই ব্যাপারে যথেষ্ট সচেষ্ট ছিলেন । সেই সময় তৃষাণ মহারাজ মাঝেমাঝেই বনগ্রাম আশ্রমের বিভিন্ন প্রয়োজনে দূর্গাপুরে সেজোকাকা (উমাপ্রসাদ মুখার্জি, বনগ্রামের ন’কাকার সেজো দাদা)-র বাড়ি যেতেন। ওখানেই সেজকাকার বন্ধু সুশান্তবাবুর সাথে তৃষাণ মহারাজের আলাপ হয় । ওনার মুখে এবং সেজ কাকার মুখে গুরুমহারাজের কথা শুনে সুশান্তবাবু বনগ্রামে এসেছিলেন এবং গুরুমহারাজের কাছে দীক্ষা গ্রহণও করেছিলেন । ওনাদের দেশের বাড়ি ছিল মুর্শিদাবাদের মোরগ্রামের অন্তর্গত সাঁকোবাজারে । সুশান্তবাবু ওইখানে আশ্রম বানানোর জন্য জায়গা দিতে রাজি হয়েছিলেন।
গুরু মহারাজের নির্দেশে শম্ভু মহারাজ (স্বামী সত্যানন্দ) এবং ভাগবতানন্দ মহারাজ প্রথমে গিয়েছিলেন সাঁকোবাজারে, সুশান্তবাবুর দেশের বাড়িতে ! শম্ভু মহারাজ দু’চারদিন আগেই ওখানে পৌঁছেছিলেন, আর ভাগবতানন্দ মহারাজ এসেছিলেন দু’চারদিন পরে ।
কারণ সেই সময় দিনাজপুর অঞ্চলের একটি ছেলে ত্যাগব্রত গ্রহণ করার ব্যাপারে আগ্রহী ছিল ! ভাগবতানন্দজী, গুরুমহারাজকে তার কথা বলে তাকে আনার জন্য দিনাজপুরে গিয়েছিলেন ! কিন্তু ছেলেটি পরবর্তীতে আর আসেনি !
যাইহোক, এইভাবে সত্যানন্দ মহারাজ এবং ভাগবতানন্দ মহারাজ প্রথম মোরগ্রামে সুশান্তবাবু বাড়িতে একটি পুরোনো গোয়াল ঘর এবং একটি বসবাসের ঘর নিয়ে থাকতে শুরু করেছিলেন ! ওইখানে থাকাকালীনই সুশান্ত বাবুর বোন মেরি-দির সাথে ওনাদের পুনরায় আলাপ হয় ! মেরি-দির শ্বশুরবাড়ি ছিল আজিমগঞ্জে, আর গুরুমহারাজ যখন প্রথমবার মোরগ্রামে গিয়েছিলেন – তখন মহারাজরা ওখান থেকে ওনাকে আজিমগঞ্জে মেরি-দির বাড়ি নিয়ে গিয়েছিলেন । গুরুমহারাজ মেরি-দির সাথে ডাহাপাড়া ধাম(প্রভূ জগদ্বন্ধুসুন্দরের জন্মভূমি) এবং আরো দু-চারটি দর্শনীয় স্থান ঘুরতে নিয়ে গিয়েছিলেন ! ওখানে অর্থাৎ আজিমগঞ্জে একটা বিপরীত প্রতিক্রিয়ার মধ্যে দিয়ে ববিন দা, বিষ্ণু দা এবং বিজয়দার সঙ্গে গুরুমহারাজের আলাপ হয়েছিল । যাঁরা ছিলেন আজিমগঞ্জ(দিয়ারা মাহিনগর) আশ্রমের প্রধান রূপকার ! সেই সব কথা পরের দিন….! (ক্রমশঃ)
