শ্রী শ্রী গুরু মহারাজ স্বামী পরমানন্দ এবং তাঁর ভক্ত, শিষ্য, পার্ষদদের সম্বন্ধে কথা হচ্ছিলো। এখন আমরা গুরুমহারাজের সন্ন্যাসী সন্তান স্বামী ভাগবতানন্দের কথায় ছিলাম। শম্ভু মহারাজ (স্বামী সত্যানন্দ) এবং ভাগবতানন্দজী যখন মোরগ্রামে সাঁকো-বাজারে গিয়েছিলেন, তার আগেই গুরুমহারাজ ওনাকে বলে দিয়েছিলেন যে ‘আশ্রম’ তৈরি করা মানেই হলো সেখান থেকে কোনো না কোনো সেবামূলক কাজ করা ! কিন্তু মোরগ্রামে প্রথম প্রথম যাবার পরই যে কোনো সেবামূলক কাজ শুরু করা গেছিলো_ তা নয় ! তবে শম্ভু মহারাজ (স্বামী সত্যানন্দ) একটু-আধটু হোমিওপ্যাথি ওষুধ দিতে শুরু করেছিলেন। তাছাড়া শম্ভু মহারাজ নিজেও যোগাসন practice করতেন এবং ছোট ছোট স্থানীয় ছেলেদেরকেও শেখাতেন। একটা সময় এমন এসেছিল যে ওই দু’জন মহারাজের নামই বদলে গিয়েছিল। স্থানীয় মানুষেরা সত্যানন্দ মহারাজকে বলতেন – “যোগীবাবা” এবং ভাগবতানন্দজী বাউল গান গাইতেন বলে সবাই ওনাকে ডাকতেন “বাউল বাবা” নামে।
তাছাড়া ওনারা দুজনেই একটা কাজ খুবই করতেন, আর সেটা হলো চুটিয়ে ‘সৎসঙ্গ’ ! গুরুমহারাজ স্বামী পরমানন্দ যেহেতু যুগাবতার – তাই তাঁর কথাগুলি একটু গুছিয়ে মানুষের কাছে বলতে পারলেই – মানুষ বিস্মিত হবেই, চমৎকৃত হবেই ! তাঁর কথার এমনই মহিমা ! মহারাজদ্বয় সেইসময় স্থানীয় মানুষদের সাথে তো বটেই, পাশাপাশি গ্রামের ধর্মপ্রাণ মানুষজনের সাথেও গুরু মহারাজের কথার মাধ্যমে সম্পর্ক স্থাপন করতে শুরু করেছিলেন। ফলে সেইসময় ওনারা মোরগ্রামের পাশাপাশি অঞ্চলের গ্রামগুলি যেমন রসবেরুলিয়া, দোহালি, নাকপুর ইত্যাদি বিভিন্ন গ্রামের বিশেষ বিশেষ মানুষের সাথে পরিচিত হয়ে গেছিলেন। ওনারা কাজের অবসরে ঐ সমস্ত গ্রামগুলিতে যেতেন এবং সেখানে গিয়ে ‘সৎসঙ্গ’ করতেন।
এইভাবেই রসবেরুলিয়া গ্রামের লব-কুশ, যশোমতীর বাবা, মাস্টারমশাই (মিতা, টুকটুকির বাবা), শ্যামাপদ মাস্টার প্রমুখের সাথে ওনাদের একটা ভালো সম্পর্ক স্থাপন হয়ে গিয়েছিল। তাছাড়া নাকপুর গ্রামের কৃপা, করুণা এবং গৌতম প্রমুখরাও তখন খুবই মহারাজদের কাছে আসা-যাওয়া কোরো, বা মহারাজরাও ওখানে যেতেন। অর্থাৎ গুরুমহারাজের আরব্ধ কাজের পটভূমিকা বেশ ভালোভাবেই তখন ওখানে তৈরি হচ্ছিলো।
ভাগবতানন্দ মহারাজেরা মোরগ্রামে গিয়েছিলেন জ্যৈষ্ঠ মাসে, আর ঐ বছরেই অগ্রহায়ণ মাসে গুরুমহারাজ প্রথমবারের জন্য মোরগ্রাম সাঁকোবাজারে গিয়েছিলেন। তখন সুশান্তবাবুর দেশের ঐ বাড়িতে ওনার বৃদ্ধ বাবা-মা থাকতেন, আর নিচের একটা ঘর এবং পুরোনো একটা গোয়ালঘর নিয়ে মহারাজ দু’জন থাকতেন ! তাহলে সমস্যা হোলো – গুরুমহারাজ এলে থাকবেন কোথায় ?
কিন্তু জগৎচিন্তামণির চিন্তা কি আর সাধারণ মানুষ করতে পারে ? তিনিই তো সবার চিন্তার ভার নিয়েছেন ! তবু ভক্তরাও ভগবানের জন্য চিন্তা করেন বৈকি ? বিশেষত: যখন ভগবান স্থূল-শরীরে লীলা করেন তখন তো তিনি আর-পাঁচটা সাধারণ মানুষের মতোই আচরণ করেন – তাই ভক্তদেরকেও তাঁর জন্য চিন্তা করতে হয় ! যাইহোক, কিন্তু ভগবানের জন্য ওনাদেরকে চিন্তা করতে হয়নি – সব ব্যবস্থা এমনি এমনিই হয়ে গিয়েছিলো ! ওখান থেকে মহারাজরা_ গুরুমহারাজকে আজিমগঞ্জে মেরিদির বাড়িতে নিয়ে গিয়েছিলেন। সেখানে পৌঁছানোর কিছু পরেই মেরি-দি গুরু মহারাজকে স্থানীয় দর্শনীয় স্থানগুলি (ডাহাপাড়া ধাম, চার্চ, ঐতিহাসিক কিছু কিছু নিদর্শন ইত্যাদি) দেখাতে নিয়ে গিয়েছিলেন। ওখান থেকে ফেরার পথে (বা গঙ্গা থেকে স্নান সেরে ফেরার পথে) রাস্তার মোড়ে একটা ঠেকে ববিন দা, বিজয় দা, বিষ্ণু দা প্রমুখদের সাথে ওনাদের সাক্ষাৎ হয়।
গুরু মহারাজের অনিন্দ্যকান্তি রূপলাবণ্য এবং জ্যোতির্ময় শরীর দেখে ওই তিনজন tonting করে বসেন ! ওনারা যা বলেছিলেন তার সারমর্ম করলে দাঁড়ায় – ” দেখেছো, নবীন সাধুবাবাটির রূপ-লাবণ্যের বাহার ! হবে নাই বা কেন – নিজেকে তো আর মাথার ঘাম পায়ে ফেলে রোজগার করতে হয়না ? পরের মাথায় টুপি পরিয়ে বসে বসে খাওয়া ! – তাহলে তো ঐরকম লালটুশ্ চেহারা হবেই !” গুরুমহারাজ কিন্তু সব কথাগুলোই শুনেছিলেন, কিন্তু সেইসময় কিছুই উত্তর দেন নি। মেরিদির বাড়িতে পৌঁছে উনি জিজ্ঞাসা করেছিলেন – ” বাইরে বসে থাকা ওই ছেলেগুলো কারা – ওদেরকে কি তোমরা চেনো ?” বাড়ির লোকেরা ঐ কথায় সম্মতি জানিয়ে বলেছিল যে, ‘হ্যাঁ তারা চেনে’ ! তখন গুরুমহারাজ বলেছিলেন – ” খাওয়া-দাওয়ার পর আধ্যাত্মিক প্রসঙ্গ আলোচনা হবে, ওই ছেলেগুলিকে আমন্ত্রণ করো – যাতে ওরা আসে৷”
সেদিন মেরিদির বাড়িতে গুরুমহারাজের সিটিংও হয়েছিল আর ওনারা তিনজনও এসেছিলেন। আর তারপর যা হয়েছিল__ তা ইতিহাস ! কারণ ওই সিটিং-এর সাথে সাথেই আজিমগঞ্জের দিয়ার-মাহিনগরে ‘কনসাস স্পিরিচুয়াল সেন্টার’ সৃষ্টি হবার বীজ বপন করা হয়েছিল!!!
[ক্রমশঃ]
তাছাড়া ওনারা দুজনেই একটা কাজ খুবই করতেন, আর সেটা হলো চুটিয়ে ‘সৎসঙ্গ’ ! গুরুমহারাজ স্বামী পরমানন্দ যেহেতু যুগাবতার – তাই তাঁর কথাগুলি একটু গুছিয়ে মানুষের কাছে বলতে পারলেই – মানুষ বিস্মিত হবেই, চমৎকৃত হবেই ! তাঁর কথার এমনই মহিমা ! মহারাজদ্বয় সেইসময় স্থানীয় মানুষদের সাথে তো বটেই, পাশাপাশি গ্রামের ধর্মপ্রাণ মানুষজনের সাথেও গুরু মহারাজের কথার মাধ্যমে সম্পর্ক স্থাপন করতে শুরু করেছিলেন। ফলে সেইসময় ওনারা মোরগ্রামের পাশাপাশি অঞ্চলের গ্রামগুলি যেমন রসবেরুলিয়া, দোহালি, নাকপুর ইত্যাদি বিভিন্ন গ্রামের বিশেষ বিশেষ মানুষের সাথে পরিচিত হয়ে গেছিলেন। ওনারা কাজের অবসরে ঐ সমস্ত গ্রামগুলিতে যেতেন এবং সেখানে গিয়ে ‘সৎসঙ্গ’ করতেন।
এইভাবেই রসবেরুলিয়া গ্রামের লব-কুশ, যশোমতীর বাবা, মাস্টারমশাই (মিতা, টুকটুকির বাবা), শ্যামাপদ মাস্টার প্রমুখের সাথে ওনাদের একটা ভালো সম্পর্ক স্থাপন হয়ে গিয়েছিল। তাছাড়া নাকপুর গ্রামের কৃপা, করুণা এবং গৌতম প্রমুখরাও তখন খুবই মহারাজদের কাছে আসা-যাওয়া কোরো, বা মহারাজরাও ওখানে যেতেন। অর্থাৎ গুরুমহারাজের আরব্ধ কাজের পটভূমিকা বেশ ভালোভাবেই তখন ওখানে তৈরি হচ্ছিলো।
ভাগবতানন্দ মহারাজেরা মোরগ্রামে গিয়েছিলেন জ্যৈষ্ঠ মাসে, আর ঐ বছরেই অগ্রহায়ণ মাসে গুরুমহারাজ প্রথমবারের জন্য মোরগ্রাম সাঁকোবাজারে গিয়েছিলেন। তখন সুশান্তবাবুর দেশের ঐ বাড়িতে ওনার বৃদ্ধ বাবা-মা থাকতেন, আর নিচের একটা ঘর এবং পুরোনো একটা গোয়ালঘর নিয়ে মহারাজ দু’জন থাকতেন ! তাহলে সমস্যা হোলো – গুরুমহারাজ এলে থাকবেন কোথায় ?
কিন্তু জগৎচিন্তামণির চিন্তা কি আর সাধারণ মানুষ করতে পারে ? তিনিই তো সবার চিন্তার ভার নিয়েছেন ! তবু ভক্তরাও ভগবানের জন্য চিন্তা করেন বৈকি ? বিশেষত: যখন ভগবান স্থূল-শরীরে লীলা করেন তখন তো তিনি আর-পাঁচটা সাধারণ মানুষের মতোই আচরণ করেন – তাই ভক্তদেরকেও তাঁর জন্য চিন্তা করতে হয় ! যাইহোক, কিন্তু ভগবানের জন্য ওনাদেরকে চিন্তা করতে হয়নি – সব ব্যবস্থা এমনি এমনিই হয়ে গিয়েছিলো ! ওখান থেকে মহারাজরা_ গুরুমহারাজকে আজিমগঞ্জে মেরিদির বাড়িতে নিয়ে গিয়েছিলেন। সেখানে পৌঁছানোর কিছু পরেই মেরি-দি গুরু মহারাজকে স্থানীয় দর্শনীয় স্থানগুলি (ডাহাপাড়া ধাম, চার্চ, ঐতিহাসিক কিছু কিছু নিদর্শন ইত্যাদি) দেখাতে নিয়ে গিয়েছিলেন। ওখান থেকে ফেরার পথে (বা গঙ্গা থেকে স্নান সেরে ফেরার পথে) রাস্তার মোড়ে একটা ঠেকে ববিন দা, বিজয় দা, বিষ্ণু দা প্রমুখদের সাথে ওনাদের সাক্ষাৎ হয়।
গুরু মহারাজের অনিন্দ্যকান্তি রূপলাবণ্য এবং জ্যোতির্ময় শরীর দেখে ওই তিনজন tonting করে বসেন ! ওনারা যা বলেছিলেন তার সারমর্ম করলে দাঁড়ায় – ” দেখেছো, নবীন সাধুবাবাটির রূপ-লাবণ্যের বাহার ! হবে নাই বা কেন – নিজেকে তো আর মাথার ঘাম পায়ে ফেলে রোজগার করতে হয়না ? পরের মাথায় টুপি পরিয়ে বসে বসে খাওয়া ! – তাহলে তো ঐরকম লালটুশ্ চেহারা হবেই !” গুরুমহারাজ কিন্তু সব কথাগুলোই শুনেছিলেন, কিন্তু সেইসময় কিছুই উত্তর দেন নি। মেরিদির বাড়িতে পৌঁছে উনি জিজ্ঞাসা করেছিলেন – ” বাইরে বসে থাকা ওই ছেলেগুলো কারা – ওদেরকে কি তোমরা চেনো ?” বাড়ির লোকেরা ঐ কথায় সম্মতি জানিয়ে বলেছিল যে, ‘হ্যাঁ তারা চেনে’ ! তখন গুরুমহারাজ বলেছিলেন – ” খাওয়া-দাওয়ার পর আধ্যাত্মিক প্রসঙ্গ আলোচনা হবে, ওই ছেলেগুলিকে আমন্ত্রণ করো – যাতে ওরা আসে৷”
সেদিন মেরিদির বাড়িতে গুরুমহারাজের সিটিংও হয়েছিল আর ওনারা তিনজনও এসেছিলেন। আর তারপর যা হয়েছিল__ তা ইতিহাস ! কারণ ওই সিটিং-এর সাথে সাথেই আজিমগঞ্জের দিয়ার-মাহিনগরে ‘কনসাস স্পিরিচুয়াল সেন্টার’ সৃষ্টি হবার বীজ বপন করা হয়েছিল!!!
[ক্রমশঃ]
