শ্রী শ্রী গুরু মহারাজ স্বামী পরমানন্দ এবং তাঁর ভক্ত, শিষ্য ও পার্ষদদের সম্বন্ধে এখানে এখন আলোচনা হচ্ছিলো। আমরা এখন ছিলাম গুরু মহারাজের অন্যতম এক ত্যাগী ভক্ত, সন্ন্যাসী সন্তান স্বামী ভাগবতানন্দের কথায়। ভাগবতানন্দ মহারাজ যখন গুরু মহারাজের নির্দেশে পথে পথে ঘুরেছিলেন, সেই সময় ওনার বহু ধরনের মানুষের সঙ্গে সাক্ষাৎ হয়েছিল, নানান প্রতিকূল পরিস্থিতির মধ্যে দিয়ে ওনাকে যেতে হয়েছিল । পরিব্রাজন থেকে ফিরে যখন উনি গুরু মহারাজের সাথে দেখা করেছিলেন, তখন গুরুমহারাজ স্নেহময় পিতার মত ওনাকে জিজ্ঞাসা করেছিলেন__ “এই যে তুমি এতদিন ধরে কপর্দকশূন্য হয়ে পথে পথে ঘুরলে, তাতে তোমার সবচাইতে বেশি কিসে অসুবিধা হয়েছিল” ? মহারাজ সাথে সাথেই উত্তর দিয়েছিলেন __”শরীরে উৎপন্ন ‘ক্ষুধা-বোধ’ ! পথের ক্লান্তি, সাধারণ মানুষের লাঞ্ছনা, রাত্রির বিশ্রামের অসুবিধা ইত্যাদি আমাকে অতোটা বিচলিত করতে পারেনি, যতটা করেছিল ‘ক্ষুধা’ ” ! এর উত্তরে গুরু মহারাজ ওনাকে বলেছিলেন __”আমি পরিব্রাজন কালে একটানা চার মাস অনাহারে কাটিয়েছি ! তোমাকে না হয় বড়জোর চারদিন না খেয়ে থাকতে হয়েছে ! এটা আর এমন কি ! সাধু ব্রহ্মচারীরা চারদিন পর্যন্ত না খেয়ে কাটিয়ে দিতে পারে ! এতে তাদের কোনো অসুবিধা হবার কারন নাই”।
এই কথা শুনে মহারাজ হিসাব করে দেখেছিলেন সত্যিই তাঁর ভ্রমণকালে চার দিনের বেশি সময় তাঁকে অনাহারে-অর্ধাহারে থাকতে হয় নি । ঠিকই যে কোনো প্রকারে খাবার জুটে গেছিল। মাঠের মধ্যে গাছ তলায় বসে থাকা অবস্থাতেও গ্রামের চাষি মানুষ এসে ওনাকে খাইয়ে গেছে । তাছাড়া গুরু মহারাজের ঐ কথাগুলি থেকে এটা উনি বুঝেছিলেন যে, চতুরানন ব্রহ্মা, চতুষ্কোণ হোম কুন্ডু বা যজ্ঞের বেদি, চতুর্মুখী হোম ইত্যাদি যে ‘চার’ সংখ্যার সাথে সৃষ্টি এবং অগ্নিতে আহুতি দানের সম্পর্ক রয়েছে__ এইসব কারনেই হয়তো গুরুমহারাজ চারদিনের উল্লেখ করে ‘চার’ সংখ্যাটাকে গুরুত্ব দান করেছিলেন ।ওনার আরো মনে হয়েছিল —‘ক্ষুধাও তো অগ্নি, আর ব্রহ্মা অগ্নি স্বরূপ ! তাই আহার্য যেন শরীরের ভিতরে প্রজ্জ্বলিত অগ্নিতে আহুতি দেওয়া ছাড়া আর কিছুই নয়’।___ “ব্রহ্মার্পণং ব্রহ্মহবির্ব্রহ্মনাহুতম্,
ব্রহ্মৈব তেণ গন্তব্যম্ ব্রহ্মকর্মসমাধিনা।।”
যাই হোক, আমরা ছিলাম গুরু মহারাজ যখন প্রথমবারের জন্য মোরগ্রাম এবং আজিমগঞ্জ গিয়েছিলেন সেই সময়কার কথায় ! আজিমগঞ্জে মেরি-দির বাড়িতে গুরু মহারাজের আলোচনা শুনে ববিনদা, বিজয়দা ও বিষ্ণুদার মনের অনেক শংসয় কেটে গিয়েছিল । আমরা পরে ওনাদের মুখ থেকেই শুনেছিলাম যে, ওনারা যত রকম ভাবে জিজ্ঞাসা করেছিলেন__ গুরুমহারাজ সেরকমভাবেই উত্তর দিয়ে যাচ্ছিলেন ! তারপর, বেদান্ত জিজ্ঞাসা-উত্তরের পরে ওনারা সেদিনকার মত চুপ করে গিয়েছিলেন ! ওনাদের মধ্যে ববিনদা খুবই বেদান্ত চর্চা করতেন, তাই উনি বিভিন্ন উপনিষদ থেকে নানান জিজ্ঞাসা করেছিলেন এবং গুরু মহারাজ নির্লিপ্তভাবে সেইসব জিজ্ঞাসার উত্তর দিয়েছিলেন। গুরু মহারাজের এই নির্লিপ্ত ভাব, যে কোনো জিজ্ঞাসার অনায়াস উত্তর দান এবং পাগল করা প্রেমময় মূর্তি __ওনাদেরকে খুবই আকৃষ্ট করেছিল ! ওনারা বুঝতে পেরেছিলেন যে, এই মানুষটাই তাঁদের ভবপারের কান্ডারী, তাঁদের একান্ত আপন, তাঁদের এতদিনকার খোঁজের সার্থক প্রকাশ, তাঁদের মনের মানুষ- প্রাণের মানুষ!!
ফলে, এরপর থেকেই ওনারা গুরু মহারাজের ইচ্ছার (মুর্শিদাবাদে গঙ্গার তীরবর্তী অঞ্চলে পরমানন্দ মিশন এর শাখা হবে) রূপ প্রদানে ব্রতী হ’ন এবং এই ব্যাপারে সত্যানন্দ মহারাজ এবং ভাগবতানন্দ মহারাজ দুজনেই যতটা সম্ভব সহযোগিতা করেছিলেন ।
তবে, আমরা আবার ফিরে যাবো গুরু মহারাজের কথায় ! গুরু মহারাজ আজিমগঞ্জে মেরি-দির বাড়ি থেকে পুনরায় মোরগ্রামের সাঁকো বাজারে ফিরে এসেছিলেন ! ওখান থেকে গুরু মহারাজকে সত্যানন্দ এবং ভাগবতানন্দ ‘নাকপুর’ গ্রামে নিয়ে গিয়েছিলেন । আগেই বলা হয়েছিল যে, ওই গ্রামের অনেকগুলি বিশেষ বিশেষ ভক্তের সাথে তখন মহারাজদের বেশ ভালই আলাপ হয়ে গিয়েছিল । ওনারা গ্রামবাসীদেরকে বলেছিলেন যে, যখন গুরুদেব স্বামী পরমানন্দ এই অঞ্চলে আসবেন__ তখন নাকপুর গ্রামে একটা সিটিং-এর ব্যবস্থা ওনারা করে দেবেন। ফলে, গ্রামবাসীরাও সেইমতো প্রস্তুত ছিল । গুরু মহারাজের সিটিং-এর ব্যবস্থা হয়েছিল নাকপুর গ্রামের একটি দুর্গা মন্ডপে । কৃপা,করুণা, গৌতম প্রমূখ ভক্তবৃন্দ সব আয়োজন করেছিল।
অপরূপ রূপলাবন্যসম্পন্ন গুরু মহারাজকে দেখে, তাঁর শ্রীমুখের মধুর প্রবচন শুনে এবং তাছাড়াও গ্রামের শিক্ষিত সম্প্রদায়ের চোখা চোখা জিজ্ঞাসার অনায়াসে সহজ ভাষায় উত্তর দেওয়া দেখে__ গ্রামবাসী খুবই impressed হয়ে পড়েছিল । ওদের মধ্যে অনেকে মিলে ঠিক করেছিল যে, নাকপুর গ্রামেই গুরু মহারাজের আশ্রমের জন্য ওরা একটা জায়গা দেবে, যাতে এই মানুষটিকে তারা বারবার দেখতে পায় বা তাঁর মুখের অমৃত-কথা শুনতে পায় ! গুরু মহারাজকে নিয়ে ওরা সেই জায়গাটি দেখতেও গিয়েছিল ! কিন্তু সেই স্থানে পা রাখার পরেই গুরুমহারাজ বলেছিলেন _”এই অঞ্চলটা কি মুর্শিদাবাদ?” ওরা বলেছিল না ওই অঞ্চলটা বীরভূমের মধ্যে পড়ে যাচ্ছে । কিছুটা পরেই মুর্শিদাবাদ জেলা শুরু ! এটা একেবারে সীমান্তবর্তী অঞ্চল !” গুরুমহারাজ তাই শুনে সরাসরি বলে দিয়েছিলেন _”তাহলে এখানে আশ্রম হবে না ! আমাদের এখনকার(divine) project-এ রয়েছে আশ্রম হবে মুর্শিদাবাদে।।(ক্রমশঃ)
এই কথা শুনে মহারাজ হিসাব করে দেখেছিলেন সত্যিই তাঁর ভ্রমণকালে চার দিনের বেশি সময় তাঁকে অনাহারে-অর্ধাহারে থাকতে হয় নি । ঠিকই যে কোনো প্রকারে খাবার জুটে গেছিল। মাঠের মধ্যে গাছ তলায় বসে থাকা অবস্থাতেও গ্রামের চাষি মানুষ এসে ওনাকে খাইয়ে গেছে । তাছাড়া গুরু মহারাজের ঐ কথাগুলি থেকে এটা উনি বুঝেছিলেন যে, চতুরানন ব্রহ্মা, চতুষ্কোণ হোম কুন্ডু বা যজ্ঞের বেদি, চতুর্মুখী হোম ইত্যাদি যে ‘চার’ সংখ্যার সাথে সৃষ্টি এবং অগ্নিতে আহুতি দানের সম্পর্ক রয়েছে__ এইসব কারনেই হয়তো গুরুমহারাজ চারদিনের উল্লেখ করে ‘চার’ সংখ্যাটাকে গুরুত্ব দান করেছিলেন ।ওনার আরো মনে হয়েছিল —‘ক্ষুধাও তো অগ্নি, আর ব্রহ্মা অগ্নি স্বরূপ ! তাই আহার্য যেন শরীরের ভিতরে প্রজ্জ্বলিত অগ্নিতে আহুতি দেওয়া ছাড়া আর কিছুই নয়’।___ “ব্রহ্মার্পণং ব্রহ্মহবির্ব্রহ্মনাহুতম্,
ব্রহ্মৈব তেণ গন্তব্যম্ ব্রহ্মকর্মসমাধিনা।।”
যাই হোক, আমরা ছিলাম গুরু মহারাজ যখন প্রথমবারের জন্য মোরগ্রাম এবং আজিমগঞ্জ গিয়েছিলেন সেই সময়কার কথায় ! আজিমগঞ্জে মেরি-দির বাড়িতে গুরু মহারাজের আলোচনা শুনে ববিনদা, বিজয়দা ও বিষ্ণুদার মনের অনেক শংসয় কেটে গিয়েছিল । আমরা পরে ওনাদের মুখ থেকেই শুনেছিলাম যে, ওনারা যত রকম ভাবে জিজ্ঞাসা করেছিলেন__ গুরুমহারাজ সেরকমভাবেই উত্তর দিয়ে যাচ্ছিলেন ! তারপর, বেদান্ত জিজ্ঞাসা-উত্তরের পরে ওনারা সেদিনকার মত চুপ করে গিয়েছিলেন ! ওনাদের মধ্যে ববিনদা খুবই বেদান্ত চর্চা করতেন, তাই উনি বিভিন্ন উপনিষদ থেকে নানান জিজ্ঞাসা করেছিলেন এবং গুরু মহারাজ নির্লিপ্তভাবে সেইসব জিজ্ঞাসার উত্তর দিয়েছিলেন। গুরু মহারাজের এই নির্লিপ্ত ভাব, যে কোনো জিজ্ঞাসার অনায়াস উত্তর দান এবং পাগল করা প্রেমময় মূর্তি __ওনাদেরকে খুবই আকৃষ্ট করেছিল ! ওনারা বুঝতে পেরেছিলেন যে, এই মানুষটাই তাঁদের ভবপারের কান্ডারী, তাঁদের একান্ত আপন, তাঁদের এতদিনকার খোঁজের সার্থক প্রকাশ, তাঁদের মনের মানুষ- প্রাণের মানুষ!!
ফলে, এরপর থেকেই ওনারা গুরু মহারাজের ইচ্ছার (মুর্শিদাবাদে গঙ্গার তীরবর্তী অঞ্চলে পরমানন্দ মিশন এর শাখা হবে) রূপ প্রদানে ব্রতী হ’ন এবং এই ব্যাপারে সত্যানন্দ মহারাজ এবং ভাগবতানন্দ মহারাজ দুজনেই যতটা সম্ভব সহযোগিতা করেছিলেন ।
তবে, আমরা আবার ফিরে যাবো গুরু মহারাজের কথায় ! গুরু মহারাজ আজিমগঞ্জে মেরি-দির বাড়ি থেকে পুনরায় মোরগ্রামের সাঁকো বাজারে ফিরে এসেছিলেন ! ওখান থেকে গুরু মহারাজকে সত্যানন্দ এবং ভাগবতানন্দ ‘নাকপুর’ গ্রামে নিয়ে গিয়েছিলেন । আগেই বলা হয়েছিল যে, ওই গ্রামের অনেকগুলি বিশেষ বিশেষ ভক্তের সাথে তখন মহারাজদের বেশ ভালই আলাপ হয়ে গিয়েছিল । ওনারা গ্রামবাসীদেরকে বলেছিলেন যে, যখন গুরুদেব স্বামী পরমানন্দ এই অঞ্চলে আসবেন__ তখন নাকপুর গ্রামে একটা সিটিং-এর ব্যবস্থা ওনারা করে দেবেন। ফলে, গ্রামবাসীরাও সেইমতো প্রস্তুত ছিল । গুরু মহারাজের সিটিং-এর ব্যবস্থা হয়েছিল নাকপুর গ্রামের একটি দুর্গা মন্ডপে । কৃপা,করুণা, গৌতম প্রমূখ ভক্তবৃন্দ সব আয়োজন করেছিল।
অপরূপ রূপলাবন্যসম্পন্ন গুরু মহারাজকে দেখে, তাঁর শ্রীমুখের মধুর প্রবচন শুনে এবং তাছাড়াও গ্রামের শিক্ষিত সম্প্রদায়ের চোখা চোখা জিজ্ঞাসার অনায়াসে সহজ ভাষায় উত্তর দেওয়া দেখে__ গ্রামবাসী খুবই impressed হয়ে পড়েছিল । ওদের মধ্যে অনেকে মিলে ঠিক করেছিল যে, নাকপুর গ্রামেই গুরু মহারাজের আশ্রমের জন্য ওরা একটা জায়গা দেবে, যাতে এই মানুষটিকে তারা বারবার দেখতে পায় বা তাঁর মুখের অমৃত-কথা শুনতে পায় ! গুরু মহারাজকে নিয়ে ওরা সেই জায়গাটি দেখতেও গিয়েছিল ! কিন্তু সেই স্থানে পা রাখার পরেই গুরুমহারাজ বলেছিলেন _”এই অঞ্চলটা কি মুর্শিদাবাদ?” ওরা বলেছিল না ওই অঞ্চলটা বীরভূমের মধ্যে পড়ে যাচ্ছে । কিছুটা পরেই মুর্শিদাবাদ জেলা শুরু ! এটা একেবারে সীমান্তবর্তী অঞ্চল !” গুরুমহারাজ তাই শুনে সরাসরি বলে দিয়েছিলেন _”তাহলে এখানে আশ্রম হবে না ! আমাদের এখনকার(divine) project-এ রয়েছে আশ্রম হবে মুর্শিদাবাদে।।(ক্রমশঃ)
