শ্রী শ্রী গুরুমহারাজ স্বামী পরমানন্দের আলোচনা থেকে বিভিন্ন অংশ নিয়ে সেগুলিকে আপনাদের সঙ্গে শেয়ার করা হচ্ছিলো। আমরা আগের আলোচনায় ‘উপাসনা’ বিষয়ে বলছিলাম। সেই বিষয়ে কথা বলতে গিয়ে আমরা দেখেছি যে, মূর্তিপূজা (বা প্রতিমা) নিয়ে এই পৃথিবীগ্রহে যে সমস্ত দ্বিধা-দ্বন্দ্ব রয়েছে – সেগুলি নিছক আহাম্মকি ! কারণ প্রাথমিক অবস্থায় ধর্মজগতের প্রতিটি মানুষই মূর্তিপূজক – তা সে বাহ্যতঃ মূর্তি বা প্রতিমা তৈরি করেই করুক আর নাই করুক – পরমেশ্বর সম্বন্ধে ধারণার কাল্পনিক মূর্তি বা প্রতিমার একটা রূপরেখা তার মনোজগতে থেকে যাবেই। তাতে সে হিন্দু, মুসলিম, খ্রিস্টান, বৌদ্ধ, জৈন, জরাথ্রুস্টীয় – ইত্যাদি যে কোন ধর্মমতেরই উপাসক হোক না কেন !!
স্থূল-মূর্তি উপাসনা বা চিন্তাজগতের মূর্তির উপাসনা ব্যাপারটা হওয়া উচিৎ মানবের মনের বিকাশ অনুযায়ী ! ব্যাপারটা clear করে বুঝিয়েছিলেন গুরুমহারাজ। উনি যা বলেছিলেন তার মর্মার্থ হোলো এই যে, – যে সমস্ত মানুষ মূর্তি বা প্রতিমা পূজা করে (উপাসনা করে) তারা বিভিন্ন বাহ্য আচার-অনুষ্ঠান ছাড়া যেসব মন্ত্রাদি উচ্চারণ করে, তার দ্বারা কি বোঝাতে চায় ? স্তব-স্তুতি, মন্ত্র ইত্যাদির দ্বারা সেই পরমেশ্বর (পরমাশক্তি)-এর গুণসমূহকে প্রকাশ করা হয় – তাই নয় কি ? গুরুমহারাজ বলেছিলেন সাধনার দ্বারা অথবা মহাত্মা-মহাজন- মহাপুরুষের সংস্পর্শে যখন কোনো সাধক আসে — তখন তার মনের বিকাশ ঘটতে থাকে অর্থাৎ তার মনোজগৎ অভিমানিক স্তর থেকে উন্নীত হয়। উন্নত মানবিক স্তরে মানুষের আর তখন মূর্তি বা প্রতিমা উপাসনার প্রয়োজন হয় না – তখন আরাধ্যের গুণগুলি ওই সাধকের চিন্তাজগতে স্থান পায়। গুরুমহারাজ আরো বলেছিলেন – সাধকের মনোজগৎ সাধনার দ্বারা আরো উন্নত হোলে অর্থাৎ মানবিক মনের আরো বিকাশ সাধন হোলে সাধকের মূর্তি বা প্রতিমা তো লুপ্ত হয়ই – তার গুণগুলিও লুপ্ত হয়ে যায়। এই অবস্থায় পৌঁছালে তবেই নিরাকার সাধনার অধিকার জন্মে, অর্থাৎ বলা যায় ক্রম অনুযায়ী সাধনার দ্বারা মানুষের মনোজগৎ উন্নত হতে হতে এই অবস্থা প্রাপ্ত হয়।
গুরুমহারাজ যে কথাগুলি বলেছিলেন – একটু চিন্তাভাবনা করলেই বোঝা যায় যে, সত্যিই তো – সাধারন মানুষ নিরাকার পরমেশ্বরের চিন্তা করবে কি করে ? কি করে সেই এক এবং অদ্বিতীয়ের সম্বন্ধে ধারণা করা যাবে ? কাকে উদ্দেশ্য করেই বা স্তব-স্তুতি-প্রার্থনা ইত্যাদি উচ্চারিত হবে ? এ এক বিরাট জিজ্ঞাসার সামনে মানব সমাজকে দাঁড় করিয়েছেন গুরুমহারাজ স্বামী পরমানন্দ। আর তিনি তো এটা করবেনই– কারণ আগামী দিনের ‘দিশারী’ এযুগের ‘যুগপুরুষ’ যে স্বামীপরমানন্দ !
অথচ দেখুন, আমরা যারা নিরাকারবাদী অথবা আমরা যারা বলি – ”ঈশ্বর এক এবং অদ্বিতীয়”- তারা সবাই কিন্তু এইটা বিশ্বাস করি যে, ঈশ্বর (আল্লাহ, গড, যিহোবা ইত্যাদি বিভিন্ন নামে সেই ঈশ্বরকেই অভিহিত করা হয়) এই যে পরিদৃশ্যমান জগৎ-এর বাইরে কোথায় রয়েছেন ! সেই স্থানটি কোথায় ? কেউ বলছে সেটি স্বর্গ, কেউ বলেছে বেহেস্ত, কেউ বলে বৈকুণ্ঠ, কেউ বলছে তিনি থাকেন হেভেন-এ ! কিন্তু আধুনিক মহাকাশবিজ্ঞানসম্মতভাবে এই কথাটির সত্যতা যাচাই করতে গেলে কি পাওয়া যাবে ? এই ধরনের কোনো কাল্পনিক সুখ-সমৃদ্ধিপূর্ণ, ভোগ-বিলাসপূর্ণ স্থান মহাবিশ্বের মহাকাশের কোন গ্রহ বা উপগ্রহের সন্ধান পাওয়া যায়নি ! আগামী দিনেও তা পাওয়া যাবে বলে মনেও হয় না।
তাহলে এখানে সত্যটা কি ? প্রকৃত তত্ত্বটি কি ? এইটা জানতে গেলেই উপনিষদের সিদ্ধান্তে ফিরে আসতে হবে। উপনিষদ বলেছে – পরমেশ্বর অর্থে সচ্চিদানন্দ ব্রহ্ম ! যিনি সর্বব্যাপক ! সর্বব্যাপক বলতে কী বোঝায় ? যিনি অণুতে অনুস্যূত এবং বিভুতে ওতপ্রোত ! – এটাকেই যথার্থ অর্থে বলা যায় – পরমেশ্বর সর্বব্যাপক ! কিন্তু আশ্চর্যের ব্যাপার এই যে, ‘নিরাকারবাদী’ অথবা “ঈশ্বর এক এবং অদ্বিতীয়”-বাদীরাও মুখে বলে থাকে যে ঈশ্বর সর্বশক্তিমান – সর্বব্যাপক ! এই কথা এরা সবাই বলে – কিন্তু এগুলো শুধু কথার কথা – কোনো ধারনা থেকে বলে না, কোনো অনুভূতি বা উপলব্ধি তাদের নাই, বোধ নাই ! এদেরকেই গুরুমহারাজ বলেছিলেন “আহাম্মক”! বলেছিলেন – ” আহম্মকের ধর্মের বোধ হয় না !”
গুরুজী বলেছিলেন_”ধর্মের প্রাণ হোলো অনুভূতি” ! তাহলে যেখানে অনুভূতি বা উপলব্ধি হলো ধর্মের প্রাণ, সেখানে অনুভূতিহীন শুধুমাত্র আচারসর্বস্ব উপাসনাকারীরা ‘আহম্মক’ ছাড়া আর কি ! হিন্দু, মুসলিম, খ্রিষ্টান, জৈন, বৌদ্ধ – এইসব সম্প্রদায়েই ধর্মীয় অনুভূতিহীন আচারসর্বস্ব ‘আহাম্মকেরা’ রয়েছে। এরাই নিজেদের মধ্যে লড়াই ঝগড়া, মারামারি ইত্যাদি করে থাকে, জ্ঞানীগণ এইসব দেখেন_আর আমাদের আহাম্মকি দেখে মুখ টিপে টিপে হাসেন।।৷ (ক্রমশঃ)
স্থূল-মূর্তি উপাসনা বা চিন্তাজগতের মূর্তির উপাসনা ব্যাপারটা হওয়া উচিৎ মানবের মনের বিকাশ অনুযায়ী ! ব্যাপারটা clear করে বুঝিয়েছিলেন গুরুমহারাজ। উনি যা বলেছিলেন তার মর্মার্থ হোলো এই যে, – যে সমস্ত মানুষ মূর্তি বা প্রতিমা পূজা করে (উপাসনা করে) তারা বিভিন্ন বাহ্য আচার-অনুষ্ঠান ছাড়া যেসব মন্ত্রাদি উচ্চারণ করে, তার দ্বারা কি বোঝাতে চায় ? স্তব-স্তুতি, মন্ত্র ইত্যাদির দ্বারা সেই পরমেশ্বর (পরমাশক্তি)-এর গুণসমূহকে প্রকাশ করা হয় – তাই নয় কি ? গুরুমহারাজ বলেছিলেন সাধনার দ্বারা অথবা মহাত্মা-মহাজন- মহাপুরুষের সংস্পর্শে যখন কোনো সাধক আসে — তখন তার মনের বিকাশ ঘটতে থাকে অর্থাৎ তার মনোজগৎ অভিমানিক স্তর থেকে উন্নীত হয়। উন্নত মানবিক স্তরে মানুষের আর তখন মূর্তি বা প্রতিমা উপাসনার প্রয়োজন হয় না – তখন আরাধ্যের গুণগুলি ওই সাধকের চিন্তাজগতে স্থান পায়। গুরুমহারাজ আরো বলেছিলেন – সাধকের মনোজগৎ সাধনার দ্বারা আরো উন্নত হোলে অর্থাৎ মানবিক মনের আরো বিকাশ সাধন হোলে সাধকের মূর্তি বা প্রতিমা তো লুপ্ত হয়ই – তার গুণগুলিও লুপ্ত হয়ে যায়। এই অবস্থায় পৌঁছালে তবেই নিরাকার সাধনার অধিকার জন্মে, অর্থাৎ বলা যায় ক্রম অনুযায়ী সাধনার দ্বারা মানুষের মনোজগৎ উন্নত হতে হতে এই অবস্থা প্রাপ্ত হয়।
গুরুমহারাজ যে কথাগুলি বলেছিলেন – একটু চিন্তাভাবনা করলেই বোঝা যায় যে, সত্যিই তো – সাধারন মানুষ নিরাকার পরমেশ্বরের চিন্তা করবে কি করে ? কি করে সেই এক এবং অদ্বিতীয়ের সম্বন্ধে ধারণা করা যাবে ? কাকে উদ্দেশ্য করেই বা স্তব-স্তুতি-প্রার্থনা ইত্যাদি উচ্চারিত হবে ? এ এক বিরাট জিজ্ঞাসার সামনে মানব সমাজকে দাঁড় করিয়েছেন গুরুমহারাজ স্বামী পরমানন্দ। আর তিনি তো এটা করবেনই– কারণ আগামী দিনের ‘দিশারী’ এযুগের ‘যুগপুরুষ’ যে স্বামীপরমানন্দ !
অথচ দেখুন, আমরা যারা নিরাকারবাদী অথবা আমরা যারা বলি – ”ঈশ্বর এক এবং অদ্বিতীয়”- তারা সবাই কিন্তু এইটা বিশ্বাস করি যে, ঈশ্বর (আল্লাহ, গড, যিহোবা ইত্যাদি বিভিন্ন নামে সেই ঈশ্বরকেই অভিহিত করা হয়) এই যে পরিদৃশ্যমান জগৎ-এর বাইরে কোথায় রয়েছেন ! সেই স্থানটি কোথায় ? কেউ বলছে সেটি স্বর্গ, কেউ বলেছে বেহেস্ত, কেউ বলে বৈকুণ্ঠ, কেউ বলছে তিনি থাকেন হেভেন-এ ! কিন্তু আধুনিক মহাকাশবিজ্ঞানসম্মতভাবে এই কথাটির সত্যতা যাচাই করতে গেলে কি পাওয়া যাবে ? এই ধরনের কোনো কাল্পনিক সুখ-সমৃদ্ধিপূর্ণ, ভোগ-বিলাসপূর্ণ স্থান মহাবিশ্বের মহাকাশের কোন গ্রহ বা উপগ্রহের সন্ধান পাওয়া যায়নি ! আগামী দিনেও তা পাওয়া যাবে বলে মনেও হয় না।
তাহলে এখানে সত্যটা কি ? প্রকৃত তত্ত্বটি কি ? এইটা জানতে গেলেই উপনিষদের সিদ্ধান্তে ফিরে আসতে হবে। উপনিষদ বলেছে – পরমেশ্বর অর্থে সচ্চিদানন্দ ব্রহ্ম ! যিনি সর্বব্যাপক ! সর্বব্যাপক বলতে কী বোঝায় ? যিনি অণুতে অনুস্যূত এবং বিভুতে ওতপ্রোত ! – এটাকেই যথার্থ অর্থে বলা যায় – পরমেশ্বর সর্বব্যাপক ! কিন্তু আশ্চর্যের ব্যাপার এই যে, ‘নিরাকারবাদী’ অথবা “ঈশ্বর এক এবং অদ্বিতীয়”-বাদীরাও মুখে বলে থাকে যে ঈশ্বর সর্বশক্তিমান – সর্বব্যাপক ! এই কথা এরা সবাই বলে – কিন্তু এগুলো শুধু কথার কথা – কোনো ধারনা থেকে বলে না, কোনো অনুভূতি বা উপলব্ধি তাদের নাই, বোধ নাই ! এদেরকেই গুরুমহারাজ বলেছিলেন “আহাম্মক”! বলেছিলেন – ” আহম্মকের ধর্মের বোধ হয় না !”
গুরুজী বলেছিলেন_”ধর্মের প্রাণ হোলো অনুভূতি” ! তাহলে যেখানে অনুভূতি বা উপলব্ধি হলো ধর্মের প্রাণ, সেখানে অনুভূতিহীন শুধুমাত্র আচারসর্বস্ব উপাসনাকারীরা ‘আহম্মক’ ছাড়া আর কি ! হিন্দু, মুসলিম, খ্রিষ্টান, জৈন, বৌদ্ধ – এইসব সম্প্রদায়েই ধর্মীয় অনুভূতিহীন আচারসর্বস্ব ‘আহাম্মকেরা’ রয়েছে। এরাই নিজেদের মধ্যে লড়াই ঝগড়া, মারামারি ইত্যাদি করে থাকে, জ্ঞানীগণ এইসব দেখেন_আর আমাদের আহাম্মকি দেখে মুখ টিপে টিপে হাসেন।।৷ (ক্রমশঃ)
