শ্রী শ্রী গুরুমহারাজ স্বামী পরমানন্দের কথা (বলা এবং লেখা) এখানে আলোচনা করা হচ্ছিলো। আগের আলোচনা প্রসঙ্গে গুরুমহারাজের একটি উক্তির উদ্ধৃতি দেওয়া হয়েছিল_সেখানে সমস্ত মানবজাতির প্রতি অন্তরে ‘সাক্ষীপরায়ণ’ হবার কথা, ব্যাবহার বা আচরণে ‘ঈশ্বরপরায়ণ’ হবার কথা এবং কর্মে ‘সেবাপরায়ণ’ হবার কথা বলেছিলেন গুরুমহারাজ। সকল মানবকেই এই জায়গায় পৌঁছাতে হবে – সাধনার দ্বারা, বিবেকের জাগরণ ও আত্মিক উত্তরণের দ্বারা। মস্তিষ্ক, হৃদয় ও শরীরের ত্রিবিধ বিকাশের পূর্ণতা আসলে তবেই উপরিউক্ত শর্তগুলির পরিপূর্ণতা আসে। পাঠককুলকে উদ্দেশ্য করে একটা কথা এখানে বলাই যায় যে, ‘একটা ব্যাপার আপনারা নিশ্চয়ই লক্ষ্য করেছেন যে, গুরুমহারাজ কিন্তু আধ্যাত্মপথের সাধককে শুধুমাত্র যে কোনো একটা যোগে-ই নিজেকে সীমাবদ্ধ রাখার কথা বলেন নি ! যিনি জ্ঞানযোগী তাঁকে ভক্তিপথও অবলম্বন করতে হবে এবং তাঁকেও কর্মপরায়ণ বা সেবাপরায়ণ হোতে হবে – আর এমনটা করতে পারলে তবেই মানবজীবনের পরিপূর্ণতা আসবে।
এই ভাবটাই ঠিক ঠিক বাউল-ভাব। কোনো কিছুতেই আবদ্ধ নয় – কিন্তু সব ‘ভাবে’ই সিদ্ধ। উচ্ছৃঙ্খলতা নয় – স্বেচ্ছাচারিতা নয়, সংযমের পরাকাষ্ঠা হয়ে সবকিছু মধ্যে থেকেও ভোগ-সুখের আস্পৃহাহীন হয়ে সকল কিছুকে অতিক্রম করা।
গুরুমহারাজ উপরিউক্ত কথাগুলির আরো ব্যাখা করেছিলেন__যেটা আপনারা “কথা প্রসঙ্গে”-তে(যে খন্ড গুলি ফেসবুকে প্রকাশ করা হোচ্ছে।) আরো বিস্তারিতভাবে পেয়ে যাবেন। সংক্ষেপে বলতে গেলে__ উনি যে অন্তরে সাক্ষীপরায়ণ হওয়ার কথা বলেছিলেন, এখানে ‘অন্তর’ বলতে ‘হৃদয়’কেই বোঝানো হয়েছে। আর ‘সাক্ষীপরায়ণ’ থাকার অর্থ কোনো কিছুতেই আসক্ত না হয়ে শুধুমাত্র ঘটনাপ্রবাহের সাথে তাল মিলিয়ে চলা। এটা অবশ্য খুবই দুরূহ কাজ – সাধনার দ্বারা ‘সিদ্ধ’ না হওয়া পর্যন্ত এই স্থিতিতে পৌঁছানো সম্ভব নয়। ‘ব্যবহারে ঈশ্বরপরায়ণ’ অর্থে নিষ্কাম প্রেম বা প্রত্যাশাবিহীন ভালোবাসার প্রকাশ ! সবার মঙ্গলের জন্য, সকলের হিতের জন্য সদাই নিয়ত ! তা শুধু শিক্ষা দিয়ে বা জ্ঞানদান করেই নয়, সরাসরি সাধারণ মানুষের touch-এ এসে তাদেরকে নিজ নিজ অবস্থা থেকে উন্নীত করা, তাঁর নিজের সাধন-ভজনের শক্তি প্রদান করে – অন্যের মঙ্গল করা। এই কাজ করতে গিয়ে বহু সাধকের শেষ জীবনটা কষ্টের হয় – কারণ লোক-কল্যাণের নেশায় তার সাধনশক্তি ধীরে ধীরে হ্রাস হয়ে যায়। কিন্তু যদি ঐ সাধক একবার সম্পূর্ণভাবে সিদ্ধ হয়ে যান – তাহলে আর তাঁর শক্তিদানে কম পড়ে না, তখন যেন ছোট ডোবার সাথে সমুদ্রের সরাসরি যোগাযোগ হয়ে যায়। ফলে ঐ ডোবার (একটি স্থূলদেহের শক্তি) জল আর কমে না বরং সেখানে জোয়ার-ভাটা খেলে, মাঝে-মাঝেই তাতে হিল্লোল-কল্লোল বয়ে যায়।৷
‘কর্মে সেবাপরায়ণ’ হবার কথায় গুরুমহারাজ বলেছিলেন – স্বার্থশূন্য, অভিমানশূন্য হয়ে পরার্থে কর্ম করা। সেই অর্থে প্রকৃত সাধু-সন্তেরা যে সেবাকার্য করে, যদি সেখানে তিলমাত্র আত্মসুখের বাসনা না থাকে – তাহলে সেগুলি নিষ্কাম কর্ম বা প্রকৃত “সেবাকার্য” পদবাচ্য হোতে পারে। উদাহরণ হিসাবে গুরুমহারাজ বর্তমানকালের অনেক মঠ-মিশনের সেবাকার্য্যের কথা উল্লেখ করতেন, মাদার টেরিজার আশ্রমগুলিতে সেবার কথাও উল্লেখ করতেন। একবার একজন ‘নান’-এর পরম যত্নে ও নিষ্ঠার সঙ্গে কুষ্ঠরোগীদের সেবা করতে দেখে, গুরুমহারাজ (বালক অবস্থায়) তাকে জিজ্ঞাসা করেছিলেন – ” দিনের-পর-দিন এইরূপ নিষ্ঠার সাথে সেবা তিনি কি করে করেন ?” সেই সন্ন্যাসিনী (নান) উত্তর দিয়েছিলেন যে, তিনি প্রতিটি কুষ্ঠরোগীকে সাক্ষাৎ যীশু বলে মনে করেন। তিনি ভাবেন যে, স্বয়ং যীশু ছল করে কুষ্ঠরোগী সেজে তাকে পরীক্ষা করছেন_ দেখছেন জীবরূপী ঈশ্বরের সেবায় নিষ্ঠার কোনো ঘাটতি ঘটছে কিনা ?
গুরুমহারাজ বলেছিলেন – ” ‘সহজ’ কথাটি বলা খুবই সহজ, কিন্তু ‘সহজ’ হওয়াটা খুবই কঠিন।” আদিম মানুষের মনোজগতে বিবর্তনক্রমে ‘সহজ-ভাব’-ই বর্তমান ছিল৷ কিন্তু যুগযুগান্তর ধরে, নানান পরিবর্তন-বিবর্তন-সংবর্তনের মধ্যে দিয়ে চলতে চলতে মানবের মধ্যে নানান “বাদ” প্রবেশ করে যায়, যা তার সহজ-ভাবকে বিকৃত করে তোলে। এভাবেই মানব তার সহজ-ভাব বা স্ব-ভাবকে বিকশিত করতে পারছে না বরং সে সংকীর্ণভাব প্রাপ্ত হোচ্ছে, মানব অসহজ হয়ে পড়েছে। এই প্রসঙ্গে গুরুমহারাজ একটা সহজ সত্যকে সুন্দরভাবে তুলে ধরেছেন, উনি বলেছেন – ” অন্তরের ভাব (যা অসহজ বা বিকৃত হয়ে গেছে)-কে দমন করে নাটকীয় আচরণই হোলো কপটতা।” আর এই কপটতাই আজকে সমাজের সর্বস্তরেই আমরা দেখতে পাচ্ছি। যে যা নয় – তাই প্রদর্শনের আপ্রাণ চেষ্টা ! যে অসৎ – তার সততা প্রদর্শনের চেষ্টা, যে কামুক – তার ব্রহ্মচর্য প্রদর্শনের চেষ্টা, যে অসাধু – তার সাধুতা প্রদর্শনের চেষ্টা, যে চরম স্বার্থপর – তার সমাজনেতা হয়ে জনগণের সেবা প্রদর্শনের চেষ্টা — এই ধরনের নানাবিধ কপটতায় বর্তমান মানবসমাজ একেবারে ছেড়ে গেছে। এখন যেন ‘ঠক বাছতে গাঁ উজাড়’ অবস্থা, ‘কম্বলের লোম বাছতে গিয়ে কম্বলটাই শেষ হবার অবস্থা !
এই প্রসঙ্গেই গুরুমহারাজ বললেন – ” মানুষকে অভিনয় ছেড়ে জীবনের পূজারী হোতে হবে – তাহলেই আসবে জীবনের পূর্ণতা।” উনি আরও বলেছিলেন – ” অনুকরণ দ্বারা কেউ কোনোদিন সম্পূর্ণ তত্ত্বে উপনীত হোতে পারে না। সহজভাব মানবের হৃদয়ের সংকীর্ণতা নয়, এটা মানবজীবনের উৎকর্ষতা।” বর্তমানে এইগুলোই অর্থাৎ অনুকরণপ্রিয়তা আর অভিনয়প্রিয়তাই সমাজে অধিক প্রাধান্য পাচ্ছে না কি ? প্রত্যেকেই যেন মুখোশের আড়ালে রয়েছে, একজন মানুষ অন্য মানুষকে কোনোমতেই বিশ্বাস করতে পারছে না।– কারণ মানুষের দ্বারা প্রতারিত হোতে হোতে আজ সে ক্লান্ত ! আর সহজতা হারানোতেই আজকের সমাজ-সদস্যদের(সাধারণ মানুষের) এই দশা !
আমরা বৃথাই শিক্ষার-সভ্যতার গর্ব করি, অহংকার করি। যতক্ষণ না মানব ‘সহজ’ হবে – বিকারমুক্ত হবে, ততক্ষণ সমাজে সভ্যতা কি করে আসতে পারে ? এইজন্যেই তো গুরুমহারাজ বললেন – ” মিথ্যার ওপর ভিত্তি করে সভ্যতার জাল রচনা করে সভ্যতার অনুকরণই হলো – অসভ্যতা !”
এই ভাবটাই ঠিক ঠিক বাউল-ভাব। কোনো কিছুতেই আবদ্ধ নয় – কিন্তু সব ‘ভাবে’ই সিদ্ধ। উচ্ছৃঙ্খলতা নয় – স্বেচ্ছাচারিতা নয়, সংযমের পরাকাষ্ঠা হয়ে সবকিছু মধ্যে থেকেও ভোগ-সুখের আস্পৃহাহীন হয়ে সকল কিছুকে অতিক্রম করা।
গুরুমহারাজ উপরিউক্ত কথাগুলির আরো ব্যাখা করেছিলেন__যেটা আপনারা “কথা প্রসঙ্গে”-তে(যে খন্ড গুলি ফেসবুকে প্রকাশ করা হোচ্ছে।) আরো বিস্তারিতভাবে পেয়ে যাবেন। সংক্ষেপে বলতে গেলে__ উনি যে অন্তরে সাক্ষীপরায়ণ হওয়ার কথা বলেছিলেন, এখানে ‘অন্তর’ বলতে ‘হৃদয়’কেই বোঝানো হয়েছে। আর ‘সাক্ষীপরায়ণ’ থাকার অর্থ কোনো কিছুতেই আসক্ত না হয়ে শুধুমাত্র ঘটনাপ্রবাহের সাথে তাল মিলিয়ে চলা। এটা অবশ্য খুবই দুরূহ কাজ – সাধনার দ্বারা ‘সিদ্ধ’ না হওয়া পর্যন্ত এই স্থিতিতে পৌঁছানো সম্ভব নয়। ‘ব্যবহারে ঈশ্বরপরায়ণ’ অর্থে নিষ্কাম প্রেম বা প্রত্যাশাবিহীন ভালোবাসার প্রকাশ ! সবার মঙ্গলের জন্য, সকলের হিতের জন্য সদাই নিয়ত ! তা শুধু শিক্ষা দিয়ে বা জ্ঞানদান করেই নয়, সরাসরি সাধারণ মানুষের touch-এ এসে তাদেরকে নিজ নিজ অবস্থা থেকে উন্নীত করা, তাঁর নিজের সাধন-ভজনের শক্তি প্রদান করে – অন্যের মঙ্গল করা। এই কাজ করতে গিয়ে বহু সাধকের শেষ জীবনটা কষ্টের হয় – কারণ লোক-কল্যাণের নেশায় তার সাধনশক্তি ধীরে ধীরে হ্রাস হয়ে যায়। কিন্তু যদি ঐ সাধক একবার সম্পূর্ণভাবে সিদ্ধ হয়ে যান – তাহলে আর তাঁর শক্তিদানে কম পড়ে না, তখন যেন ছোট ডোবার সাথে সমুদ্রের সরাসরি যোগাযোগ হয়ে যায়। ফলে ঐ ডোবার (একটি স্থূলদেহের শক্তি) জল আর কমে না বরং সেখানে জোয়ার-ভাটা খেলে, মাঝে-মাঝেই তাতে হিল্লোল-কল্লোল বয়ে যায়।৷
‘কর্মে সেবাপরায়ণ’ হবার কথায় গুরুমহারাজ বলেছিলেন – স্বার্থশূন্য, অভিমানশূন্য হয়ে পরার্থে কর্ম করা। সেই অর্থে প্রকৃত সাধু-সন্তেরা যে সেবাকার্য করে, যদি সেখানে তিলমাত্র আত্মসুখের বাসনা না থাকে – তাহলে সেগুলি নিষ্কাম কর্ম বা প্রকৃত “সেবাকার্য” পদবাচ্য হোতে পারে। উদাহরণ হিসাবে গুরুমহারাজ বর্তমানকালের অনেক মঠ-মিশনের সেবাকার্য্যের কথা উল্লেখ করতেন, মাদার টেরিজার আশ্রমগুলিতে সেবার কথাও উল্লেখ করতেন। একবার একজন ‘নান’-এর পরম যত্নে ও নিষ্ঠার সঙ্গে কুষ্ঠরোগীদের সেবা করতে দেখে, গুরুমহারাজ (বালক অবস্থায়) তাকে জিজ্ঞাসা করেছিলেন – ” দিনের-পর-দিন এইরূপ নিষ্ঠার সাথে সেবা তিনি কি করে করেন ?” সেই সন্ন্যাসিনী (নান) উত্তর দিয়েছিলেন যে, তিনি প্রতিটি কুষ্ঠরোগীকে সাক্ষাৎ যীশু বলে মনে করেন। তিনি ভাবেন যে, স্বয়ং যীশু ছল করে কুষ্ঠরোগী সেজে তাকে পরীক্ষা করছেন_ দেখছেন জীবরূপী ঈশ্বরের সেবায় নিষ্ঠার কোনো ঘাটতি ঘটছে কিনা ?
গুরুমহারাজ বলেছিলেন – ” ‘সহজ’ কথাটি বলা খুবই সহজ, কিন্তু ‘সহজ’ হওয়াটা খুবই কঠিন।” আদিম মানুষের মনোজগতে বিবর্তনক্রমে ‘সহজ-ভাব’-ই বর্তমান ছিল৷ কিন্তু যুগযুগান্তর ধরে, নানান পরিবর্তন-বিবর্তন-সংবর্তনের মধ্যে দিয়ে চলতে চলতে মানবের মধ্যে নানান “বাদ” প্রবেশ করে যায়, যা তার সহজ-ভাবকে বিকৃত করে তোলে। এভাবেই মানব তার সহজ-ভাব বা স্ব-ভাবকে বিকশিত করতে পারছে না বরং সে সংকীর্ণভাব প্রাপ্ত হোচ্ছে, মানব অসহজ হয়ে পড়েছে। এই প্রসঙ্গে গুরুমহারাজ একটা সহজ সত্যকে সুন্দরভাবে তুলে ধরেছেন, উনি বলেছেন – ” অন্তরের ভাব (যা অসহজ বা বিকৃত হয়ে গেছে)-কে দমন করে নাটকীয় আচরণই হোলো কপটতা।” আর এই কপটতাই আজকে সমাজের সর্বস্তরেই আমরা দেখতে পাচ্ছি। যে যা নয় – তাই প্রদর্শনের আপ্রাণ চেষ্টা ! যে অসৎ – তার সততা প্রদর্শনের চেষ্টা, যে কামুক – তার ব্রহ্মচর্য প্রদর্শনের চেষ্টা, যে অসাধু – তার সাধুতা প্রদর্শনের চেষ্টা, যে চরম স্বার্থপর – তার সমাজনেতা হয়ে জনগণের সেবা প্রদর্শনের চেষ্টা — এই ধরনের নানাবিধ কপটতায় বর্তমান মানবসমাজ একেবারে ছেড়ে গেছে। এখন যেন ‘ঠক বাছতে গাঁ উজাড়’ অবস্থা, ‘কম্বলের লোম বাছতে গিয়ে কম্বলটাই শেষ হবার অবস্থা !
এই প্রসঙ্গেই গুরুমহারাজ বললেন – ” মানুষকে অভিনয় ছেড়ে জীবনের পূজারী হোতে হবে – তাহলেই আসবে জীবনের পূর্ণতা।” উনি আরও বলেছিলেন – ” অনুকরণ দ্বারা কেউ কোনোদিন সম্পূর্ণ তত্ত্বে উপনীত হোতে পারে না। সহজভাব মানবের হৃদয়ের সংকীর্ণতা নয়, এটা মানবজীবনের উৎকর্ষতা।” বর্তমানে এইগুলোই অর্থাৎ অনুকরণপ্রিয়তা আর অভিনয়প্রিয়তাই সমাজে অধিক প্রাধান্য পাচ্ছে না কি ? প্রত্যেকেই যেন মুখোশের আড়ালে রয়েছে, একজন মানুষ অন্য মানুষকে কোনোমতেই বিশ্বাস করতে পারছে না।– কারণ মানুষের দ্বারা প্রতারিত হোতে হোতে আজ সে ক্লান্ত ! আর সহজতা হারানোতেই আজকের সমাজ-সদস্যদের(সাধারণ মানুষের) এই দশা !
আমরা বৃথাই শিক্ষার-সভ্যতার গর্ব করি, অহংকার করি। যতক্ষণ না মানব ‘সহজ’ হবে – বিকারমুক্ত হবে, ততক্ষণ সমাজে সভ্যতা কি করে আসতে পারে ? এইজন্যেই তো গুরুমহারাজ বললেন – ” মিথ্যার ওপর ভিত্তি করে সভ্যতার জাল রচনা করে সভ্যতার অনুকরণই হলো – অসভ্যতা !”
