গুরু মহারাজ স্বামী পরমানন্দ, বনগ্রাম আশ্রমে সিটিং-এ বসে পৃথিবীতে নারীর ভূমিকা , সমাজে তার অবস্থানের বিবর্তন , বর্তমানে নারীর অবস্থা ইত্যাদি নানান দিক নিয়ে আলোচনা করছিলেন । সেই আলোচনা সমূহ থেকে উঠে আসছিল অনেক অজানা তথ্য , নারীদের এগিয়ে আসার নানা ক্রম ও সামনে চলার পথ। উনি বলেছিলেন – ” ‘নারী-ই নারীদের শত্রু’– এটা বলেছে সুবিধাবাদীরা ! এটা ঠিকই যে নারীসমাজের বেশির ভাগের মধ্যেই স্বভাবগতভাবে যে বৈশিষ্ট্য টি বিদ্যমান – সেটি হল ‘ঈর্ষা’ । ‘ঈর্ষা’ মুক্ত নারী-ই ‘দেবী’ পদবাচ্য ! পুরুষের ক্ষেত্রে স্বভাবগত বৈশিষ্ট্য টি হলো ‘দম্ভ’ ! ‘দম্ভ মুক্ত’ – পুরুষ মানুষই হলো ‘শিবকল্প পুরুষ’ ! এইজন্যেই সমাজে বহু মহাত্মা-মহাপুরুষ-ঋষি-যোগী-জ্ঞানীদের শিবের সাথে তুলনা করা হয় । আর ঈর্ষামুক্ত নারীদের ‘দেবী’-বলা হয়। যেমন _সারদাদেবী ইত্যাদি।
গুরু মহারাজ এই প্রসঙ্গে আরো আলোচনা করেছিলেন! উনি বলেছিলেন – ” পাঁচটা ছেলে (পুরুষ) এক জায়গায় বসে থাকলেই দেখবি নারী অর্থাৎ মেয়েদেরকে নিয়ে আলোচনা করছে , আর প্রত্যেকেই প্রচন্ড ফুটানি করছে – যেন প্রত্যেকই এক একটা Hero ! এটা পুরুষের স্বভাবগত বৈশিষ্ট্য। অপরপক্ষে পাঁচটা মেয়ে (নারী) এক জায়গায় হলেই পুরুষ অর্থাৎ ছেলেদেরকে নিয়ে আলোচনা করবে – আর অন্য কোনো নারীর সমালোচনা করবে (ঈর্ষা !) ! এটাও নারীদের স্বভাবগত বৈশিষ্ট্য! কিন্তু এই দুই অবস্থাই নারী ও পুরুষের নিম্ন চেতনার লক্ষণ !
উনি বলেছিলেন নারীদের মধ্যে যেমন হস্তিনী , শঙ্খিনী , চিত্রিণী ও পদ্মিনী এই চার প্রকারের আকৃতি , গুণ ও স্বভাববিশিষ্ট নারী রয়েছে – ঠিক তেমনি মৃগ , বৃষ ,অশ্ব ও শশক এই চার প্রকারের পুরুষও রয়েছে । ঠিক ঠিক স্বভাব ও গুণ বিশিষ্ট নারীর সাথে যদি ঠিক ঠিক স্বভাব ও গুন বিশিষ্ট পুরুষের মিলন (বিবাহ বা অন্য কোনোভাবে জোড় বাঁধা) না হয় – তাহলে সেই সংসারে ‘তেরে কেটে তাক্’ – লেগেই থাকবে ! কিছুতেই এই নিয়মের বাইরে যেতে পারবে না ! পন্ডিত হয়তো পাত্র পাত্রীর জন্মপত্রিকা (কোষ্ঠী) বিচার করে বলেছিল ‘রাজযোটক মিল’ হয়েছে ৷ কিন্তু বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই উপযুক্ত পন্ডিতের অভাবে গননা ভুল হয়ে যায়! আর সঠিক গণনা না হলে দম্পতির মনের মিল হয় না ! তাই সমাজে বা সংসারে স্বামী-স্ত্রীতে এত অশান্তি !!
বিবাহের ব্যাপারে নারীরা যতদিন না স্বাধীনতা পাবে ততদিন এই রকমটাই চলবে! তবে অবশ্যই দেখতে হবে স্বাধীনতা যেন স্বেচ্ছাচারে পরিণত না হয় – যেমনটা পাশ্চাত্য উন্নত দেশগুলোতে হয়েছে ! আধ্যাত্মিক Control না থাকলে কম বয়সী নারীকে সামাজিক স্বাধীনতা দিলেই তারা উশৃংখল হয়ে পড়বে ! আধ্যাত্মিক control-যুক্ত বলতে কোন সদ্-গুরু আশ্রিত পরিবারের শিক্ষায় বেড়ে ওঠা মেয়েরা অর্থাৎ যারা জীবনে কোন উন্নত আদর্শকে সামনে রেখে চলছে – তাদের কথা বলা হচ্ছে ৷
গুরু মহারাজকে একবার একজন জিজ্ঞাসা করেছিলেন – “গোটা পৃথিবীর মধ্যে ভারতবর্ষে-ই কেন উন্নত মহাপুরুষ ,জ্ঞানী , যোগী , ঋষি , মহাত্মা-রা শরীর ধারণ করেন – পৃথিবীর অন্যান্য প্রান্তে নয় কেন ?”
এর উত্তরে গুরু মহারাজ বলেছিলেন – “এর কারণ – মায়েদের পবিত্রতা ! পবিত্র এবং উন্নত আধারের প্রয়োজন হয় কোন মহাপুরুষকে গর্ভে ধারণ করার জন্য । ঊশৃংখল-স্বেচ্ছাচারী রমনীর কাছে কোন মহাত্মা কেন আসবে ? ভালো সন্তান পাবার জন্য পুরুষেরও পবিত্রতা প্রয়োজন হয় । ঠাকুর শ্রীরামকৃষ্ণকে একবার মদে-মাতাল গিরিশ বলেছিল – ” তুমি আমার সন্তান হয়ে জন্মাও !” এটা শুনে ঠাকুর শ্রীরামকৃষ্ণ বলেছিলেন – ” শালা বলে কি ! জানিস্ , আমার পিতা ক্ষুদিরাম চট্টোপাধ্যায় কত নিষ্ঠাবান ব্রাহ্মণ ছিলেন !”
বনগ্রাম আশ্রমে সিটিং-এও আমরা দেখতাম __অনেক কমবয়সী মেয়েরা এসে গুরুমহারাজকে বলতো_’ বাবা! আমি ব্রহ্মচারিণী হয়ে এখানে আপনার কাছে থাকতে চাই!’
তার উত্তরে গুরুমহারাজ অনেককেই বলতেন _”বাড়ি গিয়ে ভালো করে মনোযোগ দিয়ে লেখাপড়া কর্! আর সবসময় পবিত্র চিন্তাভাবনার মধ্যে থাকার চেষ্টা করবি! পরবর্ত্তীতে তোরা এক একটা ভালো “মা” হয়ে ওঠ দেখি! অনেক উন্নত soul শরীর নেবার জন্যে উন্মুখ হয়ে আছে _আমার কাছে তারা প্রার্থনাও রাখছে, কিন্তু উপযুক্ত “মা”-এর অভাবে শরীর নিতে পারছে না! উন্নত আধার কে ধারন করতে উন্নত গর্ভের প্রয়োজন হয়! তোরা তাঁদেরকে গর্ভে ধারণের উপযুক্ত হয়ে ওঠ্”!!
কি সাংঘাতিক কথাবার্তা!!! কি সাংঘাতিক উন্নত বিজ্ঞানের কথা!! জগতকল্যানের জন্য অবতীর্ণ ভগবানের কত রকমের ব্যবস্থা _কত রকমের দাওয়াই!!
যো সো করে জগতের ‘কালো’-গুলোকে আলোয় ভরিয়ে তোলার জন্য কি অলৌকিক প্রয়াস!!
তবে, এখানে একটা কথা আছে __গুরুমহারাজ যাদেরকে ঐ কথা(ভালো মা হয়ে ওঠ্) বলেছিলেন, যদি সত্যি সত্যিই তাদের কেউ নিজেদের পবিত্রতা বজায় রেখে ওনার নির্দেশিত পথে জীবন-যাপন করে থাকে, __তাহলে তাদের আর কোন চিন্তা নাই! তাদের সব ভার গুরুমহারাজের!
প্রচলিত জাগতিক নিয়মে এঁরা আর পড়বেন না _এঁরা সরাসরি খাস ভগবানের লোক হয়ে উঠবেন! ভগবানের প্রয়োজনে শরীর নেবেন _ভগবানের জন্য কাজ করবেন! ইতিহাস এনাদেরকেই ‘মহিয়সী’ আখ্যা দেয়। এনারা যদি তথাকথিত নিয়মমাফিক ধ্যান-জপ নাও করেন অথবা অন্য আরো বেদাচার নাও মানেন__তবু এনাদের সাথে সাধারণ সাধিকাদের তুলনা করা যাবে না!
এনারা যেন ভগবানের হ্লাদিনী শক্তি _এদেরকে দেখলেই ভগবানের আনন্দ!! এঁরা ভগবানের আনন্দদানকারী!!
মায়ের মহিমা অপার! তাই মায়েদের(নারীদের)মহিমার কথা বলে শেষ করা যাবে না। __তবু গুরুমহারাজের কাছে শুনে যতটুকু মনে রাখতে পেরেছি _সেগুলিই এখানে বলার চেষ্টা করা হচ্ছে! (ক্রমশঃ)
গুরু মহারাজ এই প্রসঙ্গে আরো আলোচনা করেছিলেন! উনি বলেছিলেন – ” পাঁচটা ছেলে (পুরুষ) এক জায়গায় বসে থাকলেই দেখবি নারী অর্থাৎ মেয়েদেরকে নিয়ে আলোচনা করছে , আর প্রত্যেকেই প্রচন্ড ফুটানি করছে – যেন প্রত্যেকই এক একটা Hero ! এটা পুরুষের স্বভাবগত বৈশিষ্ট্য। অপরপক্ষে পাঁচটা মেয়ে (নারী) এক জায়গায় হলেই পুরুষ অর্থাৎ ছেলেদেরকে নিয়ে আলোচনা করবে – আর অন্য কোনো নারীর সমালোচনা করবে (ঈর্ষা !) ! এটাও নারীদের স্বভাবগত বৈশিষ্ট্য! কিন্তু এই দুই অবস্থাই নারী ও পুরুষের নিম্ন চেতনার লক্ষণ !
উনি বলেছিলেন নারীদের মধ্যে যেমন হস্তিনী , শঙ্খিনী , চিত্রিণী ও পদ্মিনী এই চার প্রকারের আকৃতি , গুণ ও স্বভাববিশিষ্ট নারী রয়েছে – ঠিক তেমনি মৃগ , বৃষ ,অশ্ব ও শশক এই চার প্রকারের পুরুষও রয়েছে । ঠিক ঠিক স্বভাব ও গুণ বিশিষ্ট নারীর সাথে যদি ঠিক ঠিক স্বভাব ও গুন বিশিষ্ট পুরুষের মিলন (বিবাহ বা অন্য কোনোভাবে জোড় বাঁধা) না হয় – তাহলে সেই সংসারে ‘তেরে কেটে তাক্’ – লেগেই থাকবে ! কিছুতেই এই নিয়মের বাইরে যেতে পারবে না ! পন্ডিত হয়তো পাত্র পাত্রীর জন্মপত্রিকা (কোষ্ঠী) বিচার করে বলেছিল ‘রাজযোটক মিল’ হয়েছে ৷ কিন্তু বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই উপযুক্ত পন্ডিতের অভাবে গননা ভুল হয়ে যায়! আর সঠিক গণনা না হলে দম্পতির মনের মিল হয় না ! তাই সমাজে বা সংসারে স্বামী-স্ত্রীতে এত অশান্তি !!
বিবাহের ব্যাপারে নারীরা যতদিন না স্বাধীনতা পাবে ততদিন এই রকমটাই চলবে! তবে অবশ্যই দেখতে হবে স্বাধীনতা যেন স্বেচ্ছাচারে পরিণত না হয় – যেমনটা পাশ্চাত্য উন্নত দেশগুলোতে হয়েছে ! আধ্যাত্মিক Control না থাকলে কম বয়সী নারীকে সামাজিক স্বাধীনতা দিলেই তারা উশৃংখল হয়ে পড়বে ! আধ্যাত্মিক control-যুক্ত বলতে কোন সদ্-গুরু আশ্রিত পরিবারের শিক্ষায় বেড়ে ওঠা মেয়েরা অর্থাৎ যারা জীবনে কোন উন্নত আদর্শকে সামনে রেখে চলছে – তাদের কথা বলা হচ্ছে ৷
গুরু মহারাজকে একবার একজন জিজ্ঞাসা করেছিলেন – “গোটা পৃথিবীর মধ্যে ভারতবর্ষে-ই কেন উন্নত মহাপুরুষ ,জ্ঞানী , যোগী , ঋষি , মহাত্মা-রা শরীর ধারণ করেন – পৃথিবীর অন্যান্য প্রান্তে নয় কেন ?”
এর উত্তরে গুরু মহারাজ বলেছিলেন – “এর কারণ – মায়েদের পবিত্রতা ! পবিত্র এবং উন্নত আধারের প্রয়োজন হয় কোন মহাপুরুষকে গর্ভে ধারণ করার জন্য । ঊশৃংখল-স্বেচ্ছাচারী রমনীর কাছে কোন মহাত্মা কেন আসবে ? ভালো সন্তান পাবার জন্য পুরুষেরও পবিত্রতা প্রয়োজন হয় । ঠাকুর শ্রীরামকৃষ্ণকে একবার মদে-মাতাল গিরিশ বলেছিল – ” তুমি আমার সন্তান হয়ে জন্মাও !” এটা শুনে ঠাকুর শ্রীরামকৃষ্ণ বলেছিলেন – ” শালা বলে কি ! জানিস্ , আমার পিতা ক্ষুদিরাম চট্টোপাধ্যায় কত নিষ্ঠাবান ব্রাহ্মণ ছিলেন !”
বনগ্রাম আশ্রমে সিটিং-এও আমরা দেখতাম __অনেক কমবয়সী মেয়েরা এসে গুরুমহারাজকে বলতো_’ বাবা! আমি ব্রহ্মচারিণী হয়ে এখানে আপনার কাছে থাকতে চাই!’
তার উত্তরে গুরুমহারাজ অনেককেই বলতেন _”বাড়ি গিয়ে ভালো করে মনোযোগ দিয়ে লেখাপড়া কর্! আর সবসময় পবিত্র চিন্তাভাবনার মধ্যে থাকার চেষ্টা করবি! পরবর্ত্তীতে তোরা এক একটা ভালো “মা” হয়ে ওঠ দেখি! অনেক উন্নত soul শরীর নেবার জন্যে উন্মুখ হয়ে আছে _আমার কাছে তারা প্রার্থনাও রাখছে, কিন্তু উপযুক্ত “মা”-এর অভাবে শরীর নিতে পারছে না! উন্নত আধার কে ধারন করতে উন্নত গর্ভের প্রয়োজন হয়! তোরা তাঁদেরকে গর্ভে ধারণের উপযুক্ত হয়ে ওঠ্”!!
কি সাংঘাতিক কথাবার্তা!!! কি সাংঘাতিক উন্নত বিজ্ঞানের কথা!! জগতকল্যানের জন্য অবতীর্ণ ভগবানের কত রকমের ব্যবস্থা _কত রকমের দাওয়াই!!
যো সো করে জগতের ‘কালো’-গুলোকে আলোয় ভরিয়ে তোলার জন্য কি অলৌকিক প্রয়াস!!
তবে, এখানে একটা কথা আছে __গুরুমহারাজ যাদেরকে ঐ কথা(ভালো মা হয়ে ওঠ্) বলেছিলেন, যদি সত্যি সত্যিই তাদের কেউ নিজেদের পবিত্রতা বজায় রেখে ওনার নির্দেশিত পথে জীবন-যাপন করে থাকে, __তাহলে তাদের আর কোন চিন্তা নাই! তাদের সব ভার গুরুমহারাজের!
প্রচলিত জাগতিক নিয়মে এঁরা আর পড়বেন না _এঁরা সরাসরি খাস ভগবানের লোক হয়ে উঠবেন! ভগবানের প্রয়োজনে শরীর নেবেন _ভগবানের জন্য কাজ করবেন! ইতিহাস এনাদেরকেই ‘মহিয়সী’ আখ্যা দেয়। এনারা যদি তথাকথিত নিয়মমাফিক ধ্যান-জপ নাও করেন অথবা অন্য আরো বেদাচার নাও মানেন__তবু এনাদের সাথে সাধারণ সাধিকাদের তুলনা করা যাবে না!
এনারা যেন ভগবানের হ্লাদিনী শক্তি _এদেরকে দেখলেই ভগবানের আনন্দ!! এঁরা ভগবানের আনন্দদানকারী!!
মায়ের মহিমা অপার! তাই মায়েদের(নারীদের)মহিমার কথা বলে শেষ করা যাবে না। __তবু গুরুমহারাজের কাছে শুনে যতটুকু মনে রাখতে পেরেছি _সেগুলিই এখানে বলার চেষ্টা করা হচ্ছে! (ক্রমশঃ)
