গুরুমহারাজ স্বামী পরমানন্দ বিখ্যাত হলিউড পরিচালক স্টিফেন স্পিলবার্গের নজরে পড়ে গিয়েছিলেন ৷ যদিও স্পিলবার্গ আমেরিকাতেই থাকতো , কিন্তু কোন কাজে হয়তো ও জার্মানিতে এসেছিল , আর তখনই গুরুমহারাজও ওই দেশে ছিলেন, তাই ও গুরুমহারাজের কথা জানতে পেরেছিল! অথবা যেহেতু হাইজেনবার্গ ইউনিভার্সিটির প্রফেসররা গুরু মহারাজের অসাধারণ ‘Intelect power’ নিয়ে একটা রিপোর্ট তৈরি করে ইন্টারনেটে ছেড়ে দিয়েছিল – স্পিলবার্গ সেখান থেকেও গুরুমহারাজ সম্বন্ধে খবরটা পেতে পারে ! যেভাবেই হোক ওই ভদ্রলোক গুরুমহারাজ স্বামী পরমানন্দের সন্ধান পাবার পর একেবারে ওনার পিছনে পড়ে গিয়েছিল ! জার্মানীতেই ভদ্রলোক গুরুমহারাজের সাথে যোগাযোগ করার চেষ্টা করেছিল – কিন্তু ওখানে পাত্তা করতে না পেরে ভদ্রলোক ইন্ডিয়াতে যোগাযোগের মাত্রা বাড়িয়ে দেয় এবং এর ফলে আসতে থাকে পরপর চিঠি ! গুরু মহারাজ প্রতিটি চিঠিতেই ‘ওনার পক্ষে যাওয়া অসম্ভব’ – এই মর্মে উত্তর দিয়ে যাচ্ছিলেন ৷ কিন্তু প্রতিবারই স্পিলবার্গ গুরু মহারাজকে এখানকার সমস্ত সম্পর্ক কাটিয়ে সম্পূর্ণভাবে আমেরিকায় থেকে যাওয়ার জন্য অনুরোধ জানাতো !
গুরু মহারাজ একদিন বনগ্রাম আশ্রমে সিটিং-এ এই বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করেছিলেন । উনি বলেছিলেন – ” একদিন আশ্রমে সন্ধ্যার সময় ঘরে চুপচাপ বসে থাকতে থাকতে আমার মনে হ’ল , এইযে স্পিলবার্গ আমাকে আমেরিকায় যাওয়ার জন্য এতো পীড়াপীড়ি করছে এবং তার জন্য বনগ্রাম আশ্রমের সমস্ত বিভাগের কাজ-কর্মের অর্থনৈতিক দায়িত্ব পর্যন্ত নিতে চাইছে – একবার দেখি তো এর ব্যাপারটা কি ? তখন দেখলাম কি জানো – এটা একটা বিশাল নেটওয়ার্ক এবং সেই নেটওয়ার্কটি চালানোর জন্য স্পিলবার্গের মতো আরো পৃথিবীর বড় বড় মাথারা অনেকে রয়েছে ! এটা পৃথিবী গ্রহের অনেক ধনী ব্যক্তি , পন্ডিত ব্যক্তি , রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব , সমাজতত্ত্ববিদ , বিজ্ঞানী ইত্যাদিদের সমন্বয়ে সৃষ্ট একটা দল। যারা আগামী পৃথিবী নিয়ে খুবই চিন্তিত , যারা ভেবে নিয়েছে যে তৃতীয় বা চতুর্থ বিশ্বযুদ্ধ কম্পালসারি ! আর এই পৃথিবী গ্রহে এত বেশি পরমাণু অস্ত্র তৈরি হয়ে গেছে যে, যুদ্ধ হলে যেগুলির ব্যবহার অবশ্যম্ভাবী এবং তা যদি হয় – তাহলে পৃথিবী গ্রহের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হবে ! লক্ষ লক্ষ মানুষ মারা যাবে , বহু নগর ও শহর ধ্বংস হয়ে যাবে , বিভিন্ন প্রজাতির গাছপালা-পশুপাখি নষ্ট হয়ে যাবে – পৃথিবীর বহু বিদ্যালয় , গবেষণাগার , ইউনিভার্সিটি ধ্বংস হবে অর্থাৎ এককথায় পৃথিবীর বর্তমান সভ্যতার সবটাই না হলেও অনেকখানিই বিনষ্ট হয়ে যাবে । তখন কি হবে ?
তাই এই দলটি আমেরিকা মহাদেশের অন্তর্গত , সভ্যতা থেকে অনেক দূরে সমুদ্রের মধ্যিখানে অবস্থিত কোন এক নির্জন দ্বীপকে বেছে নিয়েছে ৷ ওই দ্বীপটাকে সরকারের কাছ থেকে কিনে নিয়ে ওরা একটু একটু করে ওটাকে সাজাচ্ছে ! ওখানে বিভিন্ন বিষয়ের উপর গবেষণাগার তৈরি করা হয়েছে । বিভিন্ন দেশের পশু-পাখি-উদ্ভিদ-লতা-খাদ্যশস্য ইত্যাদি সবকিছুর বীজ ওখানে সংরক্ষণ করে রাখা হবে বা সেগুলিকে ওখানেই নতুন করে জীবন দেওয়া হবে । ওরা আরও চাইছে যে , বর্তমান পৃথিবীতে যত ধরনের শাখায় মানব সমাজের উন্নতি হয়েছে – সেই সমস্ত শাখার অন্ততঃ একজন করে নর ও নারীকে ওখানে নিয়ে গিয়ে রাখতে । এইজন্য ওরা সারা বিশ্ব থেকে জীববিজ্ঞানী , রসায়ন বিজ্ঞানী , পরিবেশ বিজ্ঞানী , সাহিত্যিক , দার্শনিক , শিল্পী , গায়ক , নৃত্যশিল্পী এইধরনের সমগ্র স্তরের Top Top মানুষদের ওই জায়গায় আনতে চাইছে । সেখানে তাদেরকে সমস্ত রকম উন্নত সুযোগ-সুবিধা , বেতন সবই দেওয়া হবে । আমি দেখলাম ওই দ্বীপে এখন বহু ঘরবাড়ি তৈরি করা হয়ে গেছে _আরও হচ্ছে ! পৃথিবীর বিভিন্ন প্রান্তের পন্ডিত মহলের অনেকে ওই গ্রুপটির আমন্ত্রণ স্বীকার করে নিয়ে ওখানে চলেও গেছে এবং কাজ শুরু করে দিয়েছে ৷ যেমন যেমন বিজ্ঞানীরা ওখানে যাচ্ছে – তাদের উপযুক্ত গবেষণাগার তৈরি করে দিচ্ছে ওরা – আর দিচ্ছে প্রচুর সুযোগ সুবিধা !
আর একটা ব্যাপারে ওরা জোর দিচ্ছে – ওরা সমাজের এই যে শ্রেষ্ঠ প্রতিভাধরদের নিয়ে আসতে চাইছে – এদের মধ্যে নারী ও পুরুষ উভয়কেই আমন্ত্রণ করছে ! এটাও ওদের একটা Experiment ! নারী-পুরুষ একসঙ্গে থাকলে তাদের মধ্যে একটা Physical সম্পর্ক স্থাপন হবেই , অনেকে পরস্পরকে ভালোবেসে ঘর বাঁধবে ! তাহলেই তাদের সন্তান-সন্ততি জন্মগ্রহণ করবে ! তাহলে কি হবে – পৃথিবীর বিভিন্ন প্রান্তের শ্রেষ্ঠ মনীষা সম্পন্ন নারী-পুরুষের মিলনে যে সব সন্তান জন্মাবে _তারা নিশ্চয়ই এক একটা genius হবে! এটাও ওদের একটা বিরাট experiment!
ওদের এই research যদি successful হয় _তাহলে ওদের ধারনা এই গবেষণাগার(ঐ নির্দিষ্ট দ্বীপ) থেকে ঝাঁকে ঝাঁকে genius বের হতে থাকবে এবং পৃথিবীর সবচাইতে গুরুত্বপূর্ণ ‘পদ’গুলি এরাই দখল করবে। সেই অর্থে সমগ্র পৃথিবীর একটা দখলদারিও এদের হাতেই থাকবে।
কিন্তু দ্যাখো, ওরা যতই এসব ভাবুক না কেন, প্রকৃতিকে অতিক্রম করার সাধ্য ওদের নাই! ওরা যেটা ভাবছে_তা কখনই হবে না! তবে দ্যাখা যাক্, ওদের experiment এর ফল কি দাঁড়ায়!
এই research এর first batch টা হয়তো ১০/১২-বছরের মধ্যেই ১৮-বছর বয়স হয়ে যাবে (যখন গুরুমহারাজ এসব কথা বলছিলেন, সেটা ছিল 1996/97)! তখন বোঝা যাবে দুটো talented নারী-পুরুষের biological মিলনে super talented সন্তান জন্মায় কি না!”
গুরুমহারাজ সেদিন সিটিং এ এইসব কথাগুলি বলেছিলেন। আমরা অবাক হয়ে ঐ আশ্চর্য মানুষটির মুখের দিকে হাঁ করে তাকিয়ে থাকতে থাকতে কথাগুলি শুনছিলাম আর ভাবছিলাম _এই যে ইউরোপের পন্ডিতেরা, তারাও তো গুরুমহারাজকে পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ মানুষ হিসাবে স্বীকৃতি দিল__তারা আধ্যাত্মিক মানুষ নয়, হয়তো স্থুলজগতের মানুষ_কিন্তু তবুও তো আসল কাজে তারা ভুল করেনি! কিন্তু আমরা, যারা তাঁর কাছাকাছি থাকার সুযোগ পেলাম, তাঁর অপার্থিব ভালোবাসার স্পর্শ পেলাম _তারা কি গুরুমহারাজকে হৃদয়ের গভীরে বসাতে পেরেছি, তাঁকেই জীবনের ধ্রুবতারা করে, মানব শরীরের অন্তিম লক্ষ্য বা purpose of life _লাভ করতে পেরেছি!!হে প্রভু! তোমার ইচ্ছাই পূর্ণ হোক। (ক্রমশঃ)
গুরু মহারাজ একদিন বনগ্রাম আশ্রমে সিটিং-এ এই বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করেছিলেন । উনি বলেছিলেন – ” একদিন আশ্রমে সন্ধ্যার সময় ঘরে চুপচাপ বসে থাকতে থাকতে আমার মনে হ’ল , এইযে স্পিলবার্গ আমাকে আমেরিকায় যাওয়ার জন্য এতো পীড়াপীড়ি করছে এবং তার জন্য বনগ্রাম আশ্রমের সমস্ত বিভাগের কাজ-কর্মের অর্থনৈতিক দায়িত্ব পর্যন্ত নিতে চাইছে – একবার দেখি তো এর ব্যাপারটা কি ? তখন দেখলাম কি জানো – এটা একটা বিশাল নেটওয়ার্ক এবং সেই নেটওয়ার্কটি চালানোর জন্য স্পিলবার্গের মতো আরো পৃথিবীর বড় বড় মাথারা অনেকে রয়েছে ! এটা পৃথিবী গ্রহের অনেক ধনী ব্যক্তি , পন্ডিত ব্যক্তি , রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব , সমাজতত্ত্ববিদ , বিজ্ঞানী ইত্যাদিদের সমন্বয়ে সৃষ্ট একটা দল। যারা আগামী পৃথিবী নিয়ে খুবই চিন্তিত , যারা ভেবে নিয়েছে যে তৃতীয় বা চতুর্থ বিশ্বযুদ্ধ কম্পালসারি ! আর এই পৃথিবী গ্রহে এত বেশি পরমাণু অস্ত্র তৈরি হয়ে গেছে যে, যুদ্ধ হলে যেগুলির ব্যবহার অবশ্যম্ভাবী এবং তা যদি হয় – তাহলে পৃথিবী গ্রহের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হবে ! লক্ষ লক্ষ মানুষ মারা যাবে , বহু নগর ও শহর ধ্বংস হয়ে যাবে , বিভিন্ন প্রজাতির গাছপালা-পশুপাখি নষ্ট হয়ে যাবে – পৃথিবীর বহু বিদ্যালয় , গবেষণাগার , ইউনিভার্সিটি ধ্বংস হবে অর্থাৎ এককথায় পৃথিবীর বর্তমান সভ্যতার সবটাই না হলেও অনেকখানিই বিনষ্ট হয়ে যাবে । তখন কি হবে ?
তাই এই দলটি আমেরিকা মহাদেশের অন্তর্গত , সভ্যতা থেকে অনেক দূরে সমুদ্রের মধ্যিখানে অবস্থিত কোন এক নির্জন দ্বীপকে বেছে নিয়েছে ৷ ওই দ্বীপটাকে সরকারের কাছ থেকে কিনে নিয়ে ওরা একটু একটু করে ওটাকে সাজাচ্ছে ! ওখানে বিভিন্ন বিষয়ের উপর গবেষণাগার তৈরি করা হয়েছে । বিভিন্ন দেশের পশু-পাখি-উদ্ভিদ-লতা-খাদ্যশস্য ইত্যাদি সবকিছুর বীজ ওখানে সংরক্ষণ করে রাখা হবে বা সেগুলিকে ওখানেই নতুন করে জীবন দেওয়া হবে । ওরা আরও চাইছে যে , বর্তমান পৃথিবীতে যত ধরনের শাখায় মানব সমাজের উন্নতি হয়েছে – সেই সমস্ত শাখার অন্ততঃ একজন করে নর ও নারীকে ওখানে নিয়ে গিয়ে রাখতে । এইজন্য ওরা সারা বিশ্ব থেকে জীববিজ্ঞানী , রসায়ন বিজ্ঞানী , পরিবেশ বিজ্ঞানী , সাহিত্যিক , দার্শনিক , শিল্পী , গায়ক , নৃত্যশিল্পী এইধরনের সমগ্র স্তরের Top Top মানুষদের ওই জায়গায় আনতে চাইছে । সেখানে তাদেরকে সমস্ত রকম উন্নত সুযোগ-সুবিধা , বেতন সবই দেওয়া হবে । আমি দেখলাম ওই দ্বীপে এখন বহু ঘরবাড়ি তৈরি করা হয়ে গেছে _আরও হচ্ছে ! পৃথিবীর বিভিন্ন প্রান্তের পন্ডিত মহলের অনেকে ওই গ্রুপটির আমন্ত্রণ স্বীকার করে নিয়ে ওখানে চলেও গেছে এবং কাজ শুরু করে দিয়েছে ৷ যেমন যেমন বিজ্ঞানীরা ওখানে যাচ্ছে – তাদের উপযুক্ত গবেষণাগার তৈরি করে দিচ্ছে ওরা – আর দিচ্ছে প্রচুর সুযোগ সুবিধা !
আর একটা ব্যাপারে ওরা জোর দিচ্ছে – ওরা সমাজের এই যে শ্রেষ্ঠ প্রতিভাধরদের নিয়ে আসতে চাইছে – এদের মধ্যে নারী ও পুরুষ উভয়কেই আমন্ত্রণ করছে ! এটাও ওদের একটা Experiment ! নারী-পুরুষ একসঙ্গে থাকলে তাদের মধ্যে একটা Physical সম্পর্ক স্থাপন হবেই , অনেকে পরস্পরকে ভালোবেসে ঘর বাঁধবে ! তাহলেই তাদের সন্তান-সন্ততি জন্মগ্রহণ করবে ! তাহলে কি হবে – পৃথিবীর বিভিন্ন প্রান্তের শ্রেষ্ঠ মনীষা সম্পন্ন নারী-পুরুষের মিলনে যে সব সন্তান জন্মাবে _তারা নিশ্চয়ই এক একটা genius হবে! এটাও ওদের একটা বিরাট experiment!
ওদের এই research যদি successful হয় _তাহলে ওদের ধারনা এই গবেষণাগার(ঐ নির্দিষ্ট দ্বীপ) থেকে ঝাঁকে ঝাঁকে genius বের হতে থাকবে এবং পৃথিবীর সবচাইতে গুরুত্বপূর্ণ ‘পদ’গুলি এরাই দখল করবে। সেই অর্থে সমগ্র পৃথিবীর একটা দখলদারিও এদের হাতেই থাকবে।
কিন্তু দ্যাখো, ওরা যতই এসব ভাবুক না কেন, প্রকৃতিকে অতিক্রম করার সাধ্য ওদের নাই! ওরা যেটা ভাবছে_তা কখনই হবে না! তবে দ্যাখা যাক্, ওদের experiment এর ফল কি দাঁড়ায়!
এই research এর first batch টা হয়তো ১০/১২-বছরের মধ্যেই ১৮-বছর বয়স হয়ে যাবে (যখন গুরুমহারাজ এসব কথা বলছিলেন, সেটা ছিল 1996/97)! তখন বোঝা যাবে দুটো talented নারী-পুরুষের biological মিলনে super talented সন্তান জন্মায় কি না!”
গুরুমহারাজ সেদিন সিটিং এ এইসব কথাগুলি বলেছিলেন। আমরা অবাক হয়ে ঐ আশ্চর্য মানুষটির মুখের দিকে হাঁ করে তাকিয়ে থাকতে থাকতে কথাগুলি শুনছিলাম আর ভাবছিলাম _এই যে ইউরোপের পন্ডিতেরা, তারাও তো গুরুমহারাজকে পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ মানুষ হিসাবে স্বীকৃতি দিল__তারা আধ্যাত্মিক মানুষ নয়, হয়তো স্থুলজগতের মানুষ_কিন্তু তবুও তো আসল কাজে তারা ভুল করেনি! কিন্তু আমরা, যারা তাঁর কাছাকাছি থাকার সুযোগ পেলাম, তাঁর অপার্থিব ভালোবাসার স্পর্শ পেলাম _তারা কি গুরুমহারাজকে হৃদয়ের গভীরে বসাতে পেরেছি, তাঁকেই জীবনের ধ্রুবতারা করে, মানব শরীরের অন্তিম লক্ষ্য বা purpose of life _লাভ করতে পেরেছি!!হে প্রভু! তোমার ইচ্ছাই পূর্ণ হোক। (ক্রমশঃ)
