স্বামী বাউলানন্দজীর ভ্রমণকালীন সময়ের ঘটনাসমূহ এখানে আলোচনা করা হচ্ছিলো।
আগের সংখ্যায় আমরা দেখেছিলাম স্বামীজীকে একটা মন্দিরে খাবারের সঙ্গে বিষ প্রদান করা হয়েছিল এবং সেই বিষযুক্ত খাবার খেয়ে ওনার শরীর খুবই দুর্বল হয়ে পড়েছিল । তারপর শিব ও শিবানীর কৃপায় তিনি ধীরে ধীরে সুস্থ হয়ে ওঠেন।
এরপর থেকেই কিন্তু স্বামী বাউলানন্দ মহারাজ খুবই অসুস্থ হয়ে পড়েছিলেন। রাত্রে তাঁর ঘুম আসতো না, খাবারেও কোন রুচি ছিল না। দিনের পর দিন তিনি দুর্বল হয়ে যাচ্ছিলেন । সেই সময় রঙ্গচারি নামে p.w.d.-র এক কর্মচারী তাঁকে আয়ুর্বেদিক ওষুধ খাওয়ালেন । স্বামীজি যতদিন না সুস্থ হোলেন_ ততদিন পর্যন্ত কেশরী সিং তাকে জোর করে তার বাড়িতে রেখেছিল। তার বাড়ীর ঠিক পাশেই টালির একটা বড় চালাঘর ছিল, এখানে বন বিভাগের হাতি থাকতো । কেশরী সিং এটি পরিষ্কার করিয়ে স্বামীজীর আরামে থাকার ব্যবস্থা করে দিল। সে এবং তার স্ত্রী উভয়ে স্বামীজীকে যত্নসহকারে সেবা করতো। এদের সেবায় সন্তুষ্ট হয়ে স্বামীজী কেশরী সিং-এর নাম দিয়েছিলেন “শ্রদ্ধা”! পরবর্তীকালে যে সমস্ত ভক্ত পেরেন্টাপল্লীতে স্বামীজীর নিকট জমায়েত হোতেন, তাদের মধ্যে কেশরী সিং একজন ছিলেন । তিনি পেরেন্টাপল্লীতে আশ্রম তৈরির ব্যাপারে সক্রিয় অংশগ্রহণ করেছিলেন।
রঙ্গচারি র ঔষধ প্রায় তিন সপ্তাহ ধরে স্বামীজীকে খাওয়ানো হয়েছিল, কিন্তু এতে স্বামীজীর বিশেষ কোনো উন্নতি দেখা যায়নি। তখন কেশরী সিং এ্যালোপ্যাথিক চিকিৎসা করাতে চাইলেন । তিনি স্বামীজীকে পুনাভরম্ নিয়ে চললেন । খেয়া নৌকায় তাঁরা শবরী নদী পার হলেন। স্বামীজি সেখানে এক ঢালু জায়গায় একটি ছেলেকে দেখতে পেলেন_ এই ছেলেটিই সেদিন তাকে শবরী নদী পার হওয়ার পথ দেখিয়েছিল। ছেলেটিকে দেখিয়ে স্বামীজি কেশরী সিংকে বললেন _”এই ছেলেটি সেদিন আমাকে বলেছিল কোন স্থান দিয়ে নদী পার হতে হবে !” কেশরী সিং ছেলেটিকে ভালোমতোই চেনেন, তিনি জানতেন যে ছেলেটি কালা এবং বোবা। তিনি অবাক হলেন এই ভেবে যে, ছেলেটি সেদিন কি করে কথা বলেছিল? তিনি হেঁসে স্বামীজীকে তার সন্দেহের কথা বললেন, কিন্তু স্বামীজী আত্মপক্ষসমর্থন করে বললেন _”সত্যি সত্যিই ছেলেটি সেদিন তাঁর সঙ্গে কথা বলেছিল।” তিনি আরো বললেন _’এটা ছিল ঈশ্বরের দেওয়া উত্তর! তিনি পায়ে হেঁটে শবরী পার হওয়ার জন্য পথ জানতে খুব ব্যগ্র হয়েছিলেন! এই তীব্র আকাংখার উত্তর _ঐ বালকের অন্তর থেকে বেরিয়ে এসেছিল এবং সেটাই ছিল সুনিশ্চিত পথ!”
স্বামীজী বললেন_ ‘এইরকম অভিজ্ঞতা তাঁর আগেও হয়েছিল! একদিন রেল লাইনের নিচে এক কালভার্টের ভেতর দিয়ে তিনি যাচ্ছিলেন, কালভার্ট পেরিয়ে দেখলেন রাস্তাটি দু’ভাগে বিভক্ত হয়েছে! তিনি সন্দিহান হলেন_ কোন পথে যাবেন ! সেই স্থানেও তিনি একটি ছেলেকে দেখতে পেলেন_ তার পরনে ছিল লেংটি এবং মাথায় ছিল একটি ধাতু নির্মিত পাত্র। স্বামীজী ছেলেটিকে কোন একটি নির্দিষ্ট গ্রামে যাওয়ার রাস্তা জিজ্ঞাসা করেছিলেন, ছেলেটি কথার উত্তর দিয়ে স্বামীজীকে পথ দেখিয়েছিল। আরো আধ মাইল হেঁটে স্বামীজী সেই গ্রামে পৌঁছেছিলেন । সেই গ্রামে পৌঁছে স্বামীজি একটা রাম মন্দিরে বসে ছিলেন । ক্রমে ক্রমে গ্রামের লোকেরা স্বামীজীকে দেখার জন্য সেখানে সমবেত হোল। যে ছেলেটি তাঁকে রাস্তা দেখিয়েছিল সে ও সেখানে হাজির হোলো। গ্রামের লোকেরা ছেলেটির দিকে তাকিয়ে নিজেদের মধ্যে বলাবলি করতে লাগলো_’ ছেলেটি অমুক পরিবারের আত্মীয়। আজই এখানে এসেছে, ছেলেটি কালা এবং বোবা! শুধু তাই নয় _ওর সব ভাইবোনেরাই কালা এবং বোবা !’ এই কথা শুনে স্বামীজী ছেলেটির দিকে তাকালেন। ছেলেটিকে দেখে মনে হচ্ছিল যেন সে স্বামীজীকে কখনো দেখে নাই । সম্ভবত ওর মানসিক ভারসাম্য ততটা নাই।
এই উভয় দৃষ্টান্ত এই সত্যই বুঝিয়ে দেয় যে, ভক্ত প্রকৃত যে কোনো উৎস হতে প্রয়োজনীয় উত্তর পায় ! তা সেই ব্যক্তি কালাই হোক আর যাই হোক ! তার মধ্যে যে ঈশ্বর আছেন তিনিই উত্তরটি দিয়ে দেন ! ঈশ্বরের নিকট এমন কি আছে _যা অসম্ভব ? “মুকং করোতি বাচালং” _ এই সত্য প্রতিষ্ঠিত করার জন্য আর কি প্রমাণের দরকার? (ক্রমশঃ)
~~~~~~~~~~~~©~~~~~~~~
চরৈবেতি পত্রিকায় প্রকাশিত স্বামী বাউলানন্দজীর আলোচনা থেকে:—-
=============©===========
বিবাহ প্রসঙ্গে স্বামীজী বললেন – ” বিয়েতে প্রথমেই যেটা দরকার সেটা হল ছেলে ও মেয়ের ইচ্ছা ৷ তারপর উভয় পক্ষের বাবা-মার সম্মতি ৷ এই ধরনের ডাকাতি এবং একটা ছোট মেয়ের ওপর বলপ্রয়োগ খুবই অন্যায় । পারিবারিক জীবন তখনই সুখের হয় যখন তা সৎ ইচ্ছা দিয়ে শুরু হয় ৷ যে পারিবারিক জীবন কলহ এবং গভীর দুঃখের সঙ্গে শুরু হয় সে জীবন কলহ এবং দুঃখ নিয়েই চলতে থাকে ৷”
প্রাচীন দেশাচার (প্রথা) নিয়ে স্বামীজীর মন্তব্য ছিল – ” ঠিকই, এই প্রাচীন প্রথা পাল্টানো সম্ভব নয় । তোমাদের এই প্রথা বন্ধ করার দরকার নাই । কিন্তু একটা কাজ করো, প্রাচীন প্রথা থেকে মন্দটা বাদ দাও ।”
বিবাহ প্রসঙ্গে স্বার্থপর অভিভাবকদের সম্বন্ধে স্বামীজী বললেন, ” এরা প্রাথমিক স্তরের মানব, অর্থাৎ পশু-স্তর পেরিয়ে যারা প্রথম মানব শরীর ধারণ করেছে । অমানবিক স্তরের জীবের মতোই এদের প্রবণতা বা প্রবৃত্তি ৷ এরা খুব স্বার্থপর ৷ স্ত্রী-পুত্রের স্বার্থ বাদ দিয়ে শুধু নিজের স্বার্থটাই দেখে । এদের জ্ঞানের অভাব ৷ নিরপেক্ষভাবে ভালো-মন্দ বিচার করার ক্ষমতা এদের নাই ৷”(ক্রমশঃ)
আগের সংখ্যায় আমরা দেখেছিলাম স্বামীজীকে একটা মন্দিরে খাবারের সঙ্গে বিষ প্রদান করা হয়েছিল এবং সেই বিষযুক্ত খাবার খেয়ে ওনার শরীর খুবই দুর্বল হয়ে পড়েছিল । তারপর শিব ও শিবানীর কৃপায় তিনি ধীরে ধীরে সুস্থ হয়ে ওঠেন।
এরপর থেকেই কিন্তু স্বামী বাউলানন্দ মহারাজ খুবই অসুস্থ হয়ে পড়েছিলেন। রাত্রে তাঁর ঘুম আসতো না, খাবারেও কোন রুচি ছিল না। দিনের পর দিন তিনি দুর্বল হয়ে যাচ্ছিলেন । সেই সময় রঙ্গচারি নামে p.w.d.-র এক কর্মচারী তাঁকে আয়ুর্বেদিক ওষুধ খাওয়ালেন । স্বামীজি যতদিন না সুস্থ হোলেন_ ততদিন পর্যন্ত কেশরী সিং তাকে জোর করে তার বাড়িতে রেখেছিল। তার বাড়ীর ঠিক পাশেই টালির একটা বড় চালাঘর ছিল, এখানে বন বিভাগের হাতি থাকতো । কেশরী সিং এটি পরিষ্কার করিয়ে স্বামীজীর আরামে থাকার ব্যবস্থা করে দিল। সে এবং তার স্ত্রী উভয়ে স্বামীজীকে যত্নসহকারে সেবা করতো। এদের সেবায় সন্তুষ্ট হয়ে স্বামীজী কেশরী সিং-এর নাম দিয়েছিলেন “শ্রদ্ধা”! পরবর্তীকালে যে সমস্ত ভক্ত পেরেন্টাপল্লীতে স্বামীজীর নিকট জমায়েত হোতেন, তাদের মধ্যে কেশরী সিং একজন ছিলেন । তিনি পেরেন্টাপল্লীতে আশ্রম তৈরির ব্যাপারে সক্রিয় অংশগ্রহণ করেছিলেন।
রঙ্গচারি র ঔষধ প্রায় তিন সপ্তাহ ধরে স্বামীজীকে খাওয়ানো হয়েছিল, কিন্তু এতে স্বামীজীর বিশেষ কোনো উন্নতি দেখা যায়নি। তখন কেশরী সিং এ্যালোপ্যাথিক চিকিৎসা করাতে চাইলেন । তিনি স্বামীজীকে পুনাভরম্ নিয়ে চললেন । খেয়া নৌকায় তাঁরা শবরী নদী পার হলেন। স্বামীজি সেখানে এক ঢালু জায়গায় একটি ছেলেকে দেখতে পেলেন_ এই ছেলেটিই সেদিন তাকে শবরী নদী পার হওয়ার পথ দেখিয়েছিল। ছেলেটিকে দেখিয়ে স্বামীজি কেশরী সিংকে বললেন _”এই ছেলেটি সেদিন আমাকে বলেছিল কোন স্থান দিয়ে নদী পার হতে হবে !” কেশরী সিং ছেলেটিকে ভালোমতোই চেনেন, তিনি জানতেন যে ছেলেটি কালা এবং বোবা। তিনি অবাক হলেন এই ভেবে যে, ছেলেটি সেদিন কি করে কথা বলেছিল? তিনি হেঁসে স্বামীজীকে তার সন্দেহের কথা বললেন, কিন্তু স্বামীজী আত্মপক্ষসমর্থন করে বললেন _”সত্যি সত্যিই ছেলেটি সেদিন তাঁর সঙ্গে কথা বলেছিল।” তিনি আরো বললেন _’এটা ছিল ঈশ্বরের দেওয়া উত্তর! তিনি পায়ে হেঁটে শবরী পার হওয়ার জন্য পথ জানতে খুব ব্যগ্র হয়েছিলেন! এই তীব্র আকাংখার উত্তর _ঐ বালকের অন্তর থেকে বেরিয়ে এসেছিল এবং সেটাই ছিল সুনিশ্চিত পথ!”
স্বামীজী বললেন_ ‘এইরকম অভিজ্ঞতা তাঁর আগেও হয়েছিল! একদিন রেল লাইনের নিচে এক কালভার্টের ভেতর দিয়ে তিনি যাচ্ছিলেন, কালভার্ট পেরিয়ে দেখলেন রাস্তাটি দু’ভাগে বিভক্ত হয়েছে! তিনি সন্দিহান হলেন_ কোন পথে যাবেন ! সেই স্থানেও তিনি একটি ছেলেকে দেখতে পেলেন_ তার পরনে ছিল লেংটি এবং মাথায় ছিল একটি ধাতু নির্মিত পাত্র। স্বামীজী ছেলেটিকে কোন একটি নির্দিষ্ট গ্রামে যাওয়ার রাস্তা জিজ্ঞাসা করেছিলেন, ছেলেটি কথার উত্তর দিয়ে স্বামীজীকে পথ দেখিয়েছিল। আরো আধ মাইল হেঁটে স্বামীজী সেই গ্রামে পৌঁছেছিলেন । সেই গ্রামে পৌঁছে স্বামীজি একটা রাম মন্দিরে বসে ছিলেন । ক্রমে ক্রমে গ্রামের লোকেরা স্বামীজীকে দেখার জন্য সেখানে সমবেত হোল। যে ছেলেটি তাঁকে রাস্তা দেখিয়েছিল সে ও সেখানে হাজির হোলো। গ্রামের লোকেরা ছেলেটির দিকে তাকিয়ে নিজেদের মধ্যে বলাবলি করতে লাগলো_’ ছেলেটি অমুক পরিবারের আত্মীয়। আজই এখানে এসেছে, ছেলেটি কালা এবং বোবা! শুধু তাই নয় _ওর সব ভাইবোনেরাই কালা এবং বোবা !’ এই কথা শুনে স্বামীজী ছেলেটির দিকে তাকালেন। ছেলেটিকে দেখে মনে হচ্ছিল যেন সে স্বামীজীকে কখনো দেখে নাই । সম্ভবত ওর মানসিক ভারসাম্য ততটা নাই।
এই উভয় দৃষ্টান্ত এই সত্যই বুঝিয়ে দেয় যে, ভক্ত প্রকৃত যে কোনো উৎস হতে প্রয়োজনীয় উত্তর পায় ! তা সেই ব্যক্তি কালাই হোক আর যাই হোক ! তার মধ্যে যে ঈশ্বর আছেন তিনিই উত্তরটি দিয়ে দেন ! ঈশ্বরের নিকট এমন কি আছে _যা অসম্ভব ? “মুকং করোতি বাচালং” _ এই সত্য প্রতিষ্ঠিত করার জন্য আর কি প্রমাণের দরকার? (ক্রমশঃ)
~~~~~~~~~~~~©~~~~~~~~
চরৈবেতি পত্রিকায় প্রকাশিত স্বামী বাউলানন্দজীর আলোচনা থেকে:—-
=============©===========
বিবাহ প্রসঙ্গে স্বামীজী বললেন – ” বিয়েতে প্রথমেই যেটা দরকার সেটা হল ছেলে ও মেয়ের ইচ্ছা ৷ তারপর উভয় পক্ষের বাবা-মার সম্মতি ৷ এই ধরনের ডাকাতি এবং একটা ছোট মেয়ের ওপর বলপ্রয়োগ খুবই অন্যায় । পারিবারিক জীবন তখনই সুখের হয় যখন তা সৎ ইচ্ছা দিয়ে শুরু হয় ৷ যে পারিবারিক জীবন কলহ এবং গভীর দুঃখের সঙ্গে শুরু হয় সে জীবন কলহ এবং দুঃখ নিয়েই চলতে থাকে ৷”
প্রাচীন দেশাচার (প্রথা) নিয়ে স্বামীজীর মন্তব্য ছিল – ” ঠিকই, এই প্রাচীন প্রথা পাল্টানো সম্ভব নয় । তোমাদের এই প্রথা বন্ধ করার দরকার নাই । কিন্তু একটা কাজ করো, প্রাচীন প্রথা থেকে মন্দটা বাদ দাও ।”
বিবাহ প্রসঙ্গে স্বার্থপর অভিভাবকদের সম্বন্ধে স্বামীজী বললেন, ” এরা প্রাথমিক স্তরের মানব, অর্থাৎ পশু-স্তর পেরিয়ে যারা প্রথম মানব শরীর ধারণ করেছে । অমানবিক স্তরের জীবের মতোই এদের প্রবণতা বা প্রবৃত্তি ৷ এরা খুব স্বার্থপর ৷ স্ত্রী-পুত্রের স্বার্থ বাদ দিয়ে শুধু নিজের স্বার্থটাই দেখে । এদের জ্ঞানের অভাব ৷ নিরপেক্ষভাবে ভালো-মন্দ বিচার করার ক্ষমতা এদের নাই ৷”(ক্রমশঃ)
