স্বামী বাউলানন্দজী যখন ডুম্মাগুডেমে ছিলেন_সেইসময়কার কথা হচ্ছিলো। ওই সময় গণেশ পূজো উপলক্ষে ওখানে কিছু লোকজন খাওয়ানোর ব্যবস্থা করা হয়েছিল । পুজোর নয় দিন কেটে গেল । দশম দিন সকাল বেলায় উদ্ভাসন উৎসব হলো এবং বিকাল বেলায় শোভাযাত্রা করে ঠাকুর নিয়ে যাবার ব্যবস্থা হলো। ঠিক হলো গ্রামের যুবকগণ এই শোভাযাত্রায় অংশ নিয়ে ভজন গাইবে আর শোভাযাত্রা করে মূর্তি বিসর্জন দেবে ।
শোভাযাত্রা শুরু হলো এবং অন্যান্য বাদ্যযন্ত্র পুরোভাগে চলতে লাগলো। গ্রামের যুবকেরা বৃত্তাকারে ঘুরে ঘুরে নাচতে লাগলো । স্বামীজীকে কেন্দ্রবিন্দুতে দাঁড়াবার জন্য সকলে প্রার্থনা করলো। যুবকদের সবার সারাশরীর চন্দনচর্চিত, গলায় তাদের মেরিগোল্ড ফুলের মালা! স্বামীজিও চন্দনচর্চিত তাঁর গলাতেও বেশ কয়েকটি ফুলের মালা । প্রাপ্ত বয়স্ক লোকেরা ঠাকুরের মূর্তি বয়ে নিয়ে চলেছিল, পুরুষোত্তম পন্ডিত এবং অন্যান্যরা বৈদিক স্তব পাঠ করতে করতে যাচ্ছিলেন।
শোভাযাত্রা উৎসবে প্রত্যেকে গভীর ভক্তিভাবে মগ্ন ভজন দল সমস্বরে একই গান পুনরাবৃত্তি করছিল, এর ফলে একটি মধুর স্বর নির্গত হচ্ছিলো,যা তাদেরকে আরও ভক্তিরসে আপ্লুত করছিল । স্থান-কাল ভুলে তারা উচ্চৈঃস্বরে গেয়ে এবং নেচে চলেছে _তাদের কেন্দ্রবিন্দুতে স্বামীজিও বেহুঁশে নিচে চলেছেন । দলটি এগিয়ে যাওয়ার কথা প্রায় ভাবছিলইনা!
মিস্টার নাইডুর বাড়ি পৌছাবার আগে শোভাযাত্রা করে এই দলের মাত্র কিছুটা রাস্তা যেতে তিন ঘণ্টা সময় লেগে গেল! মিস্টার নাইডু ভজন দলকে আহ্বান করে তাঁর বাড়ীতে ডেকে নিয়ে গিয়ে ঠান্ডা পানীয় খেতে দিলেন। যুবকদল বাড়িতে গেল কিন্তু স্বামীজি যেতে পারলেন না_ তাঁর তখন বেহুঁশ অবস্থা ! পুরুষোত্তম পন্ডিত স্বামীজীর সামনে গিয়ে তাঁকে ভিতরে যাওয়ার জন্য অনুরোধ জানালেন, কিন্তু স্বামীজীর কোনো নড়ন-চড়ন নাই! ভদ্রাচলমের শ্রীনিবাস আচার্য এই শোভাযাত্রায় অংশ নিয়েছিলেন। পুরুষোত্তম পন্ডিত এবং শ্রীনিবাস আচার্য লক্ষ্য করলেন যে স্বামীজি সমাধির খুব উন্নত অবস্থায় রয়েছেন ! তাঁরা দুজনে স্বামীজীকে ধরে আস্তে আস্তে ভিতরে নিয়ে গিয়ে উঁচু বেদীতে বসিয়ে দিলেন । তখনও তিনি অচৈতন্য অবস্থায় ছিলেন! তার চোখ বন্ধ এবং এক অনুপম হাসিতে তার মুখ তৃপ্ত বোধ হচ্ছিলো। বৈষ্ণব শাস্ত্রের পন্ডিত পুরুষোত্তম পন্ডিত এক দিব্য ভাবে উচ্ছ্বসিত হয়ে জোর গলায় বলে উঠলেন _”জীবনে এই সুযোগ আর পাওয়া যাবে না ! এটা এক বিরাট সুযোগ! এ সুযোগ হারিয়ো না ! দুধ, দই, মধু, নারকেল, কর্পূর ইত্যাদি পঞ্চামৃতের সমস্ত উপকরণ নিয়ে এসো এবং তা দিয়ে প্রভুকে তুষ্ট করো! প্রভুর মাথায় চন্দন দাও এবং সুগন্ধি নিয়ে এসো!সবাই তাড়াতাড়ি এসো_এ সুযোগ হারিয়ো না।”(ক্রমশঃ)
~~~~~~~~~~©~~~~~~~
*স্বামী বাউলানন্দজীর আধ্যাত্মিক আলোচনা*
__________________________________________
জিজ্ঞাসা :– “স্বামীজী, আমাদের অনেক বন্ধু বান্ধব সকালে উঠে মন্ত্র জপ করে। তারা জিজ্ঞাসা করে ‘তোমাদের গুরু তােমাদেরকে কোন মন্ত্র দিয়েছেন ?’ আপনি তাে আমাদের কোন মন্ত্র দেন নি । আপনি কেবলমাত্র আমাদেরকে এটাসেটা করার নির্দেশ দেন মাত্র । আমাদের কি কোন মন্ত্র হবে না ?”
স্বামীজী বললেন, “ধরো, তােমার একটি পুত্র আছে। সে তােমার কাছে এসে একশো টাকা চাইল । তখন তুমি কি করবে ? যদি তোমার কাছে ঐ টাকা থাকে এবং যদি তুমি বােঝ তাকে ঐ টাকা দিলে তার উপকার হবে তাহলে তুমি তাকে তৎক্ষণাৎ তা দেবে। কিন্তু যদি তুমি বােঝ যে ঐ টাকায় তার কোন উপকার হবে না তাহলে তুমি দেবে না। আবার, ধরে নাও তােমার কাছে কোন টাকা পয়সা নেই। তুমি বুঝতে পারছ ঐ একশো টাকাটা তােমার পুত্রের খুব দরকার । এতে তার খুব উপকার হবে। তুমি তাকে কোন ব্যক্তির নিকট গিয়ে ঐ টাকা ধার করে আনতে বলবে ।
তােমরা আধ্যাত্মিক অগ্রগতি চাও। তােমার বাবা জানেন কখন তা দিতে হবে, কি দিতে হবে এবং কতটা দিতে হবে । যথাসময়ে তােমরা সব পেয়ে যাবে। এর জন্য তােমাদের কোন উদ্বেগের কারণ নেই। আনন্দে থাক।”
স্বামীজী আরও বললেন, “ধরো, তােমাদেরকে কোরুকেণ্ডা যেতে হবে এবং তোমরা বাসে করেই যাবে । এর জন্য একটা উপায় হোল__ তােমাদেরকে টাকা যােগাড় করে বাস কিনতে হবে। ড্রাইভিং শিখে ড্রাইভিং লাইসেন্স নিতে হবে। তারপর তোমরা বাস নিয়ে কোরুকোণ্ডা যেতে পারবে।
কিন্তু সকলকেই কি বাস কিনে একইভাবে পরীক্ষা দিয়ে লাইসেন্স জোগাড় করে কোরুকোণ্ডা যেতে হবে ? না_তা নয় । আরও উপায় রয়েছে!ঐ লাইনে যে বাস চালু আছে সেই বাসে লাইসেন্স প্রাপ্ত ড্রাইভার অাছে, সেই বাসেও যেতে পারো। তবে ড্রাইভারের প্রতি আস্থা রাখতে হবে। এও বিশ্বাস করতে হবে _বাসটির কোন যান্ত্রিক গণ্ডগােল নেই। এরূপ বিশ্বাস রেখে তােমাদেরকে বাসে উঠতে হবে। এই বাসে করে তোমরা কোরুকোণ্ডা পৌঁছাতে পারবে । গন্তব্যস্থানে পৌঁছানাের পর তােমরা সকলে নামলে ড্রাইভার নামবে। ঠিক সেইরকম গুরুর উপর গভীর আস্থা এবং বিশ্বাস রাখ । তিনি হোলেন লাইসেন্স প্রাপ্ত ড্রাইভার। তাঁর নিকট নিজেকে সমর্পণ কর । তিনিই তােমাদেরকে চালিয়ে নিয়ে যাবেন এবং গন্তব্যস্থানে পোঁছে দেবেন।
জিজ্ঞাসা :– “স্বামীজী, কিছুক্ষণ আগে আপনি বললেন পতন হলেও গুরুর কৃপা তাকে রক্ষা করবে। এই কৃপা সম্বন্ধে একটু ব্যাখ্যা করুন।”
মীমাংসা :– “আমরা জানি জ্ঞান, প্রেম ও শক্তি সব সময় আধ্যাত্মিক ব্যক্তির নিকট হতে বিচ্ছুরিত হচ্ছে এবং তা সর্বত্র ছড়িয়ে পড়ছে। যে সমস্ত লােক তাদের ভুল ভ্রান্তি সম্বন্ধে ওয়াকিবহাল এবং কোন নাম নিয়ে ভুলভ্রান্তি কাটিয়ে উঠতে আগ্রহী তারা তাদের গুরুর কথা চিন্তা করবে। এই চিন্তা ক্ষণিকের জন্যও ঠিক ঠিক হলে গুরুর শক্তি ঐ ব্যক্তির মধ্যে প্রবেশ করে একটা চ্যানেল করে দেবে। ঐ চ্যানেল দিয়ে গুরুর শক্তি প্রবাহিত হয়ে তার মধ্যে সঞ্চারিত হয়। এই হল কৃপা।”
জিজ্ঞাসা :– “স্বামীজী, জগতে মানবের মধ্যে অনেক ধর্ম (সম্প্রদায়) আছে। সব ধর্মেই কি গুরু আছে । যদি না থাকে তাহলে তাদের অগ্রগতির উপায় কি ?”
মীমাংসা :– “প্রত্যেক ধর্মেই গুরু আছেন। এঁদের মধ্যে কেউ নির্বাচিত, কাউকে বা নিয়ােগ করা হয়, কেউ বা আপনিই প্রকাশিত । গুরুর বিশেষ বৈশিষ্ট্য হল স্বার্থশূন্যতা। তাঁর মধ্য হতে নিঃস্বার্থ প্রেম প্রবাহিত হয়। নির্বাচিত এবং নিয়ােগ করা গুরুগণ নির্দিষ্ট গণ্ডির মধ্যে থাকেন। যে সমস্ত গুরু প্রকাশিত হন তাঁদের কোন বন্ধন নেই । তাঁদের কোন বাধ্যবাধকতাও নেই ৷ ইচ্ছা, অনিচ্ছা বলে তাঁদের কিছু নেই । প্রেমই তাঁদের মধ্যে প্রাধান্য লাভ করে ৷ স্ত্রী, পুরুষ, জাতি, ধর্ম, দেশ নির্বিশেষে সকলকে তাঁরা ভালবাসেন । কোন ভৌগোলিক, সামাজিক বা রাজনৈতিক বাধা তাঁদের প্রেমের গতিকে রোধ করতে পারে না ৷ সমগ্র বিশ্বই হল তাঁদের ক্ষেত্র । যেখানেই তাঁরা থাকেন (শরীরে বা অশরীরে) জগতের প্রতি তাঁদের শুভ দৃষ্টি থাকে – মানবীয়, অমানবীয় এবং উদ্ভিদ সকলের প্রতি । তাঁদের প্রেম বিভিন্ন স্থানে বিভিন্ন ভাবে প্রকাশ পায় এবং এই প্রেম মানবকে আধ্যাত্মিক পথে অগ্রসর হতে সাহায্য করে । সব লোক তাদের শক্তির উৎস সম্বন্ধে জানতে পারে না বটে কিন্তু তাদের উন্নতি, অগ্রগতি সুনিশ্চিত । কালে তারা তাদের গুরুকে জানতে পারবে । ভগবান শ্রীকৃষ্ণ হলেন জগৎ গুরু ৷ যেকোনো ধর্মাবলম্বী হোক না কেন তিনি কাউকে অগ্রাহ্য করেন নি । সকলের প্রতি তাঁর কৃপা দৃষ্টি ছিল ৷” … [ক্রমশঃ]
শোভাযাত্রা শুরু হলো এবং অন্যান্য বাদ্যযন্ত্র পুরোভাগে চলতে লাগলো। গ্রামের যুবকেরা বৃত্তাকারে ঘুরে ঘুরে নাচতে লাগলো । স্বামীজীকে কেন্দ্রবিন্দুতে দাঁড়াবার জন্য সকলে প্রার্থনা করলো। যুবকদের সবার সারাশরীর চন্দনচর্চিত, গলায় তাদের মেরিগোল্ড ফুলের মালা! স্বামীজিও চন্দনচর্চিত তাঁর গলাতেও বেশ কয়েকটি ফুলের মালা । প্রাপ্ত বয়স্ক লোকেরা ঠাকুরের মূর্তি বয়ে নিয়ে চলেছিল, পুরুষোত্তম পন্ডিত এবং অন্যান্যরা বৈদিক স্তব পাঠ করতে করতে যাচ্ছিলেন।
শোভাযাত্রা উৎসবে প্রত্যেকে গভীর ভক্তিভাবে মগ্ন ভজন দল সমস্বরে একই গান পুনরাবৃত্তি করছিল, এর ফলে একটি মধুর স্বর নির্গত হচ্ছিলো,যা তাদেরকে আরও ভক্তিরসে আপ্লুত করছিল । স্থান-কাল ভুলে তারা উচ্চৈঃস্বরে গেয়ে এবং নেচে চলেছে _তাদের কেন্দ্রবিন্দুতে স্বামীজিও বেহুঁশে নিচে চলেছেন । দলটি এগিয়ে যাওয়ার কথা প্রায় ভাবছিলইনা!
মিস্টার নাইডুর বাড়ি পৌছাবার আগে শোভাযাত্রা করে এই দলের মাত্র কিছুটা রাস্তা যেতে তিন ঘণ্টা সময় লেগে গেল! মিস্টার নাইডু ভজন দলকে আহ্বান করে তাঁর বাড়ীতে ডেকে নিয়ে গিয়ে ঠান্ডা পানীয় খেতে দিলেন। যুবকদল বাড়িতে গেল কিন্তু স্বামীজি যেতে পারলেন না_ তাঁর তখন বেহুঁশ অবস্থা ! পুরুষোত্তম পন্ডিত স্বামীজীর সামনে গিয়ে তাঁকে ভিতরে যাওয়ার জন্য অনুরোধ জানালেন, কিন্তু স্বামীজীর কোনো নড়ন-চড়ন নাই! ভদ্রাচলমের শ্রীনিবাস আচার্য এই শোভাযাত্রায় অংশ নিয়েছিলেন। পুরুষোত্তম পন্ডিত এবং শ্রীনিবাস আচার্য লক্ষ্য করলেন যে স্বামীজি সমাধির খুব উন্নত অবস্থায় রয়েছেন ! তাঁরা দুজনে স্বামীজীকে ধরে আস্তে আস্তে ভিতরে নিয়ে গিয়ে উঁচু বেদীতে বসিয়ে দিলেন । তখনও তিনি অচৈতন্য অবস্থায় ছিলেন! তার চোখ বন্ধ এবং এক অনুপম হাসিতে তার মুখ তৃপ্ত বোধ হচ্ছিলো। বৈষ্ণব শাস্ত্রের পন্ডিত পুরুষোত্তম পন্ডিত এক দিব্য ভাবে উচ্ছ্বসিত হয়ে জোর গলায় বলে উঠলেন _”জীবনে এই সুযোগ আর পাওয়া যাবে না ! এটা এক বিরাট সুযোগ! এ সুযোগ হারিয়ো না ! দুধ, দই, মধু, নারকেল, কর্পূর ইত্যাদি পঞ্চামৃতের সমস্ত উপকরণ নিয়ে এসো এবং তা দিয়ে প্রভুকে তুষ্ট করো! প্রভুর মাথায় চন্দন দাও এবং সুগন্ধি নিয়ে এসো!সবাই তাড়াতাড়ি এসো_এ সুযোগ হারিয়ো না।”(ক্রমশঃ)
~~~~~~~~~~©~~~~~~~
*স্বামী বাউলানন্দজীর আধ্যাত্মিক আলোচনা*
__________________________________________
জিজ্ঞাসা :– “স্বামীজী, আমাদের অনেক বন্ধু বান্ধব সকালে উঠে মন্ত্র জপ করে। তারা জিজ্ঞাসা করে ‘তোমাদের গুরু তােমাদেরকে কোন মন্ত্র দিয়েছেন ?’ আপনি তাে আমাদের কোন মন্ত্র দেন নি । আপনি কেবলমাত্র আমাদেরকে এটাসেটা করার নির্দেশ দেন মাত্র । আমাদের কি কোন মন্ত্র হবে না ?”
স্বামীজী বললেন, “ধরো, তােমার একটি পুত্র আছে। সে তােমার কাছে এসে একশো টাকা চাইল । তখন তুমি কি করবে ? যদি তোমার কাছে ঐ টাকা থাকে এবং যদি তুমি বােঝ তাকে ঐ টাকা দিলে তার উপকার হবে তাহলে তুমি তাকে তৎক্ষণাৎ তা দেবে। কিন্তু যদি তুমি বােঝ যে ঐ টাকায় তার কোন উপকার হবে না তাহলে তুমি দেবে না। আবার, ধরে নাও তােমার কাছে কোন টাকা পয়সা নেই। তুমি বুঝতে পারছ ঐ একশো টাকাটা তােমার পুত্রের খুব দরকার । এতে তার খুব উপকার হবে। তুমি তাকে কোন ব্যক্তির নিকট গিয়ে ঐ টাকা ধার করে আনতে বলবে ।
তােমরা আধ্যাত্মিক অগ্রগতি চাও। তােমার বাবা জানেন কখন তা দিতে হবে, কি দিতে হবে এবং কতটা দিতে হবে । যথাসময়ে তােমরা সব পেয়ে যাবে। এর জন্য তােমাদের কোন উদ্বেগের কারণ নেই। আনন্দে থাক।”
স্বামীজী আরও বললেন, “ধরো, তােমাদেরকে কোরুকেণ্ডা যেতে হবে এবং তোমরা বাসে করেই যাবে । এর জন্য একটা উপায় হোল__ তােমাদেরকে টাকা যােগাড় করে বাস কিনতে হবে। ড্রাইভিং শিখে ড্রাইভিং লাইসেন্স নিতে হবে। তারপর তোমরা বাস নিয়ে কোরুকোণ্ডা যেতে পারবে।
কিন্তু সকলকেই কি বাস কিনে একইভাবে পরীক্ষা দিয়ে লাইসেন্স জোগাড় করে কোরুকোণ্ডা যেতে হবে ? না_তা নয় । আরও উপায় রয়েছে!ঐ লাইনে যে বাস চালু আছে সেই বাসে লাইসেন্স প্রাপ্ত ড্রাইভার অাছে, সেই বাসেও যেতে পারো। তবে ড্রাইভারের প্রতি আস্থা রাখতে হবে। এও বিশ্বাস করতে হবে _বাসটির কোন যান্ত্রিক গণ্ডগােল নেই। এরূপ বিশ্বাস রেখে তােমাদেরকে বাসে উঠতে হবে। এই বাসে করে তোমরা কোরুকোণ্ডা পৌঁছাতে পারবে । গন্তব্যস্থানে পৌঁছানাের পর তােমরা সকলে নামলে ড্রাইভার নামবে। ঠিক সেইরকম গুরুর উপর গভীর আস্থা এবং বিশ্বাস রাখ । তিনি হোলেন লাইসেন্স প্রাপ্ত ড্রাইভার। তাঁর নিকট নিজেকে সমর্পণ কর । তিনিই তােমাদেরকে চালিয়ে নিয়ে যাবেন এবং গন্তব্যস্থানে পোঁছে দেবেন।
জিজ্ঞাসা :– “স্বামীজী, কিছুক্ষণ আগে আপনি বললেন পতন হলেও গুরুর কৃপা তাকে রক্ষা করবে। এই কৃপা সম্বন্ধে একটু ব্যাখ্যা করুন।”
মীমাংসা :– “আমরা জানি জ্ঞান, প্রেম ও শক্তি সব সময় আধ্যাত্মিক ব্যক্তির নিকট হতে বিচ্ছুরিত হচ্ছে এবং তা সর্বত্র ছড়িয়ে পড়ছে। যে সমস্ত লােক তাদের ভুল ভ্রান্তি সম্বন্ধে ওয়াকিবহাল এবং কোন নাম নিয়ে ভুলভ্রান্তি কাটিয়ে উঠতে আগ্রহী তারা তাদের গুরুর কথা চিন্তা করবে। এই চিন্তা ক্ষণিকের জন্যও ঠিক ঠিক হলে গুরুর শক্তি ঐ ব্যক্তির মধ্যে প্রবেশ করে একটা চ্যানেল করে দেবে। ঐ চ্যানেল দিয়ে গুরুর শক্তি প্রবাহিত হয়ে তার মধ্যে সঞ্চারিত হয়। এই হল কৃপা।”
জিজ্ঞাসা :– “স্বামীজী, জগতে মানবের মধ্যে অনেক ধর্ম (সম্প্রদায়) আছে। সব ধর্মেই কি গুরু আছে । যদি না থাকে তাহলে তাদের অগ্রগতির উপায় কি ?”
মীমাংসা :– “প্রত্যেক ধর্মেই গুরু আছেন। এঁদের মধ্যে কেউ নির্বাচিত, কাউকে বা নিয়ােগ করা হয়, কেউ বা আপনিই প্রকাশিত । গুরুর বিশেষ বৈশিষ্ট্য হল স্বার্থশূন্যতা। তাঁর মধ্য হতে নিঃস্বার্থ প্রেম প্রবাহিত হয়। নির্বাচিত এবং নিয়ােগ করা গুরুগণ নির্দিষ্ট গণ্ডির মধ্যে থাকেন। যে সমস্ত গুরু প্রকাশিত হন তাঁদের কোন বন্ধন নেই । তাঁদের কোন বাধ্যবাধকতাও নেই ৷ ইচ্ছা, অনিচ্ছা বলে তাঁদের কিছু নেই । প্রেমই তাঁদের মধ্যে প্রাধান্য লাভ করে ৷ স্ত্রী, পুরুষ, জাতি, ধর্ম, দেশ নির্বিশেষে সকলকে তাঁরা ভালবাসেন । কোন ভৌগোলিক, সামাজিক বা রাজনৈতিক বাধা তাঁদের প্রেমের গতিকে রোধ করতে পারে না ৷ সমগ্র বিশ্বই হল তাঁদের ক্ষেত্র । যেখানেই তাঁরা থাকেন (শরীরে বা অশরীরে) জগতের প্রতি তাঁদের শুভ দৃষ্টি থাকে – মানবীয়, অমানবীয় এবং উদ্ভিদ সকলের প্রতি । তাঁদের প্রেম বিভিন্ন স্থানে বিভিন্ন ভাবে প্রকাশ পায় এবং এই প্রেম মানবকে আধ্যাত্মিক পথে অগ্রসর হতে সাহায্য করে । সব লোক তাদের শক্তির উৎস সম্বন্ধে জানতে পারে না বটে কিন্তু তাদের উন্নতি, অগ্রগতি সুনিশ্চিত । কালে তারা তাদের গুরুকে জানতে পারবে । ভগবান শ্রীকৃষ্ণ হলেন জগৎ গুরু ৷ যেকোনো ধর্মাবলম্বী হোক না কেন তিনি কাউকে অগ্রাহ্য করেন নি । সকলের প্রতি তাঁর কৃপা দৃষ্টি ছিল ৷” … [ক্রমশঃ]
