স্বামী বাউলানন্দজীর ভ্রমণকালীন সময়ের ঘটনাসমূহ এখানে আলোচনা করা হচ্ছিলো। উনি কুনাভরমে চলে যাবার আগে “রামুলু” নামে ওনার একজন সেবকের উচ্চ আধ্যাত্মিক ভাব দেখা দিয়েছিল। কুনাভরমে যাবার পর স্বামীজীর শ্রীরামকৃষ্ণের দর্শন হয়েছিল। উনি স্বামীজীকে কিছু নির্দেশ দিয়েছিলেন, সেইগুলি এখানে বলা হচ্ছিলো। শ্রীরামকৃষ্ণদেব স্বামীজীকে গ্রামগুলি কিভাবে স্বনির্ভর হবে, সেই প্রসঙ্গে বলছিলেন__ পৃথিবীর সব মানুষেরই খাদ্যের প্রয়োজনে জল এবং জমিতে অধিকার রয়েছে….__”কিন্তু কয়েক শতাব্দী ধরে কতকগুলি লোক তাদের বুদ্ধি ও শক্তির বলে অধিক জমির মালিক হয়ে বসেছে । এই সমস্ত মালিক নিজেদের প্রয়োজনের তুলনায় অনেক বেশি ফসল উৎপাদন করে ভবিষ্যতের জন্য বা বিলাসব্যসনের জন্য খাদ্য ও অর্থ মজুত করে রাখছে। তারা সমাজের অন্য সকলকে তাদের ন্যায্য দাবী থেকে বঞ্চিত করছে । এইভাবে সমাজে ধনী এবং গরীব এই দুটি ভাগ হয়েছে।
উৎপন্ন দ্রব্য এবং সম্পদের অধিকারী হয়ে এই ধনী সম্প্রদায় আরো ধনী হচ্ছে । আর গরীব সম্প্রদায় প্রতি বৎসর উৎপন্ন দ্রব্য অল্প পরিমাণে পেয়ে আরো গরীব হচ্ছে।গরীব সম্প্রদায় ধনী সম্প্রদায়কে ঈর্ষা এবং ঘৃণার চোখে দেখে । ক্রমে ক্রমে এই ঈর্ষা এবং ঘৃণা ক্রোধে রূপ নেয়। ক্রোধপূর্ণ চিন্তাভাবনা বায়ুমন্ডলে কম্পিত হতে থাকে এবং সেই কম্পন বায়ুমণ্ডল থেকে ওই ধরনের চিন্তাভাবনাকে আকর্ষণ করে ক্রমশ বলশালী হতে থাকে। তাদের এই আকাঙ্ক্ষা মানবোচিত এবং স্বাভাবিক বলে বায়ুমন্ডলে আধ্যাত্মিক ব্যক্তির যে কম্পন রয়েছে __তার সমর্থন পায় ! এই ভাবেই সেই আকাঙ্ক্ষা-শক্তি বলশালী হয়ে একটা “অভিশাপের পরোয়ানা”- রূপে সমাজে আছড়ে পরে । এটিই একদিন ধনীদেরকে তাদের সম্পদ হতে বঞ্চিত করবে । তাছাড়া বস্তুর একটা নিজস্ব কার্য-কারণ সূত্র আছে। ধনীর সম্পত্তি বা সম্পদও এই সূত্রের অধীন এবং কালে তা ক্ষয়প্রাপ্ত হয়। এইভাবে বাইরে থেকে “অভিশাপের পরোয়ানা” দ্বারা আক্রান্ত হয় এবং ভিতর থেকে বস্তুর “কার্য-কারণ সূত্রে-র দ্বারা আঘাত পেয়ে _ধনীব্যক্তিও নানা বিপর্যয়ের সম্মুখীন হয় এবং কালক্রমে একদিন সে গরীব হয়ে যায় ।
এই “অভিশাপের পরোয়ানা”-ই ধনীর পতন ঘটায় এবং এর ফলেই তাদের দুঃখ কষ্ট হয়,আর গরীব অবস্থায় অবশেষে তাদের মৃত্যু ঘটে । কালে এরাও(যেহেতু তারা তখন গরীব) ধনীদের বিরুদ্ধে একই ধরনের “অভিশাপের পরোয়ানা”- তৈরি করে ! গরিবের এই “অভিশাপের পরোয়ানা” এবং ধনীদের মনোজগতের দুঃখ-কষ্ট আবহমানকালের বৈশিষ্ট্য হয়ে দাঁড়ায় এবং বৃহত্তর রূপে সমাজ তার ঈপ্সিত শান্তি পায় না ।
এই সমস্ত অসুবিধা দূর করতে হোলে সমাজপতিদের বোঝা উচিত যে, জল এবং জমি প্রকৃতির দান এবং তা একচেটিয়া ভোগের বস্তু নয় ! অন্য সকলকে একই পর্যায়ে আনার জন্য ঐ মুষ্টিমেয় কয়েকজনকে নিম্ন পর্যায়ে নিয়ে আসতে হবে । এইভাবে প্রকৃতির যে দান _তার সমবন্টন হবে । সমাজের প্রত্যেককে উন্নত করার জন্য, প্রত্যেককে সমান সুযোগ দেওয়ার প্রয়োজন। তাহলেই সর্বত্র সমান উন্নতি দেখা দেবে, আর কোথাও কোনো গরীব মানুষ থাকবে না। সকলেই ধনী হবে। “অভিশাপের পরোয়ানা”- সৃষ্টি হওয়ার সম্ভাবনা থাকবে না !!
যদি এরূপ না করা হয় তাহলে এক দলের দুঃখ-কষ্ট, অন্যদলের অগ্রগতিকে ব্যাহত করবে । শরীরের কোনো অংশে রোগ দেখা দিলে বা যন্ত্রণা হলে _সমগ্র শরীরের যেমন ক্ষতি হয়, সেরূপ সমাজের কোনো এক অংশের দুর্দশা বা দারিদ্র সমগ্র সমাজের শান্তি এবং অগ্রগতিকে বিপন্ন করে । সুতরাং প্রত্যেক ব্যক্তি তথা পরিবারের উন্নতির কথা চিন্তা করে সমাজকে একটা ব্যাপক নিয়ম গ্রহণ করতে হবে।।(ক্রমশঃ)
*স্বামী বাউলানন্দজীর আধ্যাত্মিক আলোচনা*
~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~
বাবা, প্রাচীনকালে একজন আচার্য সামান্য জিনিষের সাহায্যে কি অসামান্য শিক্ষাই না দিতে পারতেন। একটা দৃষ্টান্ত দিই। কোন প্রকারেই গুরু শিষ্যকে বুঝিয়ে উঠতে পারছিলেন না কিভাবে ব্ৰহ্ম সমস্ত কিছুর মধ্যে অনুস্যূত রয়েছেন। শেষে শিষ্যকে বলেন ‘ বৎস, কিঞ্চিৎ সৈন্ধব-লবণ আনয়ন কর।’ নুন এলে তিনি বললেন ‘ ইহা কমণ্ডলুর জলে প্রক্ষেপ করিয়া দণ্ড দ্বারা বিক্ষুব্ধ কর। ‘ একটু পরেই নুন জলে মিলিয়ে গেল। গুরু তখন শিষ্যকে জিজ্ঞাসা করলেন ‘ লবণ কুত্ৰ অন্তর্নিহিত হইল?’ ‘ নিশ্চয় তা জলেতেই রয়েছে ‘ শিষ্য বললাে। ‘এক বিন্দু আস্বাদন কর ’ বলেন গুরু। ‘ হ্যাঁ গুরুদেব, জল নােন্তা ’ শিষ্য জানায়। ‘ বৎস, এক্ষণে পৃথকভাবে কমণ্ডলুর ঊর্ধ্ব, অধঃ, পার্শ্ব এবং মধ্যস্থল হইতে এক এক বিন্দু জল আহরণ পূর্বক আস্বাদন কর ’ গুরু নির্দেশ দিলেন এবং শিষ্য সেরূপ করে প্রতিবারেই ‘নােন্তা’ জানাল। গুরুদেব বলেন ‘ বৎস, এমন কেন? ’ ‘ যদিও দৃশ্য নয় তবু ঐ লবণই সারা জলে অনুস্যূত হয়ে রয়েছে, —জল লবণে ওতপ্রােত ’ শিষ্য নিজেই বলে এবার। ‘ বৎস, ঠিক একই ভাবে ব্ৰহ্ম সব কিছুতে অনুস্যূত আর সব কিছু ব্ৰহ্মে ওতপ্রােত’ বলেন গুরুদেব।
বর্তমান শিক্ষা-পদ্ধতির ব্যর্থতা সহজেই ধরা পড়ে। মানুষের মধ্যে মনুষ্যত্ব আনতে এ শিক্ষা একান্তই অসমর্থ। নানা যন্ত্রপাতি, ল্যাবরেটরী রয়েছে সত্য কিন্তু বর্তমান শিক্ষা ব্যবস্থা না চিন্তার কৌশল বলে দিতে পারে, না পারে চরিত্র গঠন করতে। তবুও বলবাে এই যে Kinder garten ব্যবস্থা এরও মূল্য আছে। মস্তিষ্কের কোষ খুলে দিতে এবং দৃষ্টির প্রসারতা বাড়াতে কিছুটা অবশ্যই সাহায্য করে।
একশ’ বছর আগের তুলনায় আমাদের আজকের সমাজ অবশ্যই অনেক উন্নত। এইসব মায়েদের দেখ । পুরুষের নজর থেকে নিজেদের আড়াল করার জন্য আর চিকের পিছনে বসতে হচ্ছে না। আগে বলা হােতো, মেয়ে যদি লেখাপড়া শেখে তবে সে বিধবা হবে । এরা এখন শিক্ষিতা হয়ে উঠছে। খুব একটা উপযােগী না হােলেও এ শিক্ষাও শুভ হয়েছে। পুরো অন্ধের চাইতে একটু কানা ভাল । শিক্ষা মনের প্রসারতা আনছে। (ক্রমশঃ)
উৎপন্ন দ্রব্য এবং সম্পদের অধিকারী হয়ে এই ধনী সম্প্রদায় আরো ধনী হচ্ছে । আর গরীব সম্প্রদায় প্রতি বৎসর উৎপন্ন দ্রব্য অল্প পরিমাণে পেয়ে আরো গরীব হচ্ছে।গরীব সম্প্রদায় ধনী সম্প্রদায়কে ঈর্ষা এবং ঘৃণার চোখে দেখে । ক্রমে ক্রমে এই ঈর্ষা এবং ঘৃণা ক্রোধে রূপ নেয়। ক্রোধপূর্ণ চিন্তাভাবনা বায়ুমন্ডলে কম্পিত হতে থাকে এবং সেই কম্পন বায়ুমণ্ডল থেকে ওই ধরনের চিন্তাভাবনাকে আকর্ষণ করে ক্রমশ বলশালী হতে থাকে। তাদের এই আকাঙ্ক্ষা মানবোচিত এবং স্বাভাবিক বলে বায়ুমন্ডলে আধ্যাত্মিক ব্যক্তির যে কম্পন রয়েছে __তার সমর্থন পায় ! এই ভাবেই সেই আকাঙ্ক্ষা-শক্তি বলশালী হয়ে একটা “অভিশাপের পরোয়ানা”- রূপে সমাজে আছড়ে পরে । এটিই একদিন ধনীদেরকে তাদের সম্পদ হতে বঞ্চিত করবে । তাছাড়া বস্তুর একটা নিজস্ব কার্য-কারণ সূত্র আছে। ধনীর সম্পত্তি বা সম্পদও এই সূত্রের অধীন এবং কালে তা ক্ষয়প্রাপ্ত হয়। এইভাবে বাইরে থেকে “অভিশাপের পরোয়ানা” দ্বারা আক্রান্ত হয় এবং ভিতর থেকে বস্তুর “কার্য-কারণ সূত্রে-র দ্বারা আঘাত পেয়ে _ধনীব্যক্তিও নানা বিপর্যয়ের সম্মুখীন হয় এবং কালক্রমে একদিন সে গরীব হয়ে যায় ।
এই “অভিশাপের পরোয়ানা”-ই ধনীর পতন ঘটায় এবং এর ফলেই তাদের দুঃখ কষ্ট হয়,আর গরীব অবস্থায় অবশেষে তাদের মৃত্যু ঘটে । কালে এরাও(যেহেতু তারা তখন গরীব) ধনীদের বিরুদ্ধে একই ধরনের “অভিশাপের পরোয়ানা”- তৈরি করে ! গরিবের এই “অভিশাপের পরোয়ানা” এবং ধনীদের মনোজগতের দুঃখ-কষ্ট আবহমানকালের বৈশিষ্ট্য হয়ে দাঁড়ায় এবং বৃহত্তর রূপে সমাজ তার ঈপ্সিত শান্তি পায় না ।
এই সমস্ত অসুবিধা দূর করতে হোলে সমাজপতিদের বোঝা উচিত যে, জল এবং জমি প্রকৃতির দান এবং তা একচেটিয়া ভোগের বস্তু নয় ! অন্য সকলকে একই পর্যায়ে আনার জন্য ঐ মুষ্টিমেয় কয়েকজনকে নিম্ন পর্যায়ে নিয়ে আসতে হবে । এইভাবে প্রকৃতির যে দান _তার সমবন্টন হবে । সমাজের প্রত্যেককে উন্নত করার জন্য, প্রত্যেককে সমান সুযোগ দেওয়ার প্রয়োজন। তাহলেই সর্বত্র সমান উন্নতি দেখা দেবে, আর কোথাও কোনো গরীব মানুষ থাকবে না। সকলেই ধনী হবে। “অভিশাপের পরোয়ানা”- সৃষ্টি হওয়ার সম্ভাবনা থাকবে না !!
যদি এরূপ না করা হয় তাহলে এক দলের দুঃখ-কষ্ট, অন্যদলের অগ্রগতিকে ব্যাহত করবে । শরীরের কোনো অংশে রোগ দেখা দিলে বা যন্ত্রণা হলে _সমগ্র শরীরের যেমন ক্ষতি হয়, সেরূপ সমাজের কোনো এক অংশের দুর্দশা বা দারিদ্র সমগ্র সমাজের শান্তি এবং অগ্রগতিকে বিপন্ন করে । সুতরাং প্রত্যেক ব্যক্তি তথা পরিবারের উন্নতির কথা চিন্তা করে সমাজকে একটা ব্যাপক নিয়ম গ্রহণ করতে হবে।।(ক্রমশঃ)
*স্বামী বাউলানন্দজীর আধ্যাত্মিক আলোচনা*
~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~
বাবা, প্রাচীনকালে একজন আচার্য সামান্য জিনিষের সাহায্যে কি অসামান্য শিক্ষাই না দিতে পারতেন। একটা দৃষ্টান্ত দিই। কোন প্রকারেই গুরু শিষ্যকে বুঝিয়ে উঠতে পারছিলেন না কিভাবে ব্ৰহ্ম সমস্ত কিছুর মধ্যে অনুস্যূত রয়েছেন। শেষে শিষ্যকে বলেন ‘ বৎস, কিঞ্চিৎ সৈন্ধব-লবণ আনয়ন কর।’ নুন এলে তিনি বললেন ‘ ইহা কমণ্ডলুর জলে প্রক্ষেপ করিয়া দণ্ড দ্বারা বিক্ষুব্ধ কর। ‘ একটু পরেই নুন জলে মিলিয়ে গেল। গুরু তখন শিষ্যকে জিজ্ঞাসা করলেন ‘ লবণ কুত্ৰ অন্তর্নিহিত হইল?’ ‘ নিশ্চয় তা জলেতেই রয়েছে ‘ শিষ্য বললাে। ‘এক বিন্দু আস্বাদন কর ’ বলেন গুরু। ‘ হ্যাঁ গুরুদেব, জল নােন্তা ’ শিষ্য জানায়। ‘ বৎস, এক্ষণে পৃথকভাবে কমণ্ডলুর ঊর্ধ্ব, অধঃ, পার্শ্ব এবং মধ্যস্থল হইতে এক এক বিন্দু জল আহরণ পূর্বক আস্বাদন কর ’ গুরু নির্দেশ দিলেন এবং শিষ্য সেরূপ করে প্রতিবারেই ‘নােন্তা’ জানাল। গুরুদেব বলেন ‘ বৎস, এমন কেন? ’ ‘ যদিও দৃশ্য নয় তবু ঐ লবণই সারা জলে অনুস্যূত হয়ে রয়েছে, —জল লবণে ওতপ্রােত ’ শিষ্য নিজেই বলে এবার। ‘ বৎস, ঠিক একই ভাবে ব্ৰহ্ম সব কিছুতে অনুস্যূত আর সব কিছু ব্ৰহ্মে ওতপ্রােত’ বলেন গুরুদেব।
বর্তমান শিক্ষা-পদ্ধতির ব্যর্থতা সহজেই ধরা পড়ে। মানুষের মধ্যে মনুষ্যত্ব আনতে এ শিক্ষা একান্তই অসমর্থ। নানা যন্ত্রপাতি, ল্যাবরেটরী রয়েছে সত্য কিন্তু বর্তমান শিক্ষা ব্যবস্থা না চিন্তার কৌশল বলে দিতে পারে, না পারে চরিত্র গঠন করতে। তবুও বলবাে এই যে Kinder garten ব্যবস্থা এরও মূল্য আছে। মস্তিষ্কের কোষ খুলে দিতে এবং দৃষ্টির প্রসারতা বাড়াতে কিছুটা অবশ্যই সাহায্য করে।
একশ’ বছর আগের তুলনায় আমাদের আজকের সমাজ অবশ্যই অনেক উন্নত। এইসব মায়েদের দেখ । পুরুষের নজর থেকে নিজেদের আড়াল করার জন্য আর চিকের পিছনে বসতে হচ্ছে না। আগে বলা হােতো, মেয়ে যদি লেখাপড়া শেখে তবে সে বিধবা হবে । এরা এখন শিক্ষিতা হয়ে উঠছে। খুব একটা উপযােগী না হােলেও এ শিক্ষাও শুভ হয়েছে। পুরো অন্ধের চাইতে একটু কানা ভাল । শিক্ষা মনের প্রসারতা আনছে। (ক্রমশঃ)
