স্বামী বাউলানন্দজীর ভ্রমণকালীন সময়ের ঘটনাসমূহ এখানে আলোচনা করা হচ্ছিলো। স্বামীজী পেরেন্টাপল্লী আশ্রমে বেশ কিছুদিন থাকার পর রাজমন্দ্রি এসেছিলেন । এখানে তিনি একটি Neti(নেতি)-পরিবারের ওপর তলার একটি ঘরে অবস্থান করছিলেন। বাড়িটি ‘পুষ্করঘাট’ নামক অঞ্চলের খুব নিকটে। বাড়ির সামনের দিকে গোদাবরী নদী, রাস্তার অপর পারে এবং বাড়িটির ঠিক বিপরীত দিকে ‘বাবাজি মঠ’ নামে একটি মঠ অবস্থিত ছিল। সেই ঘরের বারান্দায় বসে গোদাবরীর বিশাল জলরাশির সৌন্দর্য দেখে তাঁর মন প্রফুল্ল হয়ে উঠতো।
বাড়িটির একদিকে রেললাইন ছিল এবং রেললাইনের অপরদিকে কয়েকটা টালির বাড়ি ছিল । ওই সব বাড়িতে রেলের কর্মচারীরা থাকতো । এর মধ্যে একটা বাড়িতে রেলের এক হিসাবরক্ষক(নাম জানা নাই) থাকতেন। তিনি ছিলেন তামিলভাষী এবং খুব ধার্মিক ব্যক্তি, রেলওয়ে ইঞ্জিনিয়ার অফিসে তিনি কাজ করতেন । তখন বয়স ছিল 54 । ওখানে তিনি সস্ত্রীক বাস করতেন। তাদের কোন সন্তানাদি ছিল না।
একজন প্রতিবেশী বন্ধু এই ধার্মিক দম্পতির সঙ্গে স্বামীজীর পরিচয় করিয়ে দিয়েছিলেন । ওই হিসাবরক্ষক স্বামীজীর সঙ্গে সাধারণ কথাবার্তা নিয়ে আলোচনা করতে করতে দীর্ঘক্ষন কাটিয়ে দিতেন । স্বামীজি তাঁর সঙ্গ এবং তাঁর সঙ্গে এই আলোচনায় বেশ আনন্দ পেতেন । এক ছুটির দিনে ওই হিসাব রক্ষক স্বামীজীর ঘরে এসে কথা বলতে লাগলেন । তিনি স্বামীজীকে তাঁর লব্ধ অভিজ্ঞতা সম্বন্ধে কিছু বলার জন্য অনুরোধ করলেন । স্বামীজী পেরেন্টাপল্লী আশ্রমের এক অভিজ্ঞতার কথা তাঁকে বললেন ।
‘একদিন স্বামীজী আশ্রম কুঠিরে টাঙ্গানো স্বামী বিবেকানন্দ এবং স্বামী রামতীর্থের ছবির সামনে দাঁড়িয়ে আছেন, এমন সময় হঠাৎ তাঁর অদ্ভুত এক দর্শন হয়েছিল! মাটি ফুঁড়ে দুধের মত সাদা জ্যোতি বেরিয়ে এসে স্বামীজীর পা ভেদ করে আস্তে আস্তে উপরের দিকে উঠতে লাগলো । যখন এই জ্যোতি উরুতে এসে পৌঁছালো তখন তাঁর শরীর অবশ হয়ে গিয়েছিল । শরীরে কোনো অনুভূতি ছিলনা । এরপর এই জ্যোতি আরো উপরে উঠে গলা পর্যন্ত পৌঁছালো! স্বামীজি অনুভব করলেন গলার নিচে যেন তাঁর আর কোনো অঙ্গই নাই! তখন তাঁর ভয় হোলো। ভীত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে সবকিছুই মিলিয়ে গেল এবং তিনি স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে এলেন !
এই ঘটনা শুনে হিসাবরক্ষক চিৎকার করে বলে উঠলেন_” কি দুর্ভাগ্য! স্বামীজী, আপনি ভয় পেলেন কেন?” এই কথা বলার সঙ্গে সঙ্গে তাঁর চোখ হোতে বেগে অশ্রু ঝরতে লাগলো এবং সেই হিসাবরক্ষক বাকরুদ্ধ হয়ে বসে রইলেন ! সহসা তিনি গভীর সমাধিতে নিমগ্ন হয়ে গেলেন এবং স্থির হয়ে চেয়ারে বসে রইলেন! কোনরকম নড়ন-চড়ন নাই। স্বামীজী বসে বসে তাঁকে নিরীক্ষণ করতে লাগলেন । এদিকে সন্ধ্যা হয়ে গেল, তখনো তাঁর একই অবস্থা ! রাত্রি সাড়ে সাতটার সময় স্বামীজী হিসাবরক্ষকের বাড়িতে গিয়ে তার স্ত্রীকে খবর দিলেন ।
হিসাবরক্ষকের স্ত্রী স্বামীজীর ঘরে এসে দেখলেন তার স্বামী গভীর সমাধিতে নিমগ্ন । তিনি বললেন, “স্বামীজী! ইনি ভাগ্যবান । দীর্ঘদিন হোল তাঁর এই অবস্থা হয় নাই, আজ হোল ! আমরাও তা প্রত্যক্ষ করলাম_ আমরাও ভাগ্যবান ! স্বামীজীর সামনে দাঁড়িয়ে সেই স্ত্রীলোকটি তার স্বামীকে নিরীক্ষণ করতে লাগলেন। আরো একঘন্টা পরে হিসাবরক্ষক চোখ খুললেন এবং তার স্ত্রীর সাথে বাড়ি ফিরে গেলেন।
*স্বামী বাউলানন্দজীর আধ্যাত্মিক আলোচনা*
~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~
[একটা কথা আছে যে সমান অপরাধের জন্য একজন শূদ্রের চাইতে একজন ব্রাহ্মণ অধিক শাস্তির যোগ্য। কেন ? –কারণ ব্রাহ্মণটি অধিক শিক্ষা-দীক্ষালাভ করার সুযােগ পেয়েছে। এই প্রসঙ্গে পরমাত্মনের শ্রীমুখ থেকে শােনা স্বামী বাউলানন্দের জীবনের একটি কাহিনী বলার ইচ্ছা হচ্ছে ।]
“একজন IFS অফিসার স্বামী বাউলানন্দের সাথে দেখা করতে এলেন এবং জুতো পরেই সােজা কুঠিয়াতে প্রবেশ করলেন। স্বামীজী কতকটা তীক্ষ স্বরেই তাঁকে বললেন ‘জুতো বাইরে ছেড়ে আসুন’। অফিসারটি, এমন প্রত্যাশা করেন নি । বরং তিনি আশা করেছিলেন যে, সরকারী পদমর্যাদার জন্য তাকে সাদর অভ্যর্থনা জানান হবে। জুতাে খুলতে খুলতে তার মনে পড়লো যে তার কোমরেও রয়েছে একটা চামড়ার বেল্ট। ইচ্ছা করেই বেল্টটা খুললেন না এই ভেবে যে, ওটার মাধ্যমেই স্বামীজীর মুখের উপর একটা জবাব দেওয়া যাবে। তার এ-ও মনে হােলাে যে স্বামীজীর চামড়ার প্রতি এ্যালার্জী রয়েছে।
জুতো বাইরে রেখে সবে তিনি কুঠিয়ায় ঢুকেছেন, কোত্থেকে এক দঙ্গল ছেলেমেয়ে ছেঁড়া-ফাটা-নােংরা জুতো নিয়ে সেই কুঠিয়ায় হুড়মুড়িয়ে ঢুকে পড়লো। অত্যন্ত স্নেহের সুরে স্বামীজী ওদের বললেন ‘ঘরের মধ্যে জুতাে পরে আসতে নেই। যাও, খুলে বাইরে রেখে এসো।’ সেকথা শুনেই অফিসার টি বললেন ‘ওদের অমন করে আর আমায় ওরকম করে বললেন ?’ ‘ওরা যে শিশু, জ্ঞান নেই। ওদের বুঝিয়ে দিতে হবে। কিন্তু আপনি তো সমাজ থেকে উপযুক্ত শিক্ষা লাভ করেছেন।’ —বললেন স্বামী বাউলানন্দ। হতভাগ্য অফিসারটি আবার বললেন ‘আপনি আমায় জুতো ছাড়তে বললেন, কই, বেল্টটাতো খুলতে বললেন না! ওটাও তো চামড়ার !’ ‘দেখবাপু, শরীরে নানা ছিদ্র রয়েছে, তার মধ্যে একটা মুখ আর একটা গুহ্যদ্বার। তুমি তাে এটা দিয়ে খাও আর ওটা দিয়ে মলত্যাগ কর, –তাই না? দুটোই কি সমান ? জুতো আর বেল্টে কি কোন পার্থক্যই নেই ?’ স্বামীজীর এই কথা শুনে অফিসারটির মুখ দিয়ে আর কোন কথা সরে না । (ক্রমশঃ)
বাড়িটির একদিকে রেললাইন ছিল এবং রেললাইনের অপরদিকে কয়েকটা টালির বাড়ি ছিল । ওই সব বাড়িতে রেলের কর্মচারীরা থাকতো । এর মধ্যে একটা বাড়িতে রেলের এক হিসাবরক্ষক(নাম জানা নাই) থাকতেন। তিনি ছিলেন তামিলভাষী এবং খুব ধার্মিক ব্যক্তি, রেলওয়ে ইঞ্জিনিয়ার অফিসে তিনি কাজ করতেন । তখন বয়স ছিল 54 । ওখানে তিনি সস্ত্রীক বাস করতেন। তাদের কোন সন্তানাদি ছিল না।
একজন প্রতিবেশী বন্ধু এই ধার্মিক দম্পতির সঙ্গে স্বামীজীর পরিচয় করিয়ে দিয়েছিলেন । ওই হিসাবরক্ষক স্বামীজীর সঙ্গে সাধারণ কথাবার্তা নিয়ে আলোচনা করতে করতে দীর্ঘক্ষন কাটিয়ে দিতেন । স্বামীজি তাঁর সঙ্গ এবং তাঁর সঙ্গে এই আলোচনায় বেশ আনন্দ পেতেন । এক ছুটির দিনে ওই হিসাব রক্ষক স্বামীজীর ঘরে এসে কথা বলতে লাগলেন । তিনি স্বামীজীকে তাঁর লব্ধ অভিজ্ঞতা সম্বন্ধে কিছু বলার জন্য অনুরোধ করলেন । স্বামীজী পেরেন্টাপল্লী আশ্রমের এক অভিজ্ঞতার কথা তাঁকে বললেন ।
‘একদিন স্বামীজী আশ্রম কুঠিরে টাঙ্গানো স্বামী বিবেকানন্দ এবং স্বামী রামতীর্থের ছবির সামনে দাঁড়িয়ে আছেন, এমন সময় হঠাৎ তাঁর অদ্ভুত এক দর্শন হয়েছিল! মাটি ফুঁড়ে দুধের মত সাদা জ্যোতি বেরিয়ে এসে স্বামীজীর পা ভেদ করে আস্তে আস্তে উপরের দিকে উঠতে লাগলো । যখন এই জ্যোতি উরুতে এসে পৌঁছালো তখন তাঁর শরীর অবশ হয়ে গিয়েছিল । শরীরে কোনো অনুভূতি ছিলনা । এরপর এই জ্যোতি আরো উপরে উঠে গলা পর্যন্ত পৌঁছালো! স্বামীজি অনুভব করলেন গলার নিচে যেন তাঁর আর কোনো অঙ্গই নাই! তখন তাঁর ভয় হোলো। ভীত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে সবকিছুই মিলিয়ে গেল এবং তিনি স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে এলেন !
এই ঘটনা শুনে হিসাবরক্ষক চিৎকার করে বলে উঠলেন_” কি দুর্ভাগ্য! স্বামীজী, আপনি ভয় পেলেন কেন?” এই কথা বলার সঙ্গে সঙ্গে তাঁর চোখ হোতে বেগে অশ্রু ঝরতে লাগলো এবং সেই হিসাবরক্ষক বাকরুদ্ধ হয়ে বসে রইলেন ! সহসা তিনি গভীর সমাধিতে নিমগ্ন হয়ে গেলেন এবং স্থির হয়ে চেয়ারে বসে রইলেন! কোনরকম নড়ন-চড়ন নাই। স্বামীজী বসে বসে তাঁকে নিরীক্ষণ করতে লাগলেন । এদিকে সন্ধ্যা হয়ে গেল, তখনো তাঁর একই অবস্থা ! রাত্রি সাড়ে সাতটার সময় স্বামীজী হিসাবরক্ষকের বাড়িতে গিয়ে তার স্ত্রীকে খবর দিলেন ।
হিসাবরক্ষকের স্ত্রী স্বামীজীর ঘরে এসে দেখলেন তার স্বামী গভীর সমাধিতে নিমগ্ন । তিনি বললেন, “স্বামীজী! ইনি ভাগ্যবান । দীর্ঘদিন হোল তাঁর এই অবস্থা হয় নাই, আজ হোল ! আমরাও তা প্রত্যক্ষ করলাম_ আমরাও ভাগ্যবান ! স্বামীজীর সামনে দাঁড়িয়ে সেই স্ত্রীলোকটি তার স্বামীকে নিরীক্ষণ করতে লাগলেন। আরো একঘন্টা পরে হিসাবরক্ষক চোখ খুললেন এবং তার স্ত্রীর সাথে বাড়ি ফিরে গেলেন।
*স্বামী বাউলানন্দজীর আধ্যাত্মিক আলোচনা*
~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~
[একটা কথা আছে যে সমান অপরাধের জন্য একজন শূদ্রের চাইতে একজন ব্রাহ্মণ অধিক শাস্তির যোগ্য। কেন ? –কারণ ব্রাহ্মণটি অধিক শিক্ষা-দীক্ষালাভ করার সুযােগ পেয়েছে। এই প্রসঙ্গে পরমাত্মনের শ্রীমুখ থেকে শােনা স্বামী বাউলানন্দের জীবনের একটি কাহিনী বলার ইচ্ছা হচ্ছে ।]
“একজন IFS অফিসার স্বামী বাউলানন্দের সাথে দেখা করতে এলেন এবং জুতো পরেই সােজা কুঠিয়াতে প্রবেশ করলেন। স্বামীজী কতকটা তীক্ষ স্বরেই তাঁকে বললেন ‘জুতো বাইরে ছেড়ে আসুন’। অফিসারটি, এমন প্রত্যাশা করেন নি । বরং তিনি আশা করেছিলেন যে, সরকারী পদমর্যাদার জন্য তাকে সাদর অভ্যর্থনা জানান হবে। জুতাে খুলতে খুলতে তার মনে পড়লো যে তার কোমরেও রয়েছে একটা চামড়ার বেল্ট। ইচ্ছা করেই বেল্টটা খুললেন না এই ভেবে যে, ওটার মাধ্যমেই স্বামীজীর মুখের উপর একটা জবাব দেওয়া যাবে। তার এ-ও মনে হােলাে যে স্বামীজীর চামড়ার প্রতি এ্যালার্জী রয়েছে।
জুতো বাইরে রেখে সবে তিনি কুঠিয়ায় ঢুকেছেন, কোত্থেকে এক দঙ্গল ছেলেমেয়ে ছেঁড়া-ফাটা-নােংরা জুতো নিয়ে সেই কুঠিয়ায় হুড়মুড়িয়ে ঢুকে পড়লো। অত্যন্ত স্নেহের সুরে স্বামীজী ওদের বললেন ‘ঘরের মধ্যে জুতাে পরে আসতে নেই। যাও, খুলে বাইরে রেখে এসো।’ সেকথা শুনেই অফিসার টি বললেন ‘ওদের অমন করে আর আমায় ওরকম করে বললেন ?’ ‘ওরা যে শিশু, জ্ঞান নেই। ওদের বুঝিয়ে দিতে হবে। কিন্তু আপনি তো সমাজ থেকে উপযুক্ত শিক্ষা লাভ করেছেন।’ —বললেন স্বামী বাউলানন্দ। হতভাগ্য অফিসারটি আবার বললেন ‘আপনি আমায় জুতো ছাড়তে বললেন, কই, বেল্টটাতো খুলতে বললেন না! ওটাও তো চামড়ার !’ ‘দেখবাপু, শরীরে নানা ছিদ্র রয়েছে, তার মধ্যে একটা মুখ আর একটা গুহ্যদ্বার। তুমি তাে এটা দিয়ে খাও আর ওটা দিয়ে মলত্যাগ কর, –তাই না? দুটোই কি সমান ? জুতো আর বেল্টে কি কোন পার্থক্যই নেই ?’ স্বামীজীর এই কথা শুনে অফিসারটির মুখ দিয়ে আর কোন কথা সরে না । (ক্রমশঃ)
