স্বামী বাউলানন্দজীর ভ্রমণকালীন সময়ের ঘটনাসমূহ এখানে আলোচনা করা হচ্ছিলো। এখন স্বামীজী পেরেন্টাপল্লীতে থাকাকালীন সময়ের কথা বলা হচ্ছিলো।
শতাব্দীর পর শতাব্দী পার হয়ে গেল। আজ রাজনৈতিক ও ধর্মীয় নেতারা সমাজের কর্তা হয়ে দাঁড়িয়েছে । তারা অবতারদের বানীর সঙ্গে নিজেদের মত জুড়ে দিতে শুরু করে মানুষের চরম ক্ষতি করেছে ।
ধর্ম মানুষকে নিঃস্বার্থ হোতে শেখায় এবং তাকে ঈশ্বরের নিকট পৌঁছে দিতে সাহায্য করে । কিন্তু রাজনৈতিক এবং ধর্মীয় নেতারা কতকগুলি বিশেষ সুযোগ-সুবিধা ভোগ করে থাকে এবং সুবিধাগুলি নিজেদের ক্ষেত্রে বহাল রাখার জন্য উদ্বিগ্ন হয়ে থাকে । এই ভাবে তারা স্বার্থপর হয়ে পড়ে । তাদের এই স্বার্থপরতা ধর্মের মধ্যে প্রবেশ কোরে ধর্মকে সামগ্রিকভাবে স্বার্থপর করে তোলে । এই স্বার্থপরতাই সমাজকে আধ্যাত্মিকতার পথ থেকে সরিয়ে দিয়েছে,ফলে ধর্ম তার লক্ষ্য হারিয়ে ফেলেছে ।
ধর্মজগতের এই হল দুঃখজনক অবস্থা ! এর ফলে খ্রীস্টধর্ম সহ সব ধরনের ধর্মমতের অবনতি ঘটেছে । ধর্মের এই অবক্ষয় থেকে মানুষের সরে দাঁড়ানো উচিত । তাহলে সে আধ্যাত্মিকতার ফল আস্বাদন করতে সক্ষম হবে। একমাত্র তখনই সমাজের সমস্ত সমস্যার সমাধান সম্ভব । স্বামীজী ভাবতে লাগলেন_ “আধ্যাত্মিক পুরুষদের উচিত এই পরিস্থিতি সৃষ্টির জন্য জেগে ওঠা!” তিনি যিশুখ্রীস্টের কৃপা অনুভব করলেন । পরম আনন্দে করজোড়ে গেটে দন্ডায়মান ব্যক্তিকে নমস্কার জানালেন।
কিন্তু সেই যুবকটি হঠাৎ অদৃশ্য হয়ে গেলো। তবু স্বামীজী পরম আনন্দ এবং চরম তৃপ্তিতে ভরপুর হয়ে উঠলেন ।
এই ঘটনার পর কয়েকদিন অতিক্রান্ত হয়ে গেল । একদিন এক অতিথি আশ্রমে এলেন । পরনে তার গেরুয়া বস্ত্র, মাথায় জটা এবং লম্বা দাড়ি । কাঁধে তার বড় একটা বোঁচকা ! তিনি বোঁচকা নামিয়ে স্বামীজীকে সাষ্টাঙ্গ প্রণাম করলেন । স্বামীজী মৃদু হেসে তাঁকে সাদর অভ্যর্থনা জানালেন ।
নবাগত অতিথিটি আশ্রমের চতুর্দিকের প্রকৃতির অদ্ভুত শোভা দেখলেন । আশ্রমের পিছনেই পাহাড়, বন, উভয় দিকে প্রবাহিত ঝরনার অবিরাম গুঞ্জন ধ্বনি ! স্থানটি জনকোলাহল মুক্ত, সেখানে সদা বিরাজিত শান্তি__ আশ্রমের এই সৌন্দর্যের তিনি মুগ্ধ হোলেন । তিনি খুব খুশি হয়ে বললেন _”এই হোল তপস্যার উপযুক্ত স্থান ! এই আশ্রমকে পুরানে বর্ণিত মহর্ষির আশ্রমের মতো দেখাচ্ছে। ভারতবর্ষে অনেক আশ্রম আছে কিন্তু এই ধরনের পরিবেশ এবং প্রশান্তি কোনো স্থানের মেলেনা!” তারপর স্বামী বাউলানন্দজীকে উদ্দেশ্য করে বললেন_”স্বামীজী ! আপনি খুব ভাগ্যবান, আপনি এরকম সুন্দর জায়গা পেয়েছেন ! অন্য সকলের যা পায় না __আপনি তা পেয়েছেন ! সর্বান্তকরণে আপনাকে আমি অভিনন্দন জানাই !”
সাধনা করার নিমিত্তে ওই আশ্রমে কিছুদিন থাকার জন্য তিনি স্বামীজীর নিকট প্রার্থনা জানালেন । স্বামীজী তৎক্ষণাৎ রাজি হয়ে গেলেন। মাথা নেড়ে সম্মতি জানিয়ে তিনি তাঁকে একটি কুটির দেখিয়ে দিলেন । নবাগত ব্যক্তিটি বোঁচকা নিয়ে সেই কুটিরে ঢুকে গেলেন ।
তাঁর বোঁচকার মধ্যে ছিল অনেকগুলি ছোট ছোট ধাতুনির্মিত দেবদেবীর মূর্তি ! প্রত্যহ সকালে তিনি সেগুলিকে বোঁচকা হতে বার করে ধোয়া-মোছা করতেন এবং পূজা করতেন । দুপুর পার হয়ে গেলে তাঁর পূজা শেষ হোতো । পূজা সেরে তিনি রান্না করতেন । সমস্ত দেবদেবীকে ভোগ নিবেদন করে সেই ভোগ তিনি খেতেন ।
এইভাবে সারাদিন তিনি কাজে নিযুক্ত থাকতেন । স্বামীজীর সঙ্গে কথা বলার তাঁর সময় হোতো না । তবে রাতে রান্না খাওয়া সেরে তিনি স্বামীজীর কাছে বসতেন। স্বামীজী কিন্তু তাঁর স্বভাব অনুযায়ী বিশেষ কোনো কথা বলতেন না । এইভাবে উভয়ের মধ্যে কোন কথা বিনিময় ছাড়াই দিন কেটে যেত । মাঝেমাঝে স্বামীজী যখন কথা বলতেন_ সেই সময় নবাগত অতিথি কিছু গাছ-গাছড়ার ঔষধের কথা জিজ্ঞাসা করতেন । কিন্তু স্বামীজীর নিকট হোতে সে বিষয়ে বিশেষ কোনো উত্তর পেতেন না । তথাপি তিনি গাছ-গাছড়ার ঔষধের কথাই জিজ্ঞাসা করে যেতেন !
*স্বামী বাউলানন্দজীর আধ্যাত্মিক আলোচনা*
………………………………………………………………
… সুতরাং চিরস্থায়ী সুখ এবং নিরাপত্তালাভ করা নূতন কিছু ব্যাপার নয়। একে পুরাতন (ক্ষণস্থায়ী সুখ এবং নিরাপত্তা)-এর ধারাবাহিকতা বলা যেতে পারে। অর্থাৎ প্রচেষ্টা ত্যাগ নয়, ভগবৎমুখী হয়ে ঐ প্রযত্ন অব্যাহত রাখতে হবে। আমাদের বর্তমান প্রচেষ্টা প্রথম মইয়ে উঠার প্রচেষ্টা হতে পৃথক নয়, মই আলাদা ধরণের, কিন্তু প্রচেষ্টা একইরূপ। দ্বিতীয় মই হচ্ছে প্রথম মই-এর পরিপূরক। আমরা যদি সততার সঙ্গে পরিশ্রম করে ক্ষণস্থায়ী সুখ এবং নিরাপত্তা পাই তাহলে আমাদের প্রিয়জনকে ভুলি না, অবহেলা করি না। তারা আমাদের সুখের অংশীদার হয়। সেইরূপ শাশ্বত সুখ এবং নিরাপত্তা পেলেও আমরা তাদের ভুলি না। আমরা তাদেরকে উপরে তুলে নিই। তারা আমাদের শাশ্বত সুখ-নিরাপত্তার অনুসরণ করে। তাই শাশ্বত সুখ তথা আনন্দ ও নিরাপত্তা লাভের জন্য আমাদের কোন প্রকার ইতস্তত করলে চলবে না। বরং এগুলি লাভ করার জন্য আমাদের যথেষ্ট তৎপর হতে হবে।
যারা আমাদের প্রিয়জন নয়, তাদেরকেও আমরা অবহেলা করব না। পরন্তু তাদেরকে ঐ শাশ্বত সুখ ও নিরাপত্তা প্রাপ্ত হবার জন্য অনুপ্রাণিত করা উচিত।
আদর্শ পিতামাতা হিসাবে আমরা আমাদের সন্তান-সন্ততিদেরকে সুখ ও নিরাপত্তা হতে বঞ্চিত করি না, তাদের জন্য পরিশ্রম করে তাদের ভবিষ্যৎ সম্বন্ধে যত্নবান হই। যদি তাদের জন্য আমরা ওগুলি অর্জন না করি তাহলে তারা ওগুলি পাবে কেমন করে? সারাজীবন তারা অতৃপ্তিতে কাটাবে। যদি ওগুলি তাদেরকে আমরা না দিই তাহলে সাধারণ মানুষের সঙ্গে আমাদের পার্থক্য কোথায়?
শাশ্বত সুখ এবং শান্তি-প্রাপ্ত হওয়ার অধিকার আমাদের সকল সন্তান-সন্ততি জন্মসূত্রে পেয়েছে। সুতরাং আমাদের উচিত ওদেরকে তা প্রাপ্তির ক্ষেত্রে সহায়তা করা — সৎ হবার তথা ঈশ্বরমুখী হবার জন্য অনুপ্রেরণা দান করা। এই সঙ্গে জগতের সকলকেই আমাদের সন্তানবৎ স্বীকার করে নেবার মানসিকতা গঠন করতে হবে এবং তাদের প্রতি ক্রমান্বয়ে ঐরূপ ব্যবহারে প্রযত্নশীল হতে হবে। সকলকে আমাদের নিজের বলে স্বীকার করেই আমরা নিজেদেরকে সমষ্টিতে নিয়ে যেতে পারবাে এবং মানুষের লক্ষ্য পূরণ করতে সক্ষম হবাে।
আমাদের ভক্তদের মধ্যে সমষ্টি চেতনা গড়ে উঠুক। ঈশ্বরের জয়। জয় শ্রীরামকৃষ্ণ।
শতাব্দীর পর শতাব্দী পার হয়ে গেল। আজ রাজনৈতিক ও ধর্মীয় নেতারা সমাজের কর্তা হয়ে দাঁড়িয়েছে । তারা অবতারদের বানীর সঙ্গে নিজেদের মত জুড়ে দিতে শুরু করে মানুষের চরম ক্ষতি করেছে ।
ধর্ম মানুষকে নিঃস্বার্থ হোতে শেখায় এবং তাকে ঈশ্বরের নিকট পৌঁছে দিতে সাহায্য করে । কিন্তু রাজনৈতিক এবং ধর্মীয় নেতারা কতকগুলি বিশেষ সুযোগ-সুবিধা ভোগ করে থাকে এবং সুবিধাগুলি নিজেদের ক্ষেত্রে বহাল রাখার জন্য উদ্বিগ্ন হয়ে থাকে । এই ভাবে তারা স্বার্থপর হয়ে পড়ে । তাদের এই স্বার্থপরতা ধর্মের মধ্যে প্রবেশ কোরে ধর্মকে সামগ্রিকভাবে স্বার্থপর করে তোলে । এই স্বার্থপরতাই সমাজকে আধ্যাত্মিকতার পথ থেকে সরিয়ে দিয়েছে,ফলে ধর্ম তার লক্ষ্য হারিয়ে ফেলেছে ।
ধর্মজগতের এই হল দুঃখজনক অবস্থা ! এর ফলে খ্রীস্টধর্ম সহ সব ধরনের ধর্মমতের অবনতি ঘটেছে । ধর্মের এই অবক্ষয় থেকে মানুষের সরে দাঁড়ানো উচিত । তাহলে সে আধ্যাত্মিকতার ফল আস্বাদন করতে সক্ষম হবে। একমাত্র তখনই সমাজের সমস্ত সমস্যার সমাধান সম্ভব । স্বামীজী ভাবতে লাগলেন_ “আধ্যাত্মিক পুরুষদের উচিত এই পরিস্থিতি সৃষ্টির জন্য জেগে ওঠা!” তিনি যিশুখ্রীস্টের কৃপা অনুভব করলেন । পরম আনন্দে করজোড়ে গেটে দন্ডায়মান ব্যক্তিকে নমস্কার জানালেন।
কিন্তু সেই যুবকটি হঠাৎ অদৃশ্য হয়ে গেলো। তবু স্বামীজী পরম আনন্দ এবং চরম তৃপ্তিতে ভরপুর হয়ে উঠলেন ।
এই ঘটনার পর কয়েকদিন অতিক্রান্ত হয়ে গেল । একদিন এক অতিথি আশ্রমে এলেন । পরনে তার গেরুয়া বস্ত্র, মাথায় জটা এবং লম্বা দাড়ি । কাঁধে তার বড় একটা বোঁচকা ! তিনি বোঁচকা নামিয়ে স্বামীজীকে সাষ্টাঙ্গ প্রণাম করলেন । স্বামীজী মৃদু হেসে তাঁকে সাদর অভ্যর্থনা জানালেন ।
নবাগত অতিথিটি আশ্রমের চতুর্দিকের প্রকৃতির অদ্ভুত শোভা দেখলেন । আশ্রমের পিছনেই পাহাড়, বন, উভয় দিকে প্রবাহিত ঝরনার অবিরাম গুঞ্জন ধ্বনি ! স্থানটি জনকোলাহল মুক্ত, সেখানে সদা বিরাজিত শান্তি__ আশ্রমের এই সৌন্দর্যের তিনি মুগ্ধ হোলেন । তিনি খুব খুশি হয়ে বললেন _”এই হোল তপস্যার উপযুক্ত স্থান ! এই আশ্রমকে পুরানে বর্ণিত মহর্ষির আশ্রমের মতো দেখাচ্ছে। ভারতবর্ষে অনেক আশ্রম আছে কিন্তু এই ধরনের পরিবেশ এবং প্রশান্তি কোনো স্থানের মেলেনা!” তারপর স্বামী বাউলানন্দজীকে উদ্দেশ্য করে বললেন_”স্বামীজী ! আপনি খুব ভাগ্যবান, আপনি এরকম সুন্দর জায়গা পেয়েছেন ! অন্য সকলের যা পায় না __আপনি তা পেয়েছেন ! সর্বান্তকরণে আপনাকে আমি অভিনন্দন জানাই !”
সাধনা করার নিমিত্তে ওই আশ্রমে কিছুদিন থাকার জন্য তিনি স্বামীজীর নিকট প্রার্থনা জানালেন । স্বামীজী তৎক্ষণাৎ রাজি হয়ে গেলেন। মাথা নেড়ে সম্মতি জানিয়ে তিনি তাঁকে একটি কুটির দেখিয়ে দিলেন । নবাগত ব্যক্তিটি বোঁচকা নিয়ে সেই কুটিরে ঢুকে গেলেন ।
তাঁর বোঁচকার মধ্যে ছিল অনেকগুলি ছোট ছোট ধাতুনির্মিত দেবদেবীর মূর্তি ! প্রত্যহ সকালে তিনি সেগুলিকে বোঁচকা হতে বার করে ধোয়া-মোছা করতেন এবং পূজা করতেন । দুপুর পার হয়ে গেলে তাঁর পূজা শেষ হোতো । পূজা সেরে তিনি রান্না করতেন । সমস্ত দেবদেবীকে ভোগ নিবেদন করে সেই ভোগ তিনি খেতেন ।
এইভাবে সারাদিন তিনি কাজে নিযুক্ত থাকতেন । স্বামীজীর সঙ্গে কথা বলার তাঁর সময় হোতো না । তবে রাতে রান্না খাওয়া সেরে তিনি স্বামীজীর কাছে বসতেন। স্বামীজী কিন্তু তাঁর স্বভাব অনুযায়ী বিশেষ কোনো কথা বলতেন না । এইভাবে উভয়ের মধ্যে কোন কথা বিনিময় ছাড়াই দিন কেটে যেত । মাঝেমাঝে স্বামীজী যখন কথা বলতেন_ সেই সময় নবাগত অতিথি কিছু গাছ-গাছড়ার ঔষধের কথা জিজ্ঞাসা করতেন । কিন্তু স্বামীজীর নিকট হোতে সে বিষয়ে বিশেষ কোনো উত্তর পেতেন না । তথাপি তিনি গাছ-গাছড়ার ঔষধের কথাই জিজ্ঞাসা করে যেতেন !
*স্বামী বাউলানন্দজীর আধ্যাত্মিক আলোচনা*
………………………………………………………………
… সুতরাং চিরস্থায়ী সুখ এবং নিরাপত্তালাভ করা নূতন কিছু ব্যাপার নয়। একে পুরাতন (ক্ষণস্থায়ী সুখ এবং নিরাপত্তা)-এর ধারাবাহিকতা বলা যেতে পারে। অর্থাৎ প্রচেষ্টা ত্যাগ নয়, ভগবৎমুখী হয়ে ঐ প্রযত্ন অব্যাহত রাখতে হবে। আমাদের বর্তমান প্রচেষ্টা প্রথম মইয়ে উঠার প্রচেষ্টা হতে পৃথক নয়, মই আলাদা ধরণের, কিন্তু প্রচেষ্টা একইরূপ। দ্বিতীয় মই হচ্ছে প্রথম মই-এর পরিপূরক। আমরা যদি সততার সঙ্গে পরিশ্রম করে ক্ষণস্থায়ী সুখ এবং নিরাপত্তা পাই তাহলে আমাদের প্রিয়জনকে ভুলি না, অবহেলা করি না। তারা আমাদের সুখের অংশীদার হয়। সেইরূপ শাশ্বত সুখ এবং নিরাপত্তা পেলেও আমরা তাদের ভুলি না। আমরা তাদেরকে উপরে তুলে নিই। তারা আমাদের শাশ্বত সুখ-নিরাপত্তার অনুসরণ করে। তাই শাশ্বত সুখ তথা আনন্দ ও নিরাপত্তা লাভের জন্য আমাদের কোন প্রকার ইতস্তত করলে চলবে না। বরং এগুলি লাভ করার জন্য আমাদের যথেষ্ট তৎপর হতে হবে।
যারা আমাদের প্রিয়জন নয়, তাদেরকেও আমরা অবহেলা করব না। পরন্তু তাদেরকে ঐ শাশ্বত সুখ ও নিরাপত্তা প্রাপ্ত হবার জন্য অনুপ্রাণিত করা উচিত।
আদর্শ পিতামাতা হিসাবে আমরা আমাদের সন্তান-সন্ততিদেরকে সুখ ও নিরাপত্তা হতে বঞ্চিত করি না, তাদের জন্য পরিশ্রম করে তাদের ভবিষ্যৎ সম্বন্ধে যত্নবান হই। যদি তাদের জন্য আমরা ওগুলি অর্জন না করি তাহলে তারা ওগুলি পাবে কেমন করে? সারাজীবন তারা অতৃপ্তিতে কাটাবে। যদি ওগুলি তাদেরকে আমরা না দিই তাহলে সাধারণ মানুষের সঙ্গে আমাদের পার্থক্য কোথায়?
শাশ্বত সুখ এবং শান্তি-প্রাপ্ত হওয়ার অধিকার আমাদের সকল সন্তান-সন্ততি জন্মসূত্রে পেয়েছে। সুতরাং আমাদের উচিত ওদেরকে তা প্রাপ্তির ক্ষেত্রে সহায়তা করা — সৎ হবার তথা ঈশ্বরমুখী হবার জন্য অনুপ্রেরণা দান করা। এই সঙ্গে জগতের সকলকেই আমাদের সন্তানবৎ স্বীকার করে নেবার মানসিকতা গঠন করতে হবে এবং তাদের প্রতি ক্রমান্বয়ে ঐরূপ ব্যবহারে প্রযত্নশীল হতে হবে। সকলকে আমাদের নিজের বলে স্বীকার করেই আমরা নিজেদেরকে সমষ্টিতে নিয়ে যেতে পারবাে এবং মানুষের লক্ষ্য পূরণ করতে সক্ষম হবাে।
আমাদের ভক্তদের মধ্যে সমষ্টি চেতনা গড়ে উঠুক। ঈশ্বরের জয়। জয় শ্রীরামকৃষ্ণ।
