[ একবার লেখক মিস্টার আপ্পা বেঙ্কট রাও এবং মিস্টার সুব্বারাও পেরেন্টাপল্লীতে স্বামী বাউলানন্দজীর দর্শন করতে গিয়েছিলেন এবং সেখানে কিছু আধ্যাত্মিক ও সামাজিক বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়েছিল। স্বামীজী গরিব মানুষের সাহায্যের জন্য কোনো-না-কোনোভাবে এগিয়ে আসার জন্য উপস্থিত সকলকে বলেন। এই সব কথা শোনার পর লেখক(আঃ বেঙ্কট রাও) যা অনুভব করেন সেইটা এখন বলা হচ্ছে ।]
এই কথাগুলো সকলকে উদ্দেশ্য করে বলা হলেও আমাকে(লেখক আঃ বেঙ্কট রাও) খুব বিচলিত করেছিল । আমি অনুভব করলাম স্বামীজীর এই আদেশ খুবই উদ্দীপক এবং আর্থিক দিক থেকে বা সামাজিক দিক থেকে সম্পূর্ণ যুক্তিযুক্ত । স্বামীজী যে প্রস্তাবগুলো দিলেন তা অনায়াসেই করা যেতে পারে । এই কথাগুলো একটি প্রেম পূর্ণ হিদয়ের প্রকাশ ! এর মধ্যে নাম-যশ বা মুনাফা লাভের আকাঙ্খা নাই । এই উদ্দীপনাপূর্ণ শিক্ষার মধ্যে দিয়ে করুণা সুধা বয়ে চলেছে ! এটি সমাজের উত্তরণ এবং যথোপযুক্ত অগ্রগতি তথা দেশের পার্থিব এবং আধ্যাত্মিক উন্নতি সাধনের জন্য প্রয়োজন। পেরেন্টাপল্লীর স্বামীজীর ধর্মোপদেশে আমি (আপ্পাজী) খুবই আনন্দিত হয়েছিলাম !
আমাদের দলের কিছু লোককে লঞ্চযোগে ফিরে যেতে হবে । সুতরাং তারা নদীর ধারে চলে গেলেন। স্বামীজী সুব্বারাওকে পাশে ডেকে বললেন_ “তুমি এখানে সপরিবারে এসেছো । মনে হচ্ছে যেন তীর্থ করতে এসেছো। সুতরাং তুমি অবশ্যই দরিদ্র নারায়ন সেবা করাবে । যদি তুমি চার-পাঁচ টাকা দিতে পারো, তাহলে গ্রামের সকল লোকের এক বেলা খাওয়ার মত যথেষ্ট চাল আনাতে পারবো। আশ্রমে সম্বরের জন্য তেঁতুল আছে। তুমি চালের ব্যবস্থা করো!” এই প্রস্তাবে সম্মত হয়ে সুব্বা রাও স্বামীজীকে টাকা দিলেন । স্বামীজী একজনকে সংকেত দিয়ে ডাকলেন, পরে সমস্ত গ্রামবাসী এসে গেল । চাল নিয়ে এসে তারাই রান্না শুরু করে দিল । যখন তারা খাচ্ছিলো, তখন তাদেরকে দেখে আমরা খুব তৃপ্ত হলাম । এই সামান্য চার-পাঁচ টাকা এতো লোককে এতো বেশি আনন্দ দিতে পারে_ তা আমাদের ধারণা ছিল না !
সুব্বা রাও আমার(আঃ রাও) সম্বন্ধে স্বামীজীকে জিজ্ঞাসা করলেন! স্বামীজী বললেন _”যখন ওকে দেখলাম তখন আমার খুব ভালো লাগলো। কিন্তু যখন ওর কাঁধে মোটা পৈতা দেখলাম, তখন অর্ধ নিরুৎসাহিত হয়ে গেলাম এবং যখন তুমি বললে _’সে পিতা হতে চলেছে!’, তখন আমি আরো নিরুৎসাহিত হোলাম । তোমরা কিছু মনে করো না, কোন ভয় নাই ! প্রায়ই ওকে আশ্রমে নিয়ে আসবে!”
এই কথাগুলো শুনে আমি খুব লজ্জিত হোলাম! অল্প বয়সে বিয়ে করা এতো মারাত্মক!! হয়তো তাই হবে ! কিন্তু ওই সময়ে সমাজের পরিস্থিতি খুব খারাপ ছিল! তখন অল্প বয়সে বিয়ে করাটাই স্বাভাবিক ঘটনা ছিল।
যে ভদ্রলোক রামতীর্থের বইটা নিয়েছিলেন তিনি আরো দু’একদিন আশ্রমে রয়ে গেলেন । তিনি পূর্বে কোনো এক হঠযোগীর নিকট বাসুদেব মহামন্ত্র নিয়েছিলেন।
আলোচনাকালে স্বামীজী কয়েকটি বিষয়ের উপর আলোকপাত করলেন, সেগুলো ঐ ভদ্রলোকের ব্যক্তিগত ব্যাপার ছিল। ওই সমস্ত আলোচনার বিষয় ভদ্রলোকের মনে রেখাপাত করলো । ওই রাত্রে কৃষ্ণা রাও অর্থাৎ এই ভদ্রলোক তার সঙ্গীকে নিয়ে একটা কুটিরে বিশ্রাম করছিলেন। তিনি ভাবছিলেন_ ‘স্বামীজীর দর্শন পাওয়াটা তার জীবনের একটা বড় রকমের সুযোগ! কিভাবে এই সুযোগ কাজে লাগানো যাবে! এই জায়গা ছেড়ে চলে যেতে তো ইচ্ছা হচ্ছে না !’ এই সব কথা ভেবে তার তীব্র মানসিক যন্ত্রণা হচ্ছিলো।
কুটিরের দরজা দিয়ে আকাশের দিকে তিনি চেয়েছিলেন ! শেষ রাতে তিনি দেখলেন স্বামীজী দরজায় দাঁড়িয়ে ! তিনি যারপরনাই অবাক হোলেন । “এই স্বার্থপর লোকটির মানসিক যন্ত্রণা তিনি বুঝতে পেরেছেন! তাকে সান্ত্বনা দেওয়ার জন্য উনি এসেছেন! এই পিতা করুনার সাগর ছাড়া আর কিছুই নয়!”_এটা রাও বুঝতে পারলেন। স্বামীজী ইশারা করে কৃষ্ণা রাওকে ডাকলেন এবং তাঁকে অনুসরণ করতে বললেন । ঝরনার মাঝামাঝি জায়গায় গিয়ে একটা পাথরের উপর দুজনে মুখোমুখি বসলেন। স্বামীজী তাকে কিছু কথা জিজ্ঞাসা করলেন। কিছুক্ষণ কথোপকথনের পর তিনি কৃষ্ণা রাওয়ের কাঁধে হাত দিয়ে বললেন _”সব ঠিক হয়ে যাবে। তুমি শান্তি পাবে!” তারপর দুহাত কৃষ্ণা রায়ের মাথায় রেখে বললেন _”তুমি ভাগ্যবান ! রামের পূজো করার সুযোগ তুমি পাবে!”
স্বামীজীর স্পর্শে এবং আশীর্বাদে তিনি শান্ত হোলেন । রাত্রে তাঁর ভালোই ঘুম হোলো। পরেরদিন লঞ্চযোগে তাদেরকে চলে যেতে হবে। কৃষ্ণা রাওয়ের আবার খুব দুঃখ হোলো । যে গুরুর সন্ধান আমি করছি, সেই গুরুকে আমি এই স্বামীজীর মধ্যেই পেয়েছি! তাঁকে ছেড়ে কেমন করে আমি যাবো?” তিনি কাঁদতে লাগলেন স্বামীজী একাগ্রচিত্তে তার মুখের দিকে তাকিয়ে রইলেন! জানি না পূর্বজন্মে কোন চিন্তাসূত্র তাঁর মনে জেগে উঠলো এবং তাঁর অন্তরের অন্তঃস্থলে লুক্কায়িত কোন মধুর ভাব বেরিয়ে এলো! যেন উভয়ের মধ্যে প্রেম সুধা বইছিল ! স্বামীজী কৃষ্ণা রাওকে আলিঙ্গন করলেন ! উভয়েরই আনন্দাশ্রু বইতে লাগলো! পিতা-পুত্রের দেখা হোলে যেমন আনন্দ হয়, সেই আনন্দ তাঁরা অনুভব করছিলেন ! অপার্থিব প্রেম কি তা না জেনেও ঐ ব্যক্তি যেন শুষ্ক মরুভূমি পার হয়ে কল্পতরুর ছায়ায় এসে পৌছালো ! কৃষ্ণা রাও শুধুই কাঁদছিলেন ! বেশ কিছুক্ষণ ধরে পিতা-পুত্র দৃঢ় আলিঙ্গনে আবদ্ধ রইলেন ! আলিঙ্গন হতে মুক্ত হয়ে কৃষ্ণা রাও অনুভব করলেন যেন তার শরীরের মধ্যে বৈদ্যুতিক প্রবাহ বইছে ! স্বামীজী তাঁর কাঁধ স্পর্শ করে বললেন _”তুমি শান্তি পাবে! তুমি শান্তি পাবে!”
কৃষ্ণা রাও তাঁর শরীরের মধ্যে যে বৈদ্যুতিক প্রবাহ অনুভব করেছিলেন, তার রেশ কাটিয়ে উঠতে পারছিলেন না ! তিনি একটা কথা শুনতে পাচ্ছিলেন _”আমি তোমার মধ্যে এবং তুমি আমার মধ্যে!” কোন খান হোতে কেউ কিন্তু এ কথা বলছিল না, আবার একথা অন্য কেউ শুনতেও পাচ্ছিলো না ! কথাগুলো ভিতর থেকেই আসছিল। যেখানে তিনি যাচ্ছিলেন সেখানেই এই শব্দ তাঁর সঙ্গে সঙ্গে যাচ্ছিলো। তিনি এই কথাগুলো উচ্চারণ করতে লাগলেন ! তিনি কাঁদতে লাগলেন এবং কেঁদে কেঁদে তিনি ক্লান্ত হয়ে পড়লেন ! কিন্তু তাঁর অন্তরের নাদধ্বনি তাঁকে গ্রাস কোরলো! কোনো প্রকারে তিনি নদীর ধারে পৌঁছালেন ! সঙ্গীদের নিকট পৌঁছানোর পর আর এই শব্দ শোনা গেল না!
স্বামীজী তাঁর(রাওয়ের) নাম দিলেন বাসুদেব ! তিনি স্বামীজীর অনুরক্ত ভক্ত হোলেন এবং আশ্রমের কাজে ঘনিষ্ঠভাবে যুক্ত হোলেন। (ক্রমশঃ)
এই কথাগুলো সকলকে উদ্দেশ্য করে বলা হলেও আমাকে(লেখক আঃ বেঙ্কট রাও) খুব বিচলিত করেছিল । আমি অনুভব করলাম স্বামীজীর এই আদেশ খুবই উদ্দীপক এবং আর্থিক দিক থেকে বা সামাজিক দিক থেকে সম্পূর্ণ যুক্তিযুক্ত । স্বামীজী যে প্রস্তাবগুলো দিলেন তা অনায়াসেই করা যেতে পারে । এই কথাগুলো একটি প্রেম পূর্ণ হিদয়ের প্রকাশ ! এর মধ্যে নাম-যশ বা মুনাফা লাভের আকাঙ্খা নাই । এই উদ্দীপনাপূর্ণ শিক্ষার মধ্যে দিয়ে করুণা সুধা বয়ে চলেছে ! এটি সমাজের উত্তরণ এবং যথোপযুক্ত অগ্রগতি তথা দেশের পার্থিব এবং আধ্যাত্মিক উন্নতি সাধনের জন্য প্রয়োজন। পেরেন্টাপল্লীর স্বামীজীর ধর্মোপদেশে আমি (আপ্পাজী) খুবই আনন্দিত হয়েছিলাম !
আমাদের দলের কিছু লোককে লঞ্চযোগে ফিরে যেতে হবে । সুতরাং তারা নদীর ধারে চলে গেলেন। স্বামীজী সুব্বারাওকে পাশে ডেকে বললেন_ “তুমি এখানে সপরিবারে এসেছো । মনে হচ্ছে যেন তীর্থ করতে এসেছো। সুতরাং তুমি অবশ্যই দরিদ্র নারায়ন সেবা করাবে । যদি তুমি চার-পাঁচ টাকা দিতে পারো, তাহলে গ্রামের সকল লোকের এক বেলা খাওয়ার মত যথেষ্ট চাল আনাতে পারবো। আশ্রমে সম্বরের জন্য তেঁতুল আছে। তুমি চালের ব্যবস্থা করো!” এই প্রস্তাবে সম্মত হয়ে সুব্বা রাও স্বামীজীকে টাকা দিলেন । স্বামীজী একজনকে সংকেত দিয়ে ডাকলেন, পরে সমস্ত গ্রামবাসী এসে গেল । চাল নিয়ে এসে তারাই রান্না শুরু করে দিল । যখন তারা খাচ্ছিলো, তখন তাদেরকে দেখে আমরা খুব তৃপ্ত হলাম । এই সামান্য চার-পাঁচ টাকা এতো লোককে এতো বেশি আনন্দ দিতে পারে_ তা আমাদের ধারণা ছিল না !
সুব্বা রাও আমার(আঃ রাও) সম্বন্ধে স্বামীজীকে জিজ্ঞাসা করলেন! স্বামীজী বললেন _”যখন ওকে দেখলাম তখন আমার খুব ভালো লাগলো। কিন্তু যখন ওর কাঁধে মোটা পৈতা দেখলাম, তখন অর্ধ নিরুৎসাহিত হয়ে গেলাম এবং যখন তুমি বললে _’সে পিতা হতে চলেছে!’, তখন আমি আরো নিরুৎসাহিত হোলাম । তোমরা কিছু মনে করো না, কোন ভয় নাই ! প্রায়ই ওকে আশ্রমে নিয়ে আসবে!”
এই কথাগুলো শুনে আমি খুব লজ্জিত হোলাম! অল্প বয়সে বিয়ে করা এতো মারাত্মক!! হয়তো তাই হবে ! কিন্তু ওই সময়ে সমাজের পরিস্থিতি খুব খারাপ ছিল! তখন অল্প বয়সে বিয়ে করাটাই স্বাভাবিক ঘটনা ছিল।
যে ভদ্রলোক রামতীর্থের বইটা নিয়েছিলেন তিনি আরো দু’একদিন আশ্রমে রয়ে গেলেন । তিনি পূর্বে কোনো এক হঠযোগীর নিকট বাসুদেব মহামন্ত্র নিয়েছিলেন।
আলোচনাকালে স্বামীজী কয়েকটি বিষয়ের উপর আলোকপাত করলেন, সেগুলো ঐ ভদ্রলোকের ব্যক্তিগত ব্যাপার ছিল। ওই সমস্ত আলোচনার বিষয় ভদ্রলোকের মনে রেখাপাত করলো । ওই রাত্রে কৃষ্ণা রাও অর্থাৎ এই ভদ্রলোক তার সঙ্গীকে নিয়ে একটা কুটিরে বিশ্রাম করছিলেন। তিনি ভাবছিলেন_ ‘স্বামীজীর দর্শন পাওয়াটা তার জীবনের একটা বড় রকমের সুযোগ! কিভাবে এই সুযোগ কাজে লাগানো যাবে! এই জায়গা ছেড়ে চলে যেতে তো ইচ্ছা হচ্ছে না !’ এই সব কথা ভেবে তার তীব্র মানসিক যন্ত্রণা হচ্ছিলো।
কুটিরের দরজা দিয়ে আকাশের দিকে তিনি চেয়েছিলেন ! শেষ রাতে তিনি দেখলেন স্বামীজী দরজায় দাঁড়িয়ে ! তিনি যারপরনাই অবাক হোলেন । “এই স্বার্থপর লোকটির মানসিক যন্ত্রণা তিনি বুঝতে পেরেছেন! তাকে সান্ত্বনা দেওয়ার জন্য উনি এসেছেন! এই পিতা করুনার সাগর ছাড়া আর কিছুই নয়!”_এটা রাও বুঝতে পারলেন। স্বামীজী ইশারা করে কৃষ্ণা রাওকে ডাকলেন এবং তাঁকে অনুসরণ করতে বললেন । ঝরনার মাঝামাঝি জায়গায় গিয়ে একটা পাথরের উপর দুজনে মুখোমুখি বসলেন। স্বামীজী তাকে কিছু কথা জিজ্ঞাসা করলেন। কিছুক্ষণ কথোপকথনের পর তিনি কৃষ্ণা রাওয়ের কাঁধে হাত দিয়ে বললেন _”সব ঠিক হয়ে যাবে। তুমি শান্তি পাবে!” তারপর দুহাত কৃষ্ণা রায়ের মাথায় রেখে বললেন _”তুমি ভাগ্যবান ! রামের পূজো করার সুযোগ তুমি পাবে!”
স্বামীজীর স্পর্শে এবং আশীর্বাদে তিনি শান্ত হোলেন । রাত্রে তাঁর ভালোই ঘুম হোলো। পরেরদিন লঞ্চযোগে তাদেরকে চলে যেতে হবে। কৃষ্ণা রাওয়ের আবার খুব দুঃখ হোলো । যে গুরুর সন্ধান আমি করছি, সেই গুরুকে আমি এই স্বামীজীর মধ্যেই পেয়েছি! তাঁকে ছেড়ে কেমন করে আমি যাবো?” তিনি কাঁদতে লাগলেন স্বামীজী একাগ্রচিত্তে তার মুখের দিকে তাকিয়ে রইলেন! জানি না পূর্বজন্মে কোন চিন্তাসূত্র তাঁর মনে জেগে উঠলো এবং তাঁর অন্তরের অন্তঃস্থলে লুক্কায়িত কোন মধুর ভাব বেরিয়ে এলো! যেন উভয়ের মধ্যে প্রেম সুধা বইছিল ! স্বামীজী কৃষ্ণা রাওকে আলিঙ্গন করলেন ! উভয়েরই আনন্দাশ্রু বইতে লাগলো! পিতা-পুত্রের দেখা হোলে যেমন আনন্দ হয়, সেই আনন্দ তাঁরা অনুভব করছিলেন ! অপার্থিব প্রেম কি তা না জেনেও ঐ ব্যক্তি যেন শুষ্ক মরুভূমি পার হয়ে কল্পতরুর ছায়ায় এসে পৌছালো ! কৃষ্ণা রাও শুধুই কাঁদছিলেন ! বেশ কিছুক্ষণ ধরে পিতা-পুত্র দৃঢ় আলিঙ্গনে আবদ্ধ রইলেন ! আলিঙ্গন হতে মুক্ত হয়ে কৃষ্ণা রাও অনুভব করলেন যেন তার শরীরের মধ্যে বৈদ্যুতিক প্রবাহ বইছে ! স্বামীজী তাঁর কাঁধ স্পর্শ করে বললেন _”তুমি শান্তি পাবে! তুমি শান্তি পাবে!”
কৃষ্ণা রাও তাঁর শরীরের মধ্যে যে বৈদ্যুতিক প্রবাহ অনুভব করেছিলেন, তার রেশ কাটিয়ে উঠতে পারছিলেন না ! তিনি একটা কথা শুনতে পাচ্ছিলেন _”আমি তোমার মধ্যে এবং তুমি আমার মধ্যে!” কোন খান হোতে কেউ কিন্তু এ কথা বলছিল না, আবার একথা অন্য কেউ শুনতেও পাচ্ছিলো না ! কথাগুলো ভিতর থেকেই আসছিল। যেখানে তিনি যাচ্ছিলেন সেখানেই এই শব্দ তাঁর সঙ্গে সঙ্গে যাচ্ছিলো। তিনি এই কথাগুলো উচ্চারণ করতে লাগলেন ! তিনি কাঁদতে লাগলেন এবং কেঁদে কেঁদে তিনি ক্লান্ত হয়ে পড়লেন ! কিন্তু তাঁর অন্তরের নাদধ্বনি তাঁকে গ্রাস কোরলো! কোনো প্রকারে তিনি নদীর ধারে পৌঁছালেন ! সঙ্গীদের নিকট পৌঁছানোর পর আর এই শব্দ শোনা গেল না!
স্বামীজী তাঁর(রাওয়ের) নাম দিলেন বাসুদেব ! তিনি স্বামীজীর অনুরক্ত ভক্ত হোলেন এবং আশ্রমের কাজে ঘনিষ্ঠভাবে যুক্ত হোলেন। (ক্রমশঃ)
